মূর্তি চুরির খোঁজে

 



মূর্তি চুরির খোঁজে

ফেলুদা সিরিজের বেশ কয়েকটা গোয়েন্দা কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দু প্রাচীন মূর্তি চুরি। ভারতের বিভিন্ন মন্দির থেকে তস্করের দ্বারা অপহৃত মূর্তি পাচার হয়ে যায় বিদেশে। সেখানে নামকরা অকশন হাউস ঘুরে


অমূল্য দেশীয় সম্পদ চলে যায় প্রাইভেট কালেক্টরের হাতে অথবা বিদেশের মিউজিয়ামগুলিতে। কিছুদিন আগে মূর্তিচুরি সম্বন্ধিত কিছু খবর পড়ছিলাম। ব্যাপারটা নিয়ে আর একটু গভীরে যাওয়ার ইচ্ছে।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রগতি ময়দানে ইন্টারন্যাশানাল মিউজিয়াম এক্সপো হচ্ছে খবরের কাগজ থেকে জানা গেল।

মিউজিয়াম তৈরী হয় দেশের বিভিন্ন প্রদেশে, সেই স্থানের ঐতিহ্য প্রত্নতাত্বিক সংগ্রহ ডিসপ্লে কররা জন্য। তবে এরকম এক্সপো তে তো আর মিউজিয়াম থেকে ডিসপ্লেড পুরাতত্ব নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে ধরে নিলাম মিউজিয়াম পুরাতত্ব সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞরা ভাগ নেবেন। আমার অবশ্য জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন হল পুরাতাত্বিক শিল্পকলা সমূহের দাম কি ভাবে ঠিক করা হয়? গুগল ইত্যাদি ঘাটাঘাটিতে কোন লাভ হয় নি। জানার ইচ্ছের কারণ এইজন্য যে সম্প্রতি বেশ কিছু অমূল্য মূর্তি যা বহুদিন পূর্বে দেশ থেকে পাচার করা হয়েছিল, সেগুলি বিদেশের মিউজিয়াম থেকে ভারতে ফেরত আনা হয়েছে, এরকম নিউজ সংবাদপত্র মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ২০২৪ এর বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে ডাহোমি (Dahomey) নামে একটা ডকুমেন্টারি শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পেল, যার বিষয়বস্তু আফ্রিকা থেকে লুন্ঠিত প্রাচীন পুরাতাত্বিক সামগ্রী, যা ইউরোপে পাচার হয়ে গিয়েছেল এবং পরে কিভাবে তা ফেরত এল, তার উপর।

 এক্সপোর ভিতরে ঢুকে ব্যাপারটা বোঝা গেল। আর্কিওলজিস্টদের রমরমা।প্রত্নতত্বতাঁদেরই প্রফেশনের সঙ্গে যুক্ত। অনেক প্রাইভেট কোম্পানি, যারা মিউজিয়াম বানায়, লাইটিং কোম্পানি,



যারা প্রত্নতত্ব নিদর্শনের স্পেশালাইজড লাইট লাগান তাদের স্টল দেখা গেল। কিছু ফার্ম, যারা মিউজিয়াম সেটআপের কনসালটেন্সি করেন, যেমন আধুনিক মিউজিয়ামগুলিতে অডিও-ভিস্যুয়াল ইন্টারএ্যকশনের মাধ্যমে কি করে মনোগ্রাহী করে তোলা যায়, সেই ব্যাপারে পরামর্শ দেন। কিছু কোম্পানি এসেছেন যারা প্রত্নতত্বের বিশেষত পুরানো আর্টওয়ার্কের সংরক্ষণে পারদর্শী।
               Art restoration tools
এছাড়া বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অনেক সরকারী সংস্থা, যাদের জাদুঘর আছে, তারাও এসেছেন। এতবছর প্রগতি ময়দানের পুরানো হল গুলো দেখে অভ্যস্ত, কোনটা পিরামিড আকারের, কোনটা, মৌচাকের খোপের মত। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ফেস্টিভালে সব স্টেটের আলাদা আলাদা ভবন ছিল। এক্সিবিশন দেখে বেরোনোর সময়, এক্সিটের কাছে সেই প্রদেশের প্রসিদ্ধ খাবারের স্টল থাকত। এখন সব ভেঙে বিশাল বিশাল বিল্ডিং। সব প্রদেশ এক ছাদের তলায়। জি২০রওয়ান আর্থ, ওয়ান ফ্যামিলিরসার্থক উদাহরণ।

ভিতরে এসিতে ঢুকে প্রাণটা জুড়ালো। গ্রাউন্ড ফ্লোরটা বিশাল সাইজ। তারই অর্ধেক জুড়ে সারি সারি স্টল। প্রথমেই চোখে পড়ল লাইটিং এর স্টল। এরা মিউজিয়ামে স্পেশাল লাইট লাগান। কনসিলড ওয়েতে অবজেক্টের উপর ফোকাস, সামনে কাঁচ থাকলে তাতে যাতে গ্লেয়ার না লাগে, বা পেন্টিং ডিসপ্লের জন্য সফ্ট লাইট যাতে ছবির অরিজিনালিটি সময়ের সাথে ফেড না হয়ে যায়, সব কাজ করে থাকেন। অনেক প্রাইভেট কোম্পানির স্টল দেখলাম যারা মিউজিয়াম বানায়। এছাড়া গভর্নমেন্ট মিউজিয়ামএর স্টল দেখলাম। গোয়ার মান্ডভী নদীর তীরে সরকারী মিউজিয়ামের স্টল ছিল।


বছরখানেক আগে যখন গোয়া গিয়েছিলাম, তখন দেখেছি। মিউজিয়ামের ভিতর ওদের কর্মচারী ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছিলেন, যদিও সেটা তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল না। 

ভারতবর্ষ মন্দিরময় দেশ। স্বভাবতই মন্দিরে বা মন্দিরগাত্রে অসংখ্য দেবদেবীর প্রস্তরমূর্তির সমাহার। পাথরের মূর্তি কালের গর্ভে নষ্ট হয় না। সাধারনভাবে মিউজিয়ামে বিভিন্ন সময়ের মূর্তি এক্সিবিট হিসাবে আছে। যে সব মূর্তি আমাদের দেশ থেকে পাচার হয়ে বিদেশের অকশন হাউসে বিক্রি হয়ে প্রাইভেট কালেক্টর বা গভর্নমেন্ট মিউজিয়াম কিনছে তার দাম কি ভাবে ঠিক হয়? এউ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমার এখানে আসা। বেশ কয়েকটি আর্ট কনজারভেশনের ফার্ম পাওয়া গেল। একটি সরকারী অফিসের সঙ্গে নানান ফাংশান দেখার সুবাদে পরিচিতি আছে-‘ইন্দিরা গান্ধী নযাশানাল সেন্টার ফর আর্টস এদের আগে ইন্ডিয়া গেটের পাশে বিশাল লন নিয়ে মেলা প্রাঙ্গন ছিল।


শীতকালে নানা ধরনের কালচারাল মেলা হত।এখনসেন্ট্রাল ভিস্তানামক প্রগতি রথের চক্রে পৃষ্ট হয়ে সেই জায়গাটি ইতিহাসের গর্ভে বিলীন হয়েছে। এদের অফিস এখন কনট প্লেসের অসংখ্য অফিস বিল্ডিংএর মধ্যে একটিতে।

এক জায়গাতে দেখলাম আর্ট রেস্টোরেশন এর প্র্যাকটিকাল ডেমোনস্ট্রশন হচ্ছে। যিনি করছিলেন, জানালেন যে অজন্তা গুহাতে ২৩ বছর গুহার দেওয়ালে খোদিত চিত্রকলার পুনরুদ্ধারে নিয়োজিত ছিলেন। 

তবে সবাইকে জিজ্ঞাসা করেও সঠিক জবাব পাওয়া গেল না।কার্বন ডেটিংকরে বয়সের আন্দাজ করা যায়। কিন্তু এটা লাগে খালি কোন একসময়ে জীবিত জিনিষের বয়স নির্ধারনের ক্ষেত্রে। পাথরের মূর্তির ক্ষেত্রে এই টেকনিক কাজে লাগে না। তবে কেউই ঠিক করে বলতে পারলেন না পুরানো মূর্তির দাম কি ভাবে ঠিক হয়। Triptych কনসালটেন্সি নামের একটি ফার্মের স্টল দেখলাম যারা কনজারভেশনের কাজ করেন। এক মহিলা আর্কিওলজিস্টের সঙ্গে কথা হল এই ব্যাপারে। উনি জানালেন মূর্তি কোন রাজবংশের শাসনকালে তৈরী হয়েছে এবং ওই ধরনের মূর্তির দুষ্প্রাপ্যতা কতটা এটাও একটা কারণ হতে পারে  দাম নির্ণয়ের ক্ষেত্রে। 


১৯৭২ সালে ভারত সরকার প্রথম এ্যনিটিকুইটিস এ্যন্ড আর্ট ট্রেজার এ্যক্ট প্রণয়ন করে ভারত থেকে বিদেশে এ্যন্টিক আর্টিফেক্ট নিয়ে যাওয়া বা পারসোনাল কালেকশনে রাখা বন্ধ করে দেন। এরপর অবৈধ পথে মূর্তি পাচার শুরু হয়। ভারত থেকে অনেক বছর ধরে বিশেষত আশির দশক থেকে মূর্তি পাচার হচ্ছে বিদেশে, যার বেশীরভাগ গিয়ে স্থান পাচ্ছে কোন মিউজিয়ামে অথবা প্রাইভেট আর্ট কালেক্টরের কাছে। কাগজের খবর অনুযায়ী এই সংখ্যাটা প্রায় প্রতি দশ বছরে দশ হাজার। তামিলনাড়ুতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পুরানো মন্দির আছে, যার সংখ্যা প্রায় চল্লিশ হাজার। তামিলনাড়ু হল একমাত্র ভারতীয় রাজ্য যেখানে পুলিশের সিআইডির আন্ডারে আইডল উইং রয়েছে। ৭০ দশকের শেষের দিকে বেশ কিছু ঘটনাতে জনা সাতেক মন্দিরের সিকিউরিটি গার্ডকে খুন করে মন্দির থেকে মূর্তি নিয়ে পালিয়ে যায় মূর্তি চোরেরা। আশির দশকে বেশ কিছু মূর্তি চুরির পর ১৯৮৩ সালে আইডল উইং তৈরী হয়। এরা ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী ২৭১টি কেস অনুসন্ধান করে ৫৮০টি এ্যন্টিক মেটাল আইডল আর ২২৪টি স্টোন আইডল উদ্ধার করেছে যার অনুমানিক মূল্য ১০০০ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য রিকভারির মধ্যে হল পঞ্চলোহার তৈরী পাথুর নটরাজ (Pathur Natarajar) এটা ১৯৭৬ সালে চুরি হয়েছিল।


মুসলিম আক্রমণ থেকে বাঁচাতে মূর্তিটাকে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে পাচার হয়ে যাওয়া নটরাজ কানাডার এক ফার্ম আড়াই লাখ ডলার (বর্তমান মূল্য পাঁচ কোটি টাকা) দিয়ে লন্ডনের এক এ্যন্টিক ডিলারের কাছ থেকে কেনে। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কাছে খবর পেয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এর তদন্ত শুরু করে। এরপর কেসটা কোর্টে যায়। ভারত সরকার এই কেসটাকে খুব গুরুত্ব দিয়েছিল। মূর্তি বিশেষজ্ঞর বয়ান এবং সমস্ত এভিডেন্স দেখার পর কোর্ট নটরাজকে আবার ভারতে ফেরত দেওয়ার আদেশ দেয়। সালটা ছিল ১৯৮৮। এই যুগান্তকারী রায়ের পর বিদেশীদের মনে এই ভয়টা ঢোকে যে ব্রিটিশ আমল থেকে এত মূর্তি ইল্যিগালি পাচার হয়েছে, সেগুলো আবার হয়ত ভারতে ফিরিয়ে দিতে হবে। ব্রিটেনের এলবার্ট মিউজিয়ামে

৩৩ হাজার ভারতীয় পেন্টিং আছ। লন্ডন মিউজিয়াম ভারতীয় এ্যন্টিক আইডলে ভর্তি। 

এবারে একটু নিজের কথায় আসি। খবর পেলাম এএসআই থেকে পুরানা কেল্লাতে এক্সকাভেশন চলছে। ইন্দ্রপ্রস্থ নাম ছিল পান্ডবদের রাজধানীর। দিল্লির এই জায়গাটাও ইন্দ্রপ্রস্থ। তাই খনন চলছে যদি মহাভারত আমলের কিছু প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়। সকালে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। গিয়ে দেখি পুরানা কেল্লার চত্বরের খোলামাঠে লোকজন গোল হয়ে এক্সাভেটেড এরিয়া থেকে বালতি দিয়ে জল তুলতে ব্যস্ত। 




খননকার্য মাথায় উঠেছে! জুন মাসে এরকম আনএক্সপেক্টেড বৃষ্টির জন্য এরা প্রস্তুত ছিলেন না। কোনমতে পলিথিন শিট দিয়ে ঢাকা হয়েছে। ওখানে আলাপ হল এএসআইতে কর্মরতা শতরূপার সঙ্গে।


বাঙালী তরুণী। জিজ্ঞাসা করি যদি এ্যন্টিক আইডলের ভ্যালুয়েশন নিয়ে কিছু জানা যায়। শতরূপার কাছে জানলাম ইন্ডিয়ান এ্যন্টিকুয়িটি এ্যক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী  ১০০ বছরের বেশী পুরানো মূর্তি এ্যন্টিকুয়েটি বলে বিবেচিত হবে। জিজ্ঞাসা করি এই যে শুনি অমুক অকশন হাউসে এতটাকায় বিক্রি হল একটা মূর্তি, এটা কি ভাবে ঠিক হয়? শতরূপা বল্ল অকশন হাউসে ভ্যালুয়ার থাকে, ভারতীয় পুরাতত্ব বিভাগেও আছে। জানা গেল চোল বংশ রাজত্ব করেছিলেন দক্ষিণ ভারতে নয়শত থেকে তেরশ শতক পর্যন্ত। সময় টেম্পল আর্কিটেকচার উচ্চতার শিখরে পৌঁছেছিল। চোলা পিরিয়ডের ব্রোন্জ মূর্তি বা গুপ্তা পিরিয়ডের প্রস্তর মূর্তি সবচেয়ে বেশী দাম পায় আন্তর্জাতিক বাজারে। শতরূপার কাছে শুনলাম এই ওল্ড ফোর্টের দুটো মিউজিয়ামের একটা ডেডিকেটেড হল বিদেশ থেকে যে সব চুরি হয়ে যাওয়া মূর্তি ফেরত এসেছে, তাদেরকে রাখা হয়েছে।

 
যে সব ফেরত আসা মূর্তি যে  অরিজিনাল টেম্পলে ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, সেই মূর্তি সেই মন্দিরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিউজিয়ামটা ভিসিট করলাম। অনেক দুষ্প্রাপ্য মূর্তি রাখা।

এরপর আসি এই দুষ্প্রাপ্য মূর্তি কি ভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যায় তার সম্বন্ধিত কিছু তথ্য। 

গত কয়েক দশক ধরে যত মূর্তি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল থেকে পাচার হয়েছে, তার সিংহভাগ চুরির পান্ডা হলেন ইন্ডিয়ান বর্ন আমেরিকান সুভাষ কাপুর।


২০১১ তে ধরা পড়ার আগে কাপুর ছিলেন খুব পরিচিত আর্ট ডিলার এবং সন্মানীয় ব্যাক্তি। কাপুরকে সবাই জানত একজন প্যাট্রন অফ আর্ট আর সাথে সাথে বিভিন্ন মিউজিয়ামে আর্টিফেক্ট দান করার জন্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে কাপুর চোরাই মূর্তি বিক্রি করছে, তার কোন সন্দেহের অবকাশ ছিল না। কাপুরের এ্যন্টিক মূর্তির ভ্যালুয়েশন সম্বন্ধে ভাল জ্ঞান ছিল। কাপুর ভারতে এলে নামকরা হিস্টোরিয়ানদের সঙ্গে দেখা করে কোন পিরিয়ডের কোন মূর্তি দুষ্প্রাপ্য এবং ইন্টারন্যাশানাল মার্কেটে কিরকম ডিমান্ড, এইসব ইনফরমেশন যোগাড় করত।

এ্যকাডেমিক লাইনের লোকেরা বুঝতেও পারতেন না, তাদের দেওয়া এই ফ্রি জ্ঞান কাপুর মূর্তি চুরির কাজে লাগাবে। প্রাথমিক শুলুক সন্ধানের পর কাপুর যোগাযোগ করত ওই মন্দিরের পূজারীর সঙ্গে। তাকে টাকা দিয়ে বশ করে প্রথমে মূর্তির রেপ্লিকা বানাত। এই রেপ্লিকা দেখিয়ে এক্সপোর্টের জন্য সার্টিফিকেট যোগাড় করত সরকার থেকে। এরপর মন্দিরে রেপ্লিকাকে রেখে অরিজিনালটাকে সরিয়ে নিজের আর্ট গ্যালারিতে নিয়ে যেত।

কাপুরের ধরা পড়ার মূলে ছিল Grace Paramaspry Punusamy নাম্নী নারী। কাপুরের সঙ্গে এই  সিঙ্গাপুরিয়ান গার্লফ্রেন্ড একটি রিলেশনশিপে ছিল দশ বছর। পুনুস্বামীও একজন সিঙ্গাপুর বেসড আর্ট ডিলার ছিল এবং সে তার পার্টনার ইন ক্রাইম ছিল। কাপুরের আর্ট গ্যালারী ছিল নিউইয়র্কে। ব্রেকআপের সময়, কাপুরের অনেক এ্যন্টিক পিস ছিল পুনুস্বামীর কাছে। 

এই সমস্ত চোরাই আর্টেফাক্ট বিক্রির আগে ফেক ডকুমেন্ট বানানর কাজে এই মহিলা সহযোগী ছিলেন। ব্রেক আপের পর সেইসব আইডল ফেরত না দেওয়াতে কাপুর সিঙ্গাপুর কোর্টে মামলা দায়ের করে। কাপুরের নেটওয়ার্কিং খুব ভাল ছিল। কাপুর বা পুনুস্বামী, কাউর কাছেই মূর্তিগুলির ভ্যালিড পেপার ছিল না। কাপুর সাউথ এশিয়ার কিছু আর্ট ডিলারকে কোর্টে সাক্ষী হিসাবে পেশ করে এবং মামলা জিতে যায়। মিস পুনুস্বামীর মনে প্রতিশোধের স্পৃহা জেগে ওঠে এবং ২০১১সালে কাপুরের কুকীর্তি আমেরিকান ইনটালিজেন্সএর কাছে ফাঁস করে দেয় কাপুরের অপকর্মের প্রমাণ সহ। এরপর নিউইয়র্ক পুলিশ নড়ে চড়ে বসে এবং কাপুরের বিরূদ্ধে ইন্টারপোল রেড-কর্ণার এ্যলার্ট জারী করে। ৩০শে অক্টোবর ২০১১ তে সুভাষ কাপুরকে বার্লিন থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতে নিয়ে আসা হয়। 

নিউইয়র্ক পুলিশের ইনভেস্টিগেশন অনুযায়ী সুভাষ কাপুরের ফার্ম, ২০১১ থেকে ২০২২ এর মধ্যে ২৬০০টি প্রত্নতাত্বিক অবজেক্ট ভারত, নেপাল, আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান থেকে চোরাইচালান করে বিভিন্ন মিউজিয়াম বা অকশন হাউসকে বিক্রি করেছে, যার সম্মিলিত মূল্য ১২০ কোটি টাকা। এই কাজে যুক্ত থাকার জন্য নিউইয়র্কের আর্ট ডিলার ন্যান্সি ওয়েনার (Nancy Wiener, ৬৬ বছর বয়স)কে


পুলিশ গ্রেপ্তার করে ২০২৩ সালে। ইনি মূর্তির প্রুভেননেস সার্টিফিকেট তৈরী করতেন। ন্যান্সি কোর্টে জানিয়েছে যে এই সার্টফিকেট অনেক বছর ধরে গ্রে এরিয়া ছিল, কারণ পুরানো আর্টিফেক্টের ইতিহাস পাওয়া মুস্কিল। তাই বাজারে সবাই জেনে বুঝে ফেক ডকুমেন্ট বানায়।
 ২০০৮ সালে Sri Varadharajaperumal Temple, Pottaveli Velur village, Ariyalur district থেকে ১৯টি মূর্তি চুরি হয়েছিল । এই মন্দিরে অনেক বছর ধরে পুজা বন্ধ ছিল। সমান্য মাইনের কারণে বহু বছর আগে পুরোহিত চলে যায়। এরপর মন্দিরে সরকার থেকে তালা লাগানো হয়। কেউ রটিয়ে দিয়েছিল ওর ভিতরে মৌমাছি আছে, যার হুলে মারাত্মক বিষ আছে।


এই জন্য গ্রামের কেউ মন্দিরে যেত না। HR &CE  (Hindu Religious & Charitable Endowments Department) 2008 সালে মন্দিরের ভিতরের মূর্তিগুলিকে সুরক্ষিত করতে সেফ কাস্টডিতে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু গ্রামবাসীরা এতে সম্মতি দেয় না। তখন ঠিক হয় মূর্তি সুরক্ষিত করার জন্য লোহার মজবুত গেট লাগানো হবে। তিনমাস পরে নূতন গেট এনে দেখা যায় পুরানো গেটের তালা ভাঙা আর সব মূর্তি গায়েব।  ২০১২ থেকে চলা এই কেসের রায়দান হয় ২০২২ সালে। কাপুরকে দশ বছরের জেল সাত হাজার টাকা জরিমানা, অনাদয়ে চারমাস জেলএর সাজা দেওয়া হয়। অলরেডি ১০বছর জেলে থাকার জন্য কাপুরের মুক্তি পাওয়ার কথা। তবে কাপুর দরিমানার টাকাটা না দিয়ে জেলে আরো থাকতে চাইছিল, কারণ জেল থেকে বেরোলেই, নিউইয়র্কের শ্রীঘরে যেতে হবে, কারণ ওখানে ফেক সার্টিফিকেট দিয়ে মূর্তি বেচার জন্য ৩০ বছরের জেল অপেক্ষা করছে।

 তামিলনাড়ু পুলিশ আরো তিনটে কেসের জন্য ওয়াটারটাইট ফাইল বানিয়েছে, কিন্তু কোর্ট পেশ করা যাচ্ছে না, কারণ এক্সট্রাডিশেন ট্রিটি অনুযায়ী, ভারতে মাত্র একটা কেসের জন্যই কাপুরকে কনভিক্ট করা যাবে।

মূর্তিচুরি আইডেন্টিফাই করার জন্য ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অফ পন্ডিচেরির অবদান না উল্লেখ করলেই নয়।


১৯৫৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান শুরু হয় মূলত সাউথ ইন্ডিয়ার কালচারাল ইতিহাস জানার উদ্দেশ্য নিয়ে। এদের একটা ফটো আর্কাইভ আছে।  তামিলনাড়ুর অনেক মন্দিরের বিগ্রহের ছবি আছে এই আর্কাইভে ক্যাটালগিং করে। যখন এই ইন্দোলজি রিসার্চ সেন্টার শুরু হয় তখন কখনো ভাবা হয় নি যে রিসার্চ স্কলার বা হিস্টোরিয়ান ছাড়া, পুলিশের কাজে আসবে এই ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট।

তামিলনাড়ু একমাত্র রাজ্য যেখানে সেপারেট আইডল উইং আছে। ১৯৮০ সালে সরকারের নজরে আসে অনেক পঞ্চগোলা (panchgola) মূর্তি মন্দির থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে এবং সাধারন লোকজন অসন্তুষ্ট হচ্ছে। একজন ডিআইজি রাঙ্কের অফিসার আইডল উইং দায়িত্বে আছেন।

              Idols seized in Thanjavur 1,000 years old: TN Idol Wing

লাখের উপর ভ্যালুয়েশনের মূর্তিচুরির তদন্ত এরা করেন। এছাড়া সমস্ত এ্যন্টিক ডিলার মূর্তিচুরি সম্বন্ধিত কোর্ট কেস এরা মনিটর করেন।


পুরানো মূর্তি চুরি হয়ে গেলে তার ছবি সাধারন ভাবে পাওয়া যায় না, তার কারণ হল বিগ্রহের ফটো হিন্দুরা তোলেন না। এরকম ক্ষেত্রে পুলিশকে দ্বারস্থ হতে হয় ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউটের। এদের আর্কাইভ থেকে ছবি বার করে, আজকাল ইন্টারন্টের দৌলতে অকশন হাউস বা মিউজিয়ামের ওয়েবসাইট সার্চ করে খোঁজার চেষ্টা করেন। ২০২২ সালের একটা ঘটনার উদাহরণ দিই।১৯৭০ সালে একটা নটরাজ বিগ্রহ Akilandeshwari Sametha Gotanda Ramaswamy temple, Kovilpatti থেকে চুরি হয়েছিল। চুরির রিপোর্টিং কিছুদিন আগে হয়। সময়ে চুরি হওয়া চারটির মধ্যে তিনটি, পুলিশ ১৯৭২ সালে উদ্ধার করেছিল। নটরাজটা পাওয়া যায় নি। আইডল থেফ্ট ডিপার্টমেন্ট ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট থেকে বিগ্রহের ফটো যোগাড় করে। গ্রামের বৃদ্ধদের কাছ থেকেও বিগ্রহের শেপ সাইজের খবর নেওয়া হয়। তারপর ইন্টার নেট থেকে জানা যায় ফ্রেঞ্চ সথবি (Sotheby’s) অকশন হাউসে লিস্টিং হয়েছে বিক্রির জন্য, রিজার্ভ প্রাইস মিনিমাম ৩লাখ ইউরো। এ্যমবাসি মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর অকশন স্থগিত রাখা হয়েছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্ধার হল চারফিটের নটরাজ  (Sripuranthan Natarajan Idol) মূর্তি যেটা ১৯৮০ সাল নাগাদ চুরি হয়ে গিয়েছিল। চোরও ধরা পরে অদ্ভুত ভাবে। কাপুর কেরালাইট আর্ট ডিলার সঞ্জিবী অশোকন-কে লাগিয়েছিল মূর্তি চুরির কাজে। অশোকন আবার চুরির ভার দেয় পিচামনি নামে একটা লোকাল লোকের উপর। কয়েকটা বড় মূর্তির সঙ্গে একটা ছোট গনেশমূর্তি ও চুরি করেছিল পিচামনি, তবে গনেশমূর্তিটা পিচামনির পকেটে রয়ে যায়। একবার গাড়ী করে সে যাচ্ছিল কেরালাতে। রাস্তাতে পুলিশ তার গাড়ী চেক করে। ওটা একটা রুটিন চেকিং ছিল লিকার বর্ডার ক্রস করে ভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছে কিনা চেকিংএর জন্য। পুলিশ ডিকিতে গনেশমূর্তিটাকে দেখে সন্দেহ করে যে এটা একটা এ্যন্টিক পিস। এই সূত্র ধরে ধীরে ধীরে পুলিশ জানতে পারে মূল পান্ডা হল সুভাষ কাপুর।
laniswamy, whose family guarded Brihadeeswara Temple in Sripuranthan for centuries, lights a lampatan empty spot now

কাপুরের হাত ঘুরে নটরাজ অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশানাল গ্যালারি অফ মডার্ন আর্ট (NGA) মিউজিয়ামে রাখা ছিল। 
তবে প্রথমে NGA নটরাজ কেনার অথেন্টিসিটি নিয়ে বলে যে কেনার আগে তারা Art loss register থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছে যে মূর্তিটা চুরির নয়। এ ছাড়া তারা এর আগের owner এর এ্যড্রেস কনফার্ম করেছ, তামিলনাড়ু পুলিশের আইডল উইং এর ওয়েবসাইট চেক করেছে।তবে এগুলি সবই সুপারফিসিয়াল যুক্তি ছিল। ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউটের পুরানো ফটোর সঙ্গে মিলে যায় চুরি যাওয়া নটরাজ। এছাড়া কাপুরের মূর্তির ডকুমেন্ট যে ফর্জ করত, Mr Aaron Freedman, নিউইয়র্কে পুলিশের কাছে দোশ স্বীকার করে।
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী টনি এ্যবট, নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেন। 

সুভাষ কাপুরের দুষ্কর্মের আওতা থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গলও বাদ যায় নি। চন্দ্রকেতুগড়ের


(
বারাসতের বেড়াচাঁপা-র কাছে, কলকাতা থেকে মাত্র ৩০-৪০ কিমি দূরে) পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন (অনুমানিক ২০০০-২২০০ বছর আগের) প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।


এখানে খননকার্য হয়েছিল  আশির দশকে। US হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অনুসন্ধান অনুযায়ী ২২/২৩ কোটি টাকার আর্টিফেক্ট পাচার হয়েছে ১৯৯৫ বা তার পরে।

আশ্চর্যের ব্যাপার ইউএস ওয়েব সাইটে সব তথ্য থাকা সত্বেও গভর্নমেন্ট থেকে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় নি এসব আর্চিফেক্ট ফেরত আনার জন্য। এরও কিংপিন সুভাষ কাপুর। কাপুর এক অতি চালাক ব্যক্তি। কাপুর জানত কি ভাবে বিশ্বাস অর্জন করতে হয়। আর্ট ডিলিং মার্কেটে বিশ্বাস অর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ন কারণ চোরাই চালান করা

জিনিষ বেচতে গেলে কাস্টমারের কাছে নিজেকে জেনুইন দেখাতে হবে। Toledo Museum of Art, Ohio, USA এর ২০০৭ সালের 

এ্যনুয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী একশরও বেশী চন্দ্রকেতুগড়ের মূর্তি (যার মূল্য কোটি টাকার), দান করে। এরপর ২০০০ সালে কাপুর আলাদা করে কোটি টাকা ডোনেশন দেয়। এরপর ২০০৬ সালে চন্দ্রকেতুগড়ের একটা গনেশ মূর্তি বিক্রি করে . কোটি টাকাতে।

এখানে বলতে হয় খুবই দুঃখের সঙ্গে যে চন্দ্রকেতুগড়ের এক্সাভেশন আশি সালের পর আর হয় নি এবং এক্সকাভেশনের রিপোর্টও প্রপার নেই। যদিও এই চন্দ্রকেতুগড়ের সভ্যতা লেট হরপ্পান টাইমের কিন্তু এর কথা ইতিহাস বইতেও তেমনভাবে উল্লেখ নেই।


সাধারণ বাঙ্গালীরা অনেকেই চন্দ্রকেতুগড়ের নাম শোনেন নি। 


মূর্তি চোরেরা দুষ্কর্ম ঢাকার জন্য নানা রকম উপায় অবলম্বন করে। প্রথমদিকে টার্গেট থাকে এমন সব মন্দিরের যেখানে অনেকদিন ধরে পূজা বন্ধ। পরিত্যক্ত এই মন্দিরে লোকচক্ষুর অন্তরালে মূর্তি লোপাট করা সুবিধা। অনেক সময় এইসব মন্দিরে তালা দেওয়া থাকে। তালা ভেঙে গর্ভগৃহ থেকে মূর্তি চুরি করে তালার আংটাটা আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়, যাতে কেউ বুঝতে না পারে। একটু বড় মন্দির হলে এই সঙ্ঘবদ্ধ আইডল থিফরা প্রথমে রেপ্লিকা তৈরী করে অরিজিনাল মূর্তি চুরি করে রেপ্লিকা বসিয়ে দেয় যাতে কেউ বুঝতে না পারে। 

সাম্প্রতিককালে থিরুভারুর আইকন সেন্টার (Thiruvarur icon center), তামিলনাড়ুতে মূর্তি আসল কি নকল পরীক্ষা করার জন্য সেট-আপ করা হয়েছে।২০১৯শের কাগজের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি আইডল তামিলনাড়ুতে অবস্থিত বিভিন্ন মন্দির থেকে আনা মূর্তির মধ্যে তিন হাজার পরীক্ষা করা হয়ে গিয়েছে। অথেন্টিসিটি চেকের কয়েকটি মেথড হল, যেমন Patina- ব্রোন্জ, কপার বা ব্রাসের তৈরী মূর্তির উপর একরকম অক্সিডাইজড কোটিং তৈরী হয়, সেই কোটিং পরীক্ষা করে দেখা হয়। এছাড়া বিভিন্ন পিরিয়ডে তৈরী মূর্তির স্টাইল ভিন্ন ভিন্ন হয়। কনস্ট্রাকশন টেকনিক হলমার্ক বা মেকার্স মার্ক দেখেও মূর্তির অথেন্টিসিটি বিচার হয়। আজকাল এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি

              handheld x-ray fluorescence spectrometer
করে নন-ডেস্ট্রাক্টিভ মেথডে মূর্তির অথেন্টিসিটি বোঝা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিককালে একটি ঘটনা জানাই। বছর দুয়েক আগে তামিলনাড়ুর বিশ্বনাথ স্বামী মন্দির (Vishwanatha Swamy Temple at Alathur in Tiruvarur district) থেকে আসা মূর্তিগুলির মধ্যে দুইটি মূর্তি নকল প্রমানিত হয়। পঞ্চাশ বছর আগে চুরি হয়ে যাওয়া


এই মূর্তিগুলি চোলা পিরিয়ডের ব্রোন্জ মূর্তি। এই অরিজিনাল মূর্তির ফটো মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না। French Institute of Pondicherry (IFP), যার পরিচয় আগেই দিয়েছি, সেখানে এই এ্যন্টিক আইডলের ফটো পাওয়া যায়। তারপর ইন্টারনেট ঘেটে আমেরিকার LACMA Museum, Los Angeles রাখা আছে বলে জানা যায়। আরেকটা গনেশ মূর্তি ক্যানসাসের নেলসন এ্যটকিনস মিউজিয়ামে পাওয়া যায়। 

 পুলামাঙ্গাই পশুপতিশ্বর মন্দির (Pullamangai Pasupatheeswarar Temple), থাঞ্জাভুর



থেকে পাঁচটি মূর্তি নিয়ে আসা হয় আন্টিকুয়িটি পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষায় এগুলি নকল প্রমানিত হয়। এগুলো এখন কোথায় আছে তা জানার চেষ্টা করছে তামিলনাড়ু আইডল উইং। 


দেবদত্ত

০১/০৮/২৪


Comments

  1. অপূর্ব কর4 August 2024 at 00:21

    তথ্যে ভরপুর লেখা। খুব ভালো লাগলো। পুন্নুস্বামীকে কি পার্টনার ইন ক্রাইম অপরাধে সাজা দেওয়া হয়েছিল? আর এত বার অপরাধে মাত্র 10 বছর কারাবাস খুবই নগণ্য।

    ReplyDelete
  2. খুবই তথ্যসমৃদ্ধ লেখা, কতকিছু জানতে পারলাম।

    ReplyDelete
  3. অসাধারণ এই লেখায় অনেক অজানা বিষয় জানলাম, যার কোন ধারণা ছিল না। এবার বুঝতে পারছি মূর্তি চুরি নিয়ে এত সিনেমা কেন হয়েছে বা ভবিষ্যতেও হবে। লেখকের লেখনীতে এরকম আরো অনেক অপরিচিত বিষয়ের অপেক্ষা রইল

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments