রাবণের দেশে - ৪
আজকে আমাদের গন্তব্য গ্যাল শহর। সমুদ্রের পাশে ঐতিহাসিক শহর। পর্তুগিজ ও ডাচ কলোনিয়াল পিরিয়ডে গ্যালই ছিল প্রধান বন্দর, ইংরেজ আসার পর, কলম্বো হয়ে ওঠে বড় পোর্ট ও রাজধানী।
সকালে আমাদের প্রথম গন্তব্য এল্লা-র বিখ্যাত নাইন আর্চ ব্রিজ। এটা দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী আর্চব্রিজ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত ব্রীজ, খালি পাথর, ইট ও সিমেন্ট দিয়ে বানানো, কোন লোহা বা স্টীল ব্যবহার হয় নি, যদিও এর থামগুলির উচ্চতা ৮০ ফুট। এর কারণ বিশ্বযুদ্ধের কারণে ব্রীজের জন্য বরাদ্দ স্টীল, সমরাস্ত্র সরবরাহকারী ফ্যাক্টরিতে ডাইভার্ট করা হয়। ওই ভায়াডাক্ট দিয়ে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ট্রেন পাস করে। ঐ সময় টুরিস্টদের খুব ভীড় হয়। মেন রাস্তা থেকে অনেকটা ট্রেক করে নামতে হয় ব্রীজ দেখার জন্য। আমরা অর্ধেক রাস্তা অটো ধরে এলাম, তারপর খাঁড়া সিঁড়ি দিয়ে অনেকটা নেমে ব্রীজের কাছে পৌঁছান গেল। অনেক টুরিস্টের ভীড়। একটু পরেই ট্রেন এসে ব্রীজের উপর দিয়ে গেল।
তারপর ট্র্যাকের উপরে দাঁড়িয়েদর্শকদের ফটো শেসন চল্ল।
গ্যালে যাওয়ার রাস্তায় পড়বে উদাওয়ালা ন্যাশানাল পার্ক। মেন হাইওয়ে থেকে দশ কিলোমিটার অফ রোডিং করতে হয়।
জঙ্গলের এক ধার দিয়ে রাস্তা। ইলেকট্রিক তার দিয়ে ফেন্সিং করা। সিনেমার ট্রেলারের মত গাড়ী থেকেই দু-তিনটে ঐরাবত দর্শন হল।
যদিও শ্রীলঙ্কার জাতীয় পতাকাতে সিংহের ছবি আছে, কিন্তু শ্রীলঙ্কাতে সিংহ তো নেই, এমন কি বাঘও নেই, তবে লেপার্ড আছে, কিন্তু লেপার্ড দেখা যায় ইয়ালা রিজার্ভ ফরেস্টে। মেন গেট দিয়ে ঢুকে এনট্রি টিকিট কাটতে হল।
গাড়ীভাড়া, প্রবেশমূল্য নিয়ে এক একজনের প্রায় ভারতীয় মুদ্রায় চার হাজার টাকা পড়ল। দক্ষিণা অনেকটাই বেশী মনে হল।
![]() |
ঢোকার পরে কিছু ময়ূর, হর্নবিল, ফ্যালকন দেখা গেল। একটা বড় জলাশয়ের পাশে গাড়ী দাঁড়াল। হাতী এখানে জল খেতে আসে। রামের বানর সৈন্য যুদ্ধজয়ের পর অনেকেই এখানে থেকে গিয়েছে। তাদের আধিক্য দেখলাম।
নির্ভয়ে হাত থেকে বিস্কুট নিয়ে গেল। গাড়ীর ড্রাইভার আনকোরা। ইংরাজিও জানে না।একটা পাখির নাম জিজ্ঞাসা করাতে বল্ল কমন বার্ড। হাতী কিছু দেখা গেল বটে। সবচেয়ে মজা লাগল, গাছের ছাতার মধ্যে দাঁড়িয়ে, তিনটে হাতী দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে এক ঘুমন্ত হস্তী শাবককে।
ঘন্টা তিনেকের সাফারিতে দক্ষিণা লাগল শ্রীলঙ্কার মুদ্রায় পঁচিশ হাজার, কিন্তু প্রত্যাশার সিকিভাগ পূরণ হল না। জঙ্গলটাও একদম অর্ডিনারি। ফেরার পথে একটা বিশাল লেকের পাশ দিয়ে এলাম। আস্তগামী সূর্যের আলোয় দিগন্তে রংএর খেলা। নামলাম ফটো তুলতে।
গ্যালের পথে গাড়ীতে পাশের সিটে বসে সারা। ওকে আরামসে ভারতীয় বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।
সারা বেশ লম্বা, কালো চুল।
পুরো সফরে চারটি ইটালিয়ান ছেলে-মেয়ে সদা হাসিমুখ, কোন ব্যাপারে অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করতে দেখি নি,
কথাবার্তার মধ্যে জড়তা বা কৃত্তিমতা নেই, সহজ সরল ভাবের আদান প্রদান। আমাদের দেশে অসমবয়সীদের মধ্যে মেলামেশাতে একটা মানসিক দূরত্ব থেকে যায়, যেটা এই বিদেশী ছেলেমেয়ের মধ্যে কথাবার্তায় ফিল করিনি। সারা থাকে ভেনিসে। একটা এপার্টমেন্টে পাঁচজন মিলে থাকে। ওর বাবা-মা থাকে তুরিন শহরের কাছে এক গ্রামে। সারার বাবা গাড়ী নিয়ে শহর থেকে ইস্ট নিয়ে বিভিন্ন বেকারিতে ডেলিভারি করে। আমাদের দেশে মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের মাইনে জিজ্ঞাসা করতে নেই। বিদেশের ব্যাপার জানা নেই। জিজ্ঞাসাই করে ফেল্লাম ইনকাম কেমন হয়। সারা বল্ল- কাজ ঠিকঠাক হলে হাজার-এগারশ ইউরো হয় মাসে। সারার মা একটি ডিসএবেলড বাচ্চাদের স্কুলে পড়ান, মাস গেলে উনিশশ ডলার মাইনে। পারচেস পাওয়ার প্যারিটি ধরলে, আমাদের দেশের মধ্যবিত্তদের মধ্যে একটু কমার দিকে। সারার এক দাদা আছে, সে থাকে লিসবনে গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে।
সন্ধ্যেবেলা পৌঁছে গেলাম গ্যাল শহরে। আমাদের হোটেল হল ফোর্ট সিটির মধ্যে। একপ্রান্তে সমুদ্র, ধনুকের জ্যা এর মত ঘিরে রেখেছে ফোর্ট এরিয়া।
এক-দেড় স্কোয়ার কিলোমিটার ধরে ফোর্ট এরিয়া সব বাড়ী ঘরদোর অস্টাদশ কি উনবিংশ শতাব্দীতে কলোনিয়াল স্টাইলে বানান, সাদা রংএর আধিক্য, বেশীরভাগই হোটেল বা ফুড জয়েন্ট বা স্যুভেনিরের দোকান। থিক থিক করছে ফরেন টুরিস্টে। আলোকিত রাতে আরো মোহময়ী করে তুলেছে। হোটেল মালিকের পূর্বপুরুষের বাড়ী, চা ভাই মিলেচালাচ্ছেন, সামনের দিকটা কিওরিও শপ করা।
হোটেলের মালিক জানালেন, সরকারী দপ্তর এখানে সব বিল্ডিং সার্ভে করে কোন বিল্ডিং কোন পিরিয়ডে তৈরী তার লিস্ট বানিয়েছে। উনাদের হোটেলটা ব্রিটিশ আমলের। ঐতিহাসিক গ্যাল শহরের সবচেয়ে পুরানো তথ্য পাওয়া যায় ১৪০০ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে পরিব্রাজক ইবান বাতুতার ভ্রমনকাহিনী থেকে। এই ফটোটা ১০০ বছরের পুরানো গ্যালের।
কলম্বো শহর অনেক পরে, আঠারশ শতকে ইংরেজরা পত্তন করে। ১৫০৫ সালে পর্তুগীজরা প্রথম আসে গ্যালে, ফোর্ট সিটির গোড়াপত্তন তাদের হাতে, পরে ১৬৪০ সালে ডাচেরা দখল নেয় গ্যালের। প্রায় দেড়শ বছর পর ১৭৯৪ সালে ব্রিটিশরা কব্জা করে এই শহরের। সুতরাং গ্যাল হল এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কলোনিয়াল শহর।
ফরেন ট্যুরিস্টদের ছড়াছড়ি, তাই হোটেল ভাড়া ও খাওয়াদাওয়া তুলনামূলক ভাবে কস্টলি। সন্ধ্যাবেলা আলোক মালায় সুসজ্জিত মধ্যযুগীয় শহরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাড়ীগুলো দেখে মনে হচ্ছিল কোন ইউরোপিয়ান শহরে আছি। রাতে খেয়ে দেয়ে আইসক্রীম কিনে আমি আর সুমিতা হোটেলের কাছের রাস্তার পাশে সিঁড়ি দিয়ে রামপার্টে উঠে সমুদ্র দেখতে পেলাম।
শহরের কোলাহলমুক্ত, সমুদ্রলহরীর ছলাৎ-ছলাৎ আওয়াজের সঙ্গে চাঁদের আলোয় আলোকিত জলের উপর মুক্তোবিন্দুর মত রং এর খেলা দেখে মন হল, প্রকৃতির অনন্যসাধারণ রূপ শুধু চেয়ে দেখার নয়, এ এক গভীর অনুভূতির উৎস।
পরের দিন ভোর পাঁচটায় বেরোন হল এখান থেকে ৩৫ কিমি দূরে মেরিসা বন্দর থেকে বোটে করে ডলফিন ও ব্লু হোয়েল বা পৃথিবীর সর্ববৃহত প্রাণীকে দেখতে। রাস্তার একদিকে সমুদ্র। রহমত বলছিল সুনামির সময় এইসব সমুদ্র তীরবর্তী অংশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ৪০ডলার টিকিট কেটে ডাবল ডেকার বোটে উঠলাম।
দোতলায় বসেছি। চারিদিকে সমুদ্রের নীলজল। বোট চলেছে গ্যালের দিকেই। মোবাইল নেটওয়ার্কও আছে।
ডলফিন দেখা গেল। বোটের পাশে পাশে চলেছে।
আমাদের গাইডের শ্যেনচক্ষু ঘুরছে এদিক ওদিক। তবে তিমি যখন ডাইভ দিয়ে নীচে যায়, তার লেজটা উপরে উঠে মুখটা জলের নীচে করে ডাইভ দেয়। তবে খুব অল্প সময়ের জন্য, গাইড কখনও বলছে ওয়ান ও ক্লক দেখিয়ে, কখনো নাইনও ক্লক, অর্থাৎ বোটের সামনের দিককে টুয়েল্ভও ক্লক রেখে, গাইডের ঘড়ির কাটা অনুযায়ী দিকনির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে সেইদিকে তাকাতে হবে। ভাল করে বুঝে ওঠার আগেই তিমি মাছ অদৃশ্য। তবে বোট রাইডটা মোটের উপর ভালই লাগল।ফেরার পথে মেরিসা বিচে একাই নেমে পড়লাম। কস্টিউম ছিল। মনের আনন্দে ঘন্টা দেড়েক সমুদ্রস্নান করলাম। সমুদ্রের সমান্তরালে রাস্তা। অন্যদিকে অগুন্তি হোটেল, ফুড জয়েন্ট। ইউরোপিয়ানরা ঠান্ডার দেশ থেকে এসে সমুদ্রস্নান,আর বালিয়াড়ীতে সূর্যস্নাত হয়ে দেশে ফিরে যায় ট্যান হয়ে।
ঢেউগুলো আমাদের পুরীর সমুদ্রের মত।
লাঞ্চের জন্য রহমত সমুদ্র তীরবর্তী রাস্তার পাশে একজায়গায় গাড়ী দাঁড় করাল। সমুদ্র দেখতে দেখতে লাঞ্চ করার মজাই আলাদা। সামনের সমুদ্রে কিছু কাঠের তৈরী প্ল্যটফর্ম। ওখানে বসে ধীবররা মাছ ধরে।
দোকানী বল্লেন -এখন সবাই বাড়ী গিয়েছে খেতে, একটু পরেই আবার আসবে। এখানেও সেই কারি-রাইস, সঙ্গে টুনা ফিস। যিনি পরিবেশন করছিলেন, সেই মহিলার নাম কেনি। ভারত থেকে এসেছি শুনে বল্লেন, উনিও চেন্নাই যাবেন সামনের মাসে।
ওর কাকার কিডনি ড্যামেজ, চেন্নাইএর হসপিটালে অস্ত্রোপচার হবে, কেনি একটা কিডনি দান করবেন। খাওয়ার পর কেনির সঙ্গে সেলফি তুলছি, দেখি দুইজন জেলে মাছ ধরার জন্য জলের উপর দিয়ে হেটে তক্তাতে চড়ে বসল।
কেনি বল্ল, দিনে একজন তিনকিলো মত মাছ ধরে, প্রধানত টুনা। লোকাল মার্কেটে বিক্রি করে হাজারটাকা কিলোতে। বিকালে গ্যালে ফিরে এসে বেরোলাম ফোর্ট এরিয়ার ফটো তুলতে। লাইট হাউস ও সংলগ্ন বিল্ডিংএর সুন্দর ফটো এল।
ঘুরতে ঘুরতে গ্যালের পুলিশ স্টেশন এল। উপরে একটা মোরগের ছবি। পর্তুগীজ ভাষায় রুস্টারের নাম গ্যাল। সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মোরগের ডাকে, শহরের অধিবাসীরা জেগে উঠত, তাই থেকে নাম গ্যাল। গ্যালে এইসময় লিটারেসি ফেস্ট্যিভাল চলছে। তার জন্য বাইরে থেকে অনেকে এসেছেন। আমাদের পাশের রুমে এক ইংরেজমহিলা আছেন। উনিও এসেছেন এই মিটে। বছর দশেক আগে এখানে তিনবছর ছিলেন, কলেজে ইংরাজি পড়াতেন। রাতে হঠাৎ করে লাইট চলে গেল। শুনলাম কোন বড় ফল্ট। সারারাত পাওয়ার আসবে না।
রাস্তায় বেরিয়েছি। মোমবাতির আলোয় স্বল্পআলোকিত শহর যেন তার মধ্যযুগীয় রূপ ফিরে পেয়েছে। এখানে দেখলাম অনেক ভিন্টেজ কার এবং সেগুলো সচল। আশির মডেলের মারুতিও দেখলাম, দিব্বি চলছে। ফোর্ট এরিয়াতে একটা মিউজিয়াম আছে।
তবে রিনোভেশন চলছে বলে সেটা বন্ধ। একটা পর্তুগীজ আমলের চার্চ দেখলাম।
পরের দিন সকালে আমরা বেরোলাম কলম্বোর উদ্দেশ্যে। ইটালিয়ান ছেলে খ্রিশ্চিয়ান দেখি খোড়াচ্ছে, পায়ে ব্যান্ডেজ।
রোদে তেতে থাকা পাথরের উপর খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকাতে পায়ের পাতায় ফোস্কা পড়েছিল। এখন ব্যান্ডেজ বাঁধা। অদম্য উৎসাহী মুখের হাসিতে ডোন্ট কেয়ার ভাব।
একটু পরে রেহমত গাড়ী দাঁড় করাল রাস্তার পাশে। অন্যপাশে সমুদ্র। রাস্তার উল্টোদিকে একটা ছোট পার্কের মধ্যে বিশাল উঁচু বুদ্ধমূর্তি।
রহমত বল্ল, ২০০৬ সালে সুনামির সময় এর পাশেই রেললাইনে একটা ট্রেন সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে ডুবে গিয়ে কয়েকশ যাত্রী মারা যায়। সেই ঘটনার স্মরণে এই মূর্তি স্থাপন হয়েছে।
আমাদের রাস্তাপথে পড়বে আম্বালামগোডা, এখানে আছে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত মুখোশের মিউজিয়াম ও যুক্ত কারিগরদের মুখোশ বানানোর পদ্ধতি এবং শোরুম। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখোশ নৃত্য হয়।যিনি আমাদের মিউজিয়াম দেখাচ্ছিলেন, উনি বল্লেন বালসা কাঠ দিয়ে মুখোশ তৈরী হয়, কারণ এই কাঠ হালকা হয়।
বেশীরভাগ মুখোশই দৈত্যদের মুখাকৃতি। পাহাড়ী অঞ্চল যেমন লাদাখেও, যেখানে বুদ্ধিষ্ট বেশী, সেখানেও বুদ্ধমন্দির গুলোতে ভূতের ছবি বা মুখোশ দেখেছি। পাশের ফ্যাক্টরিতে দেখলাম হস্তশিল্পীরা মনোযোগ দিয়ে মুখোশ বানাচ্ছেন।
গ্রুপের অনেকেই স্যুভেনির হিসাবে কিনল। এর পরের গন্তব্য মাদু রিভার বোট রাইড। সমুদ্রের খাঁড়ি দিয়ে জল ঢুকে বিশাল লেক ও নদীর সমষ্টি, মাঝে মাঝে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ১০ ডলার করে টিকিট কেটে বোটে বসলাম।
চড়া রোদ। বোটম্যান বল্ল ত্রিপলের শেড তুলে দেবে। বোট চলছে। কিন্তু ত্রিপল তুলছে না বলা সত্বেও। কারণটা বুঝলাম যখন বোটে দুটো লো হাইটের ব্রীজ ক্রস করল। মাথা নীচু করে থাকতে হল, যাতে ধাক্কা না খাই। সব মিলিয়ে ঘন্টা দুয়েকের রাইড। নদীর কিছু অংশ এত সরু আর দুদিকে ম্যানগ্রোভের ফরেস্ট, তাই বোট চলেছে ধীর গতিতে। জোকমো তো মাথার উপর ডাল ধরে ঝুলে পড়ল। রোদের তেজ থাকলেও হাওয়াটা ঠান্ডা। আমরা এসে দাঁড়ালাম একটা দ্বীপে। এখানে চৌষট্টিটা দ্বীপের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড়। এখানের অধিবাসীরা শহরে যেতে গেলে নৌকা করে যায়। বোটম্যান আমাদের নিয়ে গেল একটা জায়গায়। গাছের ছাল থেকে কি ভাবে দারুচিনি বার করা হয়, তাই দেখলাম। বিক্রিও করছিল। কিনলাম না। আজকাল অনলাইন শপিংএর দৌলতে কেরালার স্পাইস দিল্লিতেও ডেলিভারি হচ্ছে। বোঝা বাড়িয়ে লাভ নেই।তিনটে ফ্রীজ ম্যাগনেট কেনা হয়েছে। ওই যথেস্ট।
লেকের মাঝে দোকান রয়েছে কাঠের লগি দিয়ে মাচান করে জলের উপর বানানো দোকান। বোট দাঁড় করিয়ে লোকে ডাব খাচ্ছে।
এরপর রাস্তায় পড়ল টার্টল হ্যাচারি এন্ড রেসকিউ সেন্টার। এখানেও দুই হাজার শ্রীলঙ্কা টাকা এনট্রি ফি। আমি গেলাম না। সুমিতা ঢুকল।
জেলেদের জালে কোন আহত কচ্ছপ থাকলে এখানে দিয়ে যায়। আমি চলে গেলাম পিছনে সমুদ্রপারের বিচে। গ্যাল থেকে কলম্বোর পুরো রাস্তা সমুদ্রের পাশ পাশ দিয়ে। গেইয়া ছাড়া বাকী তিন ইটালিয়ান ছেলে-মেয়ে সমুদ্রে নেমে পড়েছে।
খ্রিস্টিয়ান পায়ের ব্যান্ডেজ খুলে নেমে পড়েছে। রোদের তেজ ভালই। ইচ্ছে থাকলেও আমার নামা হল না, কারণ কস্ট্যুম রয়ে গিয়েছে স্যুটকেসে।
Part 4 of 5





























































দারুন লেখা
ReplyDelete