নাট্যসন্ধ্যায় পর্দার আড়ালে আমি

নাট্যসন্ধ্যায় পর্দার আড়ালে আমি

 

নাটক দেখতে বেশ ভালই লাগে, যেমনটা কিনা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শুনতে। কিছুদিন আগে পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর মার্গ সঙ্গীত শুনতে গিয়েছিলাম। সঙ্গীতজ্ঞ আমি নই, বরঞ্চ সঙ্গীতে অজ্ঞ বলাটাই ঠিক হবে। তান-লয় কি রাগ- খাম্বাজ না পিলু নাকি মেঘমল্লার বা দীপক সবই আমার কানে ফিলটার হয়ে ঢোকে। কিন্তু ওই যে সুরের রেশটুকু রেখে যায় মর্মে, ওটাই প্রাপ্তি। ওপেন এয়ারে ফাংশান। বাঁধানো স্ল্যাবে সুন্দর তাকিয়া, কোলবালিশ টাইপের। তাকিয়াতে হেলান দিয়ে, অর্ধশয়নে,


 

অজয় স্যারের গান শুনতে শুনতে নিজেকে বেশ মেহেফিলের রাজা রাজা মনে হচ্ছিল। গড়গড়াটা থাকলে সোনায় সোহাগা হত।  পন্ডিতজি বাংলা একসেন্টে মাঝে মাঝে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছিলেন মিউজিক সিস্টেম মনেমত না থাকায় শ্রোতারা পুরো স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।  


যাই হোক এইসব প্রোগ্রামে যাওয়ার মজা হচ্ছে আপনি টেবিলের উল্টোদিকে, অনেকটা ইন্টারভিউ বোর্ডের মেম্বারের মত। ইচ্ছেমত চা, কফি আসবে, টেনশন নেই, মুড খারাপ থাকলে বেমক্কা প্রশ্ন করুন চাকুরীপ্রার্থীকে- চাঁদের ওজন কত? এরপর তারিয়ে তারিয়ে তার শুকনো মুখ অবজার্ভ করুন। 

মঞ্চের কুশীলবদের, বিশেষত এ্যমেচার গোষ্ঠীর পারফরমারদের টেনশন থাকে যারপরনাই। সেটারই কিঞ্চিত স্বাদ উপভোগ করলাম সম্প্রতি বন্ধুবর গৌতমের বদান্যতায়। গৌতম শুধু যে নাটক করে তা নয়, নাটকের জন্য নিবেদিত প্রাণ। ময়ূর বিহারের ওর অরিজিনাল ফ্ল্যাটের ছাদে বানানো দুই কামরার বাসাটিও ভাড়া না দিয়ে রেখে দিয়েছে নাট্যচর্চা রিহার্সলের জন্য। যাই হোক গৌতম যখন অনুরোধ করল নাটকের নেপথ্যে মিউজিক বাজানোর জন্য, তখন না করা গেল না।  


অনেক কাল আগে, এল্যামনির নাটকে হাতে খড়ি হয়েছিল লাইটিং করে। এবারে লাইন চেঞ্জ করে মিউজিক। নাটক করতে মঞ্চে যে দাঁড়াই নি সেটা বল্লে সত্যের অপলাপ হবে। কিছুদিন আগে আমার প্রাইমারী স্কুলের বন্ধু মনে করিয়ে দিল, ক্লাস ফাইভে সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি হতে দেরী হয়েছিল কারণ পুরানো স্কুলের নাটকে ইঁদুরের রোল করতে গিয়ে নূতন শেসনে ঠিক সময়ে যেতে পারি নি। স্কুলের গোল্ডেন জুবিলিতে ৭৪ সালে নাটকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। দিল্লীতে একবার আইআইটিতে সরস্বতী পুজোর ফাংশানে কনস্টেবলের রোল করতে গিয়ে, বেল্ট খুলে গিয়ে প্যান্ট হাঁটুর কাছে নেমে যাওয়াতে, মঞ্চকে নমস্কার জানিয়ে টেবিলের অন্য পাড়ে চলে এসেছি। 

বন্ধুর একান্ত অনুরোধ এবং আমার কাজটা হবে নেপথ্যে, তাই এক্ষেত্রে রাজী না হওয়ার কোন কারণ নেই। যাই হোক দিন তিনেক রিহার্সালে যেতে হল। গোটা তিনেক গান, শাঁখের শব্দ, কুকুরের ডাক ইত্যাদি রেকর্ড করে ফেল্লাম। স্ক্রিপ্টে মার্ক করে রেকর্ডিংএ নম্বর লাগিয়েহোমওয়ার্কহয়ে গেল। দিল্লির নাটকের দর্শক নিয়ে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। আশির দশকে সি আর পার্কে থাকাকালীন আমাদের ক্লাবের নাম ছিলসংস্কৃতিকী আইটিওর কাছে গান্ধি মেমোরিয়াল হলে দর্শক টানতে সি আর পার্ক থেকে বাস ভাড়া করে দর্শক নিয়ে গিয়েছিলাম। এ্যমেচার গোষ্ঠীর বড় দায়। দর্শকবৃন্দকে বাবা-বাছা করে ডেকে আনতে হয়। সাধারনত বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনরা আসেন। বঙ্গীয় সমাজ, নাটের গুরু মানে নাট্যচর্চার বিদগ্ধ ব্যাক্তিত্ব এরাও সবাই আসেন-নাটক দেখতে কতটা জনি না, তবে মঞ্চ আলোকিত করে গ্রেসফুল প্রেসেন্সে দুকলি জ্ঞানবিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কৌলিন্য বর্ধন করেন।  

প্রথমে ভেবেছিলাম মোবাইলের রেকর্ড থেকে বাজিয়ে দেব। ফটো তুলে মেমরি ভরিয়ে ১২৮ জিবি কানায় কানায় পূর্ণ। রিহার্সলে গিয়ে দেখি যেসময় স্ক্রীনে ফিঙ্গার প্রেস করছি, তার থেকে দেরীতে বাজছে অথবা বাজছেই না। কুশীলবেরা আমার ক্যালি সম্বন্ধে সন্দিহান। একে তো স্কুল-কলেজে ক্লাস বাঙ্ক করার অভ্যাস এখনও কাটে নি। মেরে কেটে দিন দুয়েক রিহার্সলে গিয়েছি। ডাইরেক্টর সাহেব মানে গৌতম বন্ধুত্বের খাতিরে বকাবকি করতে পারছে না। মাঝে মাঝে করুণ স্বরে ল্যাপ-ল্যাপ করছে। বুঝলাম মোবাইলের মত পকেট বোমায় চলবে না, হাতবোমা অর্থ্যাৎ ল্যাপটপ লাগবে। গৌতম মাঝে মাঝে পাখীপড়ার মত কোথায় কোন ডায়ালগের পর মিউজিক লাগবে, বুঝিয়ে দিচ্ছে। আমি অবশ্য বিন্দাস। মাঝে কলেজের ক্লাসমেটদের গ্রুপে লিখলাম, “আমি একটা নাটকে লাইটিং করব অনেক লাইক কমেন্ট এসে গেল। কেউ জানালরিটায়ার করেও নিজের লাইনেই হাত পাকাচ্ছিস-কংগ্রাটস”, একজন লিখলতুই ফিউচার তাপস সেন বেস্ট অফ লাক- বেশ কয়েকটা পাওয়া গেল। কমেন্ট-টমেন্ট এসে যাওয়ার পর খেয়াল হল- “ হরি আমি তো মিউজিক বাজাব। যাক গে এখন আর কারেক্ট করার দরকার নেই, প্যাক খাব। ফোনে এক বন্ধুকে কথায় কথায় জানালাম নাটকে মিউজিকের কথা। সে শুনে টুনে আমায় নাটকের নাম জিজ্ঞাসা করলে। থতমত খেয়ে বল্লাম, মনে নেই। এরপর আর আমাকে ঘাঁটায় নি। প্রথম বলেই বোল্ড আউট হলে কে আর ঘাঁটায়

নাটক হবেমুক্তধারানামক হলে।



কিছুদিন আগে মৃণাল সেন স্মরণে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হল। দিল্লিতে বাঙালী সংস্কৃতির পীঠস্থান। সাড়ে ছটা থেকে প্রোগ্রাম। দুটি নাটক হবে। আমাদেরটা শেষে। সাড়ে তিনটে নাগাদ হলে পৌঁছান গেল। ধরণের ফাংশানে পায়জামা-পাঞ্জাবীটাই সেফ বেট বলে মনে হল। একে গরম তায় আবার বঙ্গ সংস্কৃতি যুক্ত অনুষ্ঠান, শ্যাম কুল দুটোই রাখা গেল। ঝোলা ব্যাগ, বাড়ী খুঁজে পেলাম না,- ওটা আবার বাঙালীয়ানার ট্রেডমার্ক।পনিটেলের চান্স নেই, মাথার মধ্যপ্রদেশ সাহারা মরুভূমি। পিঠে ঝোলান ব্যাগে ল্যাপটপ নিয়ে পৌঁছে গেলাম। 

আমাদের নাট্যগোষ্ঠীর নামনির্বাক এ্যকাডেমী সবাক নাটকে, নির্বাক কি করে এল, নিয়ে পাঠক ধন্দে পড়ত পারেন। একটু খোলসা করে দিই। গৌতম কলকাতায় যোগেশ দত্ত মাইম এ্যকাডেমিতে -মাইম শিখেছে। দিল্লিতে এসে প্রথমে মাইম শো করত, অনেক ছেলে-মেয়েকে মাইম শিখিয়ে, বিভিন্ন পুজো প্যান্ডালে প্রোগ্রাম করত। সেই থেকে এই নাম, এখন সবাক- বেশী, নির্বাক ব্যাকবেঞ্চার।

নাটকে আলোর দিশারী তারকদা। হলে একটা ব্যালকনিও আছে। তারই এককোনে কাঠের প্রোজেক্টেড রুম। সেখানেই লাইটিং সাউন্ডের যন্ত্রপাতি। ভিতরে ঢুকে বেশ প্লেনের ককপিটের ফিলিং হচ্ছিল। পাইলট তারকদা আমি কো-পাইলট। কাচের মধ্যে দিয়ে নিচে দেখা যাচ্ছে স্টেজ। গৌতম যথার্থ টিম লিডার। নিজেই মালপত্র বয়ে নিয়ে গ্রীনরুমে যাচ্ছে, স্টেজে ফোকাস লাইটের মার্কিং করছে। ওয়েল অরগানাইজড গ্রুপ। একফাঁকে আমাকে এসে মিষ্টি সিঙ্গাড়ার প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে গেল, সেই সঙ্গে একপ্রস্থ রিহার্সাল। 

যে গ্রুপটি প্রথমে নাটক করবে তারাও লাস্ট মিনিট প্রিপারেশনে ব্যাস্ত। নির্ধারিত সময়ে সঞ্চালিকা এসে জানালেন দীপ প্রজ্জ্বলন হবে। আজকাল অনুষ্ঠান শুরুর আগে  এই ব্যাপারটা বেশ পপুলার। ব্রাসের প্রদীপদানিতে বেশ কয়েকটা লেয়ারে অন্তত গোটা তিরিশের প্রদীপ জ্বালানো যেতে পারে। সুতরাং ভিআইপির নম্বরে রেস্ট্রিকশন নেই। অমুক গোষ্ঠীর কর্ণধার, তমুক নাট্যব্যাক্তিত্ব, বেঙ্গলী এস্যোশিয়েশনের কর্ণধার সবাই মঞ্চ আলো করে দাঁড়ালেন। একটা মোমবাতি ধরিয়ে দেওয়া হল। লাইন দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে অনেকেই নেমে এলেন। দুই তিনজন কর্মকর্তার কাস্টমারি ভাষণ হল। বাংলা নাটকের দুর্দিন চলছে, মনিটারি সাপোর্ট কম, তবে তাঁরা আশাবাদী যে বাংলা নাটক আরো পপুলার হবে, নাট্যনিবেদিত প্রাণের সংখ্যা বাড়বে-ইত্যাদি, ইত্যাদি। সমবেত দর্শকবৃন্দকেও অনেক অভিনন্দন জানালেন তারা এই গরমেও কষ্ট করে হলে পদধূলি দিয়েছেন।  


পাওয়া প্ল্যান্টে চাকরী সুবাদে ইউনিট ওভারহলিং- বিভিন্ন কাজ শুরুর আগে নারকেল ফাটাতে হত।যতজন বড়সাহেব, সেই হিসাবে নারকেল আনা হত। দুই-তিনটে এক্সট্রা থাকত। কখনো সখনো অন্য ডিপার্টমেন্টের সাহেব এসে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে, অথবা কোন সময় পচা নারকোল হলে, এক্সট্রা নারকেল কাজে লাগত। প্লান্টের মেশিনের আওয়াজের সঙ্গে নারকেল ফাটানো মানানসই। তবে সংস্কৃতিক পরিমন্ডলে প্রজ্বলিত দীপশিখা, হাল্কা ধূপের গন্ধ, অনুষ্ঠান শুরুর আগে বেশ পবিত্র ভাব এনে দেয়। ফাংশানের অর্ধেক সাকসেস এতেই।

উপরোক্ত ইনাগুরাল চল্ল প্রায় আধাঘন্টা। এরপর বহু প্রতীক্ষিত নাটক। এদের ডেব্যু নাটক উপস্থাপন বলে মনে হল। সি আর পার্কের এক ডাকসাইটে নাট্যঅভিনেতাকে দিয়ে দুইদিন ওয়ার্কশপ করিয়েছেন। বিশ পঁচিশ মিনিটের নাটকের মুখ্যচরিত্র দুইজন মহিলা। পটভূমি মহাভারতের যুদ্ধ-কুশীলব দ্রৌপদী ভানুমতী। অনুষ্ঠান শেষে এক মহিলাকে, যিনি নাটকে আমার মত মিউজিক বাজাচ্ছিলেন, জিজ্ঞাসা করে জানা গেল ভানুমতী হলেন দুর্যোধনের অর্ধাঙ্গিনী। রাবণের বৌএর নাম মন্দোদরী জানতাম আর দুর্যোধনের বোন দুঃশলা জানতাম, বৌ এর নাম, ভানুমতী জানতাম না।ভানুমতী কা খেলবেশ বহুল প্রচলিত কথা, তবে ভানুমতী, কিখেলদুর্যোধনকে শিখিয়েছিলেন সেটা প্রশ্নচিহ্ন হয়ে রইল

নাটক শেষ হওয়ার পর করতালির রেশ মেলাতে না মেলাতেকুশীলব সহ মুখ্যচরিত্রাভিনেত্রী মঞ্চে অনেককেই ডেকে নিলেন। প্রত্যেকের বিশেষ বিশেষ অবদান স্বীকার করে ধন্যবাদজ্ঞাপণ হল। নাট্যকার জানালেন, নূতন নাট্যদল হওয়া সত্বেও, তাদের অনুরোধে উনি কঠিন নাটক লিখেছেন। স্কুলের ক্লাসে কঠিন কি সোজা অঙ্ক জানতাম, একাঙ্ক এই নাটকে দুই কুশীলব কি কঠিন পরীক্ষায় সসন্মানে উত্তীর্ণ হলেন বুঝলাম না। সবাই সবাই-এর ভূয়সী প্রশংসা করলেন। লোকের মনের প্রতিক্রিয়া যাই হোক, নাটকের সাথে যুক্ত সবাইএর হাসিমুখ কলকাকলীতে নাটকটি সাফল্যমন্ডিত হয়েছে এরকম একটা ইমপ্রেশন পাওয়া গেল। এতে আরো আধা ঘন্টা লাগল। নাটকের যা ডিউরেশন ছিল, তার থেকে বেশী মনে হল এই পর্বটি। বার হাত কাকুরের তের হাত বিচি!

এরপর দর্শকবৃন্দ চা/কফি খেতে বাইরে গেলেন। যদিও প্রাণটা চা-চা করছে, এখন আর ককপিট থেকে নামার প্রশ্ন নেই। প্লেন টেক অফের জন্য রেডি। তারকদা উঠে গিয়ে একটা বিড়ি খেয়ে এলেন। একদম খাঁটি দেশী জিনিষ। বেশ গ্রাম্যভাব আছে। আজকাল আবার শহুরে বাবুরা সংস্কৃতিক রঙ্গমঞ্চে গ্রাম্য টাচ্ পছন্দ করছেন। বাচিক শিল্পীরা কি নাটকের কিছু চরিত্র লালমাটির দেশের ভাষা সাঁওতালী বাংলার সংমিশ্রনে একরকম সংলাপ বলেন, যেটা বেশ পপুলার হয়েছে বুদ্ধিজিবীদের কাছে।


তারকদা একটা ভল্যুম কনট্রোলের কনসোল দিয়েছেন। ট্রায়ালের সময় ল্যাপটপ থেকে বাটন প্রেস করে করতে গিয়ে দেখছিলাম প্রত্যেক স্টেপে টক-টক আওয়াজ হচ্ছে। কনসোলে ramp কনট্রোল, তাই ভলিউম স্মুদলি বাড়ছে কমছে। মিউজিক বাজানো আমার কাছেফেসিং দ্য মিউজিকএর মত চ্যালেঞ্জিং জব। চক্ষু-কর্ন হাতের সিঙ্ক্রোনাইজেশন জরুরী। স্টেজের কুশীলবদের দেখার জন্য দাঁড়াতে হয়েছে, কান খাড়া করে ডায়ালগ শুনতে হচ্ছে, মিউজিক ল্যাপটপে বাজান শুরু করে অন্যহাতে ভলিউম ধীরে ধীরে বাড়ানো, ডায়ালগ শুরু হলে ধীরে ধীরে কমানো।  

নাটক বেশ জমে উঠেছে।মাঝে মাঝে দর্শকবৃন্দের হাসি সিনের শেষে স্বতঃস্ফুর্ত হাততালির মধ্যে দিয়ে নাটক তর তর করে এগিয়ে চলেছে।

যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়। কুকুরের ডাকের আগে ভল্যুমটা বাড়িয়ে রেখেছিলাম, চিত্রনাট্যের খাতিরে। পুলিশ অফিসার বিজয় বাবু যখন চেয়ারে বসতে যাবেন, তখনই কুকুরের আওয়াজে লাফিয়ে উঠবেন। সেই সিন আসার কিছু আগেই বেমক্কা ল্যাপটপে আঙুল লেগে কুকুর ডাকা শুরু হয়ে গেল। সপ্রতিভ অভিনেতারা অবশ্য স্বাভাবিক গতিতে নাটক চালিয়ে গেলেন। আমিও মনকে প্রবোধ দিলাম, কুকুর একবারের জায়গায় দুইবার ডাকলে  ক্ষতি কি


নাটক
শেষ হল। প্রায় ঘন্টা খানেকের নাটক। মঞ্চে পরিচয় করানোর জন্য গৌতম সবাইকে ডাকছিল। আমি অনুপস্থিত রইলাম। 

 দর্শক হিসাবে -নিজস্ব মতামত অনুযায়ী সবার অভিনয় সাবলীল। গৌতমকে ছেড়েই দিই, ইন্সপেক্টর বিজয়  বেশী প্রদীপদা, সৌদামিনীর চরিত্রে শাশ্বতীদি পুলিশে চরিত্রে সুব্রত বাবু, সবাই ভালো পার্ট করেছেন। গ্রুপের কনিষ্ঠতম মেম্বার শুভদীপ। এরকম বাধ্য নীরব কর্মী চট করে দেখা যায় না। শুভদীপ সুমন্তবাবুর অভিনয়ের উন্নতি দেখে বোঝা গেল, অধ্যাবসায় একাগ্রতার  সুফল লাভ অবশ্যম্ভাবী। 


হল থেকে নেমে এসে গাড়ীর পাশে অপেক্ষা করছি। গৌতম দলবল সব গুছিয়ে নীচে আসবে।প্রথম নাটকের গ্রুপের দল নাটক দেখতে আসা তাদের পরিবারবৃন্দ বন্ধুবান্ধব পরস্পরকে বিদায় জানাতে ব্যাস্ত। নাটক শুরুর আগে, যারা নাটকের সঙ্গে জড়িত তাদের চাপা টেনশন থাকে, অনেকটা অসন্নপ্রসবার অবস্থা। নাটক শেষে সবাই বেশ হাসিখুশী টেনশন বর্জিত। আর নিজের কথা বলতে হলে বলি, অভিজ্ঞতার ঝুলি একটু বাড়ল।

দেবদত্ত 

২০/০৪/২৩





Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments