স্ট্রাগল ফর রাইট
Emmeline Pankhurst
স্ট্রাগল ফর রাইট
এলিজাবেথ-টু দীর্ঘ সত্তর বছর ইংল্যান্ডের রাণী ছিলেন। প্রথম রাণী ছিলেন এলিজাবেথ -ওয়ান (১৫৫৮-১৬০৩)। এলিজাবেথ বলে শেখর কাপুরের একটা সিনেমার প্লট ছিল কি ভাবে প্রোটেস্টান্ট এলিজাবেথ তার হাফ-সিস্টার ক্যাথলিক মেরিকে মিথ্যে অভিযোগে হাড়িকাঠে বলি দিয়েছিলেন।
ইংল্যান্ডের চার্চের নিদান অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজা বা রাণীর প্রথম সন্তান হবেন, খালি ক্যাথলিক হলে চলবে না, এমনকি ক্যাথলিককে বিয়ে করলেও সিংহাসন পাবেন না।
দেখা যাচ্ছে, চার্চের পনটিফরা জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশনে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ইংল্যান্ডে মেয়েদের ভোটাধিকারের আইন বলবৎ হয় ১৯২৮ সালে। তবে এর পিছনে ইংল্যান্ডের মহিলাদের দীর্ঘ পঁচিশ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস জড়িত।
Suffrage কথাটার মানে হল ইলেকশনে (প্রধানত পলিটিক্যাল) ভোটদানের অধিকার। ‘Suffragette’ তাদেরকে বলা হয়, যারা মহিলাদের ভোটদানের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। ১৯০৩ সালে এমিলিন প্যাঙ্কহার্স্ট নাম্নী মহিলা ও তার তিন মেয়ে ক্রিসাবেল, সিলভিয়া ও এডেলা মিলে ম্যাঞ্চেষ্টার শহরে WSPU (women’s social and political Union) তৈরী করেন যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের ভোটিং রাইটের জন্য আন্দোলন করা। এই সঙ্ঘের সমস্ত সদস্য ছিলেন মেয়েরা। ১৯০৬ সালে আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র হয় লন্ডন। প্রথমে শুরু হয় ফান্ডরেজিং। সেই টাকায় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ দেওয়া হয় ইংল্যান্ডের মহিলাদের ভোটাধিকারের ব্যাপারে সচেতন করতে। ক্রমে ব্যাপক প্রচার মাধ্যমের ফলে লন্ডনে ৩৪টি অফিস সহ, সারাদেশে ৯০টি শাখা বিস্তার হয়। খালি সচেতনতা বাড়ানো ছাড়াও মহিলারা ১০নম্বর ডাউনিং স্ট্রীটে ধর্না, নিজেদের পায়ে বেড়ী পরিয়ে বিক্ষোভপ্রদর্শন ইত্যাদি নানাধরণের কর্মসূচীতে নিয়মিত অংশগ্রহন করতে লাগলেন।
১৯০৮ সালে suffragette কমিউনিটির তিন লক্ষ সভ্যা সারাদেশ থেকে লন্ডনে হাইড পার্কে জমায়েত করেন। এই সভার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মনস্টার মিট’।
১৯১১ সালে কিং জর্জ-ফাইভের রাজ্যাভিষেকের (coronation) সময়, suffragettes রা মিলে ‘করোনেশন পেজেন্ট’ নামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
চার মাইল লম্বা এই প্রশেসনে মহিলাদের সংখ্যা, রাজ্যাভিষেকের দর্শকদের থেকে বেশী ছিল।
১৯১৪ সালে তো হুলুস্থুল পড়ে গেল যখন মেরি রিচার্ডসন নামে এক মহিলা রয়াল গ্যালারিতে ঢুকে ‘টয়লেট অফ ভেনাস’ নামে একটি বিখ্যাত পেন্টিংএ অঙ্কিত রোমান প্রেমের দেবী ভেনাসের প্রতিকৃতি ছুরি দিয়ে ফালা-ফালা করে দিলেন।
ভেনাস- রোমান দেবীVelazquez painted Toilet of Venus
নিজের ডিফেন্সে তিনি জানান যে ‘স্যাফ্রগেট’, মিসেস প্যাঙ্কহার্স্টকে, সরকার যে ভাবে চরিত্রহনন করছে, তাই সরকারের আচরণ অনুযায়ী তিনিও সবচেয়ে সুন্দরী মিথোলজিক্যাল ক্যারেক্টারের অঙ্গ প্রতীকী ভাবে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করছেন।
আন্দোলন ক্রমশঃ মিলিট্যান্ট হয়ে উঠছে দেখে, গভর্নমেন্ট ১৯১৩ সালে মিসেস প্যাঙ্কহার্স্ট, তার তিন মেয়ে ও অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু এই আন্দোলনকারীদের ‘পলিটিক্যাল প্রিজনার’ এর মর্যাদা দেওয়া হয় নি। এর প্রতিবাদে জেলে বন্দী মহিলারা অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। জেল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করেন ‘ফোর্স ফিডিং’ এর জন্য। কিন্তু মহিলাদের অদম্য জেদের কাছে তারা হার স্বীকার করেন। এই সময় সরকার নূতন আইন আনেন যে অনশনরত বন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে সরকারের তলায় তলায় মনোভাব ছিল, যখন জেলছুটরা একটু সুস্থ হবে, তখন তাদের আবার গ্রেপ্তার করা হবে। suffragettes রা সরকারের এই চালাকির নাম দেন ‘ক্যাট এ্যন্ড মাউস গেম’।
২০১৪ তে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিবাদী মহিলারা বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের যোগদানের সমর্থন করলে, সরকারের মনোভাবে পরিবর্তন আসে। suffragettes দের উপর সরকারের চিরাচরিত দমননীতি হ্রাস পায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন suffragettes দের ভোটাধিকার দাবীর পক্ষে আন্দোলন চলতে থাকে। অবশেষে ১৯১৮ সালে বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে লিমিটেড ওয়েতে মেয়েদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়। ওই সময় মেয়েদের ৩০ বৎসর ও ছেলেদের ২১ বছর ছিল, ভোটাধিকারের ন্যূনতম বয়স। এছাড়া মেয়েদের প্রপার্টি রাইট দেখানো জরুরী ছিল। এরপর ১৯২৮ সালে মেয়েদের ভোটদানের শর্তগুলি তুলে নেওয়া হয়, এবং ভোটদানের অধিকার ২১ বৎসর করা হয়।
দেবদত্ত
০৫/০৩/২৩







In last paragraph year of WW l is written as 2014/15. Should be 1914.
ReplyDelete