পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে নব্যদৃষ্টিভঙ্গি


 Women’s lib

আমাদের কলেজ লাইফে, কোনো মেয়ে সিগারেট খায়, রকমটা রেয়ারলি শোনা যেত। কাউকে খেতে দেখা গিয়েছে শুনলে, সেটাখবরহয়ে যেত। কালকে আমার মেয়ের কাছে যা শুনলাম তাতে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার যোগাড়। ওর এক পাঞ্জাবি বন্ধুর কাজিন ব্রাদারের জন্য পাত্রী খোঁজা চলছে। ছেলেটি ভেজিটেরিয়ান তো বটেই, হার্ড ড্রিংক্স কি সিগারেটও কোনদিন খায় নি। ভেজিটেরিয়ান পাত্রীতে কোন সমস্যা নেই, কারণ বেশীরভাগ পাঞ্জাবি ভেজিটেরিয়ান। সমস্যা দেখা যাচ্ছে সিগারেট লিকার খাওয়া নিয়ে। আজকাল ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট দিয়ে প্রস্পেকটিভ পাত্র পাত্রী নিজেরাই দেখা সাক্ষাত করে ইনিশিয়াল স্ক্রিনিং করে বাবা-মাকে জানায়। বেশীরভাগ মেয়ের প্রোফাইলে দেখা যাচ্ছে লেখা আছে স্মোকিং ড্রিংকিং এর পাশে লেখা- ‘অকেশেনালি ছেলেটা বেশ কয়েকটা মেয়ের প্রোফাইল সিলেক্ট করে, তাদের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে কথা বলতে গিয়েছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই একটু চাপাচাপি করতে জানা গিয়েছে সবগুলি মেয়েই বেশ ভাল পরিমাণে ড্রিংক সিগারেটে অভ্যস্ত। ছেলেটি এখনও হন্যে হয়ে পাত্রী খুঁজছে!

আমার মেয়ের কলেজের এক বান্ধবীর বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনলাম। মেয়েটি রাচীতে বর্ণ এন্ড ব্রট আপ। এখন ইনফেসিসে চাকরী করে। দিল্লিতে থাকে। সম্প্রতি মেয়েটি ইনিশিয়াল কথাবার্তার পর, চলে গিয়েছিল ব্যাঙ্গালোরে ছেলেটিকে মিট করতে। দুজনেই বাঙ্গালী। আমার মেয়ের বান্ধবী, সে নাকি ভালই ড্রিংক ধূম্রপান করে। ছেলেটি সব ছোঁয়ও না। পাবে মেয়েটার দারু খাওয়া দেখে ছেলেটা নাকি মিনমিন করে বলেছে-“শোনো, বিয়ের পর একটু লাগাম দিতে হবে তো!”

তবে সব সময় যে এরকম হবে তা নয়। আমার এক বেঙ্গলি কলিগের মেয়ে, পাশের সোসাইটিতে থাকে, তারও বিয়ের খোঁজ চলছিল। দিল্লির এক বাঙ্গালী ছেলের সাথে সম্বন্ধ এসেছিল। ছেলেটি বাবা মায়ের এক সন্তান, বেশ ভাল চাকরী করে। গতবছর পূজার সময় দুজনে এক রেস্টুরেন্টে দেখা করেছিল। মেয়েটির একটু দেরী হয়েছিল। ছেলেটি ততক্ষণে মদিরাসেবনে রত। ছেলেটি কথাবার্তার মধ্যে জানাল যে তার বাড়ী খুব লিবারেল-বাবামায়ের সঙ্গে একসাথেই উইকএন্ডে মদ্যপান হয়। মেয়েটিকে আমি চিনি, তার কাছে মদ যে অচ্ছুত সেরকমটা নয়, তবে ছেলেটির মদ্যপান সংক্রান্ত কথাবার্তা, ককটেলের স্টোরি টেলিং শুনে মেয়েটি ভাবছে কতক্ষণে পালাই। ছেলেটি অবশ্য মেয়েটিকে সাধাসাধি করেছিল এক পেগ খেতে, তবে মেয়েটি রাজী হয় নি। রেস্টুরেন্টে এরকম দেখাসাক্ষাতের পর টোটাল বিল, হাফ হাফ করে দুইজনের পেমেন্ট করার কথা। যদিও বিলের বেশীরভাগ অংশটা হুইস্কি সেবনের বিল, তবুও মেয়েটিকে অর্ধেক বিল দিতে হল। আবার উবের ধরে বাড়ী আসা, যদিও ছেলেটি একবার বলেছিল ওর কাছে ড্রাইভার সমেত গাড়ী আছে এবং লিফ্ট দিতে পারে। কিন্তু মেয়েটি মনে মনে মনে মনে নেগেটিভ ডিশিসন নিয়ে নিয়েছে, তাই আর রাজী হয় নি। বেশ কিছু টাকা আক্কেল সেলামী গেল, এই বলে মেয়েটির মা আমার মিসেসের কাছে দুঃখ জ্ঞাপন করছিল।

আরেকটা ব্যাপারও জানলাম। আমাদের সময় বিয়ের ব্যাপারে একটা প্রবাদবাক্য খুব ইউজ হতহীরের আংটি ব্যাঁকা হলেই বা কি?” এর অন্তর্নিহিত অর্থ হল ছেলের ইনকামটাই আসল, চেহারা ছবিটা সেকেন্ডারি ব্যাপার। আজকালকার মেয়েদের কাছে নাকি লুকটা একটা প্রাইম ফ্যাক্টর। আমার আরএক কলিগের ছেলে ভাল জায়গা থেকে এমবিএ করে ভাল চাকরী করে। হাসিখুশী সপ্রতিভ। লুকটা তেমন নয় আর বেশ বেঁটে, তার বয়স বত্রিশ, কিন্তু পাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। 

এসব চেঞ্জ অফ আউটলুকের পিছনে একমাত্র কারণ মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

দেবদত্ত 

২৫/০৮/২২


Comments

  1. একেবারে সঠিক পরিস্থিতির বর্ণনা!

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments