নি-জার্ক রিএ্যকশন (রম্যরচনা)


 নি-জার্ক রিএক্যশন

নার্ভের সমস্যা বোঝবার জন্য ডাক্তারবাবুরা রোগীকে শুইয়ে হাটুর একটু নীচে হাতুড়ি দিয়ে হাল্কা টোকা মেরে দেখেন পায়ের মুভমেন্ট হচ্ছে কিনা। অনেক সময়েই এই ফ্রেজটা ব্যবহৃত হয় কোন ঘটনার অব্যবহিত পরে অবশ্যম্ভাবী সাধারণ মানুষের আচরনের মধ্যে। 

আজকের কাগজেই দেখলাম, অমেরিকান অর্থনীতিতে মন্দা আস্তে চলেছে। এর কারণ হিসাবে যে দুই/তিনটি উদাহরণ বলা হচ্ছে, যেটা শুনলে আমেরিকানদের উদ্ভাবনী শক্তির খুরে খুরে নমস্কার না জানিয়ে পারা যাবে না। 


ওদেশে এইসময়ে ছেলেদের আন্ডারগারমেন্টের বিক্রি কম গিয়েছে।অমেরিকান পুরুষরা নাকি ডিফারেন্ট ব্র্যান্ডের আন্ডারগারমেন্ট কিনতে ভালবাসে। আজকাল স্ট্যাটিটিক্স অনুযায়ী ছেলেদের আন্ডারগারমেন্টের বিক্রি কমে গিয়েছে। 


অন্য কারণটা আরো মজার।দেবী না জানন্তি, কুত্রাপি মনুষ্য’, এই সংস্কৃত শ্লোকটি যে ভাবার্থ প্রকাশ করে সেটা হল, মহিলামনের দুর্বোধ্য অচরণ (পাঠিকারা ক্ষমা করবেন) রিসেসনারি এনভাওরমেন্টে অমেরিকান মেয়েদের পারচেসিং ট্রেন্ড, আদিকালের সেই সংস্কৃত শ্লোকের যথার্থতা প্রমাণ করে।  অমেরিকান মেয়েরা অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে, স্বল্প দৈর্ঘের স্কার্টের বদলে একটু বেশী লম্বা ঝুলের স্কার্ট পরছে। হঠাৎ করে এর পিছনের গূড় কারণ অনুমান করা মুস্কিল।এর পিছনের আসল লজিক বুঝতে গেলে, হালফিলের ফ্যাশান সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হতে হবে। সাধারণভাবে মনে হবেলম্বা ঝুলের স্কার্টে তো কাপড় বেশী লাগে, তাই তার দাম বেশী হবে, সুতরাং খরচা বাঁচানোর লজিক টিকছে কোথায়। আসল ব্যাপার হল স্টাইলিশ লুকের জন্য ছোট স্কার্টই মহিলাদের পসন্দের তালিকায় থাকে, তাই তার দাম বেশী হয়। 

এরকম আরেকটা ব্যাপার হল অর্থনীতির মন্দার সময় মেয়েদের তুলনামূলক ভাবে লিপস্টিক কেনা বেড়ে যায়, অন্য প্রসাধন সামগ্রীর তুলনায়। ২০০০ সালে মন্দার সময় এই ট্রেন্ডটা দেখা গিয়েছিল। ইকনমিস্টরা এর নাম দিয়েছিলেনদ্য লিপস্টিক এফেক্ট আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক লাগলেও, একটু গভীরে গেলে বোঝা যাবে মেয়েরা কতটা তীক্ষ বুদ্ধির অধিকারিণী (আশকরি এবার পাঠিকারা খুশী হবেন) অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী তুলনামূলক ভাবে লিপস্টিকের তুলনায় বেশী দামী। আর ছেলেদের চোখে, মেয়েদের মুখের গাড় লিপস্টিকের প্রলেপটি বেশী শিহরণ জায়গায়। তাই তো,  ‘কহেন কবি কালিদাস’…’তন্বী শ্যামা শিখরি-দশনা পক্কবিম্বাধরোষ্ঠী…..’


আজকেই আমার নিজেরই নি-জার্ক রিএক্যশনের এক হাস্যকর অভিজ্ঞতা হল। সকালবেলা অমলেট বানাতে গিয়ে প্যানে তেল গরম করেছি, অসাবধানে প্যানের হ্যান্ডেলে হাত লেগে সেটা ওভেন থেকে উল্টে মেঝেতে পড়ে গেল। রিফ্লেক্স এ্যকশনে প্যানটার ডাউনফল রোধ করতে গিয়ে হাতে নাতে ফল পেলাম। গরম তেল পুরো হাতের তালুতে। ঠান্ডা জলে হাত টাত ধুয়ে বারণল লাগিয়ে বসে আছি। পরে কি হবে সেটাফলেন পরিচয়তে’! মেয়ে বাই করতে এসেছে। অফিসে যাবে। বাই বলে হাত নেড়ে খেয়াল হল ডান হাতের বদলে বাম হাত নাড়ছি। কারণ ধরে নিয়েছি ডান হাত ইনজিওরড। যদিও ডান হাতের ছ্যাকা সমান্যই মনে হচ্ছে এবং বাই করতে কোন সমস্যাই নেই। কিন্তু ওই যে মনের মধ্যে চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে ডানহাত ইনজিওরড। 


Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments