ক্যালকাটা ক্রোমোসাম
ক্যালকাটা ক্রোমোসাম
দৃষ্টিনন্দন “নন্দন” দেখেন নি এরকম বাঙালী খুঁজে পাওয়া ভার। আমি সেই বিরল গোষ্ঠীর একজন। এযাত্রায় সেই ব্ল্যাকস্পট দূর হল ঘনিষ্ঠ বন্ধু তরুণের সৌজন্যে। ফোন করে বল্ল -‘এক্যাডেমি অফ ফাইন আর্টসে নাটকের টিকিট কেটে রেখেছি, সন্ধ্যে সাতটায় শো, ঠিক সময়ে পৌঁছে যাস’। আমার হাতে অঢেল সময়। ঠিক করলাম হাতে সময় নিয়ে পৌঁছাব, ভাল করে কলকাতার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। দমদম থেকে মেট্রোতে রবীন্দ্র সদন যত সময় লাগে, তার থেকেও বেশী লাগল টোকেনের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে। দুটো কাউন্টার বন্ধ। টাইম পাস করতে গিয়ে বন্ধ কাউন্টার ও সর্পিল লাইনের ফটো তুলে টুইট করে দিলাম কলকাতা মেট্রোকে। আজকাল দেখেছি টুইটে বেশ কাজ হচ্ছে। সম্প্রতি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে একরাত রিটায়ারিং রুমে ছিলাম। সকালে ফ্লাশ করতে গিয়ে দেখলাম কমোডের তলা দিয়ে বেশীরভাগ জলই বেরিয়ে যাচ্ছে। ‘রেলওয়ে সেবা’তে টুইট করতেই কিছুক্ষনের মধ্যেই জবাব এল যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যারপরনাই দুঃখিত। সমস্যার অতি দ্রুত সমাধানের জন্য ডিআরএম এনজেপি এবং জিএম নর্থ ইস্ট রেলের টুইটও চলে এল। আসল কাজে কত সময় লাগল জানি না, তবে টুইটার হ্যান্ডলিংএ রেল যে বিশেষ পারদর্শী তার প্রমাণ পেলাম।
রবীন্দ্রসদন স্টেশনে নেমে পাঁচতলা সিঁড়ি ভেঙে ফুটপাথ ধরে পৌঁছান গেল নন্দন চত্বরে। আলোকিত দুগ্ধধবল বিল্ডিং ও সামনের চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লোকজন।
তরুণ প্রজন্মের ভীড়, ডানদিকে ঝিলের পাশে আমার বয়সী কয়েকজন ‘চায়ে পে চর্চা’তে গুজরাটের আসন্ন নির্বাচনের উপর টীকা-টিপ্পনীতে ব্যাস্ত। অস্তমিত সূর্যের গোধূলি আলোয় ঝিলের প্ল্যাসিড জলে বিমূর্ত ৪২টাওয়ারের প্রতিচ্ছবি।
চারিদিকের গুঞ্জনের মাঝে মায়াবী প্রকৃতি। পাখির কলকাকলী, ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ, তারা ফিরছে আপন কুলায়। আশেপাশে বেশ কয়েকটা গাছ। তারই কোটরে এদের বাসা। একা ছিলাম বলেই হয়ত বেলাশেষের অনুভূতি, যা চিরাচরিত প্রথায় শহুরে পটভূমিতে অধরা, তা যে এই নন্দন চত্বরে উপলব্ধি করতে পারলাম। পাশেই রবীন্দ্র সদন, ভিতরে গানের অনুষ্ঠান চলছে। রবিঠাকুরের অবক্ষমূর্তির সামনে সেলফি নিলাম। ক্যাথিড্রাল রোড দিয়ে এগিয়ে চলেছি। এ্যকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে রাস্তার পাশে ওপেন এয়ার গানের অনুষ্ঠান চলছে, সলিল চৌধুরী স্মরণে। এ্যকাডেমীর ভিতরে ঢুকলাম। নাটকের পোস্টারের চাইতে বিভিন্ন ইউনিয়ানের দাবী সম্বন্ধিত পোস্টারে এ্যকাডেমি চত্বর ছয়লাপ। সাড়ে পাঁচটা বাজে, নাটক শুরু সাতটাতে।অঢেল সময়। আরেকটু এগিয়ে সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল। এর আগে খালি বাইরে থেকে দেখেছি, এবার দশটাকার টিকিট কেটে ঢুকলাম। ভিতরে ঢুকে বেশ কিছু শ্বেতপাথরের ফলকে অবিচুয়ারি দেখলাম। কেউ আঠারশ শতকে যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গিয়েছেন, কেউ সি ভয়েজে কোন রোগের শিকার হয়ে জাহাজে মারা গিয়েছেন, তাদের নামে স্মৃতিফলক। অনেক ফলক, অনেক নাম, সবই বিদেশী। এরই মধ্যে একটি হাফ বাস্ট মূর্তির দিকে নজর পড়ল। তলায় নাম লেখা ক্যানন (canon) সুবীর বিশ্বাস (১৯৩৩-১৯৭৭)। এই বাঙ্গালী প্রিস্টকে কি কারণে স্মরণীয় হয়ে আছেন তা জানতে সাধ হল। গুগল করে যা ইতিহাস পেলাম, তা সত্যিই চমকপ্রদ এবং আমার বিশ্বাস বেশীরভাগ কলকাতাবাসীর কাছে অজানা।
সুবীর বিশ্বাস ১৯৭০ সালে সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালে ভিকার (vicar) স্থলাভিষিক্ত হন। খ্রীষ্টধর্মে অনেক রুলস রেগুলেশনস। ‘ভিকার’, প্রিস্টের তুলনায় একধাপ নীচে। চার্চের যা ইনকাম তা প্রিস্টের অধীনে থাকে, ভিকার বেতনভুক কর্মচারী। অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ভিকারদের ক্যানন উপাধি দেওয়া হয় কারণ তারা এন্জেলিকাল চার্চের ক্যানন ল সম্বন্ধে সম্যক অবহিত। যাই হোক এই সব কূটকাচালির মধ্যে না গিয়ে আসল ঘটনাটা বলি। বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ারের সময় ক্যানন বিশ্বাস “ক্যাথিড্রাল রিলিফ সার্ভিস” নামে একটি সমিতি গঠন করেন এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থেকে অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী যোগাড় করেন। এই সমস্ত ত্রাণসামগ্রী বিভিন্ন বর্ডার এরিয়ার শরনার্থী শিবিরে পাঠান হয়। ক্যানন বিশ্বাস ৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে যান ও স্বচক্ষে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করেন। শহরে ও গ্রামে যে সব ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই সব বাড়ী থেকে আধপোড়া কাঠের গুঁড়ি বা লগ যোগাড় করে দেশে ফিরে আসেন। এরপর সেই লগ দিয়ে অসংখ্য ক্রস বানান হয়। “মানুষের বর্বরতা,যীশুর ক্ষমা ও আর্তের সাহায্য” এই আবেদন নিয়ে সিম্বলিক ক্রশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠান হয় যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্নিমান প্রকল্পে সাহায্যের আবেদন করে। দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও এই পোড়া কাঠের ক্রশ নিয়ে মিছিল করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সেই সময় পিএম ইন্দিরা গান্ধী চিঠি লিখে তার এই অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। ছটার সময় ক্যাথিড্রাল বন্ধ হয়। বেরিয়ে এলাম।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল রাত্রের অন্ধকারে যেমন আলোকজ্জ্বল থাকে, এখানে তেমনটি নয়। সন্ধ্যের আবছা আলোতে ক্যাথিড্রালের গথিক আর্কিটেকচারের অস্পষ্ট স্যিলুয়েট প্রত্যক্ষ করে বেরিয়ে এলাম। এবার গন্তব্য সেই এ্যকাডেমি অফ ফাইন আর্টস, যদিও শো শুরু হতে একঘন্টা বাকী। গেটের ভিতর ফোয়ারার চারপাশে গোল বাঁধানো জায়গাতে বসলাম। পাশে এসে বসল কয়েকটি মেয়ে একই ধরণের শাড়ী পড়ে।
তারা কলেজে পড়ে। সলিল চৌধুরীর স্মরণে ফাংশানে গান করবে। এক বয়স্ক ভদ্রলোক এসে বলে গেলেন “হই হুল্লোড় করবে না, গলা খারাপ হতে পারে”। সবাই বাধ্যছাত্রীর মত মাথা নাড়ল। একটু পরেই তাদের কলকাকলী, সেলফি তোলা শুরু হয়ে গেল। তারুণ্যের চঞ্চলতায় ভরা নূতন প্রজন্ম।
একটু পরে বন্ধুবর তরুণ এসে হাজির। হলের সময়-অনুবর্তিতা উল্লেখযোগ্য। ঠিক দশমিনিট আগে এনট্রি হল। ঢোকার সময় গেটকিপার বলে দিয়েছিলেন মোবাইল সাইলেন্টে রাখতে। ভিতরের সীট ও এক স্যাতস্যেতে গন্ধ হলটির প্রাচীনতার প্রতীক। নন্দন ও রবীন্দ্রসদনের আলোকিত ভাইব্রান্ট উপস্থিতির পাশে এক্যাডেমি নিতান্তই ম্যাড়ম্যেড়ে, জৌলুষহীন। অতীতের গৌরবজ্জ্বল অধ্যায়ের স্মৃতিতে ভারাক্রান্ত এক আটপৌরে স্থাপত্য।
নাটকের থিম অগ্নিযুগের স্বাধীনতা সংগ্রাম বিজড়িত আলিপুর বোমা মামলা সংক্রান্ত।মঞ্চসজ্জা ও আলো আঁধারি লাইটিংএ একটু গ্লুমি ভয়াল পরিবেশের ছাপ। স্কিৃপ্ট রাইটিং খুব কৃপ্স (crisp), নাটক এগোচ্ছে সাবলীল গতিতে, ক্ষুদিরাম ধরা পড়েছেন পিস্তল সমেত, বাকি বিপ্লবীরা ক্রমশঃ পুলিশের জালে বন্দী। জেলের মধ্যে নগেন গোঁসাই রাজসাক্ষী হওয়াতে জেলের মধ্যে পিস্তল যোগাড় করে তাকে নিহত করেন বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত ও সত্যেন্দ্র বসু। মুহুর্মূহ গুলি, স্টেজে এক্রোব্যাটিক আর আক্রমণের সীনে দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধ, এমন সময় পাশের ভদ্রলোকের ফোনের শব্দে মূর্তিমান রসভঙ্গ। ভদ্রলোক পকেট ঘেটে মোবাইল বার করে বন্ধ করতেই আবার বেজে উঠল। স্টেজের অভিনেতারা ডায়ালগ বন্ধ করে বসে আছেন। আশে পাশের দর্শকের তির্যক মন্তব্য। নাটকের মধ্যে আরেক নাটক। যাক নাটক আবার শুরু হল। “ভয় কি মরণে, রাখিতে সন্তানে… সমর রঙ্গে” গানটা সমবেত গলায় বার তিনেক শোনা গেল। বরিশালের চারণকবি মুকুন্দ দাসের গান। সবমিলিয়ে টানটান নাটক শেষ হল।
কলকাতায় স্বল্পবাসের মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। আরেকটা দিন হাতে। কাগজে পড়েছি আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে একটি মিউজিয়াম খোলা হয়েছে আর অন্যদিকে কলকাতার আর্মেনিয়ান চার্চ ও সিনাগগ অন্যতম দ্রষ্টব্যবস্তু। চার্চ আর সিনাগগ দেখাটাই মনস্থ করলাম। নেট ঘেটে দেখা গেল নিকটতম মেট্রো স্টেশন “সেন্ট্রাল”। কলকাতার অনেক মেট্রো স্টেশন বিখ্যাত বঙ্গসন্তানদের নামে, যেমন ধরুন মাস্টারদা, উত্তমকুমার ইত্যাদি। অন্যান্য নামগুলিও জায়গার সঙ্গে মানানসই। সেন্ট্রাল নামটা কি থেকে উৎপত্তি হল বোঝা মুস্কিল, সেন্ট্রাল নামে নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই, একমাত্র যদি “সেন্ট্রাল কলকাতা” থেকে এসে থাকে। আগে কোনদিন এখানে নামি নি। গুগল করে দেখলাম আর্মেনিয়ান চার্চে যেতে গেলে সেন্ট্রাল স্টেশনে নেমে পাঁচ নম্বর গেট দিয়ে বেরোতে হবে।
বিশ মিনিট মত হাঁটা রাস্তা। কলুটোলা, রবীন্দ্র সরণী ক্রসিং, ক্যানিং স্ট্রীট, ব্রাবোর্ন রোড ধরে চল্লাম। ফুটপাথ উপচে রাস্তা অব্দি দোকান। ‘টি বোর্ড’ নামে একটা স্বনামধন্য বিল্ডিং পেরিয়ে এলাম।
বাসনপত্র, জাঙ্ক জুয়েলারী, হোসিয়ারী প্রভৃতি দোকানে মফস্বলের খুচরো ক্রেতার ভীড়, তার মধ্যে জিগ-স করে চলা। এটাকেই কলকাতার বড়বাজার বলে।
ম্যাপ দেখে পরে জেনেছিলাম। বেশ কিছুটা দূর থেকেই আর্মেনিয়ান চার্চের চূড়া দেখা যাচ্ছিল।
গেট ঠেলে ভিতরে ঢুকলাম। চার্চের সামনের দিকে বাঁশের ভারা বাঁধা। মনে হল রিনোভেশন চলছে। দুইজন সিকিউরিটি দেখলাম ব্যাস্ত গাড়ী পার্কিং করতে।
চার্চের বাউন্ডারীর মধ্যে বেশ খানিকটা ফাঁকা জায়গা। বাইরের রাস্তায় পার্কিং তো দূরের কথা তিলধারণের স্থান নেই। মনে হল পার্কিং ফি নিয়ে চার্চ কর্তৃপক্ষ ভালই টু পাইস করছে। আজ মঙ্গলবার, চার্চ বন্ধ। “দিল্লি সে আ রহা হ্যায়, কুছ লিখনা হ্যায়” ইত্যাদি বলেও সিকিউরিটিকে মানানো গেল না।
এই আর্মেনিয়ান চার্চ অফ হোলি ন্যাজরেথ, কলকাতার সবচেয়ে পুরানো চার্চ, জব চার্নক আসার দুই বছর আগে ১৬৮৮ সালে নির্মিত। ১৭০৭ সালে আগুনে পুড়ে যাবার পর আবার ১৭২৪ সালে পুনর্নিমিত হয়।
আজকাল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা সবাই জানে, কিন্তু আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের যুদ্ধ বছর দুয়েক আগে এবং এই বছরও চলছে, সেটা বেশীরভাগের কাছেই অজানা। যে জায়গাটা নিয়ে ডিসপিউট, সেটার নামটা বেশ মজার বলে মনে আছে। নাম হল ‘নগর্ন-কারাবাখ’। পৃথিবীর প্রায় এক কোটি আর্মেনিয়ানের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশ থাকে আর্মেনিয়াতে। বাকীরা আছে সারা পৃথিবী জুড়ে।
খ্রীষ্টধর্ম শুরুর দিকে আর্মেনিয়ানরা খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করে। এর পিছনের ইতিহাসটা বেশ মজার। সেটাই বলি। আর্মেনিয়ার রাজা টিরিডেট৩ এর লম্বা সময়কাল ২৫০-৩৩০ এডি। তিনশত-এক এডি তে আর্মেনিয়া প্রথম খ্রীষ্টান দেশের মর্যাদা পায়। এর পিছনের মিথটা বলি। ৩০০ এডি পর্যন্ত আর্মেনিয়া জরথ্রুষ্ট ধর্মের পূজারী ছিল। টিরিডেট৩ র সভাতে গ্রেগরী বলে একটি লোক কোন ধার্মিক রিচুয়ালে অংশগ্রহন করতে মানা করে। টিরিডেট৩ তাকে অন্ধকূপে নিক্ষেপ করেন। এর বেশ কিছু বছর পরে একদল ভার্জিন নান, রোমান পারসিকিউসনে পালিয়ে আর্মেনিয়াতে এসে আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে একজন সুন্দরী মহিলা ছিল যার নাম রিপসাইম (Rhispime) . টিরিডেট৩ তাকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু মেয়েটি মানা করায়, টিরিডেট৩ সবাইকে হত্যা করেন। এরপর রাজা এক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন এবং তিনি বরাহরূপ নিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর বিচরণ করেন। তখন সেই যে গ্রেগরী, যাকে রাজা অনধকূপে পাঠিয়েছিলেন, সেই গ্রেগরী তাকে মানুষের রূপ ফিরিয়ে দেন। এরপরই টিরিডেট৩ খ্রীষ্টান ধর্ম অবলম্বন করেন ও গোটা আর্মেনিয়াতে খ্রীষ্টধর্ম ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতে আর্মেনিয়ানরা প্রথম আসে ১৪০০ শতকে। কলকাতা শহরে র গোড়াপত্তন থেকে আর্মেনিয়ানরা মূলত আসে বাণিজ্য করতে।পুরানো ঢাকাতেও আর্মানিটোলা বলে একটা জায়গা আছে। তারা ১৮০০শতকে পাট ব্যাবসা করতে এসেছিল।
ভারতের প্রত্নতত্ব দপ্তর (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া) র অধীনে এত প্রাচীন চার্চটিকে রাখা হয় নি। কারণটা কাগজে পড়ছিলাম। চার্চের এই জায়গাটা মূলত প্রথমে কবরখানা ছিল। ২০০৮ থেকে ২০১৫র মধ্যে চার্চ কর্তৃপক্ষ অনেক কবর ফলক সরিয়ে গাড়ী রাখার জায়গা করেন। এএসআই-এর মতে এতে অনেক ঐতিহাসিক তত্ব বিকৃত হয়েছে।
খ্রীস্টমাস এখানে পালিত হয় ৬ই জানুয়ারী। পৃথিবীর সমস্ত খ্রীষ্টধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একমাত্র আর্মেনিয়ানরাই, পঁচিশে ডিসেম্বরের বদলে এই দিনটিতে বড়দিন পালন করে। এটাই নাকি যীশুর আসল জন্মদিন ও ব্যাপটিসিমের দিন। ইউরোপে চতুর্থ শতকে বড়দিন পালন শুরু হয় ২৫ ডিসেম্বর, কারণ রোমানরা ঐদিন পাগান ওয়ারশিপ করত, কারণ, ঐ সময় থেকে দিন বড় হতে শুরু হয়। খ্রিস্টানরা যাতে রোমানদের উৎসবে যোগ না দিয়ে নিজেদের ফেস্টিভ্যাল পালন করে, তাই থেকে শুরু হয় ২৫শে ডিসেম্বর যীশুর জন্মদিন উদযাপন।
বাইরে থেকে কয়েকটা ফটো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হল। আর্মেনিয়ান চার্চে আসার পথে বামদিকের ফুটে পাটকিলে-হলুদ রংএর সুউচ্চ চূড়ার গীর্জা দেখেছিলাম।
চিরকাল জেনে এসেছি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার হল বড়বাজার এবং বেশীরভাগ স্থানীয় লোক মাড়োয়ারী। এই ঘিঞ্জি, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে এরকম ঐতিহাসিক হেরিটেজ বিল্ডিং আছে, সে সম্বন্ধে কোন ধারণা ছিল না।
আগে থেকেই মনে মনে প্রস্তুত ছিলাম যে, এখানেও বাইরে থেকে ফটো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। সামনে পৌঁছে বন্ধ গেটে বিশাল তালা দেখে, সেই ধারণাই বদ্ধমূল হল। গেটের সিকিউরিটিকে অনুরোধ করলাম -“ভাই থোড়া গেট খোল দো, বাহার সেই চার্চকা ফটো লে লেঙ্গে”। আমার ভুল ভাঙিয়ে সে জানাল এটা চার্চ নয়, ইহুদিদের উপসনালয়, যাকে বলা হয় সিনাগগ। তাই তো উপরে তাকিয়ে দেখলাম লেখা “ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগ”।
আমার আধার কার্ড দেখে, সিকিউরিটি গেটের তালা খুলে, সিনাগগের ওয়াচম্যানকে ডাকল।
বাইরের কোলাহল ও ভীড়ের থেকে ভিতরে এসে মনে হল অপার শান্তি বিরাজ করছে। ভিতরে নীল সাইন বোর্ডে লেখা “এএসআই প্রোটেক্টেড মনুমেন্ট”। ওয়াচম্যান এসে আমায় সেলাম ঠুকে, সিন্যাগগের দরজা খুলে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেল। এ তো মেঘ না চাইতেই জল।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভিতরটা। ওয়াচম্যান জানাল মিসেস কেবিন বলে এক মহিলা মাঝে মাঝে এসে সব দেখভাল করেন। এখন মাত্র ২২জন ইহুদি আছেন এই শহরে।
চার্চ কি সিনাগগ-এ দর্শক হিসাবে যেটা সবচেয়ে ভাল লাগে সেটা হল জুতো খোলার ঝকমারী নেই। সিনাগগে প্রেয়ারের সময় রাব্বি সারমন পাঠ করেন, হলের মাঝামাঝি জায়গাতে রাখা পডিয়ামের উপর থেকে।
পডিয়ামের রেলিংএ খুব সুন্দর কাঠের কাজ। চকচকে পালিশে সোনালি ডিজাইন। চার্চে দেখেছি প্রিস্ট থাকেন হলের একদম শেষে যে বেদী থাকে সেইখানে।
কেয়ারটেকারের নাম রাবুল খান। ছোটখাট চেহারা, বয়স মধ্য পঞ্চাশ।
তার পূর্বপুরুষেরাও এখানে ওয়াচম্যান ছিলেন। একটু অবাক হওয়ার পালা মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদেশ ইসরায়েল আর মুসলিম প্যাল্স্টাইনের মধ্যে দুশমনির কথা জানা আছে। এই শহর যে সর্বধর্মসমন্বয়ের শহর তা আরেকবার প্রমাণ হল যখন শুনলাম বংশপরম্পরায় ধরে রাবুল খান সিনাগগের রক্ষণাবক্ষণের দায়িত্বে আছে। মনে হল, রাবুলের কাছে এই সিনাগগ খুব কাছের জিনিষ। খুবই আন্তরিকতার সাথে সে আমায় চওড়া কাঠের সিঁড়ি দিয়ে উপরের পেরিফেরিতে নির্মিত দোতলাতে নিয়ে গেল। ওঠার সময় পুরানো আমলের ঝাড়লন্ঠনে চোখ গেল।
রাবুল আমার ঔৎসুক্য দেখে, ওই একই চত্বরে ঠিক পাশেই আরেকটা অপেক্ষাকৃত ছোট সাইজের সিনাগগে নিয় গেল।। ডেভিড ম্যাগেন তৈরী হয় ১৮৮৪ সালে। এরপাশেই সবচেয়ে পুরানো সিনাগগ নাম নেভা সালোন (Neveh shalone)। এই সিনাগগ সবচেয়ে পুরানো, নির্মাণের সময় ১৮৩১ সাল।সাইজে একটু ছোট হলেও ইন্টিরিয়ারে ডেভিড ম্যাগেনের সঙ্গে যথেষ্ট মিল।
ভিতরের দেওয়ালে কাচের ফ্রেমে বাঁধানো কলকাতার ইহুদিদের ইতিহাস ও সিনাগগ সম্বন্ধিত তথ্য সারি দিয়ে লাগানো। একটা প্লাক দেখলাম,২০১৬ সালে ইহুদি সম্প্রদায়ের চিফ রাব্বির ভিসিট উপলক্ষ্যে।
রাবুল আমাকে কলকাতার এক ইহুদির ফোন নম্বর দিয়েছিল। এই লেখাটা লেখার সময় তাকে ফোন করলাম। নাম হল ডেভিড এস্কেন্জি (David Ashkenazy)। ইংরাজীতেই কথোপকথন হল। পরিচয় দিয়ে কলকাতার ইহুদি সম্প্রদায় ও সিনাগগ সম্বন্ধে তথ্য চাইলাম। আমি লিখব শুনে বেশ খুশী মনে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন।
এএসআই কর্তৃপক্ষ এই সিনাগগ গুলি নিজেদের কন্ট্রোলে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইহুদিদের ম্যানেজমেন্ট কমিটি তাতে রাজী হয় নি, কারণ তাহলে এই ঐতিহ্যময় সিনাগগগুলি তাদের হাতছাড়া হয়ে যেত। তাছাড়া এখনও নিয়মিত প্রেয়ার অনুষ্ঠিত হয়, যদিও এখন কলকাতায় খুব কম সংখ্যক ইহুদি থাকেন। দেশস্বাধীনের আগে অনেক ধনী ইহুদি দানের ফলে তাদের কমিটির কাছে টাকার অভাব নেই। কয়েক বছর আগে, দেশের অনেক স্থপতির কাছ থেকে শলা-পরামর্শ করে এই সিনাগগগুলির সংস্কার করা হয়। রিনোভেশন নয়, বল্লেন রেস্টোরেশন করেছি, অর্থাৎ, যথাসম্ভব পুরানো আদলকে ধরে রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বেসিক স্ট্রাকচারের সমস্ত কলাম স্ট্রেনদেন করা হয়েছে। ভিতর ও বাইরে সমস্ত কিছু রং করা হয়েছে। এর দরুন বছর দুয়েক সিনাগগ বাইরের দর্শকের কাছে বন্ধ ছিল (২০১৫-১৭)। সমস্ত খরচাই সিনাগগ কর্তৃপক্ষ বহন করেছেন।
সুন্দর সুন্দর ঝাড়লন্ঠনগুলির কথা জানলাম। যেটা আমাদের কলেজ জীবনে গ্লোব সিনেমা বলে জানতাম, সেটা সিনেমার আবির্ভাবের আগে ক্যালকাটা অপেরা হাউস নাম ছিল। ঝাড়লন্ঠনগুলো আগে অপেরা হাউসে ছিল। ক্যালকাটা অপেরা হাউসের মালিক ছিলেন ইহুদি, নাম ছিল ইএম ডিউক কোহেন। অপেরা হাউস বিক্রি করার সময় সব ঝাড়লন্ঠন সিনাগগে স্থানান্তরিত করা হয়।
এই সিনাগগগুলি ছাড়া কলকাতার ইহুদি সম্প্রদায়ের অধীনে দুইটি স্কুল ও একটি সিমেট্রি আছে। সিমেট্রিটা আছে নারকেলডাঙাতে। ডেভিড সাহেব জানালেন বর্তমান ২২জন ইহুদিদের মধ্যেও সিনাগগের ম্যানেজমেন্ট কন্ট্রোল নিয়ে টাসেল চলছে। ডেভিড সাহেব বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের অনারারি সেক্রেটারি। বিপক্ষ অনেকগুলো ফলস কেস দিয়ে মামলা ঠুকেছিল। অধিকাংশই নাকি খারিজ হয়ে গিয়েছে।
শুক্র ও শনিবার এখানে প্রেয়ার হয়। ওই দুইদিন সাধারন দর্শকের প্রবেশাধিকার নেই। জিজ্ঞাসা করলাম “খ্রিস্টানদের যেমন বাইবেল পাঠ হয়, আপনাদের কি হয়?” ডেভিড সাহেব জানালেন তাদের সারমন যে গ্রন্থ থেকে পাঠ হয় তার নাম সেফার-তোরা (Sefartora)। জানালাম, আমার স্বল্পজ্ঞানে আর ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ সিনেমার কল্যাণে, মোট দশটা বাণীর কথা শুনেছি। ডেভিড সাহেব জানালেন ইহুদি ধর্মে মোট ৬১৩টা কমান্ডমেন্টস আছে।
ডেভিড সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার নিজের ও পুর্বপুরুষ সম্বন্ধে কিছু বলুন। উনি জানালেন পাঁচ জেনারেশন আগে সিরিয়া থেকে তার পূর্বপুরুষ প্রথম এদেশে এসেছিলেন। তার নাম ছিল এ্যরন ওবিদা কোহেন। ইনিই প্রথম ইহুদি, ১৭৮৮ সালে সুরাটে আসেন বাণিজ্য করতে, পরে ১৭৯৮সালে কলকাতায় সেটল করেন। এক সময় ছয় হাজার ইহুদি ছিলেন কলকাতায়। বেশীরভাগই ধনী বিজনেস ম্যান ছিলেন। ইদানীংকালে অনেক ইহুদি নাকি ধর্মত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন। দেশভাগের সময় ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট থেকে ভারতে বসবাসকারী ইহুদিদের ব্রিটিশ সিটিজেনশিপ অফার করা হয়। তখনই বেশীরভাগ ইহুদি কলকাতা ছেড়ে চলে যান। ১৯৪৮এ ইস্রায়েল দেশ গঠন হলে পরে আরো অনেকে সেখানে চলে যান।
ডেভিড সাহেব এগ্রো-প্রোডাক্টের ব্যাবসা করেন। মূলত ইস্রায়েলের সঙ্গেই তার লেনদেন। কিছুদিন আগে ইউটিউবে দেখেছিলাম ইস্রায়েলে অনেক রকম ফল-সব্জির চাষ হচ্ছে খুব হাইটেক ব্যাবস্থা অবলম্বন করে।
ডেভিড ম্যাগেন সিনাগগটি পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ। ডেভিড সাহেব জানালেন অনেক ইহুদি দূরদেশ থেকে আসেন এই সিনাগগ দেখতে।
ফোন রাখার আগে ডেভিড সাহেব বল্লেন কলকাতায় এল যেন অবশ্যই দেখা করি, চা-সিঙ্গাড়া খাওয়বেন জানালেন। বল্লাম শুনেছি নিউ মার্কেটের কেকের দোকান নাহুমের মালিকও ইহুদি। গেলে নাহুমের কেক খাব। নাহুমের মালিক নাকি ডেভিড সাহেবের বিশেষ বন্ধু, সুতরাং কেক এসিওরড।
রাবুল জানাল এখানের দুইটি সিনাগগ ছাড়া তৃতীয় সিনাগগটি একটু এগিয়ে পোলক স্ট্রিটের মধ্যে।ওখান থেকে বেরিয়ে গেলাম পোলক স্ট্রিটের মধ্যে অবস্থিত সিনাগগ দেখতে। এর নাম বেথ-এল সিনাগগ।
এখানেও একই নিয়ম, আধার কার্ড দেখিয়ে ভিতরে ঢোকা গেল। কেয়ারটেকার মূল সিনাগগের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতে দিল।
বেথ এল এল নির্মিত হয়েছিল ১৮৫৬ সালে। ‘বেথ এল’ মানে হল ঈশ্বরের ঘর। ভিতরে এলে আধুনিক ব্যাস্ততাময় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বহু পুরানো, সাবেকিয়ানায় মোড়া, এই শহরের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই সৌধের অনুভব করা যায়। আমি ছাড়া আর কোন দর্শক নেই। কারুকার্যমন্ডিত কাঠের রেলিং উপরের কড়িবর্গা আর ইটালিয়ান কাটগ্লাসের নীল-লাল জানালার পাশ দিয়ে আলোর আভা, সব মিলিয়ে এক মায়াবী পরিবেশ। পবিত্র এই পরিবেশে কিছুক্ষণ বসে থাকার সাধ হল। ভিতরটা খুবই পরিষ্কার। নিয়মিত রক্ষণাবক্ষণ হয় তারই প্রমান। বেরিয়ে এসে ভিজিটারস বুকে প্রশংসাসূচক কমেন্ট লিখলাম। সিনাগগ থেকে বেরিয়ে একটু এগোতেই যে রাস্তাটা পড়ল তার নাম এজরা স্ট্রীট।
চারিদিকে ইলেকট্রিক গুডসের দোকান। ডেভিড যোসেফ এজরা, যিনি বেথ এল সিনাগগের প্রতিষ্ঠাতা, তারই নামে এই রাস্তা। নামকরণ মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে ইহুদিদের এই শহরের ব্যাবসা-বাণিজ্যে রমরমা অবস্থার কথা। বাণিজ্যকেন্দ্রিক এই নগরী যে জাতি-ধর্ম নির্বিষেশে বিভিন্ন কালচারের মেল্টিং পট, সিনাগগ গুলি দেখে এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস শুনে আরো বেশী করে মনে অনুভব করলাম। কলকাতা যে ‘সিটি অফ জয়’ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
দেবদত্ত
১৬/১২/২২


































Amazingly informative article. Thoroughly enjoyed
ReplyDeleteঅমূল্য লেখা
ReplyDeleteCOMPARED TO the claim that Calcutta is the cultural capital of the country, by the way which claim is NOW false, the size, layout, facilities etc of the Rabindra Sadan-Nndan-Sisir Mancha complex is simply small, shabby, almost claustrophobic and inadequate against the scale those should actually have been. I had proposed that the entire Victoria Memorial Birla Planetarioum S P Cathedral Rabindra Sadan Nandan and Shishir Mancha complex should be ONE TOTAL COMPLEX without subdivisions, visually also barrier-free, landscaped in a homogenous manner with good sculptures, open-air theatres etc. The road between Rabindra Sadan and Victoria Memorial should be closed and the entire area should be a pedestrian district. People in power laughed at the idea and emphatically said it is not possible. I believe it is possible, should be done and would be done someday. The thoughtless creation of the 'Mohor Kunja" is another wrong step. Anyway. .......
ReplyDeleteThe glory of Victoria is different than that of Nandan Complex. But what u said about Nandan, Rabindrasadan, Academy of F Arts etc, are decades old buildings. Culturally rich Kolkata needs more sprawling complex with host of other facilities. I particularly feel lack of a much needed open air museum showcasing heritage of Bengal and commercial stall where artisans from all over states of India can display their product for business purpose. We have one such in Delhi, known as Delhi haat’. It is a huge success.
DeleteAbout the cultural hub of Delhi , near Mandi House area have an array of theatre halls and art galleries exists. All those were probably built in late fifties or sixties. However no modernisation took place till date. Culture and promoting it always at the backseat in the mind of our policy makers. Kolkata can boast of some modern design rotating stage. In Delhi, as far as I know, there is none
খুব সুন্দর লাগলো
ReplyDelete