কলেজে টিট-বিট


কলেজে টিট-বিট

কলেজের বন্ধুদের এবং এল্যামনি এসোশিয়েশনের হোয়াটস্ এ্যপ গ্রুপে মাঝে মাঝে যাদবপুর ইউনিভার্সিটি খবর পাই। এই যেমন সেদিন জানলাম দুই প্রফেসর যারা বিদেশী সূত্রের মাধ্যমে স্বীকৃত বিশ্বের % বিজ্ঞানীদের লিস্টে আছেন, তারা অর্থের অভাবে গবেষণাগারে দামী যন্ত্রের বদলে প্রেশার কুকার ইউজ করছেন। এহেন সংবাদে প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে প্রেশার বাড়ার কথা, তবে প্রেশার কুকারের কৌলিন্যবৃদ্ধিতে বেশ মজাই লাগল। 


অন্ধজনে দেহো আলো, মৃতজনে দেহো প্রাণএরকমটা কবিগুরু লিখেছিলেন। তবে যাদবপুরের আলোর ডিপার্টমেন্ট, ইলেকট্রিক্যাল, নিজের ডিপার্টমেন্টে লাইটিং এর ব্যাপারে আলোর দিশারী না হয়ে প্রদীপের তলায় অন্ধকারসম অবস্থায় ছিল এতদিন। বেশ কয়েকমাস আগে  আলোর ডিপার্টমেন্ট ইল্যুমিনেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ল্যাব, ভয়ানক ভাবে আলোকিত হয়েছিল, অর্থাৎ আগুন লেগে অঙ্গারে পরিণত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে। ষাট কি সত্তর দশকের তন্বী বিল্ডিং আজ বিগত যৌবনা পৃথুলা। কলেবর বৃদ্ধির সাথে ওজন বাড়ার মত লোড- বেড়েছে। খালি বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর ছাত্ররা নয়, সাধারন মানুষও বুঝবেন এটা ফিজিক্যাল  লোড নয়লোডশেডিংয়ের-লোডযে অর্থে ব্যাবহৃত হয়, সেটাই মিন করেছি। এতদিন ধরে ডিপার্টমেন্টের শীর্ষব্যাক্তিরা জানতেন না যে নয় নয় করে ষাট খানি এসি চলছে বিল্ডিংএ। নূতন রুম বানিয়ে ওয়্যারিং, লাইট, এসি লাগিয়ে লোড বাড়ান হয়েছে তবে আদি অকৃত্তিম মেন সাপ্লাই সাইডের ফিউজে মোটা তার লাগিয়ে পুরানো কেবল দিয়ে লাইন যাচ্ছে। গরমকালে বর্ধিত চাহিদার তাগিদে কেবল্ বা তার গরম হয়ে জতুগৃহ হওয়ার অবস্থায়। মরনাপন্ন ডিস্ট্রিবিউশনের বেহাল অবস্থা দেখে কলকাতা সাপ্লাই জগতের একমাত্র ডাক্তার সিইএসসি, যেখানের উচ্চপদে এই ডিপার্টমেন্ট থেকে পাশ করা লোকেরা রয়েছেন- তারা রোগী পরীক্ষা করে এক কোটি টাকার প্যাকেজের নিদান দিয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাঁড়ে মা ভবানী। আগে সেন্টার যে পরিমাণ গ্রান্ট দিত, সেটা নাকি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই ভরতুকি স্টেট গভর্নমেন্টের দেওয়ার কথা। ক্লাসমেটদের গ্রুপে ডানঘেঁষা লোকেরা কানাকানি করছে যে দুর্গাপুজোয় সব পুজা কমিটিকে গ্রান্ট না দিয়ে টাকাটা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া উচিত ছিল। কলকাতায় তিন/চারদিন থাকার সুবাদে একটু আলমা ম্যাটারের বর্তমান ম্যাটার জানতে নভেম্বরের মনোরম এক সকালে হাজির হলাম বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী তৈরীর আঁতুড় ঘরটিতে। আগের দিন প্রাক্তন সহপাঠী পার্থর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। মনটা ভীষণসাদা’, তাই ওই নামেই স্বনামধন্য। বল্লাম ‘চলে আয় কাল এগারোটায় কলেজে, আড্ডা মারা যাবে।’ বিভাগীয় প্রধানা ঘটনাচক্রে প্রাক্তন সহপাঠিনী এবং তার পূর্বপুরুষের বাসস্থান আমারই পিতৃপুরুষের বাসস্থান ময়মনসিংহ জেলাতেই ছিল, সেই সুবাদে আলাদা বন্ডিং। 

তিনি জানালেন ডিপার্টমেন্টে অবশ্যই আসবেন, তবে সাড়ে বারটা নাগাদ। সেই হিসাব করে এগাচ্ছিলাম, এগারটা বাজতেই পার্থর ফোন, উদ্বিগ্ন গলা- ‘তুই কোথায়?’ এরকম ক্ষেত্রে বেশীরভাগ পাবলিক যা করে থাকে, আমিও তার ব্যাতিক্রমী নই। বল্লাম -‘এই তো রাস্তায়, এলাম বলে!’গল্ফ গার্ডেনে আমার এক প্রিয় বন্ধুর বাড়ীতে আছি। সামনে দিয়ে শেয়ার অটো টালিগঞ্জ মেট্রো থেকে মুহুর্মুহু যাদবপুর এইট-বি যাচ্ছে। দশ মিনিটে পৌঁছে ঢুকে গেলাম এইট বি- উল্টোদিকের গেট দিয়ে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে। ভিতরে ঢুকেই বেশ ভোট-ভোট আবহাওয়া মনে হল।



রাস্তায় সারি দিয়ে ভোটপ্রার্থীর ফেস্টুন। পরে জানলাম যাদবপুর অশিক্ষক কর্মচারীদের পিএফ ট্রাস্টের একটি পদ খালি হয়েছে, তারই ইলেকশনে এলাহী কান্ড। চারজন ক্যান্ডিডেট। বড় বড় পার্টির এমএলএ কি এমপি ভোটে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে কর্পোরেট চাঁইরা, ভবিষ্যতে নিজেদের চাহিদা মাথায় রেখে অর্থের যোগান দেন, যদিও নিন্দুকেরা বলে ওটা নাকি কালো টাকা সাদা করার প্রকৃষ্ট উপায়। তবে আমি বুঝতে পারলাম না সাধারন পিএফ ট্রাস্টের পদের জন্য এত কেন প্রচার। পি এফ ট্রাস্টে, ট্রাস্ট ডেফিসিট হওয়ার চান্স নেই, কড়ায় গন্ডায়, রুল অনুযায়ী প্রাক্তন কর্মীদের টাকা পাওয়ার কথা। নিশ্চয়ই কিছু লাড্ডু লুক্কায়িত আছে, নইলে কেন এত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এই ব্যাপারটা ছাত্র ইউনিয়ান নিয়েও প্রযোজ্য ছিল। ডিএসএফ, এসএফআই, ছাত্র পরিষদ ইত্যাদিদের ভাষণে ভোটরঙ্গের আগে প্রচারের ঢক্কা-নিনাদে বিশ্ববিদ্যালয় পরিসর সরগরম থাকত। আমি ভাবতাম, এসেছি তো পড়তে, পাশ করে চাকরী পেয়ে চলে যাব, তাহালে ইউনিয়নের কি দরকার। পরে মনে হয়েছে, কলেজের ইউনিয়ান, ভোট ইত্যাদি - ভবিষ্যতের রাজনীতিবিদ হওয়ার প্ল্যাটফরম।

ডিপার্টমেন্টের উল্টোদিকে চিরপরিচিত এসবেস্টরের চাল সহ সত্যেনদার ক্যান্টিন। মনশ্চক্ষে চল্লিশ-বিয়াল্লিশ বছর আগে ক্যান্টিনের বারান্দায় স্মিতহাসিমুখে ধুতি পাঞ্জাবী, পরিহিত হাতপাখা সহিত সত্যেনদার মুখটা মনে পড়ল। সত্যেনদা ইহজগতে নেই, তবে ভিতরে লাল্টুদাকে পাওয়া গেল। সেদিনের সেই তরুণ আজ সত্তরের কোঠায়। খালি সেই স্থবির বেঞ্চ-টেবিল এখনও স্বমহিমায় বিরাজমান। সব বেঞ্চ খালি। নিশ্চয়ই ক্লাস চলছে। আমাদের সময়ে অবশ্য কাউকে না কাউকে পাওয়া যেত, হয় তাস খেলছে নয়ত আড্ডায় মশগুল। লাল্টুদা বল্ল এই প্রজন্ম কেরিয়ার কেন্দ্রিক। তাদের ক্যান্টিনে বসার সময়ের অভাব। তাস এখন তুরুপের তাস। তাস খেলা মানে কেরিয়ারে ত্রাস।পার্থ ছিল ভিতরেই। বাইরে হাল্কা শীতের আমেজ। যতক্ষণ না বড় দিদিমনি আসেন, ততক্ষণ ক্লাসমেটের সঙ্গে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা মনস্থ করলাম। দুকদম হাঁটলেই অরবিন্দ ভবন বা মেন বিল্ডিং। ঐতীহ্যবাহী ভবনটির আনঅলটারড স্থাপত্যকলা পুরানো স্মৃতির উদ্রেক করে। কলেজ জীবনে  এখানে আসা হত সেমিস্টার বা হোস্টেল ফি দিতে। সামনের ফলকে ডোনারদের নাম লেখা।


বেশীরভাগ জমিদার পূর্ববঙ্গের লোক। রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক দান করেছিলেন, যদিও ফলকে সেটা পাই নি। মাঠে কিছু ছেলে ক্রিকেট খেলছে।
আজকাল কেন্দ্রীয় সরকারের চাপাচাপিতে হিন্দি ভাষার উপর জোর পড়েছে। তবে আমার মনে হয় হিন্দু আর হিন্দি কাছাকাছি দুটো পছন্দের শব্দ হওয়াতে সরকারের এই পক্ষপাতিত্ব। পড়শী দেশের স্বাধীনতালাভের পিছনে ভাষা ফ্যাক্টর পরোক্ষে দায়ী। তাই মাতৃভাষার প্রতি বাঙ্গালী যুবসমাজের অনুরাগ স্বাভাবিক। পোস্টার দেখে সেরকমই মনে হল।

চাকরীতে থাকাকালীন “হিন্দি পাখোয়ারা” বলে বছরে একটা সপ্তাহ ধার্য ছিল। শ্লোগান রাইটিং, রচনা ইত্যাদি প্রতিযোগিতা হত। এছাড়া মাসে একটা মিটিং হত-হিন্দিতে কোন ডিপার্টমেন্ট কত নোট শিট লিখছে ইত্যাদি নিয়ে। মিটিংএ আবার হিন্দিতে হস্তাক্ষর করতে হত। হিন্দিতে আমার জ্ঞানের গন্ডি বোঝা যাবে এই দেখে যে, আমি পাশের কাউকে দিয়ে প্রেসেন্ট এর খাতায় সই করিয়ে নিতাম।
 তবে ভাষার ব্যাপার ডাইনামিক। পথে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী হিন্দিভাষী বলে মনে হল। নিজভূমে বাঙালি পরবাসী। অরবিন্দ ভবনের পিছনে আমাদের সময় খালি একটা জল খাওয়ার গোলাকার বিশাল ট্যাঙ্ক ছিল। সেটা এখনো বিদ্যমান, পাশে ক্যান্টিন খুলেছে। পাঁচটাকায় এখনো চা পাওয়া যায়। মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট ছাড়িয়ে একটু গেলেই ঝিল। দেখলাম শাপলা ফুটে আছে।

আমাদের ছাত্রজীবনেও ফুটত নিশ্চয়ই, তখন খেয়াল করি নি। না করারই কথা, দুই চোখের মুগ্ধ বিষ্ময় আটকে থাকত ঝিল কি উসপারের ঝলকানির দিকে। 

একটু এগিয়ে লেডিস হোস্টেলের পাশে ইউনিভার্সিটি গেস্ট হাউস। ভিতরে ঢুকেই প্রশস্ত ডাইনিং হল। ডাবল রুম আছে এগারটা আর সিঙ্গল দুইটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউর রেফারেন্স থাকতে হবে থাকার জন্য। একটু এগিয়ে দেখলাম এনসিসি প্যারেড হচ্ছে। ইন্সট্রাক্টরদের বাঁজখাই গলার আওয়াজ। সর্বসাকুল্য তিনটি ছেলে তিনটি মেয়ে।  কাউকে দেখে বাঙালী লাগল না। বেচারার সবাই রোগা পাতলা চেহারার, তার উপর রাইফেলের ভারে ন্যুব্জমান। 

সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর উল্টোদিকে একটা নূতন বিল্ডিং। বেশ কিছু লোকজনের ভীড়।


জিজ্ঞাসা করে জানলাম, ভর্তির পর কোন ছাত্র ছেড়ে গেলে, রেজাল্টের ভিত্তিতে উঁচু চাহিদার ডিপার্টমেন্ট পাওয়ার জন্য কাউন্সেলিং হচ্ছে। একটি ছেলে এসে আমাকে অভিভাবক মনে করে নিকটস্থ পিজি এ্যকোমডেশনের ঠিকানাসহ লিফলেট দিয়ে গেল।

একটু এগিয়ে গোপাল সেনের বাঁধানো বেদী।


ওটার উপর উনার একটা হাফ-বাস্ট মূর্তি থাকলে ভাল হত কেমন একটু ন্যাড়া ন্যাড়া দেখাচ্ছে 

সামনেই ইনডোর স্টেডিয়াম। সামনে জামা কাপড়, জাঙ্ক জুয়েলারির অস্থায়ী দোকান। বিক্রিবাট্টা মন্দ নয়।


রথ দেখা কলাবেচা একসাথে। সরস্বতীর মন্দিরে লক্ষীর বিচরণ। হাজার হোক মায়ের পেটের বোন। ফেলে দেওয়া যায় না। ডিপার্টমেন্টের সামনে ওয়েট করছি, বেটার হাফের বদলে লেসার হাফের সঙ্গে দেখা। আমাদের এইচওডি ক্লাসমেটের বর আবার কম্পিউটার সাইন্স ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর। অমায়িক জেন্টলম্যান। চেনা ছিল। একটু গল্প হল। বল্লাম আজকেই চলে যাব- লেসার হাফ দিয়েই কাজ চালাতে হবে মনে হচ্ছে।  বাটন ফোন বার করে বোতাম টিপে কথা বলে জানাল, এখনই সহপাঠিনী  বেরোচ্ছে। 

ডিপার্টমেন্টের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করছি, গেটে সাঁটানো পোস্টারে চোখ গেল। প্রফেট মহম্মদকে জানার আহ্বান করা হচ্ছে।


শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্ম ঢুকে পড়েছে। জানা কি না জানার উপর কি সহনশীলতা নির্ভর করে? কবি তো বলেই গিয়েছেন -‘ আমি জেনেশুনে বিষ করেছি পান 

সহপাঠিনীকে ফোন করে জানলাম সে কেপিসি কলেজের ভিতর দিয়ে হেটে আসছে। বল্লাম-“হাতে বেশী সময় নেই, তোকে রিসিভ করে নিয়ে আসি, রাস্তাতেই কথা হবে, ডিপার্টমেন্টে আর ঢুকব না।

যাদবপুরে এখনো যে এক মার্জিত সুশীল সমাজ রয়েছে তা আমার সহপাঠিনী দম্পতিকে দেখে বোঝা যায়। আটপৌরে শাড়ী সাধারণ প্রসাধনে দেখে মনেই হবে না একটি নামকরা কলেজের এইচওডি।


তার বরকেও দেখলাম তাই। সাধারণ বেশভূষা। বাটন ফোন দেখে জিজ্ঞাসা করেছ্লাম- ‘এখনও স্মার্ট হতে পার নি!’ স্মিত হেসে লাজুক গলায় বল্ল- আছে একটা।

অরবিন্দ ভবনের সামনের গেট দিয়ে বেরোলে যাদবপুর স্টেশন যাওয়ার রাস্তাটা ক্রস করে কেপিসির গেট। এটা এখন এক মেডিক্যাল কলেজ। মনে পড়ে ছাত্রজীবনে একবার ঢুকেছিলাম। বিশাল সবুজে ছাওয়া ক্যাম্পাস ছিল।


ক্ষয়িষ্ণু টিবি রোগের মত সেই সময়ে ক্ষয়িষ্ণু টি বি হাসপাতাল। আমাদের ছাত্রজীবনে টিবির ভাল ঔষধ বেরিয়েছিল, তখন রোগটা আর মারণ রোগ ছিল না। কবি সুকান্ত এই টিবি হসপিটালে মাত্র একুশ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালে মারা যান।

সহপাঠিনীর কাছে শুনলাম এখন ইউনিভার্সিটির বেশীরভাগ চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী ঠিকায় কাজ করেন। সিংহভাগ কাজ তাঁরাই করেন অথচ পার্মানেন্ট স্টাফের থেকে অনেক কম মাইনে পান। তারা এখন ইউনিয়ন বানিয়ে দাবী আদায়ের চাপ দিচ্ছে। এই অব্যাবস্থা খালি এখানেই নয়, আমাদের ক্যাশ রিচ পাব্লিক সেক্টরেও।

যাক এবার বিদায়ের পালা। পার্থকে টাটা করে উঠে পড়লাম অটোতে।

দেবদত্ত 

২৬/১১/২২

Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments