রাবণের দেশে-৩



পরের দিন আমাদের সফরের গন্তব্য নুয়ারা এলিয়া। এই জায়গা হল শ্রীলঙ্কার উচ্চতম শৈল শহর গেটওয়ে টু টি গার্ডেনস

শুনেছি ওখানে বেশ ঠান্ডা। এই কয়দিন শ্রীলঙ্কার ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, তার কিছু রেহাই পাওয়া যাবে। দুই পাশের দৃশ্য মনোরম। পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে নীলাকাশ উঁকি দিচ্ছে। পথে পড়ল রামডোবা হনুমান মন্দির। সীতা মাকে খুঁজতে এসে হনুমান এখানে বিশ্রাম করেছিলেন। জায়গাটা খুব সুন্দর, চারিদিকে পাইনগাছ আর সবুজ ঘাসের গালিচা।

ভিতরে ১৮ফিট উঁচু হনুমান মূর্তি। তামিল হিন্দুরাই আসেন পুজো দিতে। ল্যাজের আগুন দিয়ে সোনার লঙ্কা ল্যাজে-গোবরে করেছিল, তাই সিংহলি জনগোষ্ঠীর নাপসন্দ হনুমান। 

একটু পরেই পড়ল রামডোবা ওয়াটারফল। ওর পাশেই রামডোবা হোটেল। ওয়াটার ফল দেখতে সাধারনত সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামতে হয়। ওখানে হোটেলের লিফ্ট দিয়ে অনেক নীচে নেমে এলাম।


ইটালিয়ান ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে আমিও জলপ্রপাতের কাছে যাওয়ার জন্য, আরো বেশ কিছু সিঁড়ি ভেঙে নামলাম। খ্রিস, জোয়াকিম আর সারা পাথরের চট্টান পেরিয়ে

জলপ্রপাতের কাছে চলে গেল। গেইয়া মেয়েটি ওদের তিনজনের থেকে একটু বড়। গেইয়া নামে নি।

একটু দূরে বসে দেখছে। চারজনের মধ্যে একটু শান্ত। গেইয়ার সঙ্গে গল্প জুড়েছি।ওর বাড়ী মিলান শহর থেকে ট্রেনে একঘন্টার রাস্তা। মেজর করেছে ইন্টারন্যাশানাল কোঅপারেশন ফর ডেভলপমেন্ট সাবজেক্টে। ছয়মাসের ইনটার্নশিপ করছে ইটালি বেসড এনজিওর পক্ষ থেকে। ওরা গ্রামের স্কুলগুলোতে বিভিন্ন মডিউলের মাধ্যমে খেলার মধ্যে দিয়ে শিক্ষাপ্রদান করে। গেইয়ার কাজ হল অফিসে বসে মডিউল তৈরী। বাকী তিনজন ফিল্ডওয়ার্ক করে। গেইয়া আরবি ভাষা শিখেছে। সাউথ অমেরিকাতেও এই ধরনের কাজ করেছে। চিলি, পেরু, ইকোয়েডর, কলম্বিয়া - সব ঘোরা। সবচেয়ে ভাল লেগেছে বল্ল, চিলি বিশেষত প্যাটাগোনিয়া। গেইয়ার বয়স তিরিশ। গেইয়াকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন করি -“এটা কি তোমাদের দেশে ম্যারেজেবল বয়স নয়। বল্ল - মোটামুটি এই বয়সে বিয়ে হয়। তবে ওর প্রায়োরিটি এই মূহুর্তে ফিরে গিয়ে চাকরী যোগাড় করা। তারপর ড্রাইভিং লাইসেন্স নেবে, লোনে ফ্ল্যাট কিনবে। চতুর্থ অবস্থানে বিয়ে। অকপটে জানাল, এখানে আসার আগে ওর বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ব্রেকআপ হয়েছে। ওর কথায় মনে হল ইউরোপে চাকরীর বাজারে ভালই ক্রাইসিস, আমাদের ভারতের তুলনায় হয়ত কিছুটা ভাল। ইকনমিক ইনডিপেন্ডেন্সটা আজকাল পৃথিবীর সব দেশেই মেয়েদের কাছে প্রথম পছন্দের। আগের রাতে গেইয়ার সাইড ফেসের তোলা ফটো দেখিয়ে বল্লাম- তোমার কি সুন্দর টিকালো নাক।

গেইয়া খুব সলজ্জ মুখে জানাল ওর নিজের টিকালো নাক একদমই পছন্দ নয়। বল্লাম কেন-আমাদের দেশে তো সবাই টিকালো নাক পছন্দ করে! গেইয়া এখনও বাবা-মায়ের কাছেই থাকে। একা শহরে বাড়ীভাড়া নিয়ে থাকার মত রোজগার করে না। বল্ল ভেবেছিলাম কলকাতায় এই কমাসে অনেক টাকা জমিয়ে নেব, কিন্তু সে গুড়ে বালি। বল্লাম-কলকাতা শহর কেমন লাগছে? বল্ল খুব ভাল। আমি বল্লাম - ধর, এখানের কোন ছেলেকে পছন্দ হল, বিয়ে করে তুমি এখানে সেটল করলে কেমন লাগবে। গেইয়ার এতে কোন আপত্তি নেই। তবে এই নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখতে চায় না। আসলে ভবিষ্যতের কথা ওরা অত ভাবে না। আপাতত ছুটি পেলেই ওরা চারজন ঘুরতে চলে যায়। রাজস্থান, উত্তরভারত, মহারাষ্ট্র ঘুরে নিয়েছে। 

উপরের ভিউপয়েন্টে এক আর্টিস্ট ছবি আঁকছেন। পেনসিল স্কেচ। দেখে বেশ ভাল লাগল। একটা হাতীর ফ্যামিলির ছবি কিনলাম।



বল্লেন রোজ এখানেই বসেন। প্রকৃতির কোলে বসে ছবি আঁকতে ভাল লাগে, ঝর্ণার টানে ট্যুরিস্ট আসে, তাই খদ্দের জুটে যায়।

এরপর পথে পড়ল চা বাগান। নুয়ারা এলিয়া যাওয়ার পথে  সব ট্যুরিস্টকার এখানে থামে। চাপাতা থেকে কি ভাবে ফ্যাক্টরিতে চা উৎপাদন হচ্ছে, একজন গাইড আমাদের ঘুরিয়ে দেখালেন।



ব্ল্যাক টি আর গ্রীন টি একই গাছের পাতা থেকে হয়। শেষ ধাপে পাতাটাকে অক্সিডাইজ করলে ব্ল্যাক টি হয় আর না করলে গ্রীন টি। এটা জানা ছিল না। ব্রিটিশ আমলের কারখানা। নাম ব্লু ফিল্ড টি এস্টেট। ফলকে লেখা ১৯২১ সালে স্থাপিত হয়েছে। বেশীরভাগ যন্ত্রই ১০০ বছরের পুরানো। 


পাশেই ফ্যাক্টরির টি আউটলেট। ভিতরে অনেক চেয়ার টেবিল। আমাদেরকে কমপ্লিমেন্টারি চা খাওয়ানো হল। এরপর চা কেনার পালা। অন্যরা কিনল। ভারতে অনেক চা পাওয়া যায়। বয়ে নিয়ে যাওয়ার মানে হয় না। ছেলে-মেয়েগুলো চা বাগান দেখতে গিয়েছে। গিয়ে দেখি ওরা সবাই একটা করে টুকরি নিয়ে মহা আনন্দে চাপাতা তুলছে বাগান থেকে। তুলতে হয়,  “দুটি পাতা একটি কুঁড়ি”,  মুলকরাজ আনন্দের বইএর নাম থেকে জানি ব্যাপারটা।


আমিও লেগে পড়লাম, যদিও ছবি তোলাই আসল লক্ষ্য। টী শপের দোতলায় ক্যান্টিন। দারুন বুফে লাঞ্চ। শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে ভাল খাওয়া এখানেই হল। টি এস্টেট সফর বেশ ভাল লাগল।

আর কিছুক্ষণ পাহাড়ী পথ বেয়ে আমরা পৌঁছলাম নুয়ারা এলিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে। সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মার্কেট এরিয়া।



দার্জিলিং বা সিমলার মত চড়াই-উতরাই নেই। রহমত বল্লব্রিটিশ স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শনপোস্ট অফিসএকদম সামনে, ওটা দেখে নিন রহমতের কাছে শুনলাম- এই ঐতিহ্যবাহী ইমারত ভেঙে ওখানে হোটেল করার কথা হয়েছিল। নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতে সেটা বন্ধ করা গিয়েছে। ছোটবেলায় ডাকটিকিট জমাতাম। তার খাতা এখনো রয়ে গিয়েছে। তাই বেশ কিছু ডাকটিকিট কিনলাম ফিলাটেলি ডিপার্টমেন্ট থেকে। 

এরপর গাড়ী চল্ল নুয়ারা এলিয়া লেকের পাশ দিয়ে অশোকবনে, যেখানে সীতাকে বন্দী করে রেখেছিল রাবণ। জায়গাটা দেখে মন ভরল না। একটা দক্ষিণভারতের আদলে তৈরী মন্দিরের পাশে ঝরণার ধারে সীতার ছোট্ট মূর্তির তলায় করজোড়ে হনুমান।



অশোক বনের কোন ফিলিং পাওয়া গেল না। 

সন্ধ্যের পর ঠান্ডা লাগছিল। আমাদের হোটেলটা পুরানো স্টাইলের বাড়ী।দোতলায় হলঘরে সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা



পরে আমি পায়ে হেঁটে বেরোলাম মার্কেট থেকে ডিনার আনতে। রাস্তায় লোক খুব কম। স্যুভেনির হিসাবে ফ্রীজ ম্যাগনেট আমার পছন্দ। একটা বড় স্টোরে ঢুকে দুটো স্টিকার কিনলাম। এখানে বেকারী প্রোডাক্ট ভাল। ডিনারে তাই নিলাম। 

পরের দিন আমরা যাব এল্লা নামে আরেকটা শৈল শহরে। ক্যান্ডি থেকে ট্রেন নুয়ারা এলিয়া হয়ে যায় এল্লা-তে। নুয়ারা এলিয়া থেকে সময় লাগে আড়াই ঘন্টা। এই রেল জার্নির পথ গিয়েছে টি গার্ডেন পাহাড়ী শৈল শিরার মধ্যে দিয়ে। অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। কিন্তু রিজার্ভেশন পাওয়া খুব মুস্কিল। অনেক আগে এজেন্ট দিয়ে কাটতে হয়। ট্রেনে, বিদেশী ট্যুরিস্ট ছাড়া লোকাল প্যাসেঞ্জারও অনেক। এছাড়া ট্রেন অনেক সময় লেট করে। কথা হল সাড়ে এগারটায় ট্রেন আসবে। স্টেশনে গিয়ে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।

হোটেলে প্রাতরাশ সেরে আমরা প্রথমে চল্লাম ডেয়ারি ফার্ম দেখতে। অনেকটা জায়গা নিয়ে ফার্ম। গরু ছাড়া গোট, রাবিটও আছে। টিকিট কাটতে হল। ভারতীয় টাকায় পাঁচশ টাকা মত।



বিশাল লম্বা শেড। উপর দিয়ে করিডর। দেখলাম সার দিয়ে গরু দাড়িয়ে রয়েছে। মিল্চিং মেশিন দিয়ে দুধ টানা হচ্ছে। আরেক ব্যাচ গরু পাশে দাড়িয়ে গুতোগুতি করছে। পরের ব্যাচে এদের দুধ দোয়ান হবে। এরপরের শেডে গরুগুলো মন দিয়ে খাচ্ছে। খেতে খেতে বোর হলে পাশে পায়চারীর জায়গা। সবচেয়ে মজা লাগল ঘূর্নায়মান কয়েকটা গোলাকার ব্রাশ দেখে। গরুরা এসে মনের সুখে ব্রাশের পাশে দাঁড়িয়ে চামড়া পরিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে সুড়সুড়ির মজা নিচ্ছে। বেশ কিছুটা দূরে বাছুরের শেড। দুধ শুরু হওয়ার আগে ওরা ওখানে থাকে। ইয়াং ছেলেপুলের মত এরাও ফ্রেন্ডলি অত্যুৎসাহী। আদর করতে গেলেই, মাথাটা শূন্যে তুলে জিভ বার করে চেটে দিচ্ছে। ডেয়ারির নিজস্ব ক্যান্টিন আছে। আমি ছাগলের দুধ নিলাম। আগে কোনদিন খাই নি। শুনেছি গান্ধিজীও ছাগলের দুধ খেতেন। 

ফেরার পথে একটা স্ট্রবেরি ফার্মে থামলাম। স্ট্রবেরি গাছগুলো ছোট। তাতে লাল লাল স্ট্রবেরি ঝুলছে। পাশে ক্যান্টিন। স্ট্রবেরি দিয়ে তৈরী নানা ধরনের পদ।


আমরা
নিলাম স্ট্রবেরি টার্ট।

রেল স্টেশনের নাম নানু-ওয়া।



চার বিদেশী ছেলে-মেয়ে আর আমি সৌরভ নামলাম গাড়ী থেকে। ঠিক হল গাড়ী বাইরে অপেক্ষা করবে। ভীড় ট্রেনে না উঠতে পারলে বা ট্রেন লেট হলে আমরা আবার গাড়ীতে করে এল্লা যাব। রহমত বুদ্ধি দিল থার্ড ক্লাসের টিকিট কাটতে।

ওর ক্যালকুলেশন হল, থার্ড ক্লাসে লোকাল লোক বেশী থাকবে, বাইরের লোকেদের খাতির করে বসতে দিতে পারে। আমার ভরসা ইটালিয়ান ছেলে মেয়েরা। ওদের যা ফিট চেহারা, তাতে দৌড়ে উঠে যদি সিট ম্যানেজ করতে পারে। কাউন্টারে বলেছিল ১৫ মিনিট লেট, ট্রেন এল এক ঘন্টা পরে। রহমতের হিসাব মিলল না। প্ল্যটফর্মে থিকথিক করছে ফরেনার, ট্রেনও এল প্যাকড হয়ে। ইটালিয়ানদের সঙ্গে ঠেলাঠেলি করে ভিতরে গিয়ে মনে হল এই রকম ভাবে যেতে হলে খাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য, যার জন্য আসা, তার কোন চান্স নেই। অগত্যা নেমে এসে ঘুরঘুর করলাম রিজার্ভ কম্পার্টমেন্টের সামনে, যদি টিটি আমাদের প্রতি দয়াপরবেশ হয়ে উঠতে দেয়। ভাবছি ফিরে গাড়িতেই যাই। গার্ড সাহেব সবুজ পতাকা তুলেছেন। যা থাকে কপালে বলে কপাল ঠুকে একটা কম্পার্টমেন্টে উঠে পড়লাম। প্রথমে ট্রেনের দরজায় বসে পড়েছিলাম, কলেজ লাইফে আটাত্তরের বন্যায় কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম যাওয়ার সময় এরকম দরজার পাশে বসেছিলাম। তবে এখানে ঠিক জুত হল না। পা-টা বাইরে ঝুলছে। উঠে পড়ে ভীড় ঠেলে ভিতরে ঢুকে নজরে গেল একটা ঢাউস স্যুটকেস রাখা। ওটার উপরেই বসে পড়লাম। খালি ভয় স্যুটকেস ভেঙে আমি না কেস খাই! মালিককে কাছে পিঠে দেখলাম না। সীটে চার-পাঁচ বিদেশী তরুণী সামনে একটি ছেলে বসে। ছেলেটির সঙ্গে আলাপ হল, সে নিউজিল্যান্ড থেকে আসছে। একটু পরে পাশের তরুণী মেয়েটি আমায় জানাল, স্যুটকেস কেতরে গিয়ে তার পায়ে লাগছে। স্যুটকেসটা একটু সরিয়ে নিলাম। মেয়েটির বোধহয় পছন্দ হল না। একটু পরে একটা স্টেশনে যাত্রীদের প্যাসেজ দিতে গিয়ে যেই একটু দাঁড়িয়েছি, মেয়েটা একটা বড় রাকস্যাক চাপিয়ে দিয়েছে স্যুটকেসের উপর। মনে হল একটু কড়া ডোজ দিতে হবে। বল্লাম ব্যাপার কি? এটা তোমার ব্যাগ রাখার জায়গা নয়, দেখছ না আমি বসেছি। সেও বেশ টেটিয়া মেয়ে। বলছে উপরে রাখার জায়গা নেই। বল্লাম - কিপ ইন ইয়োর হেড। বেশ জোর তর্ক চলছে। বল্লাম -ইউ আর হার্টলেস শাইলক!

জেন্ডারে ভুল হল বোধহয়! হার্টলেস মহিলা ক্যারেক্টারের উদাহরণ ইতিহাসে নেই! মিনিংটা গেলেই হল। আরেকটা সাদা চামড়ার লোক চেঁচামেচি শুনে পাশ থেকে এসে রোমিও সাজার চেষ্টা করে বলছে- ইজ হি বদ্যারিং ইউ? উত্তেজনা তুঙ্গে। নিউজিল্যান্ড দেশটাতে লোক কম, সামনের ছেলেটা বোধহয় এরকম পরিস্থিতি দেখে নি।

উঠে গিয়ে আমাকে বসতে বল্ল। একটা বড়সড় থ্যাঙ্ক ইউ দিলাম। কারণ তো, না বসলে পথের সৌন্দর্য কি করে উপভোগ করব?

রাগ তখনো পড়ে নি। যে মেয়েটার সঙ্গে ঝগড়া চলছিল সে সামনের সিটে। আমার পাশেও এক বিদেশিনী। ওকেই বল্লাম-“দেখ বাপু, দেখ আমি ইন্ডিয়ান, এক সময় বিলাতি সাহেব আমাদের প্রভু ছিল, ভাগ্যের ফেরে এখন ভারত বংশেদ্ভুতো ওদেশের প্রধানমন্ত্রী, ডে- অফ হোয়াইট সুপ্রিমেসি গন।এই মেয়েটিও হোয়াইট স্কিন- আমার সাদা চুল দেখে একটু ভেবে হেসে বল্ল - ইনটারেস্টিং! ঠিক সমর্থনও নয় আবার টোটাল রিজেকশনও নয়! চা-বাগান আর অনেক নীচে ছবির মত ভ্যালির দৃশ্যপট দেখতে দেখতে ওর সঙ্গে আলাপ শুরু হল। মেয়েটির নাম এ্যানি,ওর বয়স ৩৪, আমস্টারডামে থাকে। তিন সপ্তাহ ধরে শ্রীলঙ্কায় ঘুরছে।

পাবলিক ট্রান্সপোর্টেই ঘোরাঘুরি। পেশায় সাংবাদিক, ওর বয়ফ্রেন্ড -ইয়ার। বল্লাম - ভাল কম্বিনেশন, নিউজে লিগাল এ্যন্গেলের পরামর্শ পাবে ফ্রি তে। এ্যানি বল্ল আর্ট কালচার ওর বিষয়, ল্যিগাল এঞ্গেলের চান্স কম। এ্যানিকে বল্লাম, তুমি ভারতীয় মূর্তি বিদেশে পাচার- এটা নিয়ে একটা স্টোরি কর। আর্ট আইন দুটোই পাবে। এ্যানিকে বল্লাম, আমি লিখি, শ্রীলঙ্কা ভ্রমন নিয়ে লিখব, তোমার সঙ্গে সেলফি নিই। নারীর সৌন্দর্য সচেতনতা চিরন্তন, সেটা দেশ হোক কি বিদেশ। এ্যানি পনিটেল খুলে চুল সামনে নিয়ে এল। ফটো উঠল। এল্লা স্টেশন এসে গিয়েছে।

বেশীরভাগ ট্যুরিস্ট এখানে নেমে পড়ল। প্ল্যাটফর্মে একটা জিনিস দেখে মজা লাগল। সুদৃশ্য বুককেসে হরেক রকম বই রাখা।

ফ্রি লাইব্রেরী। যাত্রীদের সময় কাটানোর জন্য। সাড়ে তিনটে বাজে। আমাদের গাড়ী কথামত স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে। এল্লা হল এ্যডভেঞ্চার ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্য। আমরা যাব লিটল এ্যডামস পিক- সূর্যাস্ত দেখতে। ডাব খেয়ে যাত্রা শুরু। শ্রীলঙ্কার ডাবের কালার গোল্ডেন-ইয়েলো,

জল মিষ্টি, আবার সব ডাবে শাঁসও থাকে। আসলের উপর ফাউ। মাঝ রাস্তায় তিন-চারবার বিশ্রাম নিয়ে পৌঁছে গেলাম পিকে-এ। উপর থেকে নীচে ভ্যালি আর দূরে শৈল শিরা দেখা যাচ্ছে। অনেক বিদেশীর ভীড়।

খুব কম সময়েই সূর্যাস্ত, পাহাড় কি সমুদ্র সবখানেই, দিকচক্রবালে টুপ করে পাহাড় বা সমুদ্রের কোলে অস্ত হয় না, মেঘের আড়ালে আগেই ঢেকে যায়, তাই পুরো মজাটা আসে না। এখানেও তাই হল। 

এল্লাতে আমাদের থাকার জায়গা হোম স্টেতে। মার্কেট প্লেসটা ইনটারেস্টিং।



হরেকরকম খাবার স্যুভেনিরের দোকান। বিদেশীদের কথা মাথায় রেখে খানা-পিনার সুবন্দোবস্তো। ভেতো বাঙ্গালি হিসাবে আমাদের পছন্দ কারি-রাইস। 

সকালে খোলা বারান্দাতে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাতরাশ। 

সব জায়গায় ম্যেনু প্রায় এক-কিছু ফ্রুটস, ব্রেড-অমলেট পাটিসাপটা।

Part 3 of 5


Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments