দিল্লিতে লোকসংস্কৃতির ঝলক

 

                             লনে ফটো তোলার সুব্যবস্থা
দিল্লিতে লোকসংস্কৃতির ঝলক

দিল্লিতে এবারে গরমটা তাড়াতাড়ি পড়ে গেল। মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৩৭/৩৮ থাকছে। আজকাল ঠান্ডা পড়ার একটা নূতন বাংলা হয়েছে, সেটা হলপারদ পতন  তাপমাত্রার উর্ধমুখী গতির কোন বিকল্প বাংলা পাই নি। তবে বিকালের দিকে মোটামুটি প্লেসেন্ট।সেই ভরসাতেই বিকালে গুটিগুটি এগোলাম মান্ডীহাইসস্থিত রবীন্দ্র ভবনের উদ্দেশে।আজকে আবার ডাবল ধামাকার দিন। গোলডাকঘরের কাছে মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে বাংলা বইমেলা ওদিকে আবার সঙ্গীত নাটক একাডেমি আয়োজিতসপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন প্রদেশের সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঝলকানি। দোনামোনা করে দ্বিতীয়টাকে বেছে নিয়েছি।

মেট্রোতে গেলে একটা উপরি পাওনা হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে। বেশ সাবানেরও কাজ করে। অনেকটা ফাউএর মত। সোসাইটির গেটেও রাখা থাকে। যেতে আসতে হাতটা ক্লীন করে নিই। এই ব্যাপারে ছোটবেলায় পড়া কিপ্টেকে নিয়ে লেখা গল্প মনে পড়ে গেল। এক কিপ্টে বুড়োর নস্যির খরচা শূন্য, উপরন্তু উনার সিগারেটের নিখরচা। শোনা গেল উনি রাস্তায় কেউ নস্যি নিচ্ছে দেখলে, একটু নস্যি চেয়ে নিতেন। এই ব্যাপারে তার চক্ষুলজ্জা নস্যি। আঙুলের চিমটে দিয়ে তোলার সময় একটু বেশী তুলে নিতেন, কিছুটা নাকে চালান করে বাকিটা ডিব্বায় ভরে রাখতেন। পরে দোকানে সেই ডিব্বা দিয়ে বার্টার সিস্টেমে সিগারেট যোগাড় করতেন। নস্যিটা সলিড বলে কিপ্টে, থুড়ি, হাড়কিপ্টে সাহেব বেশী তোলার সুবিধাটা পেয়েছিলেন, লিকুইড স্যানিটাইজারে কি ফরমূলা হবে সেটা গল্পে লেখা ছিল না। জনান্তিকে জানাই আমি পুরো প্যান্ডেমিক পিরিয়ডে একটাও স্যানিটাইজার কিনি নি। মাস্কটা কিনতে হয়েছিল পুলিশের ফাইনের ভয়ে। দুদিন আগে পার্কে হাটতে গিয়ে পুজো কমিটির এক হর্তাকর্তার সঙ্গে দেখা। গল্পগাছার মাঝে দেখলাম হাতে কি একটা লাগালেন। আহা কি খুশবু। জিজ্ঞাসা করতে জানালেন উনি ঘনঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগান। আমি একটু উপদেশ দিলাম এত সুন্দর গন্ধওয়ালা জিনিষ, হাতে না লাগিয়ে জামায় লাগান। পারফিউমের খরচা বেচে যাবে। দেখি হা করে আমায় দেখছেন।আজকাল পার্কে খুব মশা। একটা মশা প্রায় উনার মুখে ঢুকে পড়ছিল। আমি তাড়াতাড়ি সটকে পরলাম। হিতোপদেশে পাছে হিতে বিপরীত না হয়ে যায়।

 মেট্রো থেকে নেমে ভগবানদাস রোড আর কোপারনিকাস মার্গ পেরোলেই রবীন্দ্র ভবনের গেট। কলকাতার রাস্তার মত অত না হলেও কিঞ্চিৎ হকারের দেখা পাওয়া যায় রাস্তায়। আইসক্রীম ওয়ালার উপস্থিততি জানান দেয় দুয়ারে গ্রীষ্মকাল। মিষ্টি আলুও বিক্রি হচ্ছে। আলু পুড়িয়ে তাতে বিটনুন আর লেবু মাখিয়ে দেয়। চমৎকার খেতে। এটা শীতকালেই বেশী চলে।কলকাতায় এটার চল দেখিনি। আরেক জায়গায় ফুটপাথের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে বই বিক্রি হচ্ছে। 

এরমধ্যে নেপালী টুপি পরা একটা লোক দেখলাম নানারকম রুদ্রাক্ষের মালা আরো কিছু জিনিষ বিক্রি করছে। কয়েকদিন আগে নাটক দেখতে এসেও ওকে লক্ষ্য করেছি।

                                 নেপালী হকার
কাস্টমার নেই। ভাবলাম এই সুযোগ, একটু আলাপ করা যাক। জিজ্ঞাসা করাতে বল্ল- নেপাল থেকে প্রতিবছর দুই তিনমাসের জন্য দিল্লিতে আসে, এখানে রাস্তার পাশে লাগানো গাছের বেদীটাই ওর বিক্রিবাট্টার জায়গা। নেপালী শুনে ওকে বল্লাম - দাজু, রামরো ছ। ছোটবেলায় টেনিদার গল্পে পড়া নেপালী ভাষার নলেজ কাজে লেগে গেল। লোকটির নাম ভজন পত্রী। ইউপির পিলভিটের কাছে একটা ইন্দো নেপাল বর্ডার আছে। সেখান দিয়ে এসে দিল্লি অব্দি বাসে করে আসে। একটা কাপড়ের উপর ওর বেসাতি সাজান। হরেক রকম রুদ্রাক্ষের মালা, স্ফটিক কালো পাথরের শিবলিঙ্গ, আংটি ইত্যাদি নিয়ে তার পসরা। নেপালের সরকারি জঙ্গলে নাকি অনেক রুদ্রাক্ষ গাছ আছে। সেই জঙ্গলে সরকার থেকে ইজারা দেয় মাটিতে পড়ে থাকা রুদ্রাক্ষ সংগ্রহ করার জন্য। জানা গেল পাঁচমুখী রুদ্রাক্ষ সবচেয়ে কমন। বেশীরভাগ মালা ওটা দিয়ে তৈরী। একমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করা শুভযোগের ইঙ্গিত। আমাকে দেখাল, অনেকটা ছোট কমলালেবু সাইজের। দাম বল্ল হাজার টাকা। একটা বাক্সে রাখা ছিল গোল কালো কালো মশলা জাতীয় জিনিষ। নাম বল্ল পাহাড়ী ধনিয়া। এক তোলা মানে দশ গ্রামের দাম একশ টাকা। আমাকে একটা টেস্ট করতে দিল। মুখের ভিতর রাখতে একটা সুন্দর টেস্ট এল, অনেকটা মাউথ ফ্রেশনারের মত, সেই রেশটাই রইল অনেক্ষণ। ভজনকে জিজ্ঞাসা করলাম-“মাসে কেমন ইনকাম হয়?” বল্ল - ঠিক নেই কোন মাসে তিরিশ চল্লিশ হাজার, তো কোনমাসে পনের হাজারও হয় না। ওরা কয়েকজন মিলে দলবেধে আসে, থাকার ব্যাপারে জানাল- নয়ডাতেই সবাই মিলে একটা ঘর ভাড়া করে। বল্ল, গরমকাল আসছে, পরশু ফিরে যাবে দেশে। অবাক বিষ্ময়ে ভাবি সামান্য কিছু রোজগারের জন্য সুদূর নেপাল থেকে  ওকে আসতে হয়েছে। 

রবীন্দ্র ভবনের লনটা রুচিসম্মতভাবে সাজান। লনের পিছনদিকে কালো কাপড়ে নিখুতভাবে তৈরী মঞ্চ। সাড়ে পাচটা থেকে অনুষ্ঠান শুরু। এগারটা থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ইত্যাদি হয়, বিকালে পারফরমেন্স। একটা মনিপুরী নাচের অনুষ্ঠান তখন শুরু হয়ে গিয়েছে। দুইজন মহিলা পারফরমার, নাচ মুভমেন্টের সাথে শিল্পীরা নাটকের বাচনভঙ্গীতে কিছু বক্তব্য রাখছেন। মনিপুরী ড্যান্সে যেমন ড্রেস দেখি, পরনে সেই রকম পোষাক, তবে ঘাঘরার ঘেরটা অত বেশী নয়।

                     মনিপুরী ফোক ড্যান্স শিল্পীরা
গানের গলা এবং মুখের অভিব্যক্তিতে ওরা যে জাতশিল্পী তার প্রমান পাওয়া যায়। ভাষাটা মণিপুরী, তাই থিমটা ধরতে পারি নি। অনুষ্ঠান শেষে, শিল্পীরা তখন চলে গিয়েছেন, মঞ্চের পিছনে দুজন মধ্যবয়স্ককে দেখে মনে হল মনিপুরী। ওরাই জানালেন নৃত্যনাট্কাটি একটি জনপ্রিয় ফোক-লোরের থেকে নেওয়া। রাজকন্যার পছন্দের পুরুষটিকে রাজা রিজেক্ট করেছেন, তাই রাজকন্যা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল, পরে সে ফিরে আসে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে। যে শিল্পী প্রধান চরিত্রে ছিলেন, উনিই পালা করে রাজকন্যা, নায়ক, খলনায়ক, সব চরিত্র অভিনয় করে দেখালেন। রতন থিয়াম বলে একজন মনিপুরী, আশির দশকে,দিল্লীর বিখ্যাত নাট্যব্যাক্তিত্বের মধ্যে একজন। উনার পরিচালিত নাটক দেখেছি শ্রীরাম আর্ট সেন্টারে। পরে উনি এনএসডির ডাইরেক্টর হয়েছিলেন। জিজ্ঞাসা করলাম উনার কথা। ওরা সমস্বরে জানালেন, খুব ভাল করে চেনেন।

এখন দশ মিনিটের ব্রেক। আমি, গৌতম রন্টুদা চললাম চা খেতে। রবীন্দ্র ভবনের পিছনের গেটটা দিয়ে বেরোলে ফিরোজ শা মার্গ, মান্ডি হাউস থেকে রাস্তাটা সোজা গিয়েছে উইন্ডসর গোলচক্কর অব্দি। দিল্লিতে বসন্ত ক্ষনস্থায়ী। ঋতুপরিবর্তনের আভাস পেলাম, রাস্তার পাশের গাছগুলিতে হাল্কা সবুজ কচিপাতার আগমনে। ফুটপাথের পাশে চায়ের দোকান। আজকাল ফিকি চা মানে চিনিছাড়া চা খাওয়ার চল। যার সুগার নেই সেও দেখি ফিকি চা খায়। চায়ের অর্ডার করে রবীন্দ্র ভবনের পিলারটাতে বসেছি।


পাশে বসে একটি লোক চা খাচ্ছিল। সে সবধান করল, পিছনের রেলিংএর শিকগুলো নীচের দিকে বাঁকান , উঠতে গেলেই মাথায় লাগার চান্স। ওর পরনের জামা কাপড় দেখলে বোঝা ছোটখাট কোন কাজ করে। উল্টোদিকের মান্ডিহাইসের গায়ে লাগানো বিল্ডিংটার নাম বল্ল নেপাল এমব্যাসী। তার পাশেই প্রাইভেট হাউসিং কমপ্লেক্স। গাছের ভীড়ে রাস্তা থেকে দেখা যায় না। লোকটির নাম বল্ল বিরিন্দর যাদব। ইউপির শিকোহাবাদে বাড়ী।

                   বিরেন্দর  যাদব ও তার সাইকেল
ওই হাইজিংএ কাজ করে। গাছ কাটা, লিফ্ট চালান, চত্বর পরিষ্কার সব রকম মাল্টি টাস্কিং করতে হয় ওকে। থাকে বল্ল সাউথ দিল্লির খানপুরে। জায়গাটা আমি চিনি, এখান থেকে প্রায় বিশ কিমি। রোজ সাইকেলে যায় আসে। মুখের হাসি স্বতস্ফূর্ত কথাবার্তা শুনে মনে হল বেশ আনন্দেই আছে। এতটা রাস্তা রোজ সাইকেলে আসে শুনে আমার বিস্মিতভাব দেখে বিরিন্দরের মধ্যে হেলদোল নেই, মনে হল দুনিয়ায় সাইকেল কর রোজ চল্লিশ কিমি আসাযাওয়া গরীব লোকেরা তো করেই থাকে, এতে আর আশ্চর্য হওয়ার কি আছে। আমার অনুরোধে ওর পক্ষীরাজ সাইকেলের পাশে দাড়িয়ে ফটোর জন্য পোজ দিল। খাস দিল্লির এই স্থানে সুরম্য অট্টালিকায় যারা থাকেন তারা উচ্চবিত্ত সন্দেহ নেই। কিন্তু তারাও সাধারন লোককে কাজে লাগান মার্কেট রেট অনুযায়ী।তারা তো কিছুটা বেশী দিতে পারেন। গরীব চিরকালই এক্সপ্লয়টেড।

ক্রমশঃ


পর্ব

রন্টুদা তখন চা-টা সবে শেষ করে জমিয়ে একটা বিড়ি ধরিয়েছেন। বিড়িকে আমরা কলেজ লাইফেখাকিবলতাম। উনার বিড়ি খাওয়া দেখে কয়েকদিন আগে কলেজের ক্লাসমেটদের হোয়াটস্ এ্যপ গ্রুপে আমার বন্ধু অপূর্ব, যে টিসিএস চাকরী করত, ওর লেখা একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেল। তখন ওদের কোন প্রজেক্টের কাজে ইংরেজ কোম্পানির বস এসেছিলেন ট্যুরে। কলকাতায় তার ড্রাইভারকে বিড়ি খেতে দেখে, কৌতূহল বশে কয়েকটান দিয়েছিলেন। তারপর সেই যে তিনি বিড়ির প্রেমে পড়ে গেলেন, তার ফলস্বরূপ, কলকাতা থেকে কেউ লন্ডনে গেলে তার হুকুম অনুযায়ী কয়েক বান্ডিল বিড়ি নিয়ে যেতে হত। ইংরেজদের আবার ভদ্রতাবোধ অসমান্য। বিনিময়ে তিনি উপহার দিতেন সিঙ্গল মল্ট হুইস্কি। 

চা ভক্ষনের পর আবার অনুষ্ঠানস্থলে এলাম। এবারে ছত্রিশগড় থেকে আগত এক মহিলা শিল্পী।

ছত্তিশগড়ী শিল্পীর জোরালো পাঠের সঙ্গে ঘুঙুরের তাল ঠোকা-অনবদ্য
জরাসন্ধবধের উপর একাংক নাটিকা। বিষ্ণুর সহায়তায় ভীম জরাসন্ধের দুই পা চিরে বধ করলেন তারই কাহিনী। খুব প্যাশনেট ফোক আর্ট। পিছনে যোগ্য সঙ্গতে বাদ্যযন্ত্রীর। মোটের উপর দারুন লাগল। 

অনুষ্ঠান দেখার সময় পাশে এক ভদ্রলোক বসেছিলেন। পরিচয়ে জানালেন উনি বেনারসের হস্তশিল্পী। সরকার থেকে মেডেল পেয়েছেন। পাশেই স্টলে উনার জিনিষ বিক্রি হচ্ছে। সদ্য দশদিন দুবাই ঘুরে এসেছেন, কোন ভারতীয় মেলা ছিল, ভারত সরকার থেকে নিয়ে গিয়েছিল। বাঙালী হিসাবে, বেনারসী শাড়ীর সাথেই পরিচিত, বাঙালি বিয়েতে নববধূর অঙ্গে আবশ্যিকভাবে থাকে বেনারসী শাড়ী। উনি বল্লেন বেনারসে কাঠের হস্তশিল্প নাকি শতাব্দী প্রাচীন। কৌতূহল হল। গেলাম উনার স্টলে। যে কাঠ থেকে কাঠের মূর্তি, শোপিস বা খেলনা বানান হচ্ছে সেই কাঠের টুকরো দেখালেন। গাছ বেনারসের আশেপাশে পাওয়া যায়। একটা জিনিস বল্লেন যে কাঠ সংগ্রহ করা হয় দীপাবলীর পর থেকে ডিসেম্বর মাস অব্দি। অন্যসময় করলে সেই কাঠ বেশী শুকনো বা বেশী জলীয় হয়। ছোট্ট ছোট্ট বাদকের সেট বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহ। মুসলীম বাদক হিন্দু বাদকদের আলাদা সেট।

             হিন্দু ও মুসলিম ব্যান্ডপার্টি বাদকের ড্রেসের পার্থক্য
আমাকে দেখিয়ে দিলেন হিন্দু মুসলীমদের পাগড়ীর ডিফারেন্স, ড্রেসও ভিন্ন। লক্ষ করলাম, হিন্দুদের গোঁফ এবং মুসলীমদের দাড়ি আছে। হস্তশিল্পের মধ্যেও কত সূক্ষ বিচারবোধ। প্রত্যেকটি আইটেমের কালার খুব ব্রাইট। কাঠ দিয়ে বানান মালা পরে উনার সঙ্গে ফটো তোলা হল।
                      রামেশ্বর সিং এর সাথে ফটো
পরিচয়ে নাম জানলাম রামেশ্বর সিং। উল্টোদিকে আরেকটা স্টল ছিল। এরা এসেছেন মধ্যেপ্রদেশের রেওয়া থেকে। এদের হ্যান্ডিক্র্যফট সুপারি দিয়ে। একটু অবাকই হলাম।সুপারি গাছ হয়ে থাকে বাংলাতে আন্দামানে। ওরা জানালেন সুপারি সবজায়গাতেই পাওয়া যায়, কারন পান সবাই খায় আর কে না জানে সুপারি আর পানপাতার মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক। এই হস্তশিল্প নাকি ওদের ইউনিক প্রডাকশন।
                       সুপারি দিয়ে বানান হস্তশিল্প
আমিও কলকাতায় এরকম সুপুরি দিয়ে বানান কোন হ্যান্ডিক্র্যফট দেখি নি। যাই হোক সুপুরি দিয়ে বানান একটা গনেশ কিনলাম। 

এরপরের অনুষ্ঠান মেঘদূত ওপেন থিয়েটারে। রবীন্দ্র ভবনের কম্পাউন্ডের পাঁচিলের পাশ দিয়ে রাস্তা। সুন্দর মঞ্চ। সামনে থাকে থাকে অর্ধ চন্দ্রাকারে বেদীতে দর্শকমন্ডলীর বসার ব্যবস্থা। মঞ্চের শেষপ্রান্তে একটি বিশাল গাছ পুরো জায়গাটার উপর ছাতার মত দাড়িয়ে আছে। লাইটিং সাউন্ড সিস্টেম অনেক উন্নত মানের। ময়ূরভঞ্জ পুরুলিয়ার দুটি দল। দুটোই পৌরানিক পালা। জটায়ূ, রাম, লক্ষণ কে নিয়ে একটা গল্প। পুরুলিয়া গ্রুপ অনেকগুলি ছোট ছোট কাহিনী ছৌ নাচের মাধ্যমে পরিবেশিত করলেন। পুরুলিয়া গ্রুপের পারফরমেন্স, ড্রেস মেটেরিয়াল- ময়ূরভঞ্জের তুলনায় বেটার লাগল।

                         পুরুলিয়ার ছৌনৃত্য
                           ময়ূরভঞ্জের ছৌ নৃত্য
অতবড় ভারী মুখোশ লাগিয়ে শিল্পীরা যখন ডিগবাজির এক্রোব্যাটিক করছিল, তখন আমার ভয় লাগছিল- এই না মুখোশ খুলে যায়। নয়টা নাগাদ ফাংশন শেষ। এবার মেট্রো ধরে ঘরে ফেরার পালা।

দেবদত্ত 

২৫/০৩/২০২২

Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments