মগজধোলাই

 


মগজধোলাই

আজ সকাল থেকে সাজো সাজো রব। করোনার সময় রিটায়ারমেন্ট হয়েছিল। তখন নিরুপদ্রব জীবনযাত্রায় সকাল নটায় গাত্রোত্থান স্বাভাবিক নিয়মাবলীতে ছিল। করোনা অন্তেও সেই অভ্যাস বদলায় নি। তবে আজকের ব্যাপার অন্য, কারণ এ্যলামনির সেমিনারে যেতে হবে, আমার পুরানো অফিস পাড়ায়, স্কোপ কমপ্লেক্সে। সকাল থেকে বেশ অফিস অফিস ফিলিং হচ্ছে। ভেবেচিন্তে স্যুট পড়লাম। যদিও শীত ফাস্ট ভ্যানিশিং, তবে সেমিনারের মত গুরুগম্ভীর জায়গাতে, এটাই স্যুটেবল বলে মনে হল। টাই আর ট্রাই করলাম না। নট বাঁধা, নট ইজি টাস্ক। শৈলেশদার কথা মনে পড়ল। যদিও বাস্তুকার (সিভিল পড়েছেন), তবে বাস্তবতার ভারমুক্ত ছিলেন, সেমিনারে ধুতি, পাঞ্জাবি পরতেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্যুট শোভিত থাকতেন। পরে দেখলাম আমার দুই ক্লাসমেটও পাঞ্জাবি পরে এসেছে, আমি তাদের মাঝে হংস মধ্যে বক হয়ে বসে রইলাম।

আমার সোসাইটি থেকে পিনাক যাচ্ছে সস্ত্রীক, তার সঙ্গে ঝুলে পড়লাম। বহ আগে সেমিনারে ব্যাক স্টেজে কোঅর্ডিনেট করার সুবাদে জানতাম স্পিকারদের গাড়ী করে আনা হয়। নিজের বেশ স্পিকার স্পিকার ফিলিং হচ্ছে, যদিও আমি স্পিকটি নট এর দলে। 

একঝাঁক সুন্দরী, সুবেশা রেজিস্ট্রেশন এরেনা আলো করে বসে আছেন।


যথারীতি আমার নাম নেই। লিস্টে লাস্ট নাম ঢোকানো হল আমার। সেই হিসেব করে লাস্ট বেঞ্চে বসলাম। পাশেই আবার এক্সিটের দরজা। ক্লাস বাঙ্কের মত, সেমিনার বাঙ্কের দরাজ হাতছানি।  লিফ-লেট পেন প্রাপ্তি যোগ ঘটল। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির রূপকার ত্রিগুনা সেনের অবদান স্মরণ করে, চির পরিচিতপুরানো সেই দিনের কথাদিয়ে দীপ প্রজ্জ্বলন হল। সংস্কৃত শ্লোকও বাদ গেল না।

পাঠ হল…..“সর্বে ভবন্তু সুখীনঃ, সর্বে সন্তু নিরাময়ঃ, সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তুঃ, মা কশ্চিদ দুঃখ মাপ্নুয়াত,

ওম শান্তি শান্তি শান্তি।

এর মানে হল-“জগতে সকলে সুখী হোক, সকলেই আরোগ্য লাভ করুক”….. ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশ পবিত্র পবিত্র ভাব। সেমিনার হল নয়, যেন মন্দির, কোলাহল নেই, সমুদ্র মন্থনের হলাহলও নেই। ধূপের গন্ধ খালি মিসিং। আজকাল অবশ্য মন্দিরের রমরমা। তবে আমার মতে যেখানে রাম, সেখানে রহিমও আছেন।

হলে ঢোকার সময় দেখেছিলাম, হলের নাম হল মির্জা গালিব।


মুঘল সম্রাজ্যের যবনিকা ব্রিটিশ শক্তির অভ্যুদয়ের মাঝে অতিবাহিত জীবন ছিল এউ প্রখ্যাত উর্দু কবির, আমাদের এই দিল্লি শহরে চাঁদনি চকের বাসিন্দা ছিলেন। শের-শায়রীর বদলে খটমট টেকনিক্যাল বিষয় আলোচনা হতে চলেছে তারই নামাঙ্কিত হলে। তার একটা উক্তি আমার খুব মনে রেখাপাত করেছিল, সেটা হল -

পৃথিবীর সব চেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়েযেটা আদালতে।আর সব চেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে,যেটা পানশালায়।

পলিউশন বাড়ছে, বসন্ত হাওয়া (vanishing) তবে কবিগুরু বসন্তের হাওয়া (breeze) নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন-বসন্তে ফুল গাঁথল… ‘ফুলআমাদের ফুল করেছেবিদেশীনী সুন্দরী টিউলিপ দিল্লীর গরম সহ্য না করতে পেরে, প্রস্ফুটিত সুন্দরী যৌবনবতী নারীতে উন্নীত না হতে পেরেকুঁড়িতে বুড়ীবা বলতে পারেনকুড়িতে বুড়ীহয়ে আপাতত পঞ্চত্ব প্রাপ্তির অপেক্ষায়।

পুরাকালে ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুত, ব্যোম- এদেরকেই ধরা হত সৃষ্টির আদিরূপ। এদের অনন্ত শক্তি পৃথিবীর ধারক বাহক। পলিউশন গ্লোবাল ওয়ার্মিংএ কোনঠাসা হয়ে থ্যিঙ্কট্যাঙ্করা এই পাঁচ শক্তির রহস্য উন্মোচনে ব্যাস্ত। আজকের সেমিনারও এই লাইনেই, গালভরা নামঅলটারনেটিভ এনারজি টুওয়ার্ডস সাস্টেনেবল মোবিলিটি।

সাস্টেনেবেলিটি কথাটা আজকাল বাজারে হটকেকের মত বিকোচ্ছে।এই মাগ্গি-গন্ডার বাজারে কোনমতে ফ্যামিলি সাসটেন করছিএরকম বাক্যে অভ্যস্ত ছিলাম। এখন ইকোলজিক্যাল সাসটেনেবিলিটি হল মাদার আর্থের বিশুদ্ধতা বজায় রাখা, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের সিঁড়ি শুদ্ধ আলো, বাতাসের মধ্যে বেঁচে থাকে।

ছোটবেলায় শুনতাম, হাইড্রোজেন বম্ব, এ্যটম বোমার থেকেও মারাত্মক। এরপর প্রফেশনাল লাইফে এসে জানলাম জেনারেটরে হাইড্রোজেন ব্যাবহৃত হয় কুলান্ট হিসাবে, কারণ হাল্কা গ্যাস তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশী। তখন থেকে হাইড্রোজেনের ভয় কমে গেল। তবে এখন হাইড্রোজেনে ভীত হওয়ার কারণ নেই, ফিউচার মোবিলিটিতে নাকি গ্রিন হাইড্রোজেন নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে। গ্রিন কেন হল, কালারলেস তো, এক্ষেত্রে গেরুয়া হলে ভাল হত, এরকমই অনেক ভারতীয়র ধারণা।

আজকাল ইকোসিস্টেম কথাটা খুব ব্যাবহার হচ্ছে। একজন স্পিকার ট্রান্সপোর্ট ইকোসিস্টেম কথাটা অনেকবার বল্লেন। বক্তা বয়েসে নবীন হলেও, ব্যাপারটার উপলব্ধি করছেন স্বর্গীয় লেভেল থেকে। তিনি  পুরো গ্লোবাল এনার্জি, বার্ডস আই ভিউ নিয়ে দেখছেন। সব সেক্টর যেমন ট্রান্সপোর্ট সেক্টর, এনার্জি সেক্টরএরা আইসোলেটেড ওয়েতে কম্পার্টমেন্টালাইজড কাজ করছেন। সবারই লক্ষ্য নেট কার্বন এমিশন জিরো করতে হবে। নবীন বক্তা, প্রবীনের ভাষায় জানালেন সবার সূত্রধর এক হবে, মাকড়সার জালের একটা দিক টানলে, সব সেক্টরে তার রিপল এফেক্ট হবে।   এখনের সিনারিও নাকি  ‘গোয়িং বঙ্কার নব্য প্রজন্মকে নমন। ডিকশনারিতে নূতন সংযোজন। মানে হল -‘পাগল হয়ে যাচ্ছিসি এ্যন্ড আইকথাটাও শোনা গেল। পাওয়ার স্টেশনে কাজ করার সুবাদে মানে জানতাম, এটা হলকন্ট্রোল এ্যন্ড ইন্সট্রুমেন্টেশনসএর সংক্ষেপ।  হালফিলে সি এ্যন্ড আইমানে হলকর্পোরেট এ্যন্ড ইন্ডাস্ট্রি  এক্যাসেনচুয়ারের বক্তা নবীন। চল্লিশ বছরে কত কী বদলে গেল, ভাষাই বা নয় কেন। 

জি২০ তে থিম হল ওয়ান আর্থ, ওয়ান ফ্যামিলি, ওয়ান ফিউচার। এর আগে শুনতাম ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি। টেকনোলজিতে দেখা যাচ্ছে ওয়ান আর্থ বা গ্লোবাল ভিলেজ ঠিক সত্যি হচ্ছে না। জেবিএম গ্রুপের স্পিকার জানালেন ব্যাটারি চার্জিং টেকনোলজিতে অনেক ডিফারেন্স, মানে লাদাখে আর আন্দামানে টেকনোলজি এক হবে না। এরা কলকাতায় ১২০০ ইভি বাস সাপ্লাই করবেন উইথ চার্জিং স্টেশন। প্রফেশনাল সেলসম্যানের মত তাদের ফ্যাক্টারির ভিডিও দেখালেন।

কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে হবে এটাই বিগ পিকচার হবে ভবিষ্যতে, এরকমটাই এক বক্তা জানালেন। এতদিন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরীর সুবাদে, কয়লা (যার মধ্যে কার্বন আছে), তাকে আদর করে ব্ল্যাক পার্ল বলতাম। ডায়মন্ডও তো কার্বনই। দেখুন তো, এরকম দামী জিনিষ, যেই অক্সিজেন (প্রাণ ধারণের মহার্ঘ বস্তু) সঙ্গে মিলে সিওটু হয়ে গেল, সে হয়ে গেল আস্তাকুঁড়ের বাসিন্দা। ওই ডবল নেগেটিভ মেকস ওয়ান এফারমেটিভের মত। একটি দেশ কত সিওটু মহাশূণ্যে ছাড়ছে, তাকে পপুলেশন দিয়ে ভাগ করে পারহেড কার্বন ফুটপ্রিন্ট তৈরী হচ্ছে। গ্রোবাল এ্যভারেজ পাঁচ টন, আর উন্নত দেশ এমেরিকা হল ষোল টন পার হেড। 

যেখানে দেখিবে যা, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন। ফুয়েল এভিয়েশনের বক্তা জানালেন স্লাজ, টায়ার, ইউজড অয়েল থেকে (ফ্রম হোয়াট নট) ব্লেন্ডিং করে এভিয়েশন ফুয়েল বানান হবে। তবে জেট ইঞ্জিনে অয়েলের কোন সাবস্টিটিউট হবে না বলে মনে হল, কারণ পুরো রিসার্চ চলছে ব্লেন্ডিংএর উপর।

ফিরে দাও সেই অরণ্যের অধিকার….  এরকম একটা কথাও শোনা গেল, এক বক্তার মুখে। এটা ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্টের কথা বলেই মনে হল। সত্যিই তো মানুষের এত মোবিলিটি কেন দরকার? তবে যেস্কাই ইজ দি আপার লিমিট অফ হিউম্যান স্যাট্সফেকশন এলন মাস্ক সাহেব স্পেসফ্লাইটে করে আউটার স্পেসে নিয়ে যাওয়ার জন্য এ্যডভান্স বুকিং নিচ্ছেন। পৃথিবীকে বাইরে থেকে কেমন দেখায়, সে খালি এস্ট্রোনট কেন, বিলনেয়াররাও নিশ্চয়ই দেখবেন। চাঁদের চরকা কাটা বুড়ী কি খালি শিশুমনের কল্পনা হয়ে থাকবে, নাকিহাতে চাঁদ পাওয়াসীমাবদ্ধ থাকবে প্রবাদ বাক্যের মধ্যে। রবীন্দ্রনাথ আছেন আমাদের মননে, কিন্তু মানবজগত কিএকটি ধানের উপর একটি শিশিরবিন্দুদেখে খুশী থাকে

সেসনের মাঝে একজনকে দেখলাম চুপচাপ এসে আমার সামনেসিটের এক কোণে বসলেন। চেনামুখ বোঝা গেল। আমার থেকে কিছু জুনিয়ার, আমার কোম্পানিতেই চাকরী করত। দক্ষিণ দিল্লিতে কাছাকাছি থাকতাম। বেশ পরিচিত। সুজিত, সুজিত বলে বার দুয়েক ডাকলাম। সাড়া পাওয়া গেল না। এরপর ডাঃ সেন বলে হাঁক পাড়লাম। সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরে আমার দিকে, মুখে হাসি। বোঝা গেল কর্পোরেট ল্যাডার দিয়ে তরতর করে উঠছেন। ওই কোম্পানিরই আরেক পরিচিত বিপদ ভঞ্জন মুখার্জি, আমার জুনিয়ার, দাদরীতে আমার কোয়ার্টারের কাছেই থাকত। তালপাতার সেপাই ছিল। দেখাল হল অনেকদিন পর। কলেবরে শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। টেকনোলজি সেন্টারে পোস্টেড। বল্লাম প্রমোশন টেকনোলজির প্রি কন্ডিশন অনুযায়ী এখনকার খোলতাই চেহারা, ইডি পোস্টের সঙ্গে মানানসই। 

ব্রোকেন রাইস নাকি মানুষের খাবার যোগ্য নয়। যদিও পকেটের রেস্ত কম থাকায় কিছুদিন আগে পর্যন্ত টুটা বাসমতী খেতাম।কোস্টাল জোনে বেশী ব্রোকেন রাইস পাওয়া যায়। ৬০/৭০ মিলিয়ন টন ব্রোকেন রাইস পাওয়া যায়। এইরাইসথেকেটুপাইসকামাবার কর্নধার মঞ্চে আছেন। বিশেষ পদ্ধতিতে এই রাইস থেকে ইথানল বানিয়ে ফুয়েল অয়েলে ব্লেন্ডিং করা হবে। এতে তেলের দাম লিটারে চার-পাঁচ টাকা কমে যেতে পারে। তবে ব্যাপার হলব্রোকেন রাইস নাকি আজকাল গরুর খাদ্য। গোমাতার প্রতি আজকাল ভারতবাসীর বেশ দুর্বলতা আছে। গোমাতাকে ভাতে মারলে হই হই পড়ে যাবে না কি

সিঙ্গল স্টেপে ইথানল কনভার্সান হবে একরকম ম্যাজিক ইনগ্রেডিয়েন্ট থেকে, এখনকার প্রাকটিশ হচ্ছে তিন স্টেপে। ক্যেমিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কিছু লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা মাথার উপর দিয়ে চলে গেল। তবে বোঝা গেল হোম গ্রোন প্রোডাক্টকে প্রাইস কম্পিটিটিভ করতে সিইওসাহেবার প্রচেষ্টার কোন কমতি নেই। শোনা গেল তরুণী সিইও অলরেডি চারটে পেটেন্টের অধিকারিণী। আমরা সবাই ওয়েস্ট বেঙ্গলচ্যুত, ওদেশের ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে, হোয়াটস্ এ্যপে কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ করি। ইনি বাংলার বাইরে ডিকেড-লং চাকরী করে, সম্প্রতি কলকাতায় স্টার্টআপ শুরু করেছেন। নিখাদ বাংলাপ্রেম। 

কালারলেস গ্যাসের কালারফুল নাম চলছে বাজারে। গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্লু হাইড্রোজেন, গ্রে হাইড্রোজেন, পিঙ্ক হাইড্রোজেন  নামে কালারের বাহার। অনেক দিল্লি মেট্রোর বিভিন্ন লাইনের নামের মত।রমণীকুল পিঙ্ক অটোর এক্সক্লুসিভ ফিমেল অকুপেন্সির কথা ভেবে, যদি পিঙ্ক হাইড্রোজেন শুনে উচ্ছসিত হতে চান, তবে আমি দুঃখিত কারণ  পিঙ্ক হাইড্রোজেন, মহিলাদের এক্সক্লুসিভ ব্যাবহারের জন্য নয়। এন্ড প্রোডাক্ট অবশ্যই একমোবদ্বীতিয়ম শুদ্ধ হাইড্রোজেন, খালি ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেসের তারতম্যের হিসাব অনুযায়ী কালার কোডিং হয়েছে। পিঙ্ক হাইড্রোজেন তৈরী হচ্ছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার থেকে। মনে হচ্ছে  নিউক্লিয়াস ফ্যামিলির পাওয়ার হাউস হচ্ছেন নারী, তাই অমিতবিক্রমশালী নিউক্লিয়ার পাওয়ারকে প্রতীকী নারী ধরা হচ্ছে। 

মানবদা জানালেন রিনিউএবেল এনার্জি যেমন সোলার বা উইন্ড পাওয়ার থেকে ইলেকট্রোলিসিস করে হাইড্রোজেন তৈরী হয়, তবে কার্বন নামক অচ্ছুত জিনিষ বাই প্রোডাক্ট হল না, তাই ইনি গ্রীন, শুদ্ধতার প্রতীক। তবে এই পদ্ধতিতে তৈরী হাইড্রোজেন বেশ কস্টলি, তাই এখনো বিগ ব্যাং থিয়োরিতে বাজারে খুঁটি গাড়তে পারেনি। 

আজকাল কার্বন ফুট প্রিন্ট নিয়ে বিদগ্ধ মহলে বেশ আলোচনা চলছে। ফুট প্রিন্টের ব্যাপারে আমার জ্ঞান অবশ্য, ইনটারচেন্জিং মেট্রো স্টেশনের মেঝেতে লাগানো ফুটপ্রিন্ট এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।


এক চোখে ছানির জন্য স্টেশনে হাঁটার সময় চোখটা নীচের দিকে রাখতে হয়, যাতে স্টেপ মিস করে ভূমিশয্যা থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়। ফুটপ্রিন্টে মেট্রো লাইনের কালার অনুযায়ী একই কালার থাকে। একেই বোধহয় সড়কছাপ বলে। মেট্রোতে রুট চেঞ্জের জন্য লেখা সাইনেজের থেকে, সড়কছাপ সাইনেজ আমার বেশী পসন্দ।

কোশ্চেন-এ্যনসার শেসন চলছে। আমি অবশ্য বিশ্বাস করিজানার কোন শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই তাই তলোয়ারের খাপ খোলার মত, পেনের খাপ খোলার, খামোকা কষ্ট করলাম না। পরে মনে হল ভালই হয়েছে, মডারেটর সাহেব একাই একশো নিজেই অনেক প্রশ্ন করলেন, কিছু উত্তরও দিলেন। বোঝা গেল প্রাজ্ঞ লোক।

ওদিকে লাঞ্চের হাতছানি, পেন- (pen) দক্ষিণহস্তের খেল দেখাতে না পেরে কোন পেন (pain) নেই, সামনে মওকা দক্ষিণ হস্তের সদ্বব্যবহারের। কড়কড়ে দুই পাত্তি খরচা করে যে পেন (pain) হয়েছিল তা নিমেষে উধাও রকমারী ডিশের সান্নিধ্যে। মগজ ভর্তি (ধোলাইও বলতে পারেন) ছিল অলটারনেটিভ এনার্জিতে, এবার উদরপূর্তি করে টা-টা, বাই বাই এর পালা। সাধে কি আর বিবেকানন্দ বলে গিয়েছিলেনখালি পেটে ধর্ম হয় না এ্যলমনি ম্যানেজমেন্টের তুলনা নেই। মাঝপথে পনির পকোড়া চায়ের ব্রেকও ছিল।

বেরোনর আগে মানবদার সঙ্গে দেখা। হাইড্রোজেন নিয়ে লাস্ট বক্তা ছিলেন। বল্লামমানবদা, হাইড্রোজেন, কার্বন, সবই মিথ্যে, আসল হল চিকেনের ঠ্যাং!”

লাঞ্চ ব্রেকের সময় অনেকেই, বিশেষত ইয়াং ব্রিগেড জানালেন, সেমিনারের উপর লেখার জন্য। বল্লাম সেই গানের লাইনতোমার হল শুরু, আমার হল সারা”, এটা আমার ক্ষেত্রে একটু অন্যরকমতোমার হল সারা, আমার হল শুরু সবাই নিশ্চিন্তে ভাতঘুম দেবে (আমি নিশ্চিত আজকের জমানার লোকজন টেকন্যিকাল কচকচি দুই মিনিটে ভুলে যাবে, এরা সবাই প্রাকটিক্যাল, ইভি গাড়ী কবে কিনলে দুই পয়সা সাশ্রয় করা যাবে, সেই চিন্তায় বেশী ভাবিত), আর আমাকে মোবাইলে খুটখাট করতে হবে।

আহার পর্বে কল্লোলদার কাছ থেকে এক নিগূড় (গূড়ের এককাঠি উপরে) তথ্য পাওয়া গেল। সেমিনারে আলোচিত প্রযুক্তিগত বিষয়ের পেপার টাইগার নয়, একটা প্রাকটিক্যাল টিপস। কল্লোলদা জানালেন, ফাইভস্টার হোটেলে খাবারের দাম নির্ধারন হয়, কতগুলো ফুল সাইজ প্লেট ব্যাবহৃত হল, তার বেসিসে। কোয়ার্টার প্লেট কাউন্ট হয় না। স্ন্যকসে তো কাউন্টের কোন প্রশ্ন নেই। যদি হোস্টের খরচের বহর কমাতে চান তাহলে পেট ভরে স্ন্যাকস খেয়ে, মন্ডা-মিঠাই দিয়ে ডিনার সারুন। সত্যি বলতে যে পরিমান স্ন্যাকস থাকে, তাতে এরপর আর মেন ডিশের ফিনিশিং লাইনে পৌঁছনর দম থাকে না। 

যারা সেমিনার এ্যটেন্ড করলেন, চিকেন খেলেন, কিন্তু যারা চিকেন-হার্টেড, হয়ত, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, কার্বন ফুটপ্রিন্ট, ইত্যাদির গোলক-ধাঁধায় আবর্তিত হচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দুর্দশার কথা ভাবছেন, তাদেরকে আমি আশার বাণী শোনাতে চাই। পৃথিবীতে  প্রতি দশ হাজার বছরে আইস এজ আসে। শেষ আইস এজের পর দশ হাজার বছর অতিবাহিত। সুতরাং ভরসা রাখুন, সে দিন আর বেশী দূরে নেই, যখন আপনি বৈশাখ মাসেভীষণ অগ্নিবানে রে, হৃদয়ে তৃষা হানে রে”, কবির এই বাণীর বদলে লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমোবেন।মাইকেলের লেখাআশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায়”, মাথায় না রেখে কবি নবীন চন্দ্র সেনে বিশ্বাস রাখুনধন্য আশা কুহকিনী! তোমার মায়ায়, অসার সংসার চক্র ঘোরে নিরবধি “আশায় বাঁচে চাষা”, শুধু চাষা কেন, চলুন আমরাও আশার ভরসাতে থাকি।

দেবদত্ত 

২৫/০২/২৩

Comments

  1. বা: খুব ভাল লাগল।

    ReplyDelete
  2. দারুন লেখা। khub enjoy korlam . Chalie jao Debdutta

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments