তালা (রম্যরচনা)


 তালা পার্ট

ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্তবাঙ্গালী রোমান্টিক হৃদয়ের চিরপরিচিত বাণীর সঙ্গে তাল  মিলিয়ে এখন বলা যায়-‘ঘরে তালা থাকুক কি না থাকুক আমরা তালাবন্দী

তালা জিনিষটা কিন্তু মোটেই তুচ্ছতাচ্ছিল্যের মধ্যে ধরবেন না। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত তালার কাছে পরাস্ত।তালা সংগে মিল না বের করতে পেরে, তিনি লিখেছিলেন-‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারেপাঠকমাত্রই জানেন চাবি লাগে তালা খুলতে, সুতরাং ভাঙতে হলে তালাই ভাঙ্গতে হবে। তবে ব্যাপারটা আমার মতঅকবি হাতে পড়লে যেটা বেরোত, সেটা হচ্ছে-‘ভেঙে মোর ঘরের তালা, ওরে শালা, কি পেলি রে’?

 

ছোটবেলায় দেখেছি, বেশবড়সড় রিভেট দেওয়া আলিগড়ী তালা। সেটা বাড়ীর মেন দরজায় ভিতরের দিকে লাগানো হত রাত্রে। ৬০-৬৫ সালে ঝাড়গ্রাম বিখ্যাত ছিল কয়েকটা কারণে। নেগেটিভ কারনটা হচ্ছে চোরের উৎপাত, বাকী সবই পজিটিভ, স্বাস্থ্যকর জায়গা, খাওয়ার জল খুব ভাল, কুয়োর জল, না ফুটিয়ে খাওয়া যায়, তার সঙ্গে শাল গাছের জঙ্গল। তা সেই চোরের হাত থেকে বাঁচতে বাবা, ভিতর থেকে হাত গলিয়ে, বাইরের কড়ায় একটা তালা লাগাত, তারপর একটা লাইভ ওয়্যার  প্লাগ থেকে টেনে কড়ায় লাগিয়ে দিত। সকালে উঠে প্রথম কাজ ছিল সেটা সুইচ অফ করা। এছাড়া ভিতরেও তালা লাগানো, খিল, ছিটকিনি ইত্যাদিত ছিলই। শোয়ার আগে টর্চ দিয়ে খাটের তলা দেখে নেওয়া একটা অবশ্য কর্তব্য ছিল। কারণ যদি চোর ঘাপটি মেরে বসে থাকে। চারিদিক অন্ধকারের মধ্যে বাবা টর্চটা নিয়ে নীচু হলেই, আমার বুক ধুকপুক করত, এই বুঝি চোর হাঁউমাঁউ করে বেরিয়ে এল।

 

চৌর্যবৃত্তি অন্য আদিম প্রফেসনের মধ্যে অন্যতম। কথাতেই আছে-‘চুরিবিদ্যা বড় বিদ্যা, যদি না পড় ধরা। সভ্যতার আদিযুগ থেকে, আজ থেকে ছয় হাজার বছর আগে, অসীরীয়ান সভ্যতার সময় থেকে তালার ব্যবহার আছে। তখন তালা হত কাঠ দিয়ে। বাঙ্গালী বাড়ীর কর্ত্রীর কোমরে কাছে আচঁল থেকে গিটবাধা চাবির গোছা, ঝুলিয়ে রাখাটা কয়েকদশক আগেও খুবই পরিচিত দৃশ্য ছিল। শাশুড়ী থেকে বৌমার কাছে চাবি হস্তান্তর মানে সংসারের চাবিকাঠিরও পালাবদলের সূচনা বলে ধরে নেওয়া হত। তালাচাবি ছাড়াই পয়সা রাখার একটা জিনিস হত আমাদের ছোটবেলায় বা তার আগে। সেটা ছিল মাটির ঘট। সাধারনত মেলা থেকে কেনা হত। বাজারের ফেরত  খুচরা ওতেই জমা হত। একটা ছোট্ট ফুটোর মধ্যে দিয়ে। সেটা ভরে এলে, মাটির সেই ঘট ভেঙে এককালীন বেশ কিছু টাকা পেতাম। বেশীরভাগ সময় সেটা গল্পের বইএর পিছনেই চলে যেত।

 

ঝাড়গ্রামের বাড়ীতে, সারাদিনের জন্য বাড়ীর বাইরে থাকলে, বাড়ীর বাইরের কড়ায় তালা। শিকলের উপরে একটা তালা, সবশেষে ল্যাচ টেনে তালা। ক্লাস ফাইভ কি সিক্সে পড়ার সময়, বাবা বেশ সোনালী কালারের গোল বড়সড় তালা নিয়ে এল। সেটার নাম নাকি নবতাল। গোদরেজ কোম্পানির। বাবা বল্ল এটা খুব সেফ। তালাটার গায়ে কোন রিভেট নেই। গায়ে দেখলাম লেখা সেভেন লিভার। বাবা বল্ল যত বেশী লিভার তত বেশী দাম। তখনকারদিনে খালিবাড়ী রেখে শহরের বাইরে, আত্মীয়দের বাড়ী বেড়াতে যাওয়া যেত না। কাউকে না কাউকে ফিট করা হত রাতে শোয়ার জন্য। 

 

তালা প্রসঙ্গে ছোটবেলায় পড়া, শিবরাম চক্রবর্তীর একটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। হর্ষবর্ধনবাবুর বৌএর অসুখ, গোবর্ধন ডাক্তার ডেকে এনেছে। ডাক্তারবাবু মন দিয়ে শুনলেন রোগীনির সমস্যার কথা। গম্ভীর মুখে বল্লেন- একটা স্ক্রুড্রাইভার আর হাতুড়ি চাই। হর্ষবর্ধন অবাক। কিন্তু ডাক্তারবাবুকে কি না করা যায়। সেগুলো আসার একটু পর আবার ডাক্তারের দ্বিতীয় প্রশ্ন- একটা করাত পাওয়া যাবে। হর্ষবর্ধন শংকিত। বেজায় চটে হাক পাড়লেন- বলি ব্যাপারটা কি আপনি ডাক্তার না কসাই? রোগীনিকে করাত দিয় কাটবেন নাকি?  ভালয় ভালয় ঔষধ লিখুন। ডাক্তারবাবুর বেজার মুখে জবাব- দূর মশাই, আমি মরছি নিজের জ্বালায়, স্টেথো, প্যাড, কলম সবই এই ব্যাগে। সেটার তালা এমন আটকেছে যে খুলতে পারছি না, তাই তো আপনাকে দিয়ে হাতুড়ি করাত সব আনালাম। এমনিতেই আপনার বাড়ীতে ঢোকার পর থেকে আমার মাথা গরম, আপনার বাড়ীর হাঁসগুলো পর্যন্ত আমাকে দেখে কোয়াক, কোয়াক বলে ডাকছিল। আমি কি হাতুড়ে ডাক্তার নাকি যে কোয়াক বলবে। যেমন বাড়ীর হাঁসগুলো অভদ্র, আপনিও ঠিক তাই।

আলিগড় হচ্ছে প্রসিদ্ধ জায়গা তালা তৈরীর। দিল্লির ভাড়া বাড়ীর জন্য কিনেছিলাম। দরজার তলার দিকে সেটা লাগে। মেঝেতে ফুটো করে তবেই লকের ভিতর থেকে একটা লোহার প্লেট বেড়িয়ে মেঝের গর্তের ভিতর ঢোকে। সাধারন চোরের কর্ম নয় সেটা ভাঙা। ডিমনিটাইজেশনের পর থেকে আলিগড়ের তালা শিল্প এখন তালাবন্ধের মুখে। কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে জিএসটি। আগে দেশের পঁচাত্তর ভাগ তালা তৈরী হত আলিগড়ে।

 

বিয়ের আগে আমার দিল্লীতে সি আর পার্কের ভাড়া বাড়ীতে, আমি আর বিশ্বজিত চ্যাটার্জি থাকতাম। আমাদের কলেজেরই, আমার থেকে একবছর সিনিয়ার। চাকরী করত আই এল কোম্পানীতে। আমার বিয়ের ঠিক আগে সিইএসসি তে চাকরী নিয়ে চলে গেল। ভাল গান গাইত, গান লিখত। অসমান্য বন্ধু। খালি দু একটা ব্যাপারে আমরা খুব আওয়াজ দিতাম। আমরা থাকতাম দুটো পাশাপাশি রুমে। কোথাও একসঙ্গে বেরোব, আমি দরজায় তালা লাগিয়ে রেডী। বিশু প্রথমে তালা লাগাবে। তারপর কমসে কম বার তিন-চার জোরে জোরে টেনে দেখবে, তালা ঠিকমত লাগল কিনা। বিশু তাতেও সন্তুষ্ট হবার পাত্র নয়, এক পা পিছিয়ে গিয়ে,  দড়াম করে কষিয়ে লাথি দরজাতে। আমরা হা করে দাড়িয়ে দেখতাম। ঠাট্টা করেও অভ্যাস ছাড়ানো যায় নি। যখন এরকম দিনের পর দিন অত্যাচার সইতে সইতে একদিন ছিটকিনির ল্যাচ গেল ভেঙে। তারপর থেকে লাথি বন্ধ হলেও, তিন চারবার তালা টেনে দেখা, বন্ধ হয় নি।

 

তালা পার্ট

 

ঘটনাটা আমার গল্ফগ্রীনের ফ্লাটের ভাড়াটে সম্বন্ধীয়।দুঃখজনক এই ঘটনার পর থেকে, কলকাতার পাঠকরা ক্ষমা করবেন, কলকাতায় বাসস্থান ভাবলেই ভীতি জাগে। দুহাজার সাল নাগাদ এক ফ্যামিলিকে ভাড়া দিলাম। তিনি নাকি আই আই টি, আই আই এম এর ছাত্র। তখন কলকাতার জুট করপোরেশনের কনসালট্যান্ট। আমার ফাটাকপালের কারণেই হবে নিশ্চয়ই, তার চাকরী চলে গেল, নইলে আই আই টির পড়ুয়ার চাকরী নেই, বাপের জন্মে শুনি নি। ফলত ভাড়া বন্ধ। এদিকে কলিকাতা করপোরেশন, ভাড়া আছে ধরে নিয়ে বিশাল অংকের হাউস ট্যাক্স নিয়ে যাচ্ছে। ভাড়াটিয়া ফোন ওঠানোও বন্ধ। এরকম বছরদুয়েক চলার পর দিল্লি থেকে একবার সরজমিনে তদন্তে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার ফ্লাটে বেশ বড়সড় তালা। পাশে পাম্প হাউসের লোকটাকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম সে পরিবার সমেত যাদবপুরে কোন ফ্লাটে আছে। দুদিন অন্তর আসে, আশেপাশের বিড়াল, কুকুরদের খাওয়াতে। মাথায় হাত। বেশ চিন্তা টিন্তা করে গেলাম যাদবপুর পুলিশ স্টেশনে। গল্ফগ্রীনটা ওই থানার আন্ডারে। কলেজ লাইফে থাকতাম ওই থানার ঠিক পাশের হোস্টেলে। তখন রোজই সেই থানার পাশ দিয়ে যেতাম। ঢোকার প্রয়োজন হয় নি। এবার নাচার। ওসি সাহেব নেই। সেকেন্ড অফিসার ছিলেন, তাই সই, একটা এসপার কি ওসপার দরকার। রুমে ঢোকার আগে এক শকার। উনার নাম লেখা গৌতম চক্রবর্তী যা বাবা, আমার ভাড়াটিয়ার নামও তো এক। মনে হল উপরওয়ালার আশীর্বাদ - প্রবাদ অনুযায়ী  কাটা দিয়ে কাটা তোলার, অর্থাৎ এক গৌতম দিয়ে অন্য গৌতমকে তোলার পথ প্রশস্ত। গুছিয়ে বল্লাম আমার সমস্যা। সব শুনে টুনে উনি বল্লেন, এক কাজ করুন, একটা কমপ্লেন লিখে জমা করুন আর ওর তালাটা ভেঙে আপনার তালা লাগিয়ে দিন। বাকীটা আমি দেখে নেব। সেইমত কাজ করলাম।যাদবপুর থেকে চাবিওয়ালা ধরে আনতে হল। তখনই জানলাম ওরাও ডাক্তারদের মতহাউসকলেতিনগুন চার্জ নেয়।  তারপর দুদিনের জন্য আমিও ব্যোমকেশ বনে গেলাম। তক্কে তক্কে আছি, গাছের আড়াল থেকে নজর রাখছি কখন ব্যাটা কুকুর খওয়াতে আসে। একদিন পর দেখি, সে এসেছে। নূতন তালা দেখে পাশের বাড়ীতে কিসব বল্ল। ওকে ফলো করে দেখি সে হাজির যাদবপুর থানায়। আমিও ঢুকে পড়লাম। দেখি পুলিশগৌতমওকে কিছু বোঝাচ্ছেন, হাতে আমার আগের দিনে থানায় জমা করা কমপ্লেন লেটার। তারপর সামনাসামনি বসিয়ে মিটমাট। ভাড়া আর পাওয়া গেল না তবে ফ্লাটটা উদ্ধার হল। সেই ফ্লাট কিছুদিনের মধ্যে বিক্রি করে তবে শান্তি। আমিদেবদত্তআর সেগৌতম ছোটবেলায় ইংলিশ রাপিড রিডারে এই দুই ভাইয়ের গল্প ছিল, যেখানে নিষ্ঠুর দেবদত্তর হাতে আহত পাখীকে গৌতম বুদ্ধ শুশ্রুষা করে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার এই কাহানীতে রোল রিভার্সাল।  

 

 

বিয়ের পরপর আমার ইউরিক আ্যসিডের প্রবলেম ধরা পড়ে। তাতে মাঝে মাঝে এমন ব্যাথা হত গোড়ালি অথবা হাঁটুতে যে হাঁটা তো দূরের কথা বিছানায় শুয়ে পা নাড়ানোও ছিল দুঃসাধ্য। একবার এরকম অবস্থায় কল দিয়েছি আমাদের সবেধন নীলমনি ডাক্তার ধরকে। তখন আমি অলকানন্দার গঙ্গোত্রী এনক্লেভে থাকি। ডাক্তারবাবু সি আর পার্ক থেকে এসেছেন স্কুটার নিয়ে। তার একটু আগেই সুমিতা ফ্লাটের বাইরে থেকে লক কর গিয়েছে মার্কেটে। তখন তো আর ফোনের জমানা ছিল না। ডাক্তারবাবু ব্যস্ত লোক। তিনতলায় উঠে বেল বাজিয়ে যাচ্ছেন। আমার তখন হাঁটা অসম্ভব। বিছানা থেকে নেমে রোল করে করে দরজার কাছে গেলাম। কাঠের দরজা। এদিকে জানি না সুমিতা কখন ফিরবে বাজার থেকে। অগত্যা কি আর করা। আমি এদিক থেকে বলে গেলাম ব্যাথার কথা। ডাক্তারবাবু দরজার উল্টোদিক থেকে খসখস করে ঊষধ লিখে প্রেসক্রিপশনটা গলিয়ে দিলেন দরজা আর মেঝের ফাঁক দিয়ে। আমিও ফি-টা ওরকমভাবে গলিয়ে দিলাম। পরে ডাক্তার ধর দেখা হলেই বলতেন, এরকম দরজার উল্টোদিক থেকে রোগীদেখা তার জীবনে প্রথম।  

 

সেদিন আমার ক্লাসমেট অপূর্বর কাছে ওর এই সম্বন্ধীয় মজার অভিজ্ঞতা শুনলাম। তখন হরিদ্বার বিএইচ এল চাকরী করে।পূজার ছুটি কাটিয়ে ফিরে দেখে কোয়ার্টারে অন্য একটা তালা লাগান। বেশ ধন্দে পড়ে গিয়েছে। প্রায় দুদিন দুন এক্সপ্রেসে কাটিয়ে এমনিতেই মাথা ভোঁ ভোঁ, তার উপর বাড়ী ঢোকা যাচ্ছে না। প্রথমে ভাবল নিশ্চয়ই কোন বন্ধুর প্রাকটিকাল রসিকতা। তালা কি করে ভাঙা যায় সেই উপায় ভাবছে, এমন সময় পাশের বাড়ীর আরএক বাঙ্গালী কলিগ এসে বল্ল- তুমি কি করে গেছিলে জানো কি, তালাটা তলার আংটাতে লাগিয়ে ল্যাচ উপর দিয়ে লাগিয়ে চলে গিয়েছিলে। মানে বজ্র আটুনি আর ফস্কা গেরো! পরে সেই কলিগ, তালা ভেঙে নূতন তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।

 

আধুনিক জমানা হচ্ছে অদৃশ্য তালার জমানা। যেমন ধরুন আপনার কমিপিউটারের পাসওয়ার্ড। অথবা আপনার ব্যাংকের অনলাইন পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কি ডেবিট কার্ডের পিন। পিনটা সাধারনত চার ডিজিট মনে রাখা সোজা। তাইআলপিনএর মত সরল ছোট্ট জিনিষের নাম থেকেপিনএর উৎপত্তি, আবার আলিগড়ি তালার বড়সড় চাবির মত পাসওয়ার্ডও হয়। যেমন আমাদের অফিসের মেল, ওয়েব আ্যপস এর শর্তসাপেক্ষ পাসওয়ার্ড, যেমন মিনিমাম আট ক্যারেক্টর, একটা আপারকেস লেটার, একটা স্পেশাল ক্যারেকটার। গোদের উপর বিষফোড়ার মত সেই পাসওয়ার্ড প্রতি তিনমাস চেন্জ করতে হবে এবং সেটা আবার প্রিভিয়াস দুটো পাসওয়ার্ড হলে চলবে না। মানে চাবি খুঁজতে ঢাবির ভারে আপানার চিত্তির।

আজকাল গাড়ীতে কি-লেস এনট্রি। আমার হালফিলের নূতন মারুতি এস ক্রস গাড়ীতেও সেই ব্যাপার। হঠাৎ সেদিন বাইরে বেরনোর আগে গিন্নির চ্যাচামেচি শুনে গিয়ে দেখি, গাড়ীর চাবির রিংটা  হাতে নিয়ে বলছে, ‘চাবি কোথায় গেল, নিশ্চয়ই পড়ে গিয়েছে কোথাও। বৌ এর কথা বেদবাক্য। প্রথমে কিছুক্ষণ খোঁজার পর মনে হল হরি, নূতন গাড়ীতে তো চাবি নেই, খালি একটা ছোট্ট রিমোট। সেটা তো কি রিংএ শোভা পাচ্ছে। তারপর কিছুক্ষণ এই নিয়ে হাসাহাসি হল।

 

তালা মানেই লোহা লক্কড়। রোমান্সের গন্ধ নেই। শেষ করার আগে তাই একটু শেষপাতে চাটনীর মত কিছু দিয়ে লক পর্বকে লকডাউন করব অথবা লক আপে পাঠাব। লিপলক কথাটা আগে খুব একটা শোনা যেত না। আমাদের সময় সিনেমাতেও সেন্সরের বোর্ডের মানা ছিল। ঠোঁটে ঠোঁট মিলনের সিন এলে, গাছের ফুল, নয়ত নায়িকার মাথার পিছনটা দেখা যেত। এখন এসে গিয়েছে লিপলকের জমানা, মানে ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে লক করে ফেলতে হবে, দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। আমার প্রাক্তন কলেজ, মানে যাদবপুর ইউনিভার্সিটির কল্যানে, টিভিতে দেখেছি। প্রতিবাদের অনেক ভাষার মধ্যে এটা নবতম সংযোজন। বিষয়েও ওয়ার্ল্ড রেকর্ড আছে। গুগল করে দেখলাম কারেন্ট রেকর্ড হচ্ছে ৫৮ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আটান্ন সেকেন্ড। এখন লকডাউনের বাজার চেষ্টা করে দেখবেন নাকি, যদি গিনেস বুকে নাম তোলা যায়!

 

দেবদত্ত ১১/০৫/২০২০

Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments