পাখা (রম্যরচনা)




পাখা পার্ট

 

ছোটবেলায় দুস্টুমি বেশী করলে অভিভাবক স্থানীয়দের কাছ থেকে ধমক শোনা যেত -‘খুব পাখনা গজাইসে না?’ এটা ছিল ভোকাল টনিক। দুস্টুমিটা আরো ভয়ংকর হলে আমাদের ছোটবেলায় হাতপাখার বাটটা দিয়ে কয়েকঘা খায়নি, এরকম ছেলে খুঁজলে  কমই পাওয়া যাবে। আমাদের গরমের দেশ। তাই পাখার প্রচলনটা আদ্যিকাল থেকেই আছে। রাজদরবারে পাখাবরদার, হুঁকোবরদার সবসময় মজুদ থাকত। সেই পাখার বেশ একটা লম্বা ডান্ডা থাকত। এরকম পাখাকে চামর বলা হত। পাখার হাওয়া খেতে খেতে রাজানশাই তামাক সেবন করছেন, অতি পরিচিত দৃশ্য ছিল আগেকার কালে। ঠাকুরপূজার আরতির সময়, ঘন্টা প্রদীপের সঙ্গে পুরুতমশাই চামর দোলান। তাহালে দেবতাদেরও গরম লাগে। তাই বোধহয় বেশীরভাগ দেবতাদের উর্ধাঙ্গ অনাবৃত।

আমাদের মত আমজনতাদের জন্য হাতপাখা। অবশ্য এসবই ইলেকট্রিসিটি আসার আগের কথা। আমাদের বাড়ীতে বিদ্যুৎ আসে ৬৫ কি ৬৬ সালে। প্রত্যেক গ্রীষ্মের আগে, ঝোলা নিয়ে পাখাওয়ালা আসত। খেজুরপাতা, তালপাতার হাতপাখাই বেশী চলত। কেনার আগে দেখে নিতে হত, হাল্কা কিনা, একটু বাতাস করে দেখে নিতে হত ঠিক আছে কিনা। ছোটবেলায় মায়ের পাশে খাটে শুয়ে দেখতাম মা পাখাটা নিয়ে আমায় হাওয়া করছে। অবাক হতাম যখন দেখতাম মা বেশ চোখ বুজে ঘুমাচ্ছে, কিন্তু হাতপাখা চলছে। একটু পরে হয়ত হাত নাড়ানো বন্ধ। ওমা, দেখি কিছুক্ষন পর আবার পাখার হাওয়া। আবার একটু বিরতি। এই করতে করতে কখন যে আমার চোখে ঘুম নেমে আসত, টের পেতাম না।

 

আমাদের হাইস্কুলে ফ্যান ছিল না। টিচার্সরুমে সব মাস্টার মশাই কে দেখতাম হাতপাখা ব্যাবহার করতে। আমাদের ইংরাজী পড়াতেন রাধাগোবিন্দবাবু। একহাতে পারিজাত রিডার, অন্যহাতে হাতপাখা সারাক্ষন চলত। মাঝে মাঝে ওটার বাটের ঘা পড়ত অমনোযোগী ছাত্রের মাথায়। আমাদের স্কুল থেকে কিছুটা গেলে ছিল মেয়েদের গভর্নমেন্ট স্কুল। সেটার বড়সড় গেটটা সবসময় ভেজানো থাকত।  গেটের ভিতর ইস্কুলে কিশোরীদের কলকাকলী শোনা যেত, চারিদিকে উঁচু পাঁচিল, চাক্ষুষ হত না সেই সব স্বপ্নের পরীদের, সাইকেল নিয়ে ওই স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কত যে দীর্ঘ নিশ্বাস পড়েছে। এমনকি, সরস্বতী পূজার সময়ও, যেদিন কিনা সদ্যস্নাতা, স্বপ্ন সুন্দরীর দল, এলোচুলে, বাসন্তী শাড়ীতে সজ্জিত হয়ে পূজাতে আসত, সেদিনও সেই স্কুলের গেট বন্ধ। তৃষিত নয়নে চেয়ে থাকাই সার।   তা সেই স্কুলে প্রথম ঢোকা গেল হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার সময়। কিন্তু তখন কি আর কাব্য করার সময়। দইয়ের ফোটা কপালে দিয়ে দুরুদুরু বক্ষে পরীক্ষা হলে ঢোকা। টিচার্স রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, ভিতর থেকে কে একজন ডাকল। গিয়ে দেখি ডলি পিসি। গার্লস ইস্কুলের টিচার। আমাদের পাড়াতেই থাকেন। খুব ছোট্ট থেকে আমায় চেনেন। বল্লেন - ভাল করে পরীক্ষা দিবি। তখন চারিদিকে চোখ বুলিয়ে  দেখি, ওই লম্বা হলে, ছাদের থেকে একটু নীচে, সমান্তরাল ভাবে একটা লম্বা ডান্ডা, আর সেটা থেকে মোটা কার্পেট গোছের কাপড় দুদিকে দুলছে। সেই থেকে  তলায় টিচার্সরুমে বেশ হাওয়া আসছে। একজন মহিলা, হাত দিয়ে একটা দড়ি যেটা ওই কাঠের সঙ্গে লাগানো, হাত দিয়ে এদিক ওদিক টানছে, আর তাতেই পাখার মত হাওয়া আসছে। পরীক্ষা হলে মানে সেটা একটা ক্লাস রুম, সেখানে দেখি বেশ সিলিং ফ্যান লাগানো। পরে ডলি পিসিকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম, এটা হচ্ছে লাল ফিতের ফাঁস। গরমে হাসফাস করলে কি হবে, টিচার্স রুমের জন্য স্যাংস্যান্ড পোস্ট পাখাবরদার তখনও বিদ্যমান, সেই জন্য ফ্যান কেনার অনুমতি পাওয়া যায় নি। ফাইলে ক্লার্কবাবুর এহেন অবজেকশন, বড়বাবু নাকচ করতে পারেন নি, তবে কিঞ্চিত সহৃদয় হয়ে লিখেছিলেন, কয়েকবছর পর পাখাবরদার রিটায়ার হলে, ওই পোস্টে কাউকে নিযুক্ত দেওয়া হবে না, তখন সরকারী খরচায় পাখা কেনার পথ নিষ্কন্টক।

 

বাংলাদেশে এখনও হাতপাখার বেশ প্রচলন। সুন্দরবনের দিকে বেশী। কারন অনেক জায়গায় ইলেকট্রিসিটি পৌঁছায় নি। ২০১৩-১৬ আমার পোস্টিং ছিল ওই অঞ্চলে। ওখানে দেখেছি নকশী পাখা। হাতপাখাকে আকর্ষনীয় করার জন্য একে যখন নয়নশোভন করার জন্য নানা নকশায় শোভিত করা হয় তখন সেটাকে বলে নকশী পাখা। নকশী কাঁথার মতই ব্যাপার। বাঁশের গোল ফ্রেমের মধ্যে, নানা রং এর সুতো দিয়ে নকশা তোলা হয়।ট্র্যাডিশনাল যুগল হাঁস, যুগল ময়ূর, হাতি ইত্যাদি ছাড়াও কখনো কখনো প্রবাদবাক্য বা ছড়াও ফুটিয়ে তোলা হয়। যেমন-‘যাও পাখি, বল তারে, সে যেন ভুলে না মোরেঅথবাদিন যায় কথা থাকে, সময় যায় ফাঁকে ফাঁকে সাধারনত পাখার বর্ডারটা লাল শালুর কাপড়ের ঝালর দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়। এরকম একটা নকশী পাখা বাংলাদেশে মধুমেলা ( মধুসূদনের জন্মভিটা সাগরদাড়ী গ্রামে হয়) থেকে কিনেছিলাম।

 

তবে মনে করবেন না যে হাতপাখা পুরো ইতিহাস হয়ে গিয়েছে। কাগজে পড়লাম, মেদিনীপুরে তমলুক সাবডিভিশনে পাকুড়িয়া গ্রামে ৩০-৪০ পরিবার পাখা তৈরীর কাজে যুক্ত। তালপাতা সব আসে বাঁকুড়া থেকে। পৌষ মাস থেকে শুরু হয় পাখা তৈরী। বছর লকডাউনে কারিগরদের মাথায় হাত। একলক্ষ পাখা তৈরী হয়ে পড়ে। এগুলোর বাজার মূলত দক্ষিনবঙ্গে সাধারনত হসপিটাল, স্টেশন ইত্যাদি পাবলিক প্লেসে বিক্রি হয়ে থাকে। গরমের সিজিন এখন চলছে। এরপর লকডাউন উঠে গেলেও পাখার বাজার চাঙ্গা হবে না। আসছে সামারে করোনা না থাকলে তখন আবার পাখার বাজার বৃদ্ধি হবে।

 

এই তালপাতার পাখা একবার অর্ডার দিয়ে আনিয়েছিলাম নয়ডাতে। সে বছর আমি দুর্গাপুজার প্যান্ডেল কমিটির ইনচার্জে। এখানের প্যান্ডেল তৈরী কলকাতার মত এক-দুইমাস আগে থেকে থিম বেসড শৈল্পিক কাজ হয় না। ধর তক্তা, মার পেরেক গোছের। মহালয়ার পর শুরু হয়, পন্চমীর মধ্যে কমপ্লিট। সাইজ বেশ বড়, একদিকে দুর্গা মা সদলবলে, অন্যদিকে বিশাল স্টেজ দর্শককুলের চেয়ার। নিজের বুদ্ধি খরচ করে একটু ডেকোরেশন করব ভাবলাম। সেটার জন্য বাজেট যৎসামান্য। তাপস বলে একজন টিচার আমার বাড়ীতে আঁকা শেখাতে আসত। ওকেই ধরলাম, পাখাগুলোকে ডেকোরেট করতে। তাপস, শোলা কেটে কেটে পাখাতে লাগিয়ে সুন্দর ডিজাইন করল। খরচা খুব বেশী হয় নি, তবে প্যান্ডেলটা খুব সুন্দর লাগছিল।

 

পাখা পার্ট

 

বিয়ের কয়েকবছরের মধ্যে আমাদের দিল্লির বাড়ীতে বেশ কিছু হাতপাখা জমে গিয়েছিল। কারনটা বেশ মজার। আমি চিরকালই লেটলতিফ। প্রথমবার বিয়ের পরপর, দ্বিরাগমনের সময় সুমিতাকে ওভারব্রিজ আর প্লাটফর্ম দিয়ে দৌড় করিয়েছিলাম, নইলে ট্রেন ফেল হয়ে যেত। এই দুঃসাহসিক খবর আমার শশ্রুমাতার কাছ থেকে শ্বশুরমশাই এর কানে পৌঁছেছিল। সাধারনত কলকাতা থেকে আমরা যুগলে, রাজধানী এক্সপ্রেস ধরতাম। সেটা ছাড়ত বিকাল চারটে নাগাদ। দুপুরে লান্চের পরপরই শ্বশুরমশাই ট্যাক্সি ডেকে দুজনকে হাওড়া পাঠিয়ে দিতেন, যাতে কমসেকম, ট্রেন ছাড়ার একঘন্টা আগে স্টেশনে পৌছে যাই। ফলস্বরূপ এটাই হত যে, আমরা স্টেশনে বসে দরদর করে ঘামতাম। প্রত্যেকবারই একটা করে হাতপাখা কেনা হত। এই করে অনেক হাতপাখা জমে গিয়েছিল। তব এগুলো সেই তালপাতার পাখা নয়। ফোল্ডিং পাখা। বেশ সুন্দর ডিজাইন করা। বাট দুটোকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিলেই সেটা সুন্দর গোলপাখা হয়ে যেত। এটাকে আমরা জাপানি পাখা বলতাম।

 

এবার বৈদ্যুতিন পাখা যার চলতি কথায় নাম ফ্যান, তার কথায় আসি।

ছোটবেলায় দুর্গাপুরে মামার বাড়ী যেতাম। সাধারনত গরমের ছুটির সময়। সব মাসতুতো ভাই বোনদের সঙ্গে মজায় সময় কাটত। সবাই মিলে রাতে মাটিতে বিছানা করে শোয়া হত। একটাই টেবিল ফ্যান ছিল সেই ঘরে। ফ্যানটার ঠিক পাশে শোয়ার জন্য প্রায়ই যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরী হত। প্রায়ই বড়মামাকে এসে সামাল দিতে হত।

 

ছোটবেলায়, সাধারন জ্বরজারি,পেটখারাপ অথবা সর্দিকাশিতে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারই ছিল ভরসাস্থল। সেই শচীন ডাক্তার খুব ছোট্ট থেকে আমায় চিনতেন। দশ কি বিশ পয়সার ফি মকুব ছিল আমার জন্য। আমাদের মত শিক্ষিত ক্লাসের জন্য সামনে চেয়ার, গরীবদের জন্য সাইডে বেঞ্চ। উল্টোদিকে ছিল লম্বা স্ট্যান্ডওয়ালা টেবিল ফ্যান। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে গেলে, আমি গিয়ে শচীন ডাক্তারবাবুর ড্রয়ারের পাশে চলে যেতাম, ফ্যানের হাওয়া খেতে খেতে,ড্রয়ারে রাখা পয়সা  গুনে সেগুলো দিয়ে তালগাছ বানাতাম। ডাক্তারবাবুর ছিল মাঝখান দিয়ে সিথি করা বাবরি চুল। সেই চুল ফ্যানের হাওয়ায় উড়ত আর উনি রোগীদের সঙ্গে, তার ফেবারিট টপিক, সুভাষ বোসের গুনগান আর গান্ধীজির মুন্ডুপাত করে বেশীরভাগ সময় কাটাতেন, রোগের বিবরন শোনার সময় সংক্ষিপ্ত।

 

 বিজলী আসার কিছুদিন পরপরই গ্রীষ্মের সময় বাবা বল্ল ফ্যান কিনবে। মা আর আমি খুব খুশী। যাক কষ্ট করে আর হাত নাড়িয়ে পাখার বাতাস করতে হবে না। পাখা এল বেশ বড়সড় সাইজ। বাবা বল্ল- ঘরটা বড়, তাই ৫৬ ইঞ্চি ব্লেডের পাখা। বেশী নাকি চলে ৪৮ ইঞ্চি ব্লেডের পাখা। ছাতটা ছিল কড়িকাঠের। এখনকার মত ফ্যান ঝোলাবার আংটার বন্দোবস্তো ছিল না। বাজার থেকে মাপ করে, কামরকে দিয়ে লোহার ফ্রেম বানিয়ে সেটা কড়িকাঠের উপর দিয়ে ঢুকিয়ে ফ্যান টাঙানো হল। সঙ্গে বেঢপ সাইজের রেগুলেটার। বাবা আবার বুঝিয়ে দিল, ফ্যানের স্পীড বেশী কম করলেও ইউনিট কম উঠবে না। কারন রেগুলেটারে যে রেজিসট্যান্স, তাতে বাকী ইউনিট খেয়ে যাবে। তখন মাথায় বিশেষ কিছু ঢোকে নি। পরে কলেজে গিয়ে জানলাম। ছোটবেলায় জানার ইচ্ছেটার একটা সবিশেষ কারন ছিল। তখন মিনিমাম মাসিক বিল  ছিল /-. বাবার সঙ্গে চুক্তি ছিল, বিল দশটাকার থেকে যত কম হবে সেই টাকাটা আমি হাত খরচার জন্য পাব।

 

তখন আমি দাদরীতে পোস্টেড। সালটা ১৯৯৫-০০ সময়ের। মাঝে আমার দায়িত্বে এল ইলেকট্রিকাল ওয়ার্কশপ। বেশ বড় টাউনশিপ। কোল বেসড আর গ্যাস বেসড দুরকম বিদ্যুতকেন্দ্রই আছে। ওয়ার্কশপে বেশীরভাগ কাজই জ্বলে যাওয়া মোটর রিপেয়ারের। কলেজে থাকতে মোটর জিনিষটা বেশ খটমট লাগত। এসি মোটর, ডিসি মোটর, ইউনিভারসাল মোটর, শ্রাগে মোটর, তার উপর ল্যাপ, ওয়েভ ওয়াইন্ডিং। সেই পুঁথিগত বিদ্যা এখানে ফেল মেরে গেল। আশে পাশের গ্রামের দু তিনজন ওয়াইন্ডার ছিল। তারা আমার কোন সাহায্য ছাড়াই মোটর রিওয়াইন্ড করে ফেলত। সমস্যাটা দাঁড়াল গরমের সময় টাউনশিপ বা অফিস থেকে অনেক সিলিং ফ্যান আসত রিপেয়ার হতে। সাধারণভাবে মোটরের বডিটা থাকে স্টাটিক, আর তার ভিতরে রোটর বো বো করে ঘোরে। ফ্যানের ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। সেখানে ব্লেড লাগানো রোটরটা  আউটার পার্ট। সেটার মধ্যে আবার অনেকগুলো ছোট ছোট কয়েল। এক একটা ফ্যান রিপেয়ার করতে অনেক সময় লাগে। রোজই মর্নিং মিটিংএ স্ট্যাটাস দেওয়ার সময় ঝাড় খাই। খবর টবর নিয়ে জানলাম, ফ্যান রিপেয়ার করার রিওয়াইন্ডিং মেশিন পাওয়া যায়। সেটা কেনার সুপারিশ দিলাম, জাস্টিফিকেশনে দেখাতে হল কটা মোটর বছরে রিপেয়ার হলে, মেশিনের পেব্যাক কি হবে, কাজটা আগের থেকে কত তাড়াতাড়ি হচ্ছে। কমিটি , মিটিং ইত্যাদি পাবলিক সেক্টারের নানারকম বেড়াজাল ডিঙিয়ে, সেই মেশিন এসেও গেল, আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচালাম।

অনেককাল আগে কলকাতার কোন কোন অন্চলে ডিসি সাপ্লাই ছিল। সে সব জায়গায় চলত ডিসি ফ্যান। কলকাতায় সেরকম ফ্যান আমার এক আত্মীয়র বাড়ী দেখেছিলাম ছোটবেলায়। সেটার বেশ জোরদার ঘটাং ঘটাং আওয়াজ ছিল। ডি সি ফ্যানের আবার বাইরের গোল বডিটা ঘোরে না, ব্লেড গুলো ভিতরের রোটরের সঙ্গে লাগানো।এরকম একটা ফ্যানের কথা তারাপদ রায়ের গল্পে পড়েছি। সেটা তার কালীঘাটের বাড়ীতে আদ্যিকাল থেকে ছিল। কোন এক সরকারী অফিস থেকে অকশনে কেনা সেটার রেগুলেটার ছিল ঢাউস সাইজের। সেটা নাকি এত গরম থাকত যে তাতে পাউরুটি টোস্ট করা হত। ফ্যানের আওয়াজও ছিল জবরদস্ত। পড়শীদের কমপ্লেন আসত আওয়াজের জন্য। খালি আওয়াজ নয়, সেটা চললে নাকি অনেকসময় আশেপাশের বাড়ীর বাল্ব ফেটে যেত, রেডিওতে একসঙ্গে দুটো তিনটে স্টেশন চলে আসত। পাড়ার লোক থানাতে কমপ্লেন দিয়েছিল, কিন্তু বিশেষ সুবিধা হয় নি। সব ইলেকট্রিক লাইট, গ্যাজেট ইত্যাদি বন্ধ করে তবে সেই পাখা চলত। খালি একবারই পাশের বাড়ীর নববিবাহিত দম্পতির অনুরোধে কয়েকদিন সেটা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

 

অনেক বছর আগেই এসে গিয়েছে ইলেকট্রনিক রেগুলেটার। ছোট্ট সাইজ। সুইচের কাটআউট এর মধ্যেই রেগুলেটার ফিট হয়ে যায়। পাঠকের জ্ঞাতার্থে বলি, আবার সেই ডিসি ফ্যান বাজারে এসে গিয়েছে। সেই আগেকার পৃথুলা, লোলচর্ম ডিসি ফ্যান নয়, নূতন জমানার সুদর্শনা, তন্বী, ডিসি ফ্যান। আমি কিনেছি। খালি দর্শনে গুনবিচারী নয়, সে মিতব্যায়ী গৃহকর্মনিপুনা। মাত্র ২৮ ওয়াট পাওয়ার লাগে। রিমোটে সজ্জিত। বিজুরি আঁখির ঝলকও আছে, অর্থাৎ ফ্যানের মধ্যে এলইডি লাইটও আছে। রিমোট থেকে স্পীড রেগুলেট করা যায়, নম্বার অফ এলইডি দেখে স্পীড বোঝা যায়। চাইলে এলইডি লাইটগুলো সব অন রাখা যায়, বেশ নাইট ল্যাম্পের কাজ করে। হাওয়ার তেজও আমার আগের এসি ফ্যানের থেকে বেশী। রিমোট থাকায় সবচেয়ে সুবিধা, বিছানা থেকেই অপারেট করা যায়। খালি পাঁচটা রিমোট( ফ্যান, এসি, টিভি, জিও ফাইবার, সাউন্ড সিস্টেম) থেকে খুঁজে বার করাটাই ঝকমারী। যেটা খুঁজতে যাই, সেটাই বালিশের তলায় লুকিয়ে পড়ে।😰

এই হল গিয়ে পাখাবৃত্তান্ত।


দেবদত্ত ০৭/০৫/২০


 

        জাপানি হাত পাখা
           আমাদের ছোটবেলার হাতপাখা

Comments

Popular posts from this blog

ত্রিবেনী তীর্থপথে ও আরো টিটবিট

রবিঠাকুর ও কিছু হাসি মশকরা

A walk to explore Delhi’s lesser known monuments