দ্বারভাঙ্গা-এক হৃত গৌরবগাথা (ইতিহাস)




 দ্বারভাঙ্গার ইতিহাসদ্বারভাঙ্গাশব্দটার সঙ্গে অধিকাংশ শিক্ষিত বাঙালীর পরিচয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরদ্বারভাঙ্গা বিল্ডিংএর নাম থেকে। আরেকটু বেশী হয়ত যারা জানেন তারা বলবেন জায়গাটা বিহারে। তেমনি করে মিথিলা শব্দটি শুনলে মনে পড়ে রামায়নে বর্ণিত সীতার জন্মস্থান, যার জন্য তার একনাম মৈথিলী, বা মনে পড়বে মৈথিলী ভাষায় যা থেকে পরে সংস্কৃত ভাষার মেলবন্ধনে ব্রজবুলি ভাষার উৎপত্তি হয় আর সেই ভাষায় কিশোর বিশ্বকবির রচনা - শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা.... বা সজনী সজনী রাধিকা লো....

 

 

বৈদিক যুগে এইস্থানের নাম ছিল বিদেহ। সেই থেকে সীতার আরেক নাম বৈদেহী।

ইতিহাসের পাতায় ভারতের প্রিন্সলি স্টেট সেইসকল শাসককুলের অবদান ধনসম্পত্তির সম্বন্ধে অনেকেই সম্যক অবগত, কিন্তু দ্বারভাঙ্গার রাজবংশের  বা জায়গাটির গৌরবময় অতীত, ভারতীয় ইতিহাস কাহিনীতে অনেকটাই অবহেলিত।

একটা সামান্য উদাহরণ দিই। যেমন স্বাধীনতাপূর্ব ভারতবর্ষে টাটা এয়ার লাইনস, যেটা পরে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস নাম হয়, সে ব্যাপারে আমরা সবাই অবগত, কিন্তু প্রায় কেউই জানেন না যে সময় দ্বারভাঙ্গা এয়ারলাইনস  অনেকগুলো

বিশেষত উত্তরপূর্ব ভারতে হাওয়াই জাহাজ চালাত।

রামায়নে বর্ণিত মিথিলা জায়গাটি, আজকের ভূগোল অনুযায়ী উত্তর বিহারে, যার কিছু অংশ অধুনা নেপালের অন্তর্ভুক্ত। এখানের ভাষা মৈথিলী।  স্বাধীনতার সময় থেকে মিথিলা একটি আলাদা রাজ্য হিসাবে দাবী করে আসছিলেন এখানের অধিবাসীরা, তবে সেটা কার্যকরী হয় নি। বিহার ঝাড়খন্ডের অনেকগুলি জেলা যেমন মধুবনী, মুঙ্গের, মুজাফ্ফারপুর, দুমকা, চম্পারণ, পূর্ণিয়া, সহর্ষ, জামতাড়া, মাধেপুর, সমস্তিপুর, সাহেবগঞ্জ, খাগারিয়া, কাটিহার, দ্বারভাঙ্গা জেলা এরই মধ্যে পড়ে।

ইতিহাসের অনেকগুলি পাতা পিছনে চলে গেলে দেখা যায় যে এগারশ শতকের মধ্যভাগ থেকে চৌদ্দশ শতকের প্রথম কোয়ার্টার অব্দি এখানে কর্নাট বংশীয় রাজা (যারা আদিতে ছিলেন দাক্ষিণাত্যের চালুক্যবংশীয়) রাজত্ব করতেন। এই রাজত্বকালে, কর্নাট রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মৈথিলী ভাষার উন্নতির সাথে সাথে কবি, সাহিত্যিক, গায়কদের এক পরম্পরা তৈরী হয় এবং অঞ্চলটি সংস্কৃতির পীঠস্থান হয়ে ওঠে। ১৩২৪ সালে দিল্লী অফগান সুলতান গিয়াসউদ্দীন তুঘলক বঙ্গবিজয় করে মিথিলা বা তিরহুটে মুসলিম শাসন শুরু করেন। ফেরার পথে তিনি কর্নাট রাজাদের রাজধানী সিমরনগড়, যা এখনকার চম্পারণ জেলায় অবস্থিত, দখল করেন বিনাবাধায়, কারণ তার আসার খবর পেয়ে কর্নাট রাজা নেপালে পালিয়ে যান।তারপর মিথিলা অঞ্চলে ওইনওয়ার বংশের রাজত্ব চলে ১৫২৬ অব্দি। এরা আদিতে কর্নাট রাজার সৈন্যবাহিনীতে ছিলেন। এদের পদবী ছিলঠাকুর

পরবর্তীকালে, প্রায় পঞ্চাশ বছর এই অঞ্চলে বিভিন্ন ছোট ছোট জমিদারদের রাজত্ব ছিল, যারা একে অপরের সঙ্গে বিবাদ করে দিন কাটাতেন পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাদশা আকবর দেখলেন যে এখান থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে, তখন তিনি ঠিক করলেন পুরো মিথিলার শাসনভার একজন রাজার কাছেই থাকবে। এই উদ্দেশে তিনি মিথিলার শাসনভার দিলেন পন্ডিত মহেশ ঠাকুর নামে এক মৈথিলী ব্রাহ্মণ।তখন মহেশ ঠাকুর অঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ পন্ডিত ছিলেন।  এর বংশধররাই রাজ দ্বারভাঙ্গা হিসাবে মিথিলা বা তিরহুট অঞ্চলে রাজত্ব করেন। এই রাজবংশকে খান্ডওয়াল রাজপরিবার নামেও বলা হয়। এদের রাজত্বকালেই মিথিলার রাজধানী হয় দ্বারভাঙ্গা।

দ্বারভাঙ্গা শব্দটির ব্যুৎপত্তি ঘটেছে দ্বার বঙ্গ অর্থাৎ উত্তর ভারত থেকে বঙ্গদেশে প্রবেশ করবার জায়গা হিসাবে। বাংলাতে যখন মুসলিম নবাবদের রাজত্ব চলছে, তখন কিন্তু মিথিলাতে হিন্দু রাজত্ব মুঘল আমলে, ভারতবর্ষে প্রধানত চারটি জায়গাতে হিন্দুশাস্ত্র, সংস্কৃত দর্শন বৈদিক শিক্ষালাভের পীঠস্থান ছিল, এগুলি হল কাশ্মীর, বেনারস, মিথিলা নবদ্বীপ।  পনেরশ ষোলশ শতকে মহমোহপধ্যায়, উপাধ্যায় নামধারী পন্ডিতদের  কাছে বিদ্যাশিক্ষার জন্য সারা ভারত থেকে ব্রাহ্মণরা আসতেন। এখান থেকে শিক্ষালাভ করে বাঙালী ব্রাহ্মণ পন্ডিতরা টোল খুলে বসেন নবদ্বীপে এবং তাদের পান্ডিত্যের খ্যাতি সপ্তদশ অষ্টাদশ শতকে মিথিলাকেও ছাড়িয়ে যায়। চোদ্দশ শতকে মিথিলার মধুবনে কবি বিদ্যাপতির জন্ম।



মিথিলার কবি হলেও, তার অমর পদাবলি অচিরেই সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মিথিলার উপভাষা ব্রজবুলিই তার পদাবলির বাহন। এই ভাষার ধ্বনি-মাধুর্য সঙ্গীতময়তা বাংলা কাব্যকে, বিশেষ করে বৈষ্ণব পদাবলিকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি চৈতন্য-পূর্ববর্তী কবি। তাই তার রাধা মানবীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। রাধার বয়:সন্ধির দৈহিক সুষমা লাস্যময়তা তার পদাবলিকে ঐশ্বর্যময় করেছে। অনেকেই তাকে বাংলা রচনার জনক বলে জানেন। মধুবনী কলা বলে যে আর্ট ঘরানা আছে সেটারও কেন্দ্র ছিল মিথিলা।

হিমালয় থেকে অনেকগুলি নদী, যেমন, মহানন্দা, গন্ডকী, কোশি, বাগমতী, কমলা এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মিশেছে গঙ্গা নদীর সাথে। এর ফলে এখানের জমিও উর্বর কৃষিকাজে সহায়ক।  

মুঘল সম্রাজ্যের শেষের দিকে আঠারশ শতাব্দীর মধ্যভাগে, রাজ দ্বারভাঙ্গা, বাংলার নবাব মীর কাশেমের অধীনে আসে। অধীনের অর্থ দ্বারভাঙ্গার রাজা স্বাধীনভাবে মিথিলায় রাজত্ব করতেন। মিথিলা তখন প্রায় ২৫০০ বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত ছিল, রাজ দ্বরভাঙ্গা যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলাতে বানিজ্য করত তখনও রাজ দ্বারভাঙ্গা, রাজা হিসাবে শাসন করতেন। তার নিজস্ব শাসনব্যবস্থা ফৌজ ছিল। কিন্তু পলাশীর যুদ্ধ তারপর বক্সারের যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর, ইংরেজদের হাতে বাংলার শাসনব্যবস্থাও চলে আসে। ইংরেজরা সেই সময় ধীরে ধীরে বাংলার অর্ধ স্বাধীন রাজাদের ক্ষমতা কমিয়ে জমিদারী প্রথার পত্তন করেন। এটা ১৭৬৪-৬৫র ঘটনা। এতে শাসনব্যবস্থা পুলিশবাহিনী ইংরেজদের হাতে থাকে, জমিদারদের কাছ থেকে সময়মত খাজনা আদায় করাই, যেটা বিদেশী বণিকের মুখ্য উদ্দেশ্য, সেটা হাসিল হয় খুব সহজে। এই সময়ে ইংরেজরাজ, রাজ দ্বারভাঙ্গকে পদমর্যাদায় নামিয়ে, জমিদার বানিয়ে দেয়, যদিও সময়ে উড়িষ্যার ঢেংকানল, ময়ূরভঞ্জ, কেওনঝড় প্রভৃতি জায়গার জমিদারদেররাজাপদমর্যাদায় উন্নীত করে ইংরেজরা। সময়ে ভারতের সবচেয়ে বড় জমিদার ছিলেন দ্বারভাঙ্গা রাজ পরিবার। হায়দ্রাবাদের নিজাম, মাইশোরের মহারাজ বরোদার গাইকোয়ার ফ্যানিলির পরেই সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যাক্তি ছিলেন দ্বারভাঙ্গার রাজ পরিবার। এটাও মনে রাখতে হবে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণে গঙ্গানদীর অববাহিকা এবং পশ্চিমে গন্ডক নদী থেকে পূর্বে কোশি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের সমস্ত জমির মালিক ছিলেন রাজ দ্বারভাঙ্গা। সাধারণভাবে প্রিন্সলি স্টেটের রাজারা রাজ্য শাসন করলেও জমির প্রকৃত মালিক থাকত প্রজারাই।

এরপরের ইতিহাসে ইংরেজ রাজত্বেকালে স্বদেশী কার্যকলাপে এই রাজপরিবারের অসামান্য যোগদানের কথা জানানোই এই লেখার মুখ্য উদ্দেশ্য। ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত মিথিলা বা ত্রিহূট অঞ্চলের অর্থনৈতিক বা সামাজিক উন্নতি অনেকটাই পড়ে গিয়েছিল আগের তুলনায়। ১৮৬০ সালে মহারাজা মহেশ্বর সিং এর অকাল তিরোধানের পর তার শিশুপুত্র লক্সমেশ্বর সিং গদীতে বসেন। তার বয়স তখন মাত্র দুবছর। ইংরেজ সরকার তখনকোর্ট অফ ওয়ার্ডবসায়। এটা ইংরেজদের পুরানো প্রথা, যেটা অনুযায়ী নাবালক রাজার তরফে ইংরেজ সরকার কাউকে এপ্যয়েন্ট করে রাজা এবং রাজত্ব দেখভালের জন্য। কোর্ট অফ ওয়ার্ডের তত্বাবধানে রাজ্যের সুশাসনের সঙ্গে সঙ্গে শিশু রাজার অধ্যায়নের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজপুত্র পাশ্চাত্য দেশীয় শিক্ষায় সমভাবে শিক্ষিত হন।তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর শাসনভার গ্রহন করেন।

এরপর আসি রাজপরিবারের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পরোক্ষ সাহায্য এবং ভারতের শিক্ষা সেবামূলক কাজে দানধ্যানের কথায়। যদিও মহারাজা শৈশবে পাশ্চাত্ব শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছিলেন, তার মনে স্বাদেশিক ভাবধারার ঘাটতি ছিল না। তিনি ১৮৮৫ সালে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেসে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ফান্ড কালেক্টর, যদিও ব্রিটিশ তাবেদারীতে তার জমিদারীটি ছিল, তাই অনেকটাই করতে হত লোকচক্ষুর আড়ালে।  ১৮৯২ সালে যখন লক্ষ্ণৌতে কংগ্রেস অধিবেশন স্থির হয়, তখন ইংরেজ সরকার অধিবেশনের জন্য কোন জায়গা দিতে সম্মত হয় নি। তখন লক্সমেশ্বর সিং লক্ষ্নৌতে লোউথার ক্যাসেল, ষাট একর জমিসহ, কিনে নেন এবং অধিবেশন সেখানেই হয়। তিনি ১৮৯৩-৯৮ ইমপিরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের মেম্বার ছিলেন।

 

তিনি উমেশ চন্দ্র ব্যানার্জি মুখ্য বিরোধিতা করেছিলেন কয়েকটি বিল যেমন ইন্ডিয়ান টেনেন্সী এ্যক্ট, এবং ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এমেন্ডমেন্টে, যে গুলি ছিল ভারতীয়দের বিপক্ষে।৭৩-৭৪ সালের বিহার দুর্ভিক্ষে তিনি


তিনলক্ষ পাউন্ড দান করেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তার জমিদারীর বাৎসরিক আয়ের পঞ্চাশ শতাংশর বেশী ডোনেশন বা চ্যারিটিতে খরচা হত। দুর্ভিক্ষের পর, নিজ রাজ্যে, মহারাজ পুকুর জলাধার নির্মান এবং রাস্তাঘাট উন্নয়নে অনেক অর্থ ব্যায় করেন। উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধভাগে সারা ভারতে সোশাল রিফর্মস যেমন স্ত্রী শিক্ষা প্রসার, বিধবা বিবাহ ইত্যাদি সামাজিক পরিবর্তনে মহারাজা লক্সমেশ্বর সিং এর পূর্ণ সমর্থন যোগদান ছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয় উনি মাত্র চল্লিশ বছর ১৮৯৮ সালে মারা যান।

এরপর গদীতে বসেন তার ছোট ভাই রামেশ্বর সিং। তার রাজত্বের সময় ১৮৯৮-১৯২৯। রামেশ্বর তার বড়ভাইএর

তুলনায় সনাতন ধর্ম ট্রাডিশনে বেশী উৎসাহী ছিলেন। বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে মদন মোহন মালব্যর নাম প্রথমে আসে, তবে রাজা রামেশ্বর সবচেয়ে বেশী টাকা দান করেছিলেন। কলকাতা ইউনিভার্সিটি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে অনেক টাকা দান করেন। কলকাতা ইউনিভার্সিটির দ্বারভাঙ্গা হল উনার দানে তৈরী। রামেশ্বর সিং ভারত ধর্ম মহামন্ডলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভারতবর্ষে, শিল্প স্থাপনে তার অধিক উৎসাহ ছিল। টাটা স্টীল যখন তৈয়ারীড

হয়, মহারাজা ছিলেন সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার। গুজরাটের নৌশারিতে দ্বারভাঙ্গা কটন মিল খোলেন।রামেশ্বর সিং মিথিলাতে তিরহুত রেল কোম্পানিও খোলেন। রামেশ্বর সিংএর






আরেকটি দিকে উৎসাহ ছিল, সেটা হল তন্ত্রশাস্ত্র।তিনি দ্বারভাঙা থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে রাজনগরে তার রাজবাড়ী তৈরী করান।

একজন ইটালিয়ান আরকিটেক্টের ডিজাইনে তৈরী এই রাজবাড়ী সংলগ্ন সেক্রেটারিয়েট  খন্ডহারে পরিণত হয়, ১৯৩৪ সালের . রিখটার স্কেলের ভূমিকম্পে। তিনি ১৯০৮ সালে সারা ভারত তন্ত্র সম্মেলনের আয়োজন করেন  দৈনন্দিন জীবনে শোনা যায় তিনি রাত তিনটের সময় উঠে সাধনা করতেন। তার প্রাসাদ সংলগ্ন বিশাল কালীমন্দির ছিল। 


১৯২৯ তার মৃত্যুর পর কামেশ্বর সিং রাজ দ্বারভাঙ্গার গদীতে বসেন।

 

১৯৩৪ ভূমিকম্পের পর তিনি লালকেল্লা স্টাইলে এক বিশাল ফোর্ট তৈরী শুরু করেন দ্বারভাঙ্গা শহরে। তিনি একাধারে শিল্পপতি, খেলোয়াড় শিক্ষাবিস্তারকের ভূমিকায় জীবন কাটান। তার চালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে জুট মিল, পেপার মিল, সুগার মিল, সংবাদপত্র, ডেয়ারী ফার্ম, দ্বারভাঙ্গা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি, দ্বারভাঙ্গা এভিয়েশন কোন্পানি তাকে প্রথমশ্রেনীর ভারতীয় শিল্পপতি হিসাবে পরিগনিত করে

 

শিক্ষা বিস্তারের জন্য রাজপরিবারের সবচেয়ে বড় ভবন, আনন্দবাগ প্যালেস জমি দান করে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠা করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কামেশ্বর সিং কনস্টিটিউয়েন্ট এস্যেমব্লির মেম্বার ছিলেন এবং পরে রাজ্যসভার মেম্বার হন। এখানে একটা ইনটারেস্টিং ঘটনা বলি। নেহেরু জমিদারী প্রথা বিলোপের বিল আনলে, কামেশ্বর সিং মামলা করেন সুপ্রিম



কোর্টে তার জয় হয়। তখন নেহেরু বাধ্য হয়ে পার্লামেন্টে প্রথম কনস্টিটিউশনাল এমেন্ডমেন্ট পাস করান। এর ফলে জমির একছত্র অধিকারের ফান্ডামেন্টল রাইটের অবসান ঘটে। জমিদারী চলে যাওয়ার পরেও ১৯৬২ সালে তার দেহান্তের সময় তিনি ভারতের অন্যতম ধনী ব্যাক্তি ছিলেন। ৩৪ এর ভূমিকম্পের পর তিরহুট অঞ্চল পুননির্মাণে তার বিশেষ যোগদান ছিল।

তার কোন সন্তান না থাকায় ধীরে ধীরে তার বিশাল সম্পত্তি ট্রাস্টের অসাধু লোক, তার ভ্রাতস্পুত্র তার তৃতীয় পত্নীর বিবাদের জেরে ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে যায়।ইতিহাসের পাতায় একসময় মিথিলা, শাস্ত্রচর্চা, জ্ঞানের ভান্ডার, শিল্পকলায় চরম উৎকর্ষতার পরিচয় দিলেও কালের পাতায় তা ধীরে ধীরে অস্তমিত। খালি মধুবনী চিত্রকলার জন্য এখনো মিথিলা অঞ্চলকে লোকে মনে রেখেছে।

দেবদত্ত

১৫/০৪/২০২১








 




Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments