সিকেল সেল এ্যনিমিয়া
সিকেল সেল এ্যনিমিয়া
মধ্যপ্রদেশ ও ছত্রিশগড়ে, রাজস্থানে এসেম্বলি ইলেকশন হবে কিছুদিন পর। এই রাজ্যগুলিতে পারসেন্টেজ অফ ট্রাইবাল পপুলেশন ন্যাশানাল এ্যভারেজের থেকে বেশী। ( অল ইন্ডিয়া ট্রাইবাল av 8.9, রাজস্থান ১৩.৫, মধ্যপ্রদেশ ২১.১, ছত্তিশগড় ৩০.৬ পারসেন্ট) ট্রপিকাল কান্ট্রির ট্রাইবালদের মধ্যে একটা জেনেটিক রোগ খুব প্রিভালেন্ট। এর নাম হল sickle cell anaemia.
এই রোগে রক্তে হিমেগ্লোবিনের সেল যেটা সাধারনত ডিস্ক শেপ হয়ে থাকে, এই রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে, কিছু সেল শিকলের মত বা crescent shape হয়ে থাকে। এই সেল গুলির প্রবলেম হল এরা রক্তের মধ্যে দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে না।এছাড়া যেখানে নরমাল লোহিত কণিকা ১২০ দিন বাঁচে, সেখানে সিকল সেল বাঁচে ১০-১২ দিন। এইজন্য রোগের নামের সবশেষে এ্যনিমিয়া শব্দটা এসেছে। রক্ত প্রবাহকে ব্লক করার ফলে সারা শরীরে থেকে থেকে অসহ্যযন্ত্রনা হয়, কর্মক্ষমতা হারিয়ে যায় লোকের। এই রকম পেইন মাসে এক-দুইবার হতে পারে। এই রোগ থেকে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, লাইফ এক্সপেক্টেন্সি কমে যায়। Ministry of Tribal affairs এর তথ্য অনুযায়ী প্রতি ৮৬টি ট্রাইবাল নিউবর্নে একজনের এই রোগ হয়।
মজার কথা হল ট্রাইবালদের মধ্যে এই রোগ কেন বেশী হচ্ছে, তার কারণ যেটা জানা যাচ্ছে, সেটা বেশ ইনটারেস্টিং। রক্তে সিকেল সেল বেশী হলে, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে। ট্রাইবালদের মধ্যে ম্যালেরিয়া বেশী হয়। তাই ন্যাচারাল ইমিউনিটি হিসাবে ট্রাইবালদের SCA হচ্ছে।
এই রোগ নিরাময়ের একমাত্র উপায় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যন্ট। এছাড়া ঔষুধ আছে voxelerotor, Hydroxyurea, কিন্তু এতে রোগ নির্মূল হয় না।
মধ্যপ্রদেশে ভীল আদিবাসীদের একটা উৎসবের নাম হল ভাগোরিয়া।
যুবসম্প্রদায় ও রংএর উৎসব। নানা রংএর জামা-কাপড় পরে অবিবাহিতরা আসে, একটি মেয়ে কোন ছেলেকে পছন্দ করলে কপালে টিকা লাগিয়ে দেয়। ছেলেটির পছন্দ হলে জঙ্গলে পালিয়ে বিয়ে করে নেয়। “ভেগে যাওয়া” থেকে ভাগেরিয়া নাম এসেছে।
সরকার থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে SCA পুরোপুরি ইরাডিকেট করার লক্ষ স্থির হয়েছে। সম্প্রতি ভীল অধ্যূষিত ঝাবুয়া জেলায় ১৫ লাখ ট্রাইবালদের ব্লাড টেস্ট করে ৩% “ক্যারিয়ার” এবং ০.৩% “ইনফেক্টেড” পাওয়া গিয়েছে। “ক্যারিয়ার” রা প্রতক্ষভাবে রোগী নয়, কিন্তু SCA ‘trait’ আছে, অর্থাৎ তাদের সন্তানদের SCA হবার চান্স আছে। একজন “ক্যারিয়ার” যদি অন্য এক “ক্যারিয়ার”কে বিয়ে করে তবে বাচ্চার SCA হবার চান্স অনেক বেড়ে যায়।
গভর্নমেন্ট থেকে সব ইয়ূথকে কার্ড ই্যসু করা হয়েছে। নিরক্ষররাও যাতে বুঝতে পারে তার জন্য হলুদ ফুটকি দেওয়া কার্ড দিচ্ছে।
চারটে হলুদ ডট মানে ইনফেক্টেড, দুটো হলুদ ডট মানে ক্যারিয়ার আর ডট না থাকলে নরমাল। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে যুবক-যুবতীদের বোঝান হয়েছে যাতে এক হলুদ ফুটকিওয়ালা অ হলুদডটওয়ালাকে বিয়ে না করে। যদিও অশিক্ষিত আদিবাসী সম্প্রদায়ের কিয়দংশ এটা নিয়ে skeptical. তারা বলছে জীবনসাথী নির্বাচনে এধরনের ব্যারিয়ার একটা deterrent factor.
যাই হোক ছত্রিশগড়ে ৭ই জুলাইয়ের নির্বাচনে বিজেপি এটাকে বড় হাতিয়ার করে প্রচার করছে। মোদি জনসভায় বলেছেন - মধ্যপ্রদেশে সরকার অলআউট প্রচেষ্টা চালাচ্ছে SCA দূর করতে, কিন্তু ছত্রিশগড়ে সে তুলনায় কোন কাজ হয় নি।
দেবদত্ত
০৩/০৯/২৩







Comments
Post a Comment