হেরিটেজ ওয়াক (ওল্ড ফোর্ট)

 


হেরিটেজ ওয়াক (ওল্ড ফোর্ট)

মার্চের শুরুতে এ্যলামনির উদ্যোগে হেরিটেজ ওয়াক হবে পুরাণা কেল্লাতে। একটা মিটিংএ প্রোপোজালটা আমিই দিয়েছিলাম। সুতরাং বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার দায়িত্ব আমারই ঘাড়ে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন। দিনটা রবিবার, আগেরদিন বৃষ্টি হয়ে দিল্লির কুখ্যাত পলিউশন লেভেল কম, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, সোয়েটারের সঙ্গে আড়ি না ভাব তাই নিয়ে মনে দ্বিধা। শুরুটা ভালই হবে আশা করা যাচ্ছে।এই লেখার উদ্দেশ্য ইতিহাসের গভীরে ডুব দেওয়ার, মনের গভীরে নয়, যা সাধারনভাবে আমার এ্যলামনির গেট-টুগেদার সংক্রান্ত লেখায় হয়ে থাকে।

সব মিলিয়ে জনা চল্লিশের দল। তিরিশ টাকা এনট্রি ফি দিয়ে ভিতরে ঢোকা গেল।


সামনে দেখা যাচ্ছে ওল্ড ফোর্টের বিশাল তোরণ। ভিতরে অপেক্ষা করছেন এএসআই এর ডাইরেক্টর ডাঃ স্বর্নকার তার দলবল,

যার মধ্যে আমার পূর্বপরিচিত, অপেক্ষাকৃত নবীন ডাঃ শতরূপা। হাসিখুশী মেয়েটি ভোরবেলায় চন্ডীগড় থেকে রওয়ানা দিয়ে ঠিক সময়ে পৌঁছেছে, শুধুমাত্র আমাদের অনুরোধে এই হেরিটেজ যাত্রার অন্যতম কান্ডারী হিসাবে। শতরুপা সম্প্রতি পিএইচডি করেছে হরপ্পান কঙ্কালের উপর। ওর গাইড ছিল এনথ্রপলজিস্ট। সত্যিই কতরকম বিষয়েই তো ডক্টরেট করা যায়। 

একসময় যমুনা নদী বইত এই কেল্লারই পিছন দিক দিয়ে।


সেখান থেকে পরিখা খনন করে সামনের বড়া গেটের পাশ দিয়ে ফোর্টের প্রাচীর বরাবর বেষ্টিত ছিল। ইংরাজিতে এর নাম moat. পরিখা পারাপারের জন্য একসময় কাঠের পুল ছিল, যা দুর্গকে সুরক্ষিত রাখার জন্য রাতে উঠিয়ে রাখা হত। ডাঃ স্বর্নকার জানালেন কেল্লা তৈরীর সময় নদীর কাছাকাছি একটু উঁচু মাউন্ড দেখে বানান হয়েছিল। উঁচু যে সেটা বোঝা যায় কেল্লা সংলগ্ন এপ্রোচ রোডের খাড়াই দেখে। পুরাতন কালে এই জায়গার নাম ছিল ইন্দ্রপ্রস্থ, যা একসময়ে পুরাণে কথিত মহাভারতের পান্ডবদের রাজধানী ছিল। ময়দানবের তৈরী সেই ইন্দ্রপুরী কল্পনার আলোকে সাজানো মিথ কিনা জানা নেই। কিছুটা সেই সত্যের সন্ধানে পুরানা কেল্লার ভিতরে খনন কার্য চলেছে ১৯৫২-৫৩ তারপর ১৯৬৩-৬৪ ওপরে ২০১২-১৩ এবং সম্প্রতি গতবছর থেকে। শেষ দুই খননকার্য চলেছে ডাঃ স্বর্নকারের নেতৃত্বে। এরকম প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে জ্ঞানবর্ধন আমাদের সৌভাগ্য।

প্রথমে আসি কেল্লার স্থাপত্য সম্বন্ধীয় বর্ণনায়।বড়া গেটএর মূল অংশ লাল রং এর পাথর, যা রেড স্যান্ড স্টোন নামে পরিচিত।


এই পাথর দিল্লির আশেপাশে নেই, ফতেপুর সিক্রি থেকে এসেছে। সাদা পাথরগুলি হল মার্বেল, যার প্রাপ্তিস্থান রাজস্থান। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ফাটকের দুই পাশে অর্ধবৃত্তাকারে সামনের দিকে বেরিয়ে আসা অংশটি। একে বলে ব্যাস্টিয়ন (bastion) এই অংশটি এবং কেল্লাটিকে ঘিরে প্রাচীর তৈরী হয়েছে যে পাথর দিয়ে তা দিল্লিদিল্লি কোয়ার্টজনামে পরিচিত। আমরা জানি যে আরাবল্লী হিলসের শেষ অংশটি দিল্লির মেহেরৌলি অব্দি বৃস্তিত। এটি রিজ এরিয়া নামে পরিচিত। দিল্লি কোয়ার্টজ এখানেই পাওয়া যায়। লোকালি এভেলেবল বলে দিল্লির বেশীরভাগ সুলতানেট পিরিয়ডের স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শনে এই পাথরের ব্যবহার হয়েছে। তবে মুস্কিল হল কোয়ার্টজ শক্ত পাথর হলেও চিজেল করতে গেলে ভেঙে যায়, যার জন্য এতে intricate carving করা যায় না।

মার্বেল বা ব্যাসাল্ট- এই প্রবলেম নেই।

দর্শকবৃন্দ বেশীরভাগ ইঞ্জিনিয়ার। তাদের জ্ঞাতার্থে স্বর্নকার সাহেব কনস্ট্রাকশন টেকনিক ব্যাখ্যা করলেন। এই দিল্লি কোয়ার্টজ পাহাড় ভেঙে বিভিন্ন আকৃতির (লক্ষণীয় যে যে রকম শেপের পাথর পাওয়া গেল খননে, তাকে কোন রেগুলার আকৃতি, স্কোয়ার বা রেক্টাঙ্গুলার শেপে নয়)- নিয়ে এসে কাঠের ফ্রেমের মধ্যে ভরা হত, তারপর মধ্যে ক্রাশড রাবল আর লাইমস্টোন জলের মিশ্রনে দিয়ে ভরা হত। বছর খানেকের মধ্যে তা শুকিয়ে হার্ড হয়ে যেত। এই টেকনিক টার্করা প্রথম ভারতে আনে।



তার আগে ভারতে যে মন্দির বা কেল্লা তৈরী হয়েছে, সে সবই পাথর কেটে রেগুলার আকৃতিতে এনে, একটার উপর একটা বসিয়ে, দুটো পাথর যাতে এদিক ওদিক না হয়ে  যায় তাই wedge and groove পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। কোয়ার্টজ পাথর মিশ্রনের তৈরী ইমারতের বিশেষত্ব হল, এটা বর্ষায় জল শুষে নেয়, এবং শুষ্ক গরমে তা বায়ুমন্ডলে ছেড়ে দেয়। ফলত ফাটলের সম্ভাবনা থাকে না।দেওয়ালের উপরিভাগে, আজকাল যেমন আমরা টাইল লাগাই, তেমনি পাথর সাইজমত কেটে একটার পর একটা বসান হত। 

যে ব্যাস্টিয়নের কথা একটু আগে বল্লাম,


এটা প্রায় সব কেল্লার তোরণের পাশে এবং কেল্লার প্রাচীরের কিছু অংশ পরে পরে পাওয়া যায়। এর কারণ সুরক্ষা সম্বন্ধিত, সামনের দিকে প্রোজেক্টেড থাকার জন্য, গেটের প্রহরীর উপর থেকে নজর রাখতে পারত। একদম উপরের অংশে যে ছিদ্রগুলি রয়েছে, তা দিয়ে শত্রুর উদ্দেশ্যে, তীর বা বন্দুক চালান যেত। 

প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর পানিপথের যুদ্ধজয় করেছিলেন কামানের সাহায্যে গান পাউডার ব্যবহারের মধ্যে। বাবর উজবেকিস্তানের ফরঘানা থেকে বিতাড়িত হয়ে কাবুল জয় করেন।


গান পাউডারের ব্যাপারটা উনি শিখেছিলেন টার্কদের কাছ থেকে, যারা তখন অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে কামানের আঘাত প্রতিহত করতে দুর্গের প্রাচীর আরো মজবুত করার দরকার পড়ল।

এটা বোঝা যায় ফোর্টের ভিতরে ঢুকলে। ভিতরের প্রাচীর এতই চওড়া যে খোপ খোপ করে ঘর বানান।

ডাঃ স্বর্নকার জানালেন যে আগে এর মধ্যে ঘোড়া এবং সৈন্য সামন্তদের বাসস্থান ছিল। 

গেটের দুই পাশে দুটো ট্রাঙ্গেলের মধ্যে পদ্মফুলের সিম্বল। এই ত্রিভুজাকৃতি চিহ্নটিস্টার অফ ডেভিডনামে পরিচিত।


এটা ইহুদীদের ধর্মীয় স্থানে দেখা যায়। আর লোটাস বা পদ্ম হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ তিন ধর্মেই বিশাল আদরণীয়। পদ্মকে আমরা বলি পঙ্কজ, অর্থাৎ  পঙ্কে জন্ম যার। পঙ্কের মধ্যে থেকেও সে শুদ্ধতার প্রতীক, এটা সিম্বলাইজ করে পরম শক্তিমানের, যার অপার করুণা মানবজীবনে সতত বর্ষিত হয়ে চলেছে। 

গেটের উপরি অংশে ব্যাস্টিয়নের উপরে রাজস্থানী ছত্রী বা ঝরোকা আকারের স্থাপত্য। ডাঃ স্বর্নকারের কাছে শুনলাম সব পুরানো স্থাপত্যশৈলীতে লোকাল কারিগরেরা তাদের সংস্কৃতির ছাপ রেখে যায়।ঝরোকাতারই এক নিদর্শন।এই ঝরোকা উপরে ব্লু টাইলস বসান ছিল। বেশীরভাগ টাইলস কালের প্রভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যে সময় এই দুর্গ তৈরী হয়, তখন ভারতবর্ষে ব্লু-টাইল বানাবার টেকনোলজি ছিল না। টার্করা প্রথম ভারতে ব্লু টাইলস ব্যবহার করে বিভিন্ন মনুমেন্টে। টার্করা আবার শিখেছিল চাইনিজদের কাছ থেকে। ব্লুটাইলস সিল্করুট দিয়ে চায়না থেকে লাদাখ হয়ে ভারতে আসত।

ভারত নামক, এই বিশাল উপমহাদেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের সংমিশ্রনে। তারই ছাপ রয়েছে সর্বত্র। তাই তো কবি লিখেছেনহেথায় আর্য, হেথা অনার্য হেথায় দ্রাবিড়, চীন/--শক-হুন-দল পাঠান-মোঘল /এক দেহে হল লীন।

ঐতিহাসিকরা ইতিহাসের ব্যাখ্যা করেন, কখনো তাতে সত্যতার আঁধার থাকে ধূসরের পরতে আবৃত। যত পুরাতন সভ্যতা, ততই কিছু স্বপ্নের মিশ্রণ। প্রত্নতত্ববিদরা খননকার্য করেন, পাওয়া যায় প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন। পাওয়া যায় শিলালিপি, প্রস্তরমূর্তি, পটারি- যার ভিত্তিতে রচিত হয় ইতিহাস। মানুষ যবে থেকে কৃষিকাজ শিখল, বসতি বানিয়ে থিতু হল, মোটামুটি ধরলে ৫০০০ হাজার বছর আগে, তখন থেকেই সভ্যতার সূত্রপাত। শতাব্দী ধরে বহমান সভ্যতার প্রবাহ চলে, নগরী, গ্রাম পত্তন হয়, আবার হারিয়ে যায় কালের গর্ভে, ধরিত্রী তাকে ঢেকে দেয় মাটি দিয়ে।


তার উপর আবার এক সভ্যতার আবির্ভাব হয়, ইতিহাস বদলায়, মাটির তলায় রয়ে যায় তারই ধ্বংসাবশেষ। এটা অনেকটা আমাদের ফিজিক্স ল্যাবরেটারী। থিয়োরিকে প্রুভ করি এক্সপিরিমেন্ট দিয়ে। প্রত্নতত্ববিদরা মাটি খুঁড়ে বার করেন প্রাচীন নিদর্শন, জীবাশ্ম, ফসিল, বিভিন্ন ইন্সক্রিপশন- তারই ভিত্তিতে ইতিহাসের সত্যতা যাচাই হয়। 

হাঁটতে হাঁটতে আমরা এলাম কেল্লার মধ্যবর্তী অংশে। দুদিকে বিস্তৃত সবুজ ঘাসের গালিচা। মাঝখান থেকে কেল্লার তিনটি গেটই দৃশ্যমান। সামনেরবড়া গেটএর বর্ণনা আগেই দিয়েছি। দক্ষিণের গেটটার নাম হুমায়ুন গেট



এবং উত্তরের গেটটিকে বলে তালাকি দরওয়াজা।

তালাকি দরওয়াজা বহু শতাব্দী ধরে বন্ধ।কারণ জানা নেই, তবে মিথ হল, এই গেট দিয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে সৈন্যরা পরাজিত হয়েছিল, তাই অশুভ চিহ্নিত করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

কেল্লার ইতিহাস সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা যাক। এই কেল্লার প্রতিষ্ঠাতা দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট হুমায়ুন। হুমায়ূনের জন্ম ১৫০৮ সালে,


আর কেল্লার স্থাপনা শুরু হয় ১৫৩৩ সালে, ১৫৩০ সালে মসনদে আসীন হওয়ার পর।হুমায়ুন এর নাম দিয়েছিলেন “দিন-পনহা”। হুমায়ুন তিমুরিদ বংশের যোগ্য উত্তরসূরী ছিলেন। পশ্চিম ভারতে হুমায়ুন সাফল্য পেয়েছিলেন। গুজরাট, মালোয়া, মান্ডু তার অধিকারে এসেছিল। কিন্তু তার পূর্বভারতের নেমেসিস শেরশা সুরির কাছে পরপর ১৫৩৯ সালে ব্যাটেল অফ চৌসা এবং ১৫৪০ সালে ব্যাটেল অফ কনৌজে হেরে যান। নামেই মোঘল সম্রাজ্যের বাদশা, মখমলের গদী তাঁর নিত্যসঙ্গী নয়, ধূলি ধূসরিত পথ, আর কন্টকশয্যা তার যৌবনের সঙ্গী। পুরানা কেল্লা থেকে বিতাড়িত হয় দীর্ঘ পনের বছরের যাযাবরের জীবনে প্রথমে লাহোর হয়ে কাবুল যান। এই যাত্রায় পাঞ্জাবের উমেরকোটে জন্ম আকবরের। শিশুপুত্রকে নিয়ে পাড়ি দেন দুর্গম হিন্দুকুশ পর্বত। লাহোর আর কাবুলের সম্রাট তখন হুমায়ুনের বৈমাত্রেয় ভাই। বাবর তার সম্রাজ্য ভাগ করে দিয়েছিলেন। দিল্লির মসনদ ছিল হুমায়ূনের কাছে। হুমায়ুনের স্বপ্ন মুঘল হৃত রাজ্যপাট ফিরে পাওয়া। কিন্তু ভাই এর সাহায্য পাওয়া গেল না। অগত্যা কাবুল হয়ে হুমায়ুন যান ইরানের ইস্পাহান পর্যন্ত।

সেখানে তখন সফাভিড (Safavid) ডাইনাস্টির রুল চলছে। ইরানের শাহ কিন্তু হুমায়ুনকে বিমুখ করেননি। দীর্ঘ পনের বছর সুরি ডাইনাস্টির শাসন চলে দিল্লির মসনদে। শের শা কখনো পরাজিত হন নি।


মৃত্যুর আগে শের শা বুন্দেলখন্ডের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ করেছিলেন দীর্ঘকাল। কালিঞ্জর ছিল বিন্ধ্য পর্বতশ্রেনীর শেষপ্রান্তে এক অপ্রতিরোধ্য দুর্গ যা খ্রীষ্টপূর্ব সময়ে শুঙ্গ বংশ পরে গুপ্তা রাজা, চান্দেলা দের রাজত্ব ছিল। শের শাহের নেতৃত্বে কেল্লার দেওয়ালে কামান দাগা হচ্ছিল।

দুর্ভাগ্যক্রমে একটি গোলা কেল্লার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যে জায়গায়, যেখানে বারুদের স্তুপ রাখা ছিল। পাশেই ছিলেন শের শাহ। আগুনের তাপে গুরুতর দগ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। সালটা ছিল ১৫৫৫। পরের বছর হুমায়ুন পুনরায় পুরানা কেল্লা দখল করে মোঘল সম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

ডাঃ স্বর্নকারকে জিজ্ঞাসা করি, কেল্লার ভিতরে কোন মহল বা দরবার, যেমনটা লালকেল্লাতে আছে-দেওয়ানী আম, দেওয়ানী খাস) এখানে কি কিছু ছিল। ডাঃ স্বর্নকার জানালেন- প্রত্নতত্বে এর কোন নিদর্শন নেই, সম্ভবত সবই ছিল টেম্পোরারি স্ট্রাকচার। কারণ হুমায়ুনের পর আকবর দিল্লির মসনদ স্থানান্তরিত করেন  প্রথমে আগ্রা ও পরে ফতেপুর সিক্রিতে। 

কেল্লার পিছন দিকে সবচেয়ে সুন্দর স্থাপত্যকীর্তি। পাঁচ তোরণ বিশিষ্ট মসজিদটির নাম “কিল্লা হি কুহনা” মস্ক।



একটা উঁচু চত্বরের একপ্রান্তে অবস্থিত মসজিদ, মসজিদের দিকে মুখ করলে সোজা মক্কা। চত্বরের মাঝে একটি গোল বাঁধানো জায়গা। এই জায়গাটা নামাজের আগে ওজু (কাস্টমারি হাত-মুখ ধোয়া) করার কাজে ব্যবহৃত হত। এই মসজিদের পাশে কোন মিনারেট নেই, যা আমরা মসজিদে দেখতে অভ্যস্ত।

কাছাকাছি গিয়ে বোঝা গেল, এর অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী, যা সময়ের কনটেমপোরারি কোন মসজিদে দেখা যায় না। আগ্রার তাজমহলে মার্বেলের যে ইন-লে ওয়ার্ক আছে, যে পদ্ধতিকে স্থানীয় ভাষায় বলে “প্রাচীন-কারি”। এই টেকনিক কিন্তু এসেছে ইটালি থেকে, এই পদ্ধতিকে বলা হয় পিয়াত্রা দুরা (pietra dura) টেকনিক। সাদা মার্বেলে গ্রুভ বানিয়ে সেমি-প্রেশাস স্টোন দিয়ে নানা ধরনের ডিজাইন করা। আগ্রা তাজমহলে লাপিস লাজুলি, অনিক্স, প্রভৃতি সেমি প্রেশাস পাথর অথবা রুবি, স্যাফায়ার, এমারেল্ড টাইপের প্রেশাস স্টোন লাগান আছে।

এখানে মার্বেল ইনলে ওয়ার্কে সাধারনভাবে রেড স্যান্ডস্টোন ব্যবহার হয়েছে। ডাঃ স্বর্নকার দেখালেন তিন রকম কালারের স্যান্ডস্টোন।


একটা হল ফতেপুর সিক্রির, বেশী ডার্ক ব্রাউনটা এসেছে ভরতপুরের কাছ থেকে। দরজার দুইপাশে মার্বেলের তৈরী কলসের মাথায় কলস বসিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। 


কলসের
ব্যাপারটা একটু বিস্তৃত ভাবে দেখা যাক। কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা শুরুর পরে মৃৎপাত্রের তৈয়ারী শুরু হয়। বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরী পটারি এক একটি জায়গার সমাজব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। ভারতে যেমন টেরাকোটা পটারি প্রসিদ্ধ। মৃৎপাত্র বা কলস সভ্যতার বড় দান।

মানুষ তাতে জল, শস্য, বীজ রাখতে শিখল। বীজ অঙ্কুরিত হয়, সৃষ্টি হয় জীবন। ধরণীর মাধুর্য প্রাণের কোলাহলের মধ্যে দিয়ে। কলস হল উর্বরতা বা ফার্টিলিটির প্রতীক। বংশবিস্তার হল একটি প্রাণের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ। ধর্ম খালি সেট অফ রুলস নয়, ধর্মকেন্দ্রিক প্রতিটি বাহ্যিক ক্রিয়াকলাপের মধ্যে লুকিয়ে আছে জীবনদর্শন। ধর্ম হল সত্য, যা মানুষকে সুস্থ সমাজিক বন্ধনে বেঁধে রাখে। তাই হিন্দুধর্মে পূজাপাঠে ঠাকুরমশাই কলসে জল ভরে ডাব, শস্য, আম্রপল্লব রাখেন।এর প্রতিটি হল জীবনের প্রতীক। বিবাহ অনুষ্ঠানেও কলসের ব্যবহার থাকে।  কলস  আবার দেখা যায়, মৃত্যুর পরে হিন্দু মতে মৃতদেহ সৎকারের আগে মৃতদেহ প্রদক্ষিণ করে কলস ভেঙে ফেলা হয়। প্রাণের প্রতীক কলসটিকে ভেঙে জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান হল। 

এই মসজিদ যখন তৈরী হল তখন লোকাল ইনফ্লুএন্স এসে গেল। বিশুদ্ধতার প্রতীক কলস স্থান পেল মুসলিম ধর্মস্থানে। 

মসজিদের মধ্যবর্তী আর্চ ডোম তৈরী হয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য আফগানিস্তানের টেকনিক ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে চারটি দেওয়াল একটা উচ্চতা অব্দি তৈরী হওয়ার পর প্রত্যেকটি সমকোণে দুইটি করে আর্চ তৈরী করা হয়। এরপরের স্তরে একই পদ্ধতিতে ১৬টি ক্রমে ৩২টি আর্চের মাধ্যমে গোলাকার মধ্যবর্তী ছাদ তৈরী হয়। 



মধ্যবর্তী মূল মসজিদের দুইপাশে যে দুইটি উপাসনা স্থল আছে, সেগুলির ছাদ তৈরীর টেকনিক মূলত ব্যবহৃত হত ইরাক তুরস্কে। এই পদ্ধতিতে দেওয়ালকে সোজা না তুলে, দেওয়ালের কিছুটা উপরি ভাগ থেকে দুই প্রান্ত থেকে আর্চ বানিয়ে  জোড়া হয়। আর্চ বানানোর ফলে দুইটি দেওয়ালের সমকোণের খালি অংশটিতে ইনভার্টেড ত্রিভুজ আকৃতির স্ট্রাকচার বানান হয়।



এরপর উপরের গোলাকৃতি অংশের উপর ডোম তৈরী হয়। 

মূল মসজিদের মধ্যবর্তী অংশে দুইপাশে মার্বেলের তৈরী কলস মাঝখানটিতে একটি দন্ড বিদ্যমান।


এই ধরণের দন্ড চার্চে ফাদারের সারমন প্রদানের আগে ঘোরান হয়, তলায় থাকে সুগন্ধী ধূপ জাতীয় কিছু, যার দ্বারা এক পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সুতরাং এই মসজিদকে সর্বধর্মসমন্বয়ের প্রতীক হিসাবে দেখা যায়।মসজিদ গাত্রে ফারসি ভাষায় কোরানের হাদিস লেখা।

এই মসজিদ পরবর্তী দ্রষ্টব্য শের মন্ডল দুটোই তৈরী করেন শের শাহ সুরী।হুমায়ুন পরবর্তী কালে আকবর মসজিদের বর্তমান রূপ দেন। মসজিদের সামনে সবাই মিলে একটা ফটো শেসন হল।

এরপর আমর এলাম ফোর্টের পিছন প্রান্তে, দূরে ফোর্টের পাঁচিলের ভগ্নাবশেষ। মধ্যবর্তী অংশে সবুজ বনানী। ডাঃ স্বর্নকার নিয়ে এলেন যেখানে ২০১২-১৩ তে খননকার্য হয়েছিল।


সাধারনভাবে শুষ্ক মরসুমে খনন চলে। আর্কিওলজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহের পরে জায়গাটিকে পলিথিন শিট মাটি দিয়ে আবার ঢেকে রাখা হয়, যাতে পরবর্তী সিজনে আবার খননকার্য শুরু করা যায়।  পাশেই এএসআই হোর্ডিংএ ছবি বর্ণনার মাধ্যমে এক্সাভেশন পদ্ধতি পুরানো আর্টিফাক্টস যা পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলির ছবি দেওয়া।


ডাঃ স্বর্নকার বল্লেন এই ঢালু জায়গাটা নির্বাচিত করা হয়েছিল, অপেক্ষাকৃত কম পরিমান মাটি সরাতে হবে এবং উপরে জমিটা ফোর্টের মূল অংশ থেকে দূরে, অনেকটা জায়গা জুড়ে। ১৬. মিটার গভীর অব্দি এক্সাভেশন করে গুপ্তা পিরিয়ড তার আগে শুঙ্গ পিরিয়ড (খ্রীষ্টজন্মের ১০০-১৫০ বছর আগে) এবং তারও আগে মৌর্য সম্রাজ্যের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। সবচেয়ে পুরানো খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ বছর আগে (মোটামুটি ভাবে ধরলে মহাভারত সময়ের কাছাকাছি) আর্টিফাক্টস পাওয়া গিয়েছে। মৌর্য আমলে যে এখানে নগরী ছিল তার প্রমান হিসাবে ড্রেনেজ সিস্টেম পাওয়া গিয়েছে। জাঃ স্বর্নকার জানালেন যে আগামী দিনে ১৭ মিটার বা আরো নীচে এক্সকাভেশন হবে। যখন এক মিটার ডেপ্থ অব্দি ভার্জিন সয়েল পাওয়া যায়, তবে ধরে নিতে হবে তার আগে কোন হিউম্যান সেটেলমেন্ট ছিল না। আজ থেকে আড়াই-সাড়ে তিন হাজার বছর আগের পর্বটিকে মোটামুটি ভাবে বেদ-পুরাণের সময় বা লেট হরপ্পান সিভিলাইজেশন বলে ধরা হয়। এই সময়ের পটারির যে অংশ পাওয়া গিয়েছে তাকে প্রত্নতত্ববিদরা বলেন PGW  বা পেনটেড গ্রে ওয়্যার টেকনোলজি। এই টেকনিকে মৃৎপাত্রের গাত্রে জিওমেট্রিক্যাল শেপের চিত্র থাকত। 

সাধারনভাবে কোন জীবাশ্ম বা দেহাবশেষ, কত পুরানো তা জানতে কার্বন ডেটিং করা হয়। কিন্তু এটা পাথর বা পটারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শতরূপা জানাল thermoluminescence হল একটা মেথড। এছাড়া পটারি স্টাইল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক একটা পিরিয়ডে এক এক ধরণের স্টাইল। পটারিতে যদি কোন জীবাশ্মের রেশ থাকে, যেমন ধরুন কিছু রান্না হয়েছিল, তবে সেটার বয়স লযাবরেটারিতে পরীক্ষা করা যায়। আমার সঙ্গে এসেছে ক্লাসমেট ডাঃ শুভাশিস ব্যানার্জি। আই আই টি দিল্লিতে কম্পিউটার সাইন্স পড়াত। বর্তমানে অশোকা ইউনিভার্সিটিতে পড়াচ্ছে। শুভাশিস আবার ইতিহাসচর্চায় খুব উৎসাহী। আমরা দুজনে নিজামুদ্দীন দরগা, মেহেরৌলি আর্কিওলজিকাল পার্ক, সঞ্জয় বন ঘুরেছি। অশোকাতে শুভাশিসের অফিসের পাশে এক তরুন আর্কিওলজিস্ট এএসআই এর সঙ্গে কোলাবরেশনে এখানের এক্সকাভেশনে পাওয়া পটারির ঠিকুজী সন্ধানে ব্যস্ত। মানুষের রক্তে যেমন লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা হয়, তেমনি এই পটারির লিপিড প্রোফাইল চেকিং চলছে।

গতবছর যে সাইটে এক্সকাভেশন চলছিল, সেখানে দেখলাম বাঁশ দিয়ে ছাদ বানানএবং নীচের জমিটাও ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। গতবছর যখন আসি, সেটা ছিল মে মাস। বৃষ্টিভেজা সকালে এসে দেখি শতরূপা মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে, কারণ খনন পিটের মধ্যে একহাঁটু জল, দড়ি-বালতি দিয়ে পিট খালি করা হচ্ছে।



এবার তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। 

সামনে দেখা যাচ্ছে রেড স্যান্ডস্টোনে নির্মিত অস্টভুজ আকৃতির দোতলা, উচ্চতায় ছয়তলা বাড়ীর সমান, একটি মনুমেন্ট। মসজিদ ছাড়া এটাই একমাত্র সারভাইভিং স্ট্রাকচার। কেল্লার সবচেয়ে উঁচু জায়গায় অবস্থিত। শের শাহ সুরির বানানো এই সৌধ, হুমায়ুন কেল্লা পুনরুদ্ধারের পর গ্রন্থাগার বানান।


অনেকে বলেন-এটাকে নক্ষত্রমন্ডলের অবজারভেটারি হিসাবেও গন্য করা হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায় হুমায়ুন এখানের সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা যান। তিনটে থিয়োরি বাজারে প্রচলিত। এক হল উনি নেশার ঘোরে পড়ে যান, দুই নম্বর হঠাৎ আজানের ধ্বনি শুনে তাড়াতাড়ি করে নামতে গিয়ে পড়ে যান, তিন নম্বর হল হুমায়ুন স্টার গেজিং করতে ভালবাসতেন। সময় সম্ভবত হেলির ধুমকেতু এসেছিল, উত্তেজনা বশে সিঁড়িতে পড়ে যান। জীবনে হুমায়ুনকে অনেক পথ ঘুরতে হয়েছে, পনের বছরের যাযাবর জীবনে কমবেশী ১৫০০০ কিমি ঘুরেছেন। মৃত্যুর পরে (২৭শে জানুয়ারি ১৫৫৬) তার মরদেহ প্রথমে ছিল পুরানা কেল্লাতে, পরে তাঁর সমাধি স্থানান্তরিত হয় পাকিস্তানের শ্রীহিন্দে (১৫৫৮) এরপর ১৫৭২ সালে যখন যমুনার পারে হুমায়ুন টম্ব তৈরী হয়, তখন তাঁকে এখানে সমাধিস্থ করা হয়। সুতরাং মৃত্যুর পরেও তার দেহাবশেষ অনেক ঘোরাঘুরি করেছে। 

শের মন্ডলের দক্ষিণদিকে আছে হামাম। এখানে স্নানের ব্যবস্থা ড্রেনেজ সিস্টেম ছিল। এখানেই দেখলাম, ছোট সাইজের ইট, যা লাখোরী ইট নামে পরিচিত।



এই ইঁটের উচ্চতা কম। দুটো ইঁটের মধ্যে মর্টারের পুরু পরত। এতে স্ট্রাকচারের স্ট্রেনথ বাড়ে। 

মসজিদের পশ্চিমদিকে দেখা গেল একটা সুড়ঙ্গ। এটা হল স্টেপ ওয়েল।



কেল্লা যদি শত্রুপক্ষ অবরোধ করে রাখে, তবে জীবনধারনের প্রয়জোনীয় জল ভিতরের এই বাওলি থেকে পাওয়া যাবে।বাওলি ওপর থেকে দেখা যায়। লোহার গেটে তালা লাগানো।

হেরিটজ ওয়াকের শেষ পর্যায় হল মিউজিয়াম দর্শন। পুরানা কেল্লার ভিতর দুটো মিউজিয়াম আছে। একটা হল পুরাতন মন্দির থেকে চুরি হয়ে যাওয়া যে সমস্ত দেবদেবীর মূর্তি, উদ্ধার করা হয়েছে, কিছু মূর্তি বিদেশ থেকেও ফেরত এসেছে, সেই সমগ্র অমূল্য সম্পদের সংগ্রহশালা।





ডাঃ স্বর্নাকরকে জিজ্ঞাসা করিযত মূর্তি ফেরত পেয়েছেন সবই কি এখানে আছে? উনি জানালেন যদি কোন মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করতে পারে, যেমন ধরা যাক এফআইআর এর কপি অথবা ফটোগ্রাফের সাহায্যে, তাহালে মূর্তি সেই মন্দিররে ফেরত দেওয়া হয়। মূর্তিচুরি নিয়ে আমি বিশদে একটি লেখা লিখছি। এই লেখা ওল্ড ফোর্ট সম্বন্ধিত। তাই এই ব্যাপারে এখানেই ইতি টানছি। ডাঃ স্বর্নকার মিউজিয়ামের উপরের ছাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। মিউজিয়ামের ছাদে কিছু অংশ চুনকাম রহিত। ইচ্ছে করেই রং করা হয় নি। বেয়ার পোরশানে কালো কালো দাগ। ডাঃ স্বর্নকার বল্লেন পার্টিশনের সময় ওল্ড ফোর্ট ছিল রিফিউজি শেল্টার। এখানেই রান্না হত। তারই ধোঁয়ার কালো দাগ ছাদে। পার্টিশনের সময় রেড ফোর্ট তুঘলকাবাদ ফোর্টে পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দুদের রাখা হয়েছিল এবং ওল্ড ফোর্ট হুমায়ুন টম্বে ছিল মুসলিমরা, যারা পাকিস্তানে যাবে। স্বাধীনতার দগদগে ঘা নিয়ে আগত হিন্দুরা স্বভাবতই ক্ষুব্ধ ছিল। লোকাল মুসলিম পপুলেশনের উপর যাতে ব্যাকলাশ না হয়, তার জন্য গভর্নমেন্ট থেকে দুই কমিউনিটিকে আলাদা রাখার ডিশিসন হয়েছিল।

পরিশেষে প্রশ্ন এই ইন্দ্রপ্রস্থ কি সত্যিই একদা মহাভারতে বর্নিত রাজধানী ছিল? কুরু-পান্ডবের রাজধানী হস্তিনাপুরের অর্ধাংশ চাইতে গেলে, ধৃতরাষ্ট্র পান্ডবদের পাঁচটি গ্রাম প্রদান করেন। পুরাণ মতে এগুলির নাম শোনিপথ, বাগপত, তিলপত, পানিপথ ইন্দ্রপ্রস্থ। খান্ডবদাহ নামক জায়গায় বিশ্বকর্মা দ্বারা নির্মিত প্রাসাদ দাবানলে পুড়ে যায়। এই পর্যন্ত হল যা মহাভারতে বর্ণিত। বাস্তবে তা ছিল কিনা তা অবশ্যই প্রমানসাপেক্ষ। আর সেটা হতে পারে একমাত্র প্রত্নতাত্বিক খননের মাধ্যমে সরাসরি পাওয়া কোন অবজেক্টের মাধ্যমে। পটারির মাধ্যমে মানুষের বসতি স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, এটা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি ব্যাপার হল রাজধানী হিসাবে যে সব এভিডেন্স পাওয়া যাওয়া উচিত ছিল, যেমন তীর-ধনুকের ফলা, রথের অংশ ইত্যাদি- সে রকম কিছু এখনও হাতে আসে নি। হিন্দু ধর্মের এই এপিক সত্যি ইতিহাস না মিথ তাই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মহাভারতে বর্নিত জায়গাগুলো পূর্বনামে বিরাজমান, তাদের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই, কিন্তু বর্নিতঘটনা সমূহ সত্যির কষ্টিপাথরে যাচাইএর পরীক্ষায় এখনো উর্ত্তীণ হয় নি। ইলিয়াড-ওডিসিও এপিক, বর্নিত জায়গাগুলো বর্তমানে আছে, কিন্তু তার অস্তিত্বের খোঁজ করা হয় নি, ওই লেখাকে মিথ বলেই ধরা হয়। 

দেবদত্ত 

০৫/০৩/২০২৪

Comments

  1. Dada am feeling miserable as I cannot read Bengali but the photos are so amazingly beautiful. Thank you for capturing so much information and beauty. Your pictures made me re-live the interesting walk that we had on Sunday. 🙏🏽

    ReplyDelete
    Replies
    1. Thanks Varsha. I am so sorry that you are not able to read the content. Though pictures always speaks volume, but reading materials gives a complete picture of the blog. Unfortunately my 95% blogs in Bengali. I am sending one of my writing in English to Sumit. He will forward you.

      Delete
  2. যথারীতি দেবদত্তর লেখার মাধ্যমে সবকিছু চাক্ষুষ দেখতে পাওয়া গেল। পুরনো কেল্লায় যেমন মৌর্যযুগের নিদর্শন পাওয়া গেছে, কলকাতায় ক্লাইভের কুঠিবাড়িতেও খননকার্যের মাধ্যমে সেরকমই পাওয়া গেছে। দেবদত্তর ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতার প্রশংসা না করে থাকা যাচ্ছেনা।

    ReplyDelete
  3. Excellent write up

    ReplyDelete
  4. ঘরে বসে শুধু পুরানো কেল্লা দর্শনই হল না, তার সাথে একটা ইতিহাসের ক্লাশও হয়ে গেল। প্রচুর তথ্যপূর্ণ লেখা। অনেক হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে।

    ReplyDelete
  5. অসাধারণ লেখা!অনেক অজানা তথ্য জানা গেল!ছবিগুলি লেখাটিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে!

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments