ক্যালেডিওস্কোপ


সেক্টর ১৩৭ নয়ডা বায়ো ডাইভার্সিটি পার্ক

ক্যালেডিওস্কোপ

সম্প্রতি কলেজের এক্সস্টুডেন্টদের পিকনিকে গিয়েছিলাম। তারই নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে এই প্রতিবেদন।

দৃশ্য

সবে চিকেন পকোড়াতে কামড় দিয়েছি। পাশে কিছু তরুনীর কলতান। তারা বেশীরভাগই এল্যামনির ইয়াং ব্রিগেডের বেটার হাফ। কলকাকলির মধ্যে শুনতে পেলামসুইট সিক্সটিন তরুণীবৃন্দ সবাই সিক্সটিন ইন্টু টু বা তার বেশী। চিকেন গলাঃধাকরন ভুলে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম- “আছে নাকি কাছাকাছি সুইট সিক্সটিন”? জবাব পেলাম - না, না - আমরা সুইট সিক্সটি বলছি, সিনিয়ার দিদিরা সবাই সুইট সিক্সটি হতাশ না হয়ে আনন্দিত হলাম- কারণ আমার ধর্মপত্নী ওই ক্যাটাগরিতে আছেন।  

দৃশ্য

জমিয়ে মাটন খাচ্ছি। পাশে পীযূষ খাচ্ছে। এল্যামনির উৎসাহী  মেম্বার, তবে প্লেটে চিকেন। জিজ্ঞাসা করলামবাঙালীদের রীতি অনুযায়ী, রবিবারের কব্জি ডুবিয়ে মাটনের রসাস্বদনে তোমার অপরাগতার কারণ কি?” পীযূষ করুণ মুখে বল্ল, “দাদা ছেলেরা খায় না, তাই আর বাড়ীতে মাটন ঢোকে না। অথচ মাটন খুব প্রিয় ছিল আমার।ওর ছেলের বয়স দশ। কৌতূহল হল।বল্লামতা  মাটন ছেড়ে দেওয়ার কারণ কি?” পীযূষ বল্ল নেটফ্লিক্সে একটা সিনেমা দেখার পর থেকে মাটন খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে-জীবহত্যা মহাপাপ।মনে হল ছেলে বড় হয়ে রবিশংকর কি সদগুরুর মত লাইফ স্টাইল গুরু হবে।সে তুলনায় আমার নিজের মনোবল ভঙ্গুর। তিরিশ বছর ইউরিক এ্যসিডের প্রবলেম নিয়ে রেডমিটকে রেডফ্ল্যাগ দেখাতে পারি নি।

দৃশ্য

প্রদীপ্তদা আমার সিনিয়ার দাদা। বছর দশেকের বড় হবেন। যৌবনে কলেজে হকি, ক্রিকেট খেলেছেন। এখনও এ্যথলেটিক চেহারা। আমারই মত রঙীন পানীয়র সমঝদার।


তার সুযোগ্য ছেলে (ওই ব্যাপারে নয়), প্রদীপ্তদার  স্টক রিপ্লেনিশ করে দেয়, ডিইটি ফ্রি থেকে গ্লেনফিডিক কি ব্ল্যাক লেভেল দিয়ে। কিন্তু নিজে খায় না। প্রদীপ্ত দা ছেলেকে একবার বলেছিলেন নিউইয়র্কে মাইনাস পনের ডিগ্রিতে ব্র্যান্ডি কি হুইস্কি খেতে। সে প্রায় আঁতকে উঠেছিল। প্রদীপ্তদা সত্যিই ভাগ্যবান। 

দৃশ্য

অরিজিত আর রনজিত একই সোসাইটিতে থাকে। সোসাইটির নাম বল্ল পারস, তারপর একটা কিছু। পারস কোম্পানি যারা প্যাকেট দুধ বানায়, তারা ফ্ল্যাটও বানিয়েছে। আজকাল অবশ্য গরুর জয়জয়কার। সুতরাং দুধ কোম্পানি যে কামধেনু গাভীর মত টঙ্কা প্রসব করবে তাতে আর সন্দেহ কি? জিজ্ঞাসা করলাম দুধের কোম্পানির ফ্ল্যাট, রোজ সকালে ফ্রি দুধ দেয় তো? তবে ওরা জানাল সেরকমটা নেই। আমি অবশ্য জিজ্ঞাসা করেছিলাম পুরানো কনসেপ্ট থেকে, এনটিপিসি টাউনশিপে থাকার সুবাদে ফ্রি বিজলি পেতাম।

দৃশ্য

অরিজিতের একটি মেয়ে, নাম আহনা।অহনানামটা শুনেছি, ‘আহা একটা ওয়ার্ড আছে কিন্তু আহনা শুনি নি। এর মানে জানলাম সূর্যরশ্মি। আজকাল শুনেছি নাম চুস করার বই বাজারে বেরিয়েছে। নিশ্চয়ই সেটা থেকে স্টাডি করে নাম বার করেছে। ইংরাজীতে লেখে Aahna. তবে মেয়ের এটা পছন্দ নয়। ক্লাসে এ্যলফাবেটিক নামের লিস্ট হলে ইনভেরিয়েবলি নাম্বার ওয়ানে থাকে। ডাবল থাকার সুবাদে সবসময়েই নম্বার ওয়ানে থাকবে। অসুবিধা বেশী, ইন্টারভিউ কি ভাইভাতে প্রথম ডাক পড়বে। পরের দিকে হলে আগের ক্যানিডিডেটদের থেকে টিপস পাওয়া যায়।

 আহনা নামের মানে রে অফ লাইট শুনে মনে হল আমার ছেলের কথা। আমার ছেলের ভাল নাম ময়ূখ। ওটার মানে হল রে অফ লাইট। ওর ডাকনাম সূর্য। দুই নামেই রবির প্রভাব। ছোটবেলায় সে মধ্যাহ্ন গগনের সূর্যের ন্যায় ছটফটে ছিল। এ্যলামনির পুরানো দাদারা এখনো অনেকেই সূর্যকে মনে রেখেছেন তার দস্যিপনার জন্য। ছেলের এই দুরন্তপনা, ডাবল রবিরশ্মির প্রভাবসঞ্জাত ভেবে, মেয়ে হওয়ার পর নাম রেখেছিলাম নম্রতা, এই ভেবে নামের মর্যাদা রেখে সে শান্ত প্রকৃতির হবে। সেটাই হয়েছিল, ওকে নিয়ে কখনো নাভিশ্বাস ওঠে নি।

দৃশ্য

অরিজিত, ভবিষ্যত পরিকল্পনায় বেশ পারদর্শী মনে হল।


ওল্ড এজ হোম নিয়ে কথা হচ্ছিল। নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে গানছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার”, একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু যুগের সাথে চিন্তাধারার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এখন অনেকেই চাইছেন বৃদ্ধাশ্রমকে শেষ জীবনের ঠিকানা করতে। আমিও এরকমটাই ভাবি। তবে এব্যাপারে বিশদ খোঁজখবর ৭০-৭৫ এর আগে নিয়ে লাভ নেই। অরিজিত অবশ্য আর্লি চল্লিশেই, বৃদ্ধাশ্রমের ব্যাপারে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করছে। দেখলাম ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নমেন্টের হাই এন্ড বৃদ্ধাশ্রমস্নেহদিয়া ব্যাপারেও জানকারি আছে। মা, দিদিমাকে দেখে নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করে আগে থেকে প্ল্যানিং করছে।

দৃশ্য

বলতে দোষ নেই, মহিলা মহলে উঁকি মারার অভ্যাসটা আমার আছে। সিনিয়ার বৌদিদের গ্রুপে ওভারহিয়ার করলাম রামকৃষ্ণ মিশনের কোন কোন গুরুদেব কোথায় কবে প্রবচন দিতে আসেন, তারই ফর্দ নিয়ে আলোচনা চলছে।


জীবনের শেষপ্রান্তে, অর্থ ছেড়ে পরমার্থের দিকে ঝুঁকে পড়াটাই স্বভাবিক। আমি যদিও এর ব্যাতিক্রমী। দুই একবার বানপ্রস্থের বাণী শুনতে গিয়ে বিফলমনোরথ হয়ে ফিরেছি। শুধু উপলব্ধি হয়েছে - মন হরিণীর ন্যায় চঞ্চল। যেখানেই গুরুবাণী শুনতে গিয়েছি সেখানেই অদ্বৈতবাদের বদলে কানে বেজেছেচঞ্চল মন আনমনা হয়, যে তার 

লাঞ্চের পর তরুণী বিগ্রেডে খাওয়ার কথা হচ্ছিল। একটি মেয়ে বল্লতার একদমই খাওয়ার ইচ্ছে নেই। খাবার দেখলেই রীতিমত বিতৃষ্ণা হচ্ছে।আমার আবার গেটক্র্যাশ করে ঢুকে পড়া স্বভাব। গিয়ে বল্লাম -“পেমেন্ট করে দিয়েছেন কিটাকা দিয়ে থাকলে এখনই রনজিতকে বলে টাকা ফেরত নিয়ে নিন। জনান্তিকে জানাই আমিও ডিউ ক্লিয়ার করব কালকে সব ঠিকঠাক ক্লিয়ার হলে। ইনপুট টু এন্ড প্রোডাক্ট ফ্ললেস হওয়া চাই! “ইউজ নাউ, পে লেটারের ফান্ডা আর কি!”

দৃশ্য

দুলালদা অনেক সিনিয়ার। আশি ছুঁইছুঁই।


এক সময়ে লিবিয়াতে পোস্টেড ছিলেন। গাড়ী করে অনেক সময় ধূধূ মরুভুমিতে হাজার কিলোমিটার জনমানবশূন্য রাস্তায় যেতে হত। ওইসব জায়গায় জলের স্কেয়ারসিটি। কমিউনিটি ড্রিংকিংএর প্রচলন আছে। একটা গামলায় জল থাকে। মগ দিয়ে তুলে কেউ একজন চুমুক দিয়ে খেয়ে আবার অবশিষ্ঠ জলসহ মগটা পাশের জনকে দেয়। এরকম ভাবে মগ সার্কুলেট হয়। মনে হল যাতে একফোঁটা জলও নষ্ট না হয় তারই প্রচেষ্টা। 

এরপরের ঘটনাটা বেশ ইনটারেস্টিং। দুলালদা এক লোকালের বাড়ীতে গিয়েছেন বিয়ের নেমন্তন্ন খেতে। যাওয়ার পর বাকীদের মত দুলালদাকে একটা বড়সড় ছুরি প্লেট ধরিয়ে দিয়েছে। দুলালদা ভাবছেন হয়ত ব্রেড কাটার জন্য দিয়েছে। ডিনার সাইটে দেখা গেল একটা ছোট গোলপোস্টের মত কাঠের উপর থেকে একটা আস্ত উটকে বারবেকিউ করা হচ্ছে। ঝলসানো উটের দাঁত গুলো মুখব্যাদান করে তাকিয়ে আছে। দুলালদা ভাবলেন উটের মাংস চাকু দিয়ে কেটে নিতে হবে। একজন জানালখেল আভি বাকি হ্যায়!” উটের পেটটা সেলাই করা ছিল। সেটা কাটতে অন্যান্য স্টাফিংএর সঙ্গে বেরোল একটা আস্ত পাঁঠা। বিষ্ময়ের আরো বাকী। পাঁঠার পেট কাটতে বেরোল কয়েকটা মুরগী। এই পর্যন্ত শুনে আমি বল্লামমুরগীর পেট কেটে নিশ্চয়ই সোনার ডিম বেরোল!” দুলালদা বল্লেনঠিকই বলেছ, তবে সোনার নয়, আসল আন্ডা। এই হলআন্ডে কা ফান্ডা”! হাট্টি মা টিম টিম, তারা মাঠে (উটে) পাড়ে ডিম। 

দৃশ্য

আমাদের ইয়াংগেস্ট প্রেসিডেন্ট সাহেব সুহান সুদৃশ্য লাইট কালারের জ্যাকেট পরিহিত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।


জিজ্ঞাসা করলাম জ্যাকেটটা কি পিএম ইনসপায়ার্ড? মোদী সাহেব হালফিলে যে স্কাই ব্লু জ্যাকেট পরে ঘোরেন, সেটা বর্জ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরী। তামিলনাড়ুর কোম্পানি বানাচ্ছে।আজকাল বাজারে খুব ডিমান্ড। দুই হাজার মত দাম। সুহান আত্মপ্রসাদের হাসি দিয়ে  বল্লআমারটা তাহলে মোদীসাহেবের থেকে দামী!” বল্লামহতেই হবে, তুই যাদবপুর এ্যলামনির রাজধানী শাখার প্রেসিডেন্ট, তার উপর নাটক লিখছিস!”

দৃশ্য ১০

আমার পাশে এক মহিলা বসে। প্রৌড়া বৃদ্ধার মাঝামাঝি বয়েসর কি প্রতিশব্দ আছে জানা নেই। আমার থেকে বেশ কিছুটা বড় বলেই মনে হল। আগে দেখেছি বলে মনে পড়ল না।  স্বভাব অনুযায়ী আলটপকা প্রশ্ন করলাম-“আপ মিসেস দুয়া হ্যায়?” পরিষ্কার বাংলায় বল্লেননা.. না আমি অরুণিমা মুখার্জি (আশাকরি টাইটেল ঠিক লিখলাম) নামটা ভুল হবে না, কারণ নামে এক বাঙ্গালী এ্যকট্রেস আছে।   বিব্রত হওয়া আমার স্বভাবে নেই! বল্লামআপনার ফর্সা চেহারা মিষ্টি মুখ দেখে আমি ভাবলাম আপনি পাঞ্জাবী। অরুণিমাদি হেসে ফেললেন। (বাকী উপস্থিত বঙ্গললনারা অপরাধ নেবেন না পাঞ্জাবী মুখ বেশী মিষ্টি বল্লাম বলে, পিকনিকে অনেক সুন্দর মুখের সন্ধান পেয়েছি সেটা ক্রমশঃ প্রকাশ্য, দুরুদুরু বক্ষে প্রতীক্ষায় থাকুন, কার নাম লটারীতে ওঠে!) যাই হোক আলাপ হল অরুণিমাদির সাথে। উনি সিইউ থেকে ফিজিক্স পড়ে, জেইউ থেকে পিএইচডি করেছেন। কলকাতার কলেজে পড়াতেন। উনার মেয়েও এসেছে পিকনিকে। সেও মায়ের সুযোগ্য সন্তান। যাদবপুর থেকে ইলেকট্রিকাল পড়েছে।

দৃশ্য ১১

প্রদীপদা আমাদের সিনিয়ার দাদা। আশির দশকে সিআর পার্কে থাকার সময় থেকে আলাপ। ফার্ট্লাইজার কোম্পানিতে ছিলেন।


আমার থেকে বছর পনেরর বড়। দেখলাম একটা রংচটা হলুদ শার্ট পড়ে আছেন। জ্যাকেটের ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে তাতে একটা ফুটো। বল্লামএটা কি করেছেন প্রদীপদা? পুরানো শার্ট পরে পিকনিকে কেন এসেছেন? ফুটোও আছে। প্রদীপদা বল্লেন পঁচিশ বছর আগে যখন সিগারেট খেতেন, তখন জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গে ফুটো হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে চালিয়ে যাচ্ছে। গর্বের সঙ্গে জ্যাকেটেও একটা লোগোওয়ালা তাপ্পি দেখিয়ে জানালেন, ওই জায়গাটাতেও ফুটো ছিল, তাপ্পি লাগিয়ে ঢেকেছেন। বল্লামএটা ঠিক হচ্ছে না প্রদীপদা, আপনি এ্যলামনির সিনিয়ার সদস্য, যাদবপুর নিজের সন্মানার্থে নূতন সেট অফ প্যান্ট-শার্ট কিনুন। প্রদীপদা এমবিএ করে রিটায়ারমেন্টের পর থেকে ম্যানেজমেন্টের ক্লাস নেন। আশি বছর বয়সে, বসন্তকুন্জ থেকে ডিটিসি বাসে কনটপ্লেসের ওয়াইএমসিএ তে ক্লাস নিতে আসেন। প্রদীপদাকে কিছুতেই টলানো গেল না। অনেক চলতি প্রবচন শোনালাম। যেমনপহলে দর্শনধারী, বাদ মে গুণ বিচারি”, কিংবা আপ রুচি খানা, পর রুচি পরনা শুকনো কথাতে অবশ্য চিড়ে ভিজল না। তবে আমি হাল ছাড়লাম না। অধিকাংশ বঙ্গসন্তান বাইরে যতই বাগাড়ম্বর করেন, হোমফ্রন্টে তারাভিগা বিল্লি সেই আশায় ভরসা রেখে প্রদীপদা বৌদিকে একসাথে পেয়ে, বৌদিকে জানালাম আমার সদিচ্ছার কথা। বৌদি বল্লেনআরে অনেকবার বলা হয়েছে, নূতন জামা-কাপড় কেনার কথা বল্লে আমাকে মারতে আসে!” এরপর আর কথা চলে না। মনে হল ফার্টিলাইজারে চাকরি করে প্রদীপদার মাথায় ন্যাচারাল ফার্টিলাইজার আছে। 

দৃশ্য ১২

আবার তরুণীকুলের ক্যাকোফোনি। গ্রুপ ফটো উঠছে। হাস্য-কলতানের মধ্যে একটা কথা শোনা গেলক্যান্ডিড ফটো


স্টিল ফটো, প্যানারোমিক ফটো ইত্যাদি নানারকম ফটো শুনেছি। ক্যান্ডিড ফটো টা কি ব্যাপার? জানা গেল এ্যটেনশন হয়ে ফটোর জন্য পোজ না দিয়ে, অজান্তে নেওয়া ফটোকে ক্যান্ডিড শট বলে। ওইকেয়ারলেস বিউটিটাইপের।

দৃশ্য ১৩

এক বিবাহিতর তরুণী, তার বরকে দিয়ে ফটো শেসন করাচ্ছে। আমার সঙ্গে আলাপ নেই। একটু মজা করার ইচ্ছে হল। কাছে গিয়ে বল্লামতোমাকে না ইমপোর্টেড লাগছে।মেয়েটি একটু থতমত খেয়ে গেল।


সুন্দর লাগছেঅথবাতোমার হাসিটা বেশ মিষ্টি ধরনের বিশেষনে ভূষিতা হলে মহিলারা যারপরনাই খুশী হয়ে থাকেন। মনে হল ইমপোর্টেড ওয়ার্ডটা ঠিক বুঝতে পারছে না। বিশেষণটা ব্যাঙ্গার্থে নাকি প্রশংসার্থে সেটা খোলসা না করলে কনফিউশন কাটবে না। সিচুয়েশনকেজলবত তরলমকরতে বোঝালামতোমার ড্রেসটা দেখে ইমপোর্টেড কথাটা মনে হল তাই বল্লাম। তোমার টি শার্ট জুড়ে আইফেল টাওয়ারের লোগো, তোমার টুপিতে হেলওয়েট প্যাকার্ড, মাইক্রোসফ্ট, এ্যডিডাসের লোগে সব মিলিয়ে তুমি ইন্টারন্যাশানাল ব্রান্ড। ওর উজ্জ্বল মুখ দেখে বুঝলাম যাত্রায় উতরে গিয়েছি। লাঞ্চের সময় ওর পাতে একটা ফিসফ্রাই দেখে বল্লামফরেন ঠাপ্পাওয়ালারা কব্জী ডুবিয়ে মাটনের থেকে ফিসফ্রাই বেশী পছন্দ করে, তোমার আরো ফিসফ্রাই নেওয়া উচিত।

দৃশ্য ১৪

খাওয়া হচ্ছিল লনের পাশে একটা চারিদিক খোলা উপর ঢাকা ক্যানোপি স্ট্রাকচারের ভিতর। পাশে দেখলাম সাইনবোর্ডে  ইংরাজিতেলেখা প্যভিলিয়ান, হিন্দিতে বারাদরি। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন মনে হল। বারাদরি মুঘল আমলে ওপেন কোর্টইয়ার্ডকে বলা হত। প্রত্যেক সাইডে তিনটে করে গেট হত, চার দিক মিলিয়ে মোট বারটা গেট।


মধ্যের জায়গাতে নাচ, গানের মুজরা বসত। এছাড়া গ্রীষ্ম কালে সুন্দর হাওয়া পাস করত। মন্দ কি, আমরা কিংস কোর্টে বসে খাচ্ছি, এবং বসন্তের মৃদুমন্দ হাওয়া সেবন করছি, এটা ভেবেও আনন্দ।

দৃশ্য ১৫

গতবার বিজনকে বলেকয়ে পিকনিকে আসতে রাজী করিয়েছিলাম। বিজন আমার ক্লাসমেট। চাকুরিজীবন ভিলাইএর স্টীলপ্ল্যান্টে কাটিয়ে এখন এন সি আরএ। আমি এবার প্রথমে আসব না ভেবেছিলাম। যাই হোক সকালে মেট্রোতে দেখা বিজনের সাথে।


প্রথম সম্ভাষণআরে তুই বল্লি আসবি না, তবে তুই কেন এলি? বল্লামপরশু রনজিত ফোন করে বল্ল - দাদা পিকনিকে আসতে হবে কিন্ত। এরপর অতীশও (আমার আরেক ক্লাসমেট) বল্ল, তাই চলে এলাম। বিজন বেশ চিন্তিত মুখ করে বল্লতুই তাহালে যাবিই, ভেবে দ্যাখ, এখনও সময় আছে, তুই চাইলে ফেরত যেতে পারিসবল্লামএসে যখন পড়েছি, এখন ফেরত গিয়ে কি করব? কেন, তোর কি মনে হচ্ছে আমি গেলে খাবারে কম পড়বে?” 

বিজন সবকথা মনে রাখে। লাঞ্চে আগেই খেয়ে নিয়েছে। খেয়ে দেয়ে আমার পাশে বসে তাগাদা দিতে শুরু করলকি রে তুই এখনও খেলি না কেন, যা খেয়ে নে গিয়ে।একটু পরে খাবার নিয়ে সবে বসেছি, বিজন এসে বল্লখালি ফিসফ্রাই খাচ্ছিস! মাটন নে!” বল্লামফিসফ্রাই খেয়ে মাটন নেব।বিজনের সন্দেহ দূর হয় না। একটু পরে এসে আবার জিজ্ঞাসা করল একই কথা। বল্লামএই তো এইমাত্র মাটন খেলামনা.. না, তোর পাত খালি আছে, আরেকবার নিয়ে আয়বিজনের ধাক্কায় শেষমেশ তিনবার মাটন খেয়ে আইঢাই অবস্থা! ওই যে বলেছিলাম আমি গেলে কি খাবার কম পড়বে, তাই বিজন পুরো পার্সেনাল টাচ দিয়ে আমার লাঞ্চের তদারকি করে গেল। 

দেবদত্ত 

১২/০২/২৩


Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments