মিথ অফ হাতী মেরে সাথী


 মিথ অফ হাতী মেরে সাথী

উড়িষ্যাতে গত তিনমাসে হাতীর আক্রমণে ৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। গতবছর পুরো সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩২২। মনে করা হচ্ছে এবছর সংখ্যাটা আরো বাড়বে।  যে চারটে স্টেটে হাতী বেশী আছে তার মধ্যে উড়িষ্যাতে হাতী সবচেয়ে কম (২০০০) হলেও হাতীর আক্রমণে সবচেয়ে বেশী লোক উড়িষ্যাতে মারা যাচ্ছে। বাকী রাজ্য গুলোতে হাতীর সংখ্যা, কর্নাটক (৬০০০), আসাম (৬০০০), কেরালা (৩০০০), তামিলনাড়ু (২৭০০) এই স্ট্যাটিসটিক্স ২০১৭ সালের। এছাড়া উড়িষ্যার হাতী ওয়েস্ট বেঙ্গলে ঢুকেও প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। ঢেংকানল, কেওনঝর, সম্বলপুর, ময়ূরভঞ্জ এইসব জেলায় প্রধানত হাতীর উপদ্রব।


হাতী দিনে ২০০ কেজি খাবার খায়। ক্ষেতের ফসল, আম, জাম প্রভৃতি ফলের বাগান হাতীর মন কা পসন্দ কারণ এরা সহজপাচ্য নিউট্রিশাস। গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক জীবিকার সঙ্গে সংঘাতই হল রুটকজ অফ হিউম্যান-এ্যনিমাল কনফ্লিক্ট।


আরো অনেকগুলি কারণ যার জন্য মানুষ-হাতীর এনকাউন্টার বেড়ে গিয়েছে, তারমধ্যে একটা হল অরণ্যে হাতীর খাদ্যের অভাব, উত্তরোত্তর হাতীর সংখ্যাবৃদ্ধি, জঙ্গল কেটে মাইনস বানানোর ফলে উদ্ভূত আওয়াজ রাতে মালবাহী গাড়ীর চলাচলের বৃদ্ধি। ওয়াইল্ড লাইফ এক্সপার্টরা বলছেন, যূথবদ্ধ হাতীর পালের টাস্কার-রাই বেশী মানুষ আক্রমণ করে।

এদেরকে যদি ট্র্যাক করে উপযুক্ত ব্যাবস্থা করা হয় তবে সমস্যার কিছুটা সুরাহা হতে পারে। 

আরেকটা ব্যাপার হল পামগাছের ফল হাতীরা খুব পছন্দ করে জুন, জুলাইতে যখন অন্য খাবারের অভাব তখন হাতীর পাল এই ফল খায়। কিন্তু গত কয়েকবছরে উড়িষ্যার পামগাছ কেটে তামিলনাড়ুতে চালান হচ্ছে। ফলে হাতী আরো জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে আসছে। উড়িষ্যাতে সরকার থেকে পামগাছ প্ন্যান্টেশনের নূতন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে, ব্যারেন ল্যান্ডে লাগানো হচ্ছে, তার কারণ বাজ পড়া থেকে মানুষ বা জন্তু জানোয়ারকে বাঁচাতে। 


 ওয়েস্ট বেঙ্গলে সারা ভারতের % হাতী আছে, কিন্তু হাতীর আক্রমনে মৃত্যু পার্সেন্টেজ ক্যালকুলেশনে ওয়েস্ট বেঙ্গল সর্বভারতীয় নিরিখে প্রথম। নর্থ বেঙ্গলে মূর্তি রিসোর্টে থাকার সময় সকালে হাঁটতে গিয়ে গরুমারা ফরেস্টের কাছে গ্রামের লোকেদের কাছে শুনেছিলাম, ফসল বাঁচাতে তারা রাতে পাহারা দেয়, হাতীর পাল দেখলেই ক্যানেস্তারা বাজিয়ে পটকা ফাটিয়ে দূর করার চেষ্টা করে। স্কুলজীবন অব্দি ঝাড়গ্রামে থাকার সুবাদে, ওখানকার অনেক গ্রাম রাস্তা সাইকেল করে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যেতাম। তখন হাতীর আক্রমণের কথা কোনদিন শুনি নি। তখন জঙ্গলে হাতীর পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ছিল। এখন শুনি আশেপাশের গ্রামের লোকেরা আতংকের মধ্যে আছে। বিষেশত রাতে একদম বেরোয় না। ওয়েস্ট বেঙ্গলে গতবছর হাতীর আক্রমণে ২৪০ জন মারা গিয়েছে। আদিমানব যেমন খাদ্যের সন্ধানে আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাইগ্রেট করত বিভিন্ন করিডোর দিয়ে, তেমনি জন্তু জানোয়ার কি হাতীও যে অঞ্চলে থাকে সেখানে খাবারের অভাব পড়লে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে বসতি স্থাপন করে। কিন্তু হিউম্যান হ্যাবিটেট বেড়ে যাওয়ায়, জঙ্গল কেটে চাষের জমি বানানোর ফলে এইসব করিডোর বন্ধ হয়ে গিয়ে সমস্যা আরো তীব্র আকার নিয়েছে। আরেকটা কারণ হল হাইওয়ে এবং রেলট্র্যাকের জন্য করিডোর বাধাপ্রাপ্ত হওয়া।


সম্প্রতি ওয়েস্ট বেঙ্গলের ফরেস্ট মিনিস্টার জানিয়েছেন নর্থ বেঙ্গলে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, বাগডোগরা এবং সাউথ-ওয়েস্টে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার জঙ্গলের মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা ব্যায়ে করিডোর তৈরী হবে, যাতে হাতী এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে মাইগ্রেট করতে পারে। তবে এই প্রোজেক্টের সাকসেসফুল ইম্পলিমেন্টেশন নিয়ে সংশয় আছে। নর্থ বেঙ্গলে চাবাগান হিউম্যান সেটেলমেন্ট এবং সাউথ বেঙ্গলেও পোটেনশিয়াল এরিয়া, যেখান দিয়ে করিডোর হতে পারে সেখানে অলরেডি জঙ্গল কেটে ফসলের জমি, গ্রাম হয়েছে। তারপরেও হাতীর করিডোর বানাতে গেলে, অনেক বেশী ট্রী কভার দরকার, কারণ হাতীর পালের খোরাক অনেক। আজকাল অনেক গ্রামবাসী ট্রেঞ্চ কাটছে, ইলিগ্যালি ইলেকট্রিক ফেন্সিং করছে হাতীর উপদ্রব থেকে বাঁচতে।

সম্প্রতি রাজ্যসভাতে ২০২২ ফরেস্ট এমেন্ডমেন্ট বিল পাশ হয়েছে। তাতে হাতীর ব্যাবহার রিলিজিয়াস বা অন্য যে কোন কারণে ব্যাবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একসময়ে জঙ্গল থেকে কাঠ বয়ে আনা কি চা বাগান তৈরীতে হাতীর ব্যাবহার হত।


এন্যিমাল একটিভিস্টদের আন্দোলনে সে সব বন্ধ। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে, রেলগাড়ির শুরুর দিকে যত ট্রেন চলত তত সংখ্যক ইঞ্জিন ছিল। তাই ওয়াগন শান্টিং করতে হাতীর ব্যবহার চালু হয়। 

গত শতাব্দীর বিশের দশকে মুম্বাইতে রোড রোলার টানা হত হাতী দিয়ে।

 বছর কয়েক আগেও জিম করবেটে এ্যলিফ্যান্ট রাইডে জঙ্গল সাফারি হত। লোকে খুব এনজয় করত। কেউ একজন মামলা করার ফলে এখন সেটাও বন্ধ। ক্রুয়েলিটির নাম নিয়ে কিছুলোক বাড়াবাড়ি করছে বলে মনে হয়।

দেবদত্ত 

০২/০৭/২৩

 

Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments