দুর্গাপুজোর টুকি-টাকি
রিটায়ার্ড লাইফের পর অনেক সময় এক্সটেনশন পাওয়া যায়। আরো কিছুদিন কলুর বলদের মত ঘানি ঘোরাও। আমার হল গিয়ে “এক্স-টেনশন”, মানে টেনশন ফ্রী রিটায়ার্ড লাইফ। দুর্গাপুজোতে এক্সটেনশন করার ব্যাপার নেই। দশমীর দিনে ভাসান হবেই। আজকাল লোকে উৎসব এক্সটেন্ড করতে চায়। কলকাতায় হনুমান পুজো, গনেশ পুজো রমরম করে চলছে। তবে বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। পূজোকে সমাপ্তির দিকে বর্ধিত করা না গেলেও ‘কোই বাত নেহি’, প্রি-পন করে দাও। উৎসবের টেম্পো তৃতীয়া বা চতুর্থী থেকেই শুরু হচ্ছে, পিক অবশ্যই সপ্তমী থেকে শুরু। আগে বাঙালীর নাচ হত ভাসানের সময়, এখন দেখছি ঠাকুর আনার সময়ও খুব নৃত্যের মাধ্যমে ঠাকুরের আগমন হচ্ছে। নেচে নেচে আয় মা কালীর মত, নেচে নেচে নেচে আয় মা দুর্গা! দেশে এখন দেশপ্রেমের নবজোয়ারের সঙ্গে ভক্তিরও আধিক্য। দিদির দরাজ হাত। দোড়গোড়ায় ভোটযুদ্ধ। ভগবানেই ভরসা। তাই পুজো কমিটির যৌতুক পঞ্চাশ হাজার থেকে বেড়ে এবার সত্তর হাজার।
যাই হোক কর্তব্যপরায়ণ পিতার কন্যাদায় সাঙ্গ করে পৌঁছালাম পাড়ার পুজোপ্যান্ডেলে। পঞ্চমীর দিন। কলমের রসিকতা আবার রসনার তৃপ্তির পরিপূরক। লেখায় ভরপুর আনন্দ যখন ভরা পেট। ভরসা হল আনন্দমেলা। রকমারী খাবারের ডালি নিয়ে হাজির ৬২র বঙ্গললনাবৃন্দ।
ওদেরই মধ্যে একজন তরুণী ভার্যা হাসিহাসি মুখে জানালেন, আমার লেখা তার খুব পছন্দ।মেয়েদের মুখের প্রশংসা শুনতে কার না ভাল লাগে, আমিও তার ব্যতিক্রমী নই।
উনার স্টলের মাংসের ঘুঘনি নেওয়া অবশ্যকর্তব্য বলেই মনে হল। ডিমের ডেভিল পাওয়া যাচ্ছে সুদেষ্ণা ম্যাডামের কাছে। তিরিশটাকা পিস হিসাবে আস্ত ডিম সহ (বাঙালী হিসাবে নন ভেজের স্যাটিসফ্যাকশনও ) থাকছে, বেশ ইকনমিক বলেই মনে হল, “ডেভিলিশ” ব্যাপার মোটেই নয়! আমার আইডিল ব্রেন আবার “ডেভিলস ওয়ার্কশপ” হয়ে দাঁড়াল।সত্যিই তো এরকম সুস্বাদু ডিশের নামের সঙ্গে শয়তান কি করে যুক্ত হল?
কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন গোছের ব্যাপার নাকি? ম্যাডাম আবার অঙ্কের কড়া দিদিমনি, ডিমের ডেভিল নামের অরিজিনের মানে না জিজ্ঞাসা করাই সমীচীন বলে মনে হল, বকা খাওয়ার সমূহ চান্স! ডেভিল খাওয়া মাথায় উঠল। ‘শয়তান’ ডিমকে মুঠো বন্দী করে অন্য হাতে মুঠোফোনে গুগল সার্চ লাগালাম। জানা গেল ১৩শ শতাব্দীতে রোমে এই খাবারের খবর পাওয়া যায়। পরে ১৮শ শতকে ইংল্যান্ডে নানারকম মশলা দিয়ে এর স্টাফিং তৈরী হত। ধরেই নিচ্ছি তখন আমাদের দেশ থেকে মশালা যাওয়া শুরু হয়েছে বিদেশী বণিকদের মাধ্যমে। এই রকম স্টাফিংকে ইংরাজিতে ‘deviled’ বলে, সেই থেকে এই নামকরণ।
সন্তুষ্ট হয়ে এককামড় দিয়ে স্টেজের কাছে ভিআইপি সোফাতে বসা গেল। সামনের সীটের পিছনদিকে জাজ লেখা। শুনলাম একটু পরেই শুরু হবে গানের কম্পিটিশন “সুরবাহার”।
এই অনুষ্ঠান আগে আগে সকালে হত-স্কুলের বাচ্চাদের গানের প্রতিযোগিতা। আজকাল অবশ্য দেখি বয়স্কদের স্টেজে উঠতে বেশী আগ্রহ। আমাদের ছোটবেলায় বাবা-মায়েরা দর্শকের ভূমিকায় থাকতেন, বাচ্চাদেরই বেশী স্টেজ পারফরমেন্স হত। এখন পাশা উল্টে গিয়েছে। অষ্টাদশী তন্বীর পরিবর্তেএক্সপিরিয়েন্সড সিনিয়ার দল মঞ্চ আলো (?) করে থাকেন। স্টেজের লোড টেস্টিং কন্ট্রাক্টে আছে!
পাশে বসে পিনাকী। সবে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ। পিনাকীর গায়ে জ্যাকেট। কি ব্যাপার? সেরকম ঠান্ডা তো নয়। পিনাকী এক্সপ্লেন করল- ওর নরম্যাল পালস রেট ৫৮।
এটা সাধারণ ভাবে ৭২ থাকে সেটুকু শুনেছি, সুন্দরী নারী হৃদয়দৌর্বল্য ঘটায়, তাতে পালস রেট বাড়ে কিনা কমে জানি না, হৃদয়ের অবস্থান দেহের বামদিকে না ডানদিকে তাই নিয়ে সন্দিহান থাকি। পিনাকীকে জিজ্ঞাসা করলাম এতে লাভ না ক্ষতি? পিনাকী বল্ল পালস রেট কম থাকলে এ্যথলেটিকস করতে সুবিধা, অল্প পাম্পিংএ রক্তে অক্সিজেন পৌঁছায়, সুতরাং স্ট্রেস লেভেল বাড়ান যায়। আমার মাথাতেও পয়েন্ট এসে গেল, বল্লাম “গৃহকলহে চীল চিৎকার করতেও বাধা নেই, পালস ৭২ ছাড়াবে না। তারপর ভাগ্য করে ট্রপিকাল দেশে জন্মেছ। এসির খরচা কম।
পাশে বসেছিলেন আরেকজন বয়স্ক লোক। ক্রিকেটের লাইভ স্কোর দেখছেন। আলাপ হল। জিজ্ঞাসা করলাম আপনি বুঝি ক্রিকেটভক্ত? ছোটবেলা থেকে দেখেছি কানের কাছে পোর্টেবল রেডিও নিয়ে কেউ বাসে ট্রামে উঠলে প্রশ্নবান ফেস করতে হয়-কত রাণ, কটা উইকেট? স্কোর জানাটা বেশ স্ট্যাটাস সিম্বলের মত ব্যাপার। তবে লাহিড়ীবাবু (পরে নাম জেনেছি) ইউনিভার্সিটি প্লেয়ার ছিলেন।
উনি ডক্টরেট। নিউক্লিয়ার মেডিসিন এক্সপার্ট। ডিআরডিও তে ওই ডিপার্টমেন্টের হেড ছিলেন। মিসাইল ম্যান ডাঃ এপিজে কালামের অধীনে কাজ করেছেন। লাহিড়ী সাহেবের দাদা ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল। বেশ ভক্তি শ্রদ্ধা হল। জিজ্ঞাসা করলাম আজকাল কিছু করছেন কিনা। ডাঃ লাহিড়ী জানালেন - মানুষের দেহে এ্যটম বোমার এফেক্ট নিয়ে রিসার্চ করছেন। একটু অবাক হবার পালা। বল্লাম- সে কি স্যার, বোমা তো ৪৫ এ পড়েছিল,
তারপর তো তিন জেনারেশন কেটে গেল, আবার পড়ার চান্স আছে নাকি! লাহিড়ী স্যারের রিসার্চটা আনকনট্রোনডলড রেডিয়েশনের এক্সপোজারের ফলে ফলে মানুষের শরীরে যে ক্ষতি হয় সেটাকে কনট্রোলড রেডিয়েশন দিয়ে নালিফাই করা। এ্যটম বোমার রেডিয়েশনে জীনের চরিত্রগত পরিবর্তন হয়, ফ্রি radical তৈরী হয়।আমায় জিজ্ঞাসা করলেন-radical কি জিনিষ জানেন তো? স্বীকার করলাম পলিটিক্সে radical গ্রুপ বা টেররিস্ট গ্রুপ উইথ radical মাইন্ডসেট শুনেছি। লাহিড়ী সাহেব মাথা নেড়ে বল্লেন এই radical হল ফ্রি মলিকিউল, যেমন ধরুন O2 ভেঙে খালি O.
এরা শরীরে থাকলে খুব ক্ষতিকারক। এইজন্য নাকি পাবলিক এ্যন্টি-অকসিডেন্ট জাতীয় খাবার খায়। লাহিড়ী বাবুর কাছে জানলাম কমলালেবুতে অনেক এ্যন্টি অক্সিডেন্ট আছে। এই radical দের পেজোমি দূর করতে লাহিড়ী বাবু দেশী হার্ব নিয়ে গবেষণা করছেন। মোবাইলে রিসার্চ পেপারের দুই পাতা পড়লাম।এই ঔষুধের প্রধান ইনগ্রেডিয়েন্ট হল “বেলপাতা”। লাহিড়ী স্যার, তার পেপার ইন্টারন্যাশানাল ম্যাগাজিনে ছাপতে দিয়েছেন। বল্লাম আপনি মাইকেল মধুসূদনের কবিতা জানেন তো “মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি; -কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল কানন…..”। আপনি বিদেশী ম্যাগাজিন ছেড়ে দেশী জার্নালে পেপার ছাপান। বেলপাতা বলে কথা, ঠাকুর দেবতার নৈবেদ্যে লাগে,
এখন ভক্তির জোয়ারে দেশ ভেসেছে, একবারে বুলস আই এ হিট করুন, পিএম-কে পাঠিয়ে দিন। আপনার রিসার্চ ফান্ডিং এর গ্রান্ট এক চুটকিতে এসে যাবে। কথাটা লাহিড়ী সাহেবের মনে ধরেছে বলে মনে হল। ডাঃ লাহিড়ীর পেপার মন দিয়ে পড়ছি। জীনসেন বলে একটা হার্বও লাগে এই ঔষুধে।চকিতে মনে পড়ে গেল প্রেমেন মিত্তিরের লেখায় ‘জীনসেন’ এর গল্প পড়েছি। তাইওয়ান না চীনে এই দুষ্প্রাপ্য গাছের পাতা খুঁজতে ঘনাদাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। জিজ্ঞাসা করলাম - চিনে জিনিষে আজকাল ইমপোর্ট ব্যান লাগান হচ্ছে। আত্মনির্ভর ভারতের জমানা। দেশী কিছু সাবস্টিটিউট আছে নাকি স্যার? উনি জানালেন অশ্বগন্ধাও চলতে পারে।
এটা নাকি ভারতে সহজলভ্য। আমি নিশ্চিন্ত হলাম। নামটার মধ্যে সনাতন ভারতের একটা ফ্লেভার আছে। এ ঔষুধ রামদেবের করোনীলের থেকেও যুগান্তকারী আবিষ্কার হবে। অন্যপাশে বসে অতনু মিত্র।
আপন জগতে বিচরণ করেন। সোনার পাথরবাটির মত নিরামিশাষী বাঙ্গালী! তাকেও বল্লাম পিএম অফিসের আইডিয়াটা। অতনু সোউৎসাহে লাহিড়ী বাবুকে বল্ল- “রায়দা বেস্ট সলিউশন দিয়েছে। লাহিড়ী স্যার বল্লেন -“কি করে পিএম এর দেখা পাব, আপনি একটা উপায় বার করুন। বল্লাম - স্যার একটু গুগল করে দেখতে হবে। উনি আমার ফোন নম্বর নিলেন, আমাকে উনার ভিসিটিং কার্ড দিলেন।
আমিও বেশ উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম। ডাঃ লাহিড়ীর পিআরও হয়ে পিএম এর সঙ্গে হাত মেলানোর একটা সুবর্নসুযোগ আসতে চলেছে!
সপ্তমীর সকাল। গুটি গুটি পায়ে ১২ নাগাদ প্যান্ডালে পৌঁছান গেল। প্রবেশদ্বারের দুই পাশে দুই কলাগাছ। দুটো থেকেই বেশ এককাঁদি করে পুরুষ্টু কাঁচাকলা ঝুলছে।
ইভিল স্পিরিটকে কাঁচকলার মত বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখাচ্ছে বলে মনে হল। কাঁদির তলায় পুরুষ্ট মোচাও বিদ্যমান। মা দুর্গা মর্তবাসীদের মত এই কলাকেও আগলে রেখেছেন। কলা-চুরির কলাবিদ্যা কেউ এখনও করে ওঠে নি, পাছে মা জননী কুপিতা হন! পুজোস্থলে জটলা। একপ্রস্থ অঞ্জলি পর্ব শেষে ফলপ্রসাদের লাইন। ঠাকুরের অঞ্জলি দিয়ে আধ্যাত্বিক ফললাভের আগে, ফলপ্রসাদের ফলভোগ করে নেওয়া বুদ্ধি মানের কাজ মনে হল। প্রসাদের প্যাকেট গলধাঃকরণ করে অঞ্জলির লাইনে দাঁড়ালাম।”শেষ থেকে শুরু” - ক্ষমা করে দিও- “রেখো মা দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে”। প্রথম বারের মন্ত্রেচ্চারণ হয়ে গিয়েছে। তাই সই। “নেই মামার থেকে কানা মামা”র মত মা দুর্গার আশীর্বাদ কিঞ্চিত কম হলেও ক্ষতি নেই। তাছাড়া নবমী-দশমীর অঞ্জলি পড়ে আছে। পন্ডিতমশাই “হর পাপং” বলতেই পাশের ভদ্রলোক তার আগের শ্লোক “হর ক্লেশং হর সুখং” গড়গড় করে বলে গেলেন। পন্ডিত ব্যাক্তি।
উনাকেই ফলো করে মন্ত্রপাঠ করে, একহাতে ফুল রেখে অন্যহাতে সেলফি নিলাম,পুণ্যবানের সংস্পর্শ ফ্রেমবন্দী করে।
এবার মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তির দিকে নজর দিলাম। মনে হচ্ছে অসুর এ্যনিমিক, বর্শার খোঁচায় অল্প রক্তপাত।
সিংহবাহন মুখব্যাদান করে তাকিয়ে আছে, তবে অসুরকে কব্জা করে থাবা বসাতে পারে নি। দুর্গাঠাকুরের দশ-হাত এবং মা লক্ষী ও মা সরস্বতীর দুই হাতও রক্তবর্ণ। মা-মেয়েদের যৌথ প্রয়াস নাকি অসুর দলনে? ন্যাদাপেটি গনেশ ও কার্তিক দুইজনেই পৈতে ঝুলিয়ে বিরাজমান।
তার মানে এরা তাহালে ব্রাহ্মণ। তাহালে শিবঠাকুরও ব্রাহ্মণ। প্রশ্নবাণ নিয়ে হাজির হলাম পুরুতমশাইএর কাছে। পুরুতমশাই রথীন আচার্য, সিরিজ অফ অঞ্জলি শেষ করে রিল্যাক্স করছিলেন। আলটপকা “আলতা” নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রথীনবাবু জানালেন দেবী মায়েরা আলতা পড়েন, তাই হাত জুড়ে আলতা। আলতো করে জানালাম, আলতা তো পায়ে দেয় আজকাল পুরো হাত জুড়ে, ঘন রক্তবর্ণ, আলতো করে আলতা পরালে ঠিক হত। সাইক্লিক ফ্যাশানের মত নূতন ট্রেন্ড বলে মনে হল। রথীনবাবুর কাছে জানা গেল শিব ঠাকুর অবশ্যই ব্রাহ্মণ। সরলমনে জানতে চাইলাম শিবঠাকুরের পদবী কি… চ্যাটার্জি না ব্যানার্জী নাকি মুখার্জি? রথীনবাবুর হাসি দেখে বুঝলাম কোশ্চেন সিলেবাসের বাইরে।
এবার রিসেপশন কমিটি সৌন্দর্যমন্ডিত। মহিলারা আলো করে বসে আছেন।
পাশে বসেছিলেন। জিজ্ঞাসা করলাম - “আগে দেখি নি”। কটমট করে তাকানো দেখে স্টেজ ম্যানেজ করতে গিয়ে বল্লাম-৬২ সেক্টারে থাকেন নাকি? আরো কেলেংকারি! ব্যাজার মুখে বল্লেন - নয়ডাতে থাকি। ঘটে শুভবুদ্ধির উদয় হল, উনাকে আর বেশী ঘাটানোর সাহস পেলাম না। আজকাল “অল লেডিজ পুজো, মেয়ে ঢাকী, মেয়ে পুরোহিত, এসব পুজোর বাজারে খুব চলছে। যাই হোক যারা বসে আছেন এরা আমার চেনা মুখ, একজন দেবলিনা অন্যজন বাসবের অর্ধাঙ্গিনী সোমা, সুতরাং মাভৈঃ! “যে রাধে সে চুলও বাধে” এই প্রবাদের উজ্জ্বল উদাহরণস্বরূপ দুইজন প্রবল উৎসাহে কাউন্টার সামলাচ্ছেন। আমি এনকাউন্টার থেকে দূরে সেল্ফিতে ব্যস্ত!
ভোগের কুপন কেনার জন্য বেশ ভীড়। সিরিয়াসনেস বোঝা গেল, যখন দেখলাম দুজনেই সকাল থেকে আনা ভোগ প্রসাদের
প্যাকেট খোলার সময় পায় নি। রিসেপশন কাউন্টারে বসার সুবাদে চায়ের কুপনও পাওয়া গিয়েছে। এটা হল ফ্রিঞ্জ বেনিফিট। আমার আজকেই ফুলফ্লেজড পার্টিশিপেশন। কোন মিটিংএ যাওয়া হয় নি। জানিনা দেবলীনা আমাকে কি ভেবে, মনে হয় কমিটির চেয়ার আলোকিত করার সুবাদে প্রশ্ন করল - ভোগ কমিটি থেকে বলে গেছে সপ্তমীর ভোগকুপন ই্যসু না করতে, কি করি অনেকে চাইছে। নিজেকে সুপ্রীম কোর্টের জাজ মনে হল- ডিশিসন দিতে ভয় নেই,
সুপ্রীম কোর্টের সুপ্রীম পাওয়ার, কেউ কাটবে না! বরাভয় মুদ্রা দিয়ে বলে দিলাম হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলতে নেই, টঙ্কা লাভ তো হবে, পরে কমিটি লঙ্কা ঘষে দিলে দেখা যাবে। “
এবারে প্যান্ডালের থিম হল ড়োল। দুর্গা পুজোর সূচনা মূহূর্ত ঢাকে কাঠি পড়তে শুরু হয়।
ভাসানের সময়ও বিষাদের সুরে বেজে ওঠে “ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন”। পুজোর জন্মলগ্ন থেকে সঞ্জীব আমাদের ঢাকি। সঞ্জীবের বাবা ও ছেলে, তিন জেনারেশনই ফি পুজোতে আসে।
“ঢাক ঢাক গুড়গুড়” না করে সঞ্জীবকে প্রশ্ন করি ঢাকের টেকন্যিকালিটি নিয়ে। সঞ্জীব উৎফুল্ল, ওর কাছে সবাই ঢাকের কাঠি নিয়ে ঢাক বাজাতে চায়।এখন অব্দি কেউ সঞ্জীবকে ঢাক-যন্ত্র নির্মানের বিষয়ে বাজিয়ে দেখতে চায় নি। উপরের ঢাকনা সরিয়ে ঢাকের ঢাকা অংশের বর্ণনা শুর করল সঞ্জীব। ওর ঢাক হল গিয়ে বনেদী ঢাক। চারপুরুষ ধরে এই ঢাক চলে আসছে। ঢাকের মধ্যমণি খোল। এটা তৈরী আমগাছের গুঁড়ি দিয়ে। খোল-নলচের, খোলটা অরিজিনাল, বাকী ‘নলচে’ পিরিওডিকালি বদলেছে। ঢাকের কাঠি যে অংশে পড়ে সেই চামড়া হল ছাগলের। সঞ্জীব আজকাল গোয়াবাসী। এই চামড়া আসে অম্বিকা-কালনা বা নদীয়ার রানাঘাট থেকে। এরপর সেটাকে গরুর চামড়ার ফিতে দিয়ে খোলের মধ্যে বাঁধা হয়। ছোটবেলায় যেমন আলাদা আলাদা ফুটবল আর ব্লাডার হত। ব্লাডারে নল দিয়ে হাওয়া ভরে মুখটা বেঁধে ঢুকিয়ে লেস বাঁধতে হত এখানেও সেইরকম টেকনোলজির প্রয়োগ মনে হল। দেশের কর্মকর্তারা এখনও টের পান নি, যে পবিত্র স্থানে শিবের বাহনের দেহাংশ। ঢাক ব্যান হয়ে হয়ত দেখা যেত পুজোতে সানাইএর সুর। ঐ যন্ত্রে যেমন আনন্দের ঝংকার ওঠে, বিষাদের সুরেও সানাই তেমনি স্বচ্ছন্দ। ঢাকের মধ্যমনি হয়ে জয়ঢাকের মত বসে ফটোও তোলান হয়ে গেল।
সপ্তমীর দুপুরে ভোগের তালিকায় খিচুড়ি-লাবড়া-বেগুনী সহযোগে, চাটনি, পাঁপড়, পায়েস। রান্না বেশ ভাল, যখন বোঝা গেল শেষ লগ্নে লাবড়াতে টান পড়ল। এবারে খেতে খেতে ঘামতে হচ্ছে না, বা পাখার তলা খুঁজতে হচ্ছে না এটাই বাঁচোয়া। দিল্লির বাতাসে হাল্কা শীতের আমেজ। ভূতপূর্ব প্রেসিডেন্ট দেবাশীষ ও বন্ধুবর কুশলকে দেখা গেল ডাস্টবিনের সামনে। কুশল বিনিময় করে প্রশ্ন করি - ব্যাপার কি? কাঁচরার সামনে দাঁড়িয়ে কেন? দেবাশীষ উচ্চমার্গের লোক, মানে উঁচু জায়গায় থাকেন, কুমায়ূন হিলসে ‘জানলা’ নামক জায়গায়, তার জানলা দিয়ে তুষারধবল শৃঙ্গ দেখা যায়। রামকৃষ্ণ করকমলে নিবেদিত প্রাণ। দুর্গার মর্ত্যে আগমনের সাথে সাথে, ইনিও নয়ডার পুজোতে পদধূলি দেন।শিশু বিবেকানন্দ ছোটবেলায় আঁস্তাকুড়ে বসে থাকতেন। মা, বিলে ডাক দিলে বেরোতেন না, শিব শিব বল্লে তবে উঠে আসতেন। ভাবলাম দেবাশীষ সে রকম কিছু একটা ঘটাতে চলেছে। কুশলবাবু আবার পরিবেশবিদ। এনটিপিসির গ্যাস প্রোজেক্টের অপারেশন ছেড়ে, কর্মজীবনের শেষ অধ্যায়ে প্রোজেক্টে ঘাস লাগাতেন।
যে সে ঘাস নয়, এই ঘাস স্লোপের স্টেবিলিটি মেনটেন করে।এই ‘খাস’ ঘাসের হিন্দি নামকরণ ‘খস”, ইংরাজীতে ভেট্টিভর। যাই হোক দুই উচ্চমার্গের লোকের সংকল্প হল, খাবারের ওয়েস্টেজ কম করা। কেউ প্লেটে খিচুড়ি কি ভাজা রেখে ডাস্টবিনে রাখতে গেলে তাদেরকে অনুরোধ করছে পুরোটা খেতে। একান্তই না পারলে, পরের দিন যাতে ওয়েস্ট না করে তার উপদেশ। বল্লাম, ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্টের মত “এন্ড সাইড ম্যানেজমেন্ট” না করে খাবার শুরুতেই এনাউন্স করে দাও-কেউ যেন ওয়েস্ট না করে। পরের দিন অবশ্য ভোগ কমিটির চেয়ারম্যান, রাজদীপ,
মাইকে বলে দিল, খাবার অপচয় থেকে বিরত থাকার জন্য। প্রত্যেকবার খেতে খেতে স্পনসরদের নামের তালিকা বারবার এনাউন্স করা হয়, এবারে সে রকমটা দেখা গেল না। লিস্ট ফি বছর দীর্ঘতর হওয়াতে, ভোগ কমিটি এনাউন্সমেন্টে লিস্ট ইনটারেস্টেড! পিয়ালী মেয়ে সহ স্টেজে যেমন স্বচ্ছন্দ তেমনি কিচেনের দ্বাররক্ষী হিসাবে সমান সফল। ভোগের সময় রাজদীপ বলে যাচ্ছে কোন কাউন্টারে কি লাগবে, সেইমত বালতি ভর্তি খাবার চলে যাচ্ছে পিয়ালীর নির্দেশে।
এবারে ভোগের রান্নার কোয়ালিটি ভাল, তাই কনজিউমও বেশী। দুই একবার আইটেম বাড়ন্ত হয়ে গেল।
সন্ধ্যেতে এসেছি প্যান্ডালে। আশেপাশে অনেক পিজি এ্যকমোডেশন আছে। তরুণ-তরুণীর ভীড়। দুর্গাপুজো ছাড়া, অন্য কোন কমিউনিটি ফাংশনের অভাব এ তল্লাটে।প্যান্ডালের পিছনে অনেক স্টল। কেনাকাটি থেকে শুরু করে খাবার স্টল অব্দি কাণায় কাণায় পূর্ণ। ধুনুচি নাচ চলছে।
একট পরে সান্ধ্য প্রোগ্রাম। যথারীতি কুমারবাবু মাইক হাতে হাজির। গলায় অসামি গামছা। না গলায় গামছা দিয়ে আসামী না, অহম প্রদেশের গামছা গলায়।
সাংস্কৃতিক জগতের লোকেদের আইডেন্টিফিকেশন কোড। সকাল বিকাল দুটোই সামলাচ্ছেন। সকালে পূজাস্থল। সব্যসাচী বলা যায়। নিজের এরেনার একছত্র অধিপতি। লোকাল গ্রুপ মৈত্রয়ীর লাইভ নাচ-গান। গৌতম মুখার্জির ভরাট গলা, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাসব। গ্রাম বাংলার মাটির গান, বাউল ও অন্যান্য নাচের ডালি নিয়ে হাজির।ড্রপসিন পড়ে আছে। তবে ভিতরে “বিহাউন্ড দ্য সিন” দর্শকের চোখে ধরা পড়ছে, কারণ স্বচ্ছ পর্দা।
এসিপি সাহেব সাহেব নবরাত্রি ও দুর্গাপুজার শুভেচ্ছা জানিয়ে নারী সশক্তি করণ সম্বন্ধে কিছু ভাষণ দিলেন।উত্তরভারতে পুরুষশাসিত সমাজে মেয়েরা নানারকম প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। কোনরকম সমস্যার জন্য এদের নম্বর ১০৯০ ডায়াল করতে হবে। নয়ডার সব থানাতেই নাকি ওমেন সেল রয়েছে আলাদা করে, ‘ম্যানড বাই ওম্যান’। মনে হল সেই সেলে ফুটফল, ‘না কি বরাবর’। তাই এই অভিনব প্রয়াস। আমাদের পাড়ার টি জয়েন্টেও এরা থাকেন। যোগীর আমলে আগের জমানার থেকে ইমপ্রুভমেন্ট হল, আগে এরা গাড়িতেই বসে থাকতেন, মাঝরাস্তায় গাড়ী রেখে হুটার, ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতেন। আজকাল রাস্তায় দাঁড়ান বটে, তবে চোখ থাকে মোবাইলে। মেয়েদের হেল্প করার তাৎক্ষণিক হেল্পের নমুনা পাওয়া গেল,
যখন মঞ্চ ছাড়ার পর প্যান্ডালের পিছন দিকে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু ইয়াং ছেলেপুলেকে বাইরে বার করে দিলেন।প্রোগ্রামের শেষে পরিচিতি পর্বে হঠাৎ শোরগোল। বাইচান্স রিসেপশনে ডেস্ক থেকে দর্শকের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। নিউটনের আপেল খসার মত টুপ করে উপর থেকে একটা একটা সিলিং ফ্যান খসে পড়ল। হৈ হৈ রব। দর্শকমন্ডলী পূর্ণ প্যান্ডাল। পাক্কা কাউর উপর পড়েছে। এক মহিলার মাথার উপর পড়েছে এরকম শোনা গেল। বরফের খোঁজাখুজি চলছে। সকালেও দুটো এ্যমবুলেন্স দেখা গিয়েছিল।
এর পরের অনুষ্ঠান স্টার আর্টিস্ট মনোময় ভট্টাচার্য। মনেময়ের গান শুনতে এনসিআরের বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রোতা উপস্থিত। মনোগত ইচ্ছে আর্টিস্টের সঙ্গে সেলফি তুলব। কমিটির কর্মকর্তাদের পিছন পিছন আছি। একটা ইনোভা স্টেজের পিছনে দাঁড়াল। শিল্পী ফ্রন্ট সীট হেলিয়ে ইজিচেয়ার কায়দায় শুয়ে। বল্লেন বাইরে বেশ ঠান্ডা।
মিউজিসিয়ানরা টিউনিং করলে পরে নামবেন। গলা ঠিক রাখার জন্য চা দরকার। গৌতম মুখার্জির ডিপার্টমেন্ট। শিল্পীর কোন কাজে লাগতে পারলে সেলফি তোলার সুযোগ হত। বিফল মনোরথ হয়ে ফেরত আসছি। প্রেসিডেন্ট সাহেব কানে কানে কিছু বল্লেন। পাঠকদের বলি যে ছোটবেলা থেকে সদাসত্য কথা বলার বদঅভ্যাসটা আমার আছে, তাতে যদি নিজের প্রেস্টিজ পাংচার হয় তাও সহি। রিকোয়েস্টটা জোরগলায় অন্যকে শুনিয়ে বলার মত নয়। জুনিয়ার মনোময় “ছোট বাইরে” যাবেন। আগেরদিন গৌতম প্যান্ডালে লেট এসেছিল। এসে বল্ল “কলে” ছিলাম”। বল্লাম - কি এত কলকাঠি নেড়ে এলে? আমি তো খালি “নেচারস কল” জানি!
আমার সোসাইটি টেলিকম, একদম পাশে। ব্যালকনি থেকে ঢিল মারলে প্যান্ডালের ছাদে পড়বে।
তবে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। জুনিয়ার মনোময়ের নাম আকাশ। আমি বল্লাম, ভাই আকাশ-খোলা আকাশের তলায় নেচারের ন্যাচারাল পরিবেশে নেচারস কল জমবে ভাল। পার্কের কোনে যেতে যেতে আলাপ হল- আকাশ, আজ বাবার সঙ্গে গাইবে। সেন্ট জেভিয়ার্সে মাস কমিউনিকেশন নিয়ে মাস্টার্স করছে। থাকে বেহালার কাছে সরশুনাতে। এক যাত্রায় পৃথক ফল হওয়া ঠিক নয়। বাঙালীর ঐক্য জিন্দাবাদ! আমিও দাঁড়িয়ে পড়ছি। কাজ শেষে আকাশকে বল্লাম “উই আর ইন দ্য সেম বোট ব্রাদার”! নাকের বদলে নরুণ এর মত বাবার বদলে ছেলের সঙ্গেই সেলফি নিলাম।
মনোময় অবশ্য শ্রোতাদের মন জয় করতে পারলেন না। পাঁচ-ছয়টা গান করে অনুষ্ঠান শেষ। পরে শুনলাম পুলিস নাকি রাত এগারোটা অব্দি ফাংশনের অনুমতি দিয়েছে।
লোকাল আর্টিস্টের গানের গুতোও শোনা গেল। উনার গানের সময়টা পিছনের স্টলে খাবার খাওয়ার উৎকৃষ্ট সময়। উনি গানের স্বকীয়তা বজায় রাখেন। নিজস্ব সুর।
বছর কয়েক হল লেখালেখির সুবাদে পরিচিতর গন্ডীর মধ্যে স্বল্প পরিচিতি লাভ হয়েছে। কয়েকজন শুভানুধ্যায়ীর মধ্যে আনোয়ার অন্যতম। সে নিজেও লেখালেখি করে, বাংলা সাহিত্যের সমঝদার পাঠক। পুজো কড়চার ব্যাপারে, আমায় রোজ জিজ্ঞাসা করে- লেখা এগোচ্ছে তো? মশালা যোগাড় হচ্ছে তো? সম্মতি দিয়ে মাথা হেলাই,ঝুলি থেকে বেড়াল বের করি না! দশমীর বিসর্জন শেষে আমার লেখার বোধন। আনোয়ার সৈয়দ মুজতবা আলির ভক্ত। নিজের মেয়ের নাম শবনম রেখেছিল, উনার অফগানিস্থানের পটভূমিতে লেখা একটি উপন্যাসের নায়িকার চরিত্রে। আনোয়ার আজকাল চাকরীসূত্রে আসল চারধামের একটি, রামেশ্বরমে থাকে।
একটি মেয়ে ভোগের কুপন কাটতে এসেছে। ৬২র ল কলেজে পড়ে।
নাম বল্ল প্রমা। মানেটা জিজ্ঞাসা করলাম। প্রমা নামের অর্থ হল প্রজ্ঞা বা গভীর জ্ঞান। আমারও জ্ঞানলাভ হল!
আরেকটি ছেলে, হিপি চুল, স্ত্রী সহিত, কুপন চাই। নাম বল্ল ‘প্রিয়’।
“প্রেম” নাম শুনেছি, প্রিয় কখনও শুনি নি। ওর বৌ জানাল আসল নাম সর্বপ্রিয়। বল্লাম -ওটাই বলা উচিত, সবার প্রিয়, খালি প্রিয়র থেকে এক নচ বেটার!
আমাদের ভূতপূর্ব সেক্রেটারী পুজোর জন্মলগ্ন থেকে আমাদের সঙ্গে জুড়ে ছিলেন। ডেডিকেটেড লোক ছিলেন। পুজোর চারদিন ঘুমাতেন কখন কে জানে। রাত একটায় ফাংশান শেষেও আছেন, আবার সকাল ছয়টাতে পুজার কাজে লেগে পড়তেন। দীর্ঘ একুশ বছরে প্রেসিডেন্ট বার চারেক চেঞ্জ হলেও, সেক্রেটারী হিসাবে সেনশর্মাদা সবার প্রথম চয়েস ছিলেন। পুজা প্যান্ডালে সেনশর্মাদার ছবিসহ অবিচুয়ারি ঝুলছে। নীচে বাংলাতে দুই লাইন লেখা। এই অধমের কাছে “এক্সপার্ট কমেন্ট” চাওয়া হল।
কিছু কারেকশন অবশ্যই দরকার ইমেজ ইনট্যাক্ট রাখতে! কর্ম জীবনেও দেখতাম নোটশীটে বস কিছু না হলেও “ইজ” এর জায়গায় “হ্যাজ বিন” ইত্যাদি করে দিতেন। যাই হোক সাজেশন দিলাম দ্বিতীয় লাইনে ‘নীরবের’ জায়গায় ‘উচ্ছল’ করে দিতে। সাজেশন এক্সসেপটেড। মান বাঁচল!
অনিশার সঙ্গে দেখা। ও খুব হাসিখুশী। ছোটবেলা থেকে সব অনুষ্ঠানে উৎসাহের সাথে অংশ নিত। এখন ডাঃ অনিশা। অনিশাকে বল্লাম-“তোকে ডাক্তার লাগছে না, মডেল মনে হচ্ছে! অনিশা এখন এইমস(দিল্লি) র ডাক্তার। বার্ন ও কসমেটিক সার্জারি ডিপার্টমেন্টে আছে।
ফ্রি কনসালটেশনের সুবর্ন সুযোগ! মুখের পাশের কালো দাগ গুলো বল্ল লেজার আর লিকুইড নাইট্রোজেন দিয়ে, পাঁচ-ছয়টা সিটিংএ ঠিক করে দেওয়া যাবে।
নবমী নিশি শেষ পর্যায়ে। কালকে মায়ের বিদায়। তারপর আবার এক বছরের প্রতীক্ষা।
আমার কথাটি ফুরালো নটে গাছটি মুড়োল!
দেবদত্ত
২৩/১০/২৩
পুনশ্চঃ- দশমীর সকাল। দেবীবরণ, সিঁদুরখেলা চলছে। শেষপর্যায়ে মহিলাদের এক্সক্লুসিভ ডোমেনে কয়েকজন পুরুষকেও দেখা গেল! ভক্তির জোয়ারে লিঙ্গবৈষম্য বিশবাঁওজ জলের তলায়!
৬২ বংস বলে আমাদের সেক্টরের বাঙালীদের একটা হোয়াটস্ এ্যপ গ্রুপ আছে। নূতন মেম্বার এলে তাকে “সোসিও কালচারালি ভাইব্রেন্ট” গ্রুপে সম্বর্ধনা জানান হয়। বাই ডিফল্ট আমিও গ্রুপের মেম্বার। মৃত সৈনিকের ভূমিকায় থাকি। স্থান, তাল, পাত্র না বুঝে বেফাঁস মন্তব্য যাতে ফাঁস না হয়ে দাঁড়ায় তারই প্রচেষ্টা। দশমীর সকালে গ্রুপ খুলে বিগত পাঁচ/ছয় দিনের অসংখ্য ফটো মেসেজ দেখলাম।
নিজের ফটো পেলাম না, তার চেয়েও দুঃখ একটা ফটোতে খালি আমার সবুজ পাঞ্জাবী আমার উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। অসিত একটা ফটো তুলেছিল, সেটাই দিলাম।ভাসান শেষ। পোস্ট ভাসান চায়ে পে চর্চা। ফিডব্যাক অনুযায়ী এবারের পুজো “দিদি নং ওখানে” এর মত পুজো নং ওয়ান। দিদিরাই সিংহভাগ জুড়ে ছিলেন, তাই এই উপমা টানলাম। ফণী আমাদের মন্ডপে চায়ের দোকান দিয়েছে। কমিটির নবতম সংযোজন। দশটাকার চা, কলকাতার চাকেও হার মানাবে।














































ভালো লাগলো। পুরো পুজোটা আপনার লেখায় চোখের সামনে।
ReplyDeleteথ্যাঙ্ক ইউ। প্রবাসের পুজো টিপিক্যাল এরকমই হয়
Deleteভালো লগলো
ReplyDeleteAnother fantastic free flowing naration.
ReplyDeleteখুব ভাল লিখেছিস। ঝরঝরে তরতরএ।
ReplyDelete👍
Deleteখুব ভাল লিখেছিস। ঝরঝরে তরতরে
ReplyDeleteআপনাকে তো কালটিভেট করতে হচ্ছে মশাই। দারুন লেখা। সন্দেশের মতো নরম। আপনার লেখার অপেক্ষায় থাকতেই হবে। কি করে পাওয়া যাবে, জানালে ভালো হয়।
ReplyDeleteআপনার নামটা জানা নেই। অনেক ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য। পাঠকের ভাললাগা একদিকে যেমন মনে খুশীর ছোঁয়া এনে দেয়, তেমনি লেখা চালিয়ে যেতে উৎসাহ যোগায়। আমার মনে হয় ব্লগটাতে সাবস্ক্রাইব করে নিলে সব লেখা পড়তে পারবেন, অথবা ব্লগের আর্কাইভে গিয়ে মান্থওয়াইজ লেখা পাবেন। এছাড়া আমার ফেসবুক পেজে গেলেও বেশীরভাগ লেখা পাবেন।
Delete