কর্নাটক কলিং ৩
কর্নাটক কলিং ৩
In front of Ibrahim Rouza mosque, BijapurIbrahim Rouza corridor of Tomb of Ibrahim Adil Shah
আজ প্রথমে যাব গোলগম্বুজ। সকাল ছটায় উঠে ব্রাশ করেই বেরোলাম।ড্রাইভার মুথ্থুর বাসা কাছাকাছি। বছর তিরিশের ছেলেটি মোটামুটি হিন্দি বলে। ওর একটি পাঁচ বছরের ছেলে ও ছয় মাসের মেয়ে আছে। আমাকে একদিন ভিডিও কল করে দেখাল। মুথ্থু হাসিখুশি ও বেশ কোঅপারেটিভ । বেড়াতে বেরিয়ে ড্রাইভার ভাল হলে টেনশন কম থাকে। হোটেলের সামনের বড় রাস্তা ধরে নাকবরাবর ছয়-সাত কিমি দূরে গোলগম্বুজ । টিকিট কাউন্টারে দেখলাম টাকা দিয়ে কাগজের টিকিট দেওয়া বন্ধ। অনলাইনে কাটতে হল। QR code scan করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কাটতে দশমিনিট। ডিজিটাল জমানার হ্যাপা। এদিকের এন্ট্রি হল সাউথ গেট। সকাল সকাল দেখি অনেক লোকাল এসেছেন, ভিতরে জগিং, এক্সারসাইজ চলছে। From top of GOL Gumbad built between 1626-56
জিজ্ঞাসা করে জানলাম ৩০০/- টাকা দিয়ে মান্থলি পাশ করাতে হয়। সকাল সকাল আমরা ছাড়া কোন দর্শক নেই। সত্র একর জায়গা জুড়ে এই গোল গম্বুজ। দূর থেকে গম্বুজের মাথা আর সামনে যে In front is the archeological museum of Gol gumbad
দেওয়াল দেখা গেল মনে হল এটা একটাই সৌধ। ভুল ভাঙল কাছে গিয়ে। সব মিলিয়ে তিনটে বিল্ডিং পেরিয়ে
তবে সেই গোল গম্বুজের দেখা পেলাম। এত সকালে গাইড পাই নি। গেট পেরিয়ে বেশ কিছুটা এলে আর্কিওলজ্যিকাল মিউজিয়াম। সকাল নয়টাতে খুলবে। মনে হচ্ছে ওটা দেখা হবে না। মিউজিয়ামের পাশ দিয়ে ঘুরে একটি গেটের ভিতর দিয়ে দেখতে পেলাম গোল গম্বুজ।দূর থেকে ডোমের বিশালতা আন্দাজ করা যায় না। চারদিকে চারটি অকটাগোনাল শেপের মিনার। মিনারে সাতটা ফ্লোর। লনে সবুজ ঘাস।
ময়ূর দেখা গেল কয়েকটা।
জুতো খুলে বিশাল কারুকার্য খচিত গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। আদিল শাহী ডাইনাস্টির সপ্তম রুলার মহম্মদ আদিল শাহের ও পরিবারের সমাধি ভিতরে।
এই টুম্ নির্মান হয় ১৬২৬-১৬৫৬ সময়ে। সেই সময়ে বিশালতার দিক দিয়ে রোমের ভ্যাটিকানের পরই গোল গম্বুজের স্থান। সবচেয়ে আশ্চর্য হল এই ম্যাসিভ ডোমের সাপোর্টের জন্য কোন
পিলারের সাহায্য নেওয়া হয় নি। পুরো ডোমের ভার বহন করছে আর্চ ওয়ালা পিলার। আরেকটু খোলসা করলে, দুটো আর্চের মাঝে আছে ‘Pendentive’ পিলার,
যেটা অনেকটা ট্রাঙ্গুলার শেপের। এইরকম পরপর সার্কুলার ওয়েতে pendentive পিলার সমষ্টি পুরো ডোমের ভার বহন করছে। এই স্ট্রাকচারাল কনসেপ্ট প্রথম আসে তুরস্কে বাইজেন্টাইন আমলে। ইস্তাম্বুলে খ্রিষ্টাব্দ ৫৩৭ সালে ‘হায়া সোফিয়া’ নির্মিত হয়েছিল এই মেথডে। পরে মুসলিম ওয়ার্ল্ডে এই নির্মান পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল সৌধ নির্মানে। মহম্মদ আদিল শাহের সমাধি সৌধের মাঝে কয়েক স্টেপ উঁচু প্ল্যাটফর্মের উপর। নীচে চারিধারে ASI দ্বারা রেস্টোর করা বিজাপুর ও সংলগ্ন এলাকার ছবি ও বিবরন দেওয়া।
চারটি মিনারেটের মধ্যে দুটি বন্ধ, বাকি দুটোর মধ্যে একটা ওঠার ও একটা নামার। সিঁড়ি গুলো এত উঁচু যে হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে হল।
তবে কষ্ট হল না। একটু পর পর প্ল্যাটফর্ম। খোলা অলিন্দে অনেক আলো বাতাস। জিরিয়ে নেওয়ার জন্য আইডিয়াল। উপরে উঠে আসি। প্রভাতের সোনালী কিরণে সৌধ ও চারিপাশে এক প্রশান্তির ভাব। ঘাসের লনের একপ্রান্ত আরেকটি সৌধ, GOL Gumbaj mosque
এটা হল গোল গুম্বজ মসজিদ। এখনও জনসমাগম শুরু হয় নি। ভিতরে হুইশপারিং চেম্বারে ঢুকেছি। Tomb of Ali Adil Shah 1 and his family members
Whispering gallery inside GOL Gumbaj
ডোমের ব্যাস হল ৪৪ মিটার। চারিদিক জুড়ে গোলাকৃতি ব্যালকনি। ফিসফিস করে কথা বল্লেও উল্টোদিকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। আস্তে হাততালি দিলেও ততোধিক জোরে বেশ কয়েকবার ইকো হচ্ছে। এটা এক অসাধারণ এক্সপিরিয়েন্স হল। আবার ওরকম হাচোড়পাচোড় করে নেমে এলাম। এখন আটটা বাজে। মিউজিয়াম নটায় খুলবে। অগত্যা সামনে রাখা সারিবদ্ধ
কামানের সঙ্গে ফটো শেসন করে বেরিয়ে এলাম। পার্থর উদ্যোগে হোটেলে ফিরে ব্রেকফাস্ট করে চেক আউটের আগে, আরো দুটো দর্শনীয় স্থান দেখা হল।
গোলগুম্বজ থেকে এক কিমি দূরে হল বিজাপুরের জামা মসজিদ।
আলি আদিল শা তালিকোটার যুদ্ধে (১৫৬৫) বিজয়নগর সম্রাজ্যকে ধ্বংস করার পর এই কোমেমরেটিভ মসজিদের নির্মান করেন। মসজিদের পরিচিতি যে মিনার দিয়ে হয়, সেটা এই মসজিদে অনুপস্থিত, তবে ছাদের মধ্যভাগে একটি ডোম ও তাকে ঘিরে ইন্দো-পার্শিয়ান স্টাইলের চতুর্ভুজ প্রাচীর। জুতো খুলে বিশাল আয়তাকার মসজিদের চত্বরে আর্চওয়ালা ছাদের আঙিনাতে ঢুকলাম।
একসঙ্গে দুইহাজার লোক এখানে নামাজ পড়তে পারে এতটাই বড়। ডবল আর্চ ডিজাইনের মেহেরাব (মক্কার দিকে ফেস করে দেওয়ালের মধ্যভাগের কারুকার্য খচিত অংশ) টাতে সোনালী জলে আরবী ভাষায় ক্যালিগ্রাফি করা।
Mehrab facing Mecca in front of which prayer held
এত নিখুঁত ও সুন্দর মেহরাব আগে কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ল না।
এরপর আমরা এলাম হজরত আবদুল রাজাক কাদরী দরগাতে।
এখানের স্থানীয় লোক একে জোড়া গম্বুজ বলেন। একটা টুম্ খান মহম্মদের অন্যটা আব্দুল কাদরীর, যিনি খান মহম্মদের গুরু ছিলেন। ১৬৮৭ সালে এর নির্মান হয় আদিল শাহী আমলে। আমি আর পার্থ খালি গাড়ী থেকে নেমেছি, বাকীরা গোল গম্বুজ ঘুরে ক্লান্ত।
পরে নেট ঘেঁটে জানলাম মহম্মদ খান আদিল শাহি সৈন্যবাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। ইনি যুদ্ধের আগে মুঘলদের পক্ষ নিয়েছিলেন, এই খবর পাওয়ার পর আদিল শা ওকে ডেকে পাঠান ও হত্যা করেন। পরে ঔরংজেব বিজাপুর অধিগ্রহন করলে, বিজাপুরের প্রথম বছরের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে এই সৌধ নির্মিত হয়। ১৯১৮ পর্যন্ত এখানে সরকারী বাসস্থান ছিল। পরে এএসআই অধিগ্রহন করে একে হেরিটেজ স্ট্রাকচারের তালিকায় আনে ও রেস্টোরেশন করে। অনেক মুসলিম দেখলাম এসেছেন দরগাতে মানত করতে।
হোটেলে ফিরে এসে আবার উদিপি রেস্টুরেন্টে ব্রেকফাস্ট করে চেক আউট করে বেরিয়ে পরলাম। আরো কয়েকটা দর্শনীয় স্থান দেখে আমরা যাব সত্তর কিমি দূরে আলমাট্টিতে। প্রথমে এলাম ইব্রাহিম রোজা দেখতে।
নামটা নূতন ধরনের-মানে হল ইব্রাহিমের বাগানওয়ালা কবরস্থান। ইব্রাহিম রোজাকে বলা হয় ‘ডেকানের তাজমহল’। বিজাপুরের একাধিক আদিলশাহি স্থাপত্য এবং ইব্রাহিম রোজার প্রধান স্থপতিকার হলেন পারস্যের মালিক সান্ডাল, যিনি বিজাপুর কোর্টে সুলতানের অধীনে নিযুক্ত ছিলেন। বিজাপুরের সুলতান ইব্রাহিম রেজা টু (১৫৮০-১৬২৭) ও তাঁর পরিবারের গোরস্থান সম্বলিত সৌধ একদিকে অন্যদিকের সৌধটি হল মসজিদ। ভীড় খুব একটা নেই। ভাগ্যক্রমে একজন গাইড পাওয়া গেল। খুব সিমেট্রিক্যালি তৈরী দুই সৌধের উপর পেয়াজ শেপের ডোম। তার উপর ফিনিয়ালের মাথায় ক্রেসেন্ট মুন। দুই সৌধের মাঝের গেটটা হায়দ্রাবাদের চার মিনারের আদলে। স্থাপত্যের দিক দিয়ে অসাধারণ, তবে কালো পাথরে বহিরঙ্গের চাকচিক্য কম, কারণ মার্বেল বা ইজনিক টাইলের ব্যবহার নেই। ইব্রাহিম আদিল শা নানা গুনসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। Ibrahim Adil Shah 2 (1580-1626)
চিত্রকলা ও ক্যালিগ্রাফিতে তার পারদর্শিতা ছিল। মারাঠি, দক্ষিণী, উর্দু, কানাড়া ভাষা জানতেন। সঙ্গীতঙ্গ ছিলেন। নিজের তানপুরার নাম রেখেছিলেন মোতি খান আর হাতির নাম অতিস খান। এদের নিয়ে কবিতাও লিখেছেন।হিন্দু ভগবান ও সুফি সেন্টদের নিয়ে রচনা করেছিলেন “কিতাবই নওরস”। তিনি ডেকানের প্রচলিত ভাষাকে ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সময়ে পার্শিয়ান কালচার থেকে ইন্দো-পার্শিয়ান কালচারে শিফ্ট হতে থাকে আদিলশাহি সুলতানেট।
টিকট কেটে উডেন গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। গেটটি বেশ চওড়া।
Nahabat khana, the entry to inside Ibrahim Rouzaগাইড বল্লেন এটার নাম নহবতখানা। সামনে কিছু দূরে উঁচু প্ল্যটফর্মের উপর বামদিকের সৌধ হল ইব্রাহিম আদিল শা টু, তাঁর ওয়াইফ তাজ সুলতান, মা এবং তিন সন্তানের কবর আর ডানদিকে হল মসজিদ। উপর থেকে দেখা গেল বর্ষার জলপুষ্ট পুষ্করিনী আর পুরো কমপ্লেক্স ঘিরে পাঁচিল ,
And The Tomb of Malik Sandal who was architect of Ibrahim Rouza
যার তলায় সারিবদ্ধ ঘোড়া ও হাতির আস্তাবল। একসারিতে সান্য সামন্তদের থাকার ঘরও দেখা গেল।
পুকুরের জলে কমপাউন্ডের মধ্যে একটি সমাধির স্তম্ভ দেখলাম। গাইড বল্লেন এটা ইব্রাহিম রোজার স্থপতি মালিক সান্ডালের। বিজাপুরে আদিল শাহী আমলে জল সরবরাহের জন্য তুঙ্গভদ্রা থেকে চ্যানেল দিয়ে জল আসত। সেই জল শহরের পাশে অনেক দিঘীতে জমা হত। সেইরকমই এক বেগমপুর তালাও থেকে জল আসে গ্র্যাভিটি ফ্লোতে প্ল্যাটফর্মের
মধ্যের ফাউন্টেনে। সমাধির অলিন্দে প্রবেশ করলাম। দেওয়ালে কোরানের উদ্ধৃতি।
রমেশ গাইড জানালেন এরকম ক্যালিগ্রাফি তাজমহলে আছে। তবে মার্বেলের থেকে গ্রে ব্যাসাল্ট রক বেশী হার্ড তাই খোদাই করা বেশী কঠিন। টুম্বের কেন্দ্রস্থলের ডোমওয়ালা ঘরের চারদিক ঘিরে করিডোর। দেওয়ালে বেশ কিছু বার্মা টিকের দরজা-জানালা। দরজার উপর দেওয়ালে
পাথরের জালিতে আরবি ভাষায় ধর্মের বাণী লেখা। রমেশ অনেকগুলি কুলুঙ্গি দেখালেন দেওয়ালে,
যাতে খুব ভাল করে লক্ষ করলে বোঝা যায় পেন্টিং ছিল। ছাদের স্ল্যাবে ফুলের আকৃতির ডিজাইনে
স্পষ্ট হিন্দু আর্কিটেকচারের প্রভাব।Photo with motifs done in roof of Tomb. Front lies the mosque
টুম্ এর চারিদিক ঘুরে মসজিদে এলাম। গাইড দেখালেন ছাদ থেকে দুই জায়গাতে শিকল ঝুলছে।
শিকল কিন্তু লোহার নয়, পাথরের - বেশ বিষ্ময়কর। মসজিদের ভিতর থাম ওয়ালা হনিকম্ব ডিজাইনের ছাদ। গাইড বল্লেন এর মধ্যে অনেক পেন্টিং ছিল, কিন্তু এখন ফেড হয়ে গিয়েছে। ফেরার সময় যেটা অনুভব করলাম এই অনিন্দ্য সুন্দর সৌধের ম্যাসিভ রেস্টোরেশন দরকার। এ এক ধূলিবসনা সুন্দরীর জীর্ন রূপ, যথার্থ আর্ট রেস্টোরেশন হলে, এর অপরূপ রূপ দর্শকের চোখে প্রতিভাত হবে আপন মহিমায়।
পরের গন্তব্য হল মলিক-ই-ময়দান। বিজাপুরের আদিলশাহি রুলাররা পুরো রাজত্বকালে (১৪৯০-১৬৮৬) প্রায় দুইশত বছর
Rulers of Adil shahi dynastyসবসময়ে উত্তরে মুঘল ও দক্ষিণে কখনো বিজয়নগর বা মারাঠাদের আক্রমণের ভয়ে ভীত থাকতেন। বেল মেটালের তৈরী ৫৫ টন ওজনের এই কামান এক তুর্কী কারিগর মহম্মদ বিন হুসেন রুমি ১৫৪৯ সালে বানিয়েছিলেন। Stairs leading to roof where cannon is kept
এটা শুধু যে মেডিয়াভেল ভারতের সবচেয়ে বড় কামান তাই নয়, এর আর্টিস্টিক এ্যপিলও অসাধারন। কামানের সামনেটা সিংহের মুখের আদলে, মুখের
মধ্যে রণসজ্জিত হাতি। কামানের মধ্যভাগে কোরানের বাণী। দৈর্ঘ্যে এর থেকে বড় কামান দেখেছি জয়পুরের জয়গড় ফোর্টে, Canon at Jaigarh fort 20ft long, weighing 50 tons
কিন্তু গুগল করে দেখলাম তার ওজন ৫০ টন। তাছাড়া এই কামান ১৮০ বছর পর ১৭২০ সালে তৈরী এবং এটা কোন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় নি। ১৫৬৫ র ডিসাইসিভ টালিকোটা ব্যাটেল
যাতে ডেকানের সম্মিলিত সুলতানেটের যুদ্ধে বিজয় নগর সম্রাজ্যের পতন ঘটে তাতে এই কামান এক প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল। কামানটা বসান আছে এক উঁচু র্যামপার্টে। তিনতলা মত সিঁড়ি ভেঙে যেতে হল। তবে সার্থক এই সিঁড়ি ভাঙা।
এরপর আমরা এলাম উপালি বুর্জ।
এটা একটা স্ট্যান্ড এলোন টাওয়ার। গোল ঘোরান উঁচু উঁচু সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হল। উপর থেকে সারা বিজাপুর শহরের অসাধারন ভিউ পেলাম।
গোল গম্বুজ দেখা যাচ্ছে, এখান থেকে বেশী দূরে নয়, চারিপাশের ঘরবাড়ীকে বিশাল গোল গম্বুজের কাছে বামন লাগছে। উপরে বেশ কয়েকটা কামান রাখা। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল বিজাপুরের ৪৩টি মনুমেন্টের উপর ওয়াফ বোর্ড ক্লেম করে মামলা করেছে। তার মধ্যে গোল গম্বুজ, ইব্রাহিম রোজা, বড়া কামান আছে। ওদিকে এএসআই বলছে ১৯৫৮র এ্যাক্ট অনুযায়ী এই সমস্ত সৌধের দেখভাল এবং ওনারশিপের দায়িত্ব তাদের।
আমরা লাঞ্চ সারলাম এক সাউথ ইন্ডিয়ান দোকানে থালি খেয়ে। আজকের রাত্রিযাপন আলমাট্টিতে। বিজাপুর থেকে ঘন্টা দুয়েক। যাবার পথে বিজাপুরের আউটস্কার্টে শিব দর্শনে দাঁড়ালাম। এর নাম শিবগিরি টেম্পল। ওপেন এয়ারে ৮৫ ফিট উঁচু এই শিবমূর্তি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম।
মোষের ছালের উপর পদ্মাসনে বসা পীতাভ শিব ঠাকুর হলেন শিব-সুন্দর। এত সুন্দর প্রশান্ত মুখ, তাকালে চোখ ফেরে না। মূর্তির নীচে এক শিবলিঙ্গ । অনেকের জন্য ফ্যামিলি আউটিংএর জায়গা। অনেকটা জমির উপর বাগান ও আরো মন্দির।
NH 50 দিয়ে পঞ্চাশ কিমি এসে ডানদিকের রাস্তায় ঢুকলাম। কৃষ্ণা নদী পেরিয়ে উঠে এলাম ছোট এক পাহাড়ের শিখরে।
এখানে কর্নাটক ট্যুরিসমের কটেজে আমাদের রাত্রিবাস। পরপর সারি দিয়ে কটেজ।
কটেজের ব্যালকনি থেকে দেখা যাচ্ছে কৃষ্ণা নদীর উপর আলমাট্টি ড্যাম। বাঁধের সব গেট খোলা। কয়েকদিন অনেক বৃষ্টি হয়েছে, তাই নদীতে জল উপচে পড়েছে ।
তবে আমরা লাকি। আসার আগের দিন অব্দি বৃষ্টি হয়েছে। আমরা মেঘলা ও অপেক্ষাকৃত ভাল আবহাওয়া পেয়েছি। বাঁধ পেরিয়ে আরো দূরে কুদগি পাওয়ার স্টেশনের বয়লার ও চিমনি দেখা যাচ্ছে। View from our cottage
আলমাট্টি ড্যামে একটি হাইড্রো পাওয়ার স্টেশন আছে। তার সুইচইয়ার্ড এখান থেকে দেখা যাচ্ছে।
সন্ধ্যে হতে দেরী নেই। নদীর অন্য পাড়ে দেখা যাচ্ছে লেসার শোএর জায়গা। সাতটা থেকে শুরু হবে। ব্রীজ পেরিয়ে গেলাম। এন্ট্রি ফি ৫০/-। গাড়ীতে ছয়লাপ। আজ শনিবার, তাই বিজাপুর, বাগলাকোট থেকে অনেক লোক বেড়াতে এসেছে। ভিতরে বিশাল এক গার্ডেন পেরিয়ে যেতে হল। চারিপাশে নানা রকম ফোয়ারা ও আলোর মালা।
দুটো ঘেরা জায়গাতে শো হল। ফোয়ারা দিয়ে জল উঠছে নামছে আর আলোর সঙ্গে মিউজিক। পনের মিনিট ধরে একই রকম ফোয়ারার নৃত্য দেখে যথেস্ট বোর হলাম।


































































Comments
Post a Comment