দুঃস্বপ্ন (রম্যরচনা)


 আজ সকালে উঠেছি দশটারও পরে। এটার কারণ হল এক দুঃস্বপ্ন। এবিপি আনন্দ,    জি চব্বিশঘন্টা, টিভি এইট্টিন, এনডিটিভি, আকাশ বাংলা সব চ্যানেলে তৃণমূলের দুর্দশা দেখে দেড়টা নাগাদ শুয়েছি।কাল রাত তিনটে নাগাদ ঘুম ভেঙে গেল। এসি চলছে। তবু মনে হল অল্প অল্প ঘামছি। সদ্য দুঃস্বপ্ন দেখে উঠেছি, তাই মনে আছে। গেটের দারোয়ান বেল বাজিয়ে বল্ল ইডি আয়া হ্যায়।

মাথায় বাজ পড়ার অবস্থা। আমি রিটায়ার্ড লোক, মন্ত্রীটন্ত্রী নই, তাহালে ইডি আমাকে পিক করল কেন। সত্যি কথা যে মোদীসাহেবের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে বিষোদগার করি। এতো লঘুপাপে গুরুদণ্ড! এখন ঠেলা সামলাও। বাড়ীতে তো কুড়ি কোটি দূরে থাক হাজারদুয়েক ক্যাশও নেই। নুন থেকে মোবাইল, সবই অনলাইন পারচেস। কালকে স্টার আনন্দের ডিবেটে কেউ বলছিলেন তৃনমূলের নেতার যার যার কাছে ক্যাশ ছিল সব পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার হাজারদুয়েক পুড়িয়ে কি হবে? কি করি কি করি? সোসাইটির গেট দিয়ে বেরিয়ে পুলিশ ভ্যান দেখলাম। নিশ্চয়ই হাতকড়া পরিয়ে ওঠাবে। এরকম সময়ে সিগারেট খেলে বুদ্ধি বাড়ে। একটা সিগারেট কিনে জুতসই টান মেরে বুদ্ধি খেলে গেল। পাশেই ফর্টিস হাসাপাতাল। ফোন করলাম। একটি মেয়ের গলা। বল্লাম-“ম্যাডাম, হামারা দিল কা দৌড়া পড়া হ্যায়। এক বেড মিলেগা? সে একটু থতমত খেয়ে বল্লচিন্তা মত করিয়ে, আভি এম্বুলেন্স ভেজ রহে হ্যায়!” একটু নিশ্চিন্ত। বাড়ী ফেরার সময় গেটে সিকিইরিটি বল্লইডি আপকা ফ্ল্যাট মে গিয়া হ্যায় ব্যাপার কি পুলিশ টুলিশ কোথায় গেল। কাল পার্থর গ্রেপ্তারীর পর দেখছিলাম কমান্ডো বাহিনী ইনস্যাস রাইফেল নিয়ে দাড়িয়ে। আমার বেলা দুটো গাদাবন্দুকওয়ালা পুলিশও পাঠায় নি! বাড়ীর ভেতর অপরিচিত গলার আওয়াজ। যা থাকে কপালে বলে ঢুকেছি। বৌ বল্ল তুমি গিয়েছিলে কোথায়। মাখিজা সাহেব কতক্ষণ ধরে বসে আছেন। মাখিজা আমার রিটায়ারমেন্টের আগের বস। ইডি হয়ে রিটায়ার করেছে! এম্বুলেন্সের সাইরেন বাজার আগেই ঘুম ভেঙে গেল! 😂

দেবদত্ত
২৪/০৭/২২

Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments