গাড়ী বৃত্তান্ত (রম্যরচনা)
গাড়ী বৃত্তান্ত পার্ট ১
ছোটবেলায় আকাশে খুব ন্যাট প্লেনের সর্টি দেখেছি। ঝাড়গ্রাম থেকে এয়ারফোর্সের বেস স্টেশন কলাইকুন্ডা বেশী দূরে নয়। খুব অবাক চোখে দেখতাম চারিদিক কাঁপিয়ে প্লেনগুলো আকাশর বুক চিরে চলে যেত। মাঝে মাঝে বুম করে আওয়াজে দরজা জানালা কেঁপে উঠত। বাবার কাছে শুনেছিলাম সাউন্ড ব্যারিয়ার যখন ক্রস করে তখন এরকম শব্দ হয়। পাইলট হওয়ার স্বপ্ন, চিরকাল মনের একটা ‘স্বপ্ন’ হিসাবেই লালিত হয়েছিল। ভাল পড়াশুনা করলে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যাবে, এরকমটাই মধ্যবিত্ত বাঙালী তরুণের মনের সুপ্ত ইচ্ছে থাকত, তার মধ্যে পাইলট হওয়ার আকাঙ্খার বিশেষ স্থান ছিল না।
ছোটবেলায় বাহন বলতে ছিল সাইকেল। মফস্বল শহরে চেনাশোনার মধ্যে নিজস্ব গাড়ী কাউর ছিল না।
তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। পুজোর ছুটিতে মা এর সঙ্গে মামার বাড়ী যাচ্ছি। বন্বে এক্সপ্রেসে হাওড়া এসে কোলফিল্ড এক্সপ্রেসে উঠেছি। গন্তব্য দুর্গাপুর। ট্রেনে বড়মামার এক পরিচিতর সঙ্গে আলাপ হল। তিনি খবর দিলেন-‘প্রদীপ্ত তো মোটরসাইকেল কিনেছে। শুনে খুব থ্রিলড হলাম। মামার বাড়ী গিয়ে মোটর সাইকেল চড়া যাবে। গিয়ে দেখলাম, সেটা ছিল সেকেন্ডহ্যান্ড রাজদূত বাইক।
ইয়াজদি আর বুলেট বাইকটা আমাদের চাকরীর প্রথমদিকে খুব চলত। দিল্লি এসে দেখলাম, মধ্যবিত্তদের মধ্যে স্কুটারের বেশী চল। পাঞ্জাবীরা সকুটার বলত। মাল্টিপারপাস ভেহিকল। সামনের বাস্কেটে পুরো বাজার আবার পিছনে বৌ বাচ্চা সমেত ভ্রমন।
আমার প্রথম গাড়ী ছিল মারুতি। ১৯৯০এ কেনা।
এবারের টা পাঁচ নম্বর হবে।
লকডাউনের বাজারে বেশ নিশ্চিন্তে বাড়ীতে দিন কাটছিল। গাড়ী অনেকটা স্থাবর সম্পত্তির মত রাখা ছিল। মাস আটেক আগে গাড়ীর ঠিকুজি-কুষ্ঠি মানে আরসি বুক দেখে মাথায় হাত। যদিও তার জন্মের সময় পনের বছরের হিসাব করে ধরাধামে মানে রাস্তায় চলার অধিকার দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু একলাফে তার মৃত্যুদিন পাঁচ বছর কমিয়ে দিল ভারত সরকারের ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইবুনাল। তবে সেটা প্রযোজ্য খালি এনসিআর রিজিয়নে। কপালদোষে নয়ডা এই এনসিআর এর মধ্যে পড়ে। দিল্লি-নয়ডা ছাড়া, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ, গুরগাঁও এরমধ্যে আছে। এনসিআর গঠনে কোন সুবিধা হয়েছে বলে শুনি নি, তবে নেগেটিভ ব্যাপারগুলোতে দিল্লিতে যেটা হচ্ছে, নয়ডাতেও সেটা লাঘু হচ্ছে। যেমন ধরুন সারাদেশে ১৫বছর ডিজেল গাড়ীর মেয়াদ, এনসিআরএ সেটা ১০ বছর।
গাড়ীর ব্যাপারে অনেক আগেই আমি দেশী শিল্পের উপর নির্ভরশীল।
টাটা মানজা ডিজেল
এখনের গাড়ীটা টাটা কোম্পানির, গত দশ বছরে সে আমার প্রতি বিশ্বস্ত, রাস্তায় কোনদিন হঠাৎ বিকল হয়ে আমাকে বিপাকে ফেলে নি। আরামসে আরো বছর পাঁচেক চালাতে পারা যেত।
নূতন গাড়ী কেনার ব্যাপারে নানারকম মতামত শুনছি। অনেকে বল্ল, আর বছর দুই তিনের মধ্যে ব্যাটারী কার এসে যাবে। মেনটেন্যান্সের খরচা নেই। পেট্রলের দাম যে রেটে বাড়ছে তাতে গাড়ী চালানো হাতী পোষার খরচের সমান। একজন তো অঙ্ক কষে দেখিয়ে দিল ঔ টাকা ব্যাঙ্কে রাখলে যা সুদ আসবে, সেটার সঙ্গে তেল ও মেনটেন্যান্সের খরচা ইনসিওরেন্সের খরচা, গাড়ীর ডেপ্রিশিয়েসনের খরচা যোগ করলে, মাসে যা টাকা হবে, তাতে ওলা, উবের ভাড়া করে সপ্তাহে দুই তিন দিন আরামসে গাড়ী চড়া যাবে। পার্কিংএর ঝামেলা নেই, চালাবার হ্যাপা নেই। বেশ কনফিউজ হয়ে গেলাম। তবে কথায় বলে ওল্ড হ্যাবিট, ডাই হার্ড। বিগত তিরিশ বছর ধরে গাড়ী চালাচ্ছি, গাড়ী জিনিষটা প্রাত্যহিক ব্যাবহারের অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। নয়ডাতে সেটা আরো বেশী। এটা হচ্ছে কার ফ্রেন্ডলি সিটি। যে কোন দরকারে, কারণে অকারণে কার ছাড়া গতি নেই। দুদিকের রাস্তার মাঝে কাঁধ সমান উঁচু ডিভাইডার। বাড়ীর উল্টোদিকের মার্কেট হলেও আপনাকে গাড়ী নিয়ে এক কিমি ঘুরে যেতে হবে। তাই শেষমেষ ঠিক হল গাড়ী কেনা হবে। এরপর শুরু হল অসল কনফিউশনের পালা।
গাড়ী কিনলে পুরানো বাহন বিসর্জন দিতে হবে। আজকাল অনলাইনের যুগ। তাই ওএলএক্স এ বিজ্ঞাপন দিলাম। এনসিআরে থাকার সুবাদে দাম উঠল মেরেকেটে পঞ্চাশ হাজার। একজন একলাখ শুনেও দেখতে এসেছিল। কন্যাদায়গ্রস্থ পিতার মত তাকে সোসাইটির গেট থেকে ভিতরে নিয়ে এলাম। উপরে চাবি নিয়ে নীচে নেমে দেখি, সে হাওয়া হয়ে গিয়েছে। এরপর ধরলাম কার২৪ বলে একটা কোম্পানিকে। ফোনের উত্তরে তারা জানাল, কোন চিন্তার কারন নেই, গাড়ী বিক্রিতে তারা ওস্তাদ, একটা হিল্লে করেই ছাড়বে। তবে অকশন করানোর আগে তাদের এক্সপার্ট এসে ভ্যালুএশেন করে যাবে।
ডিজেল গাড়ী নেব না পেট্রল গাড়ী নেব। সেডান নেব না হ্যাচব্যাক, নাকি এসইউভি। আজকাল নাকি এসইউভির বাজার। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বেশী, তাই ড্রাইভারের সীট একটু উঁচুতে। চালক, একটু অনুকম্পার দৃষ্টিতে আশেপাশের সেডান বা হ্যাচব্যাকের দিকে তাকান। আমার পকেটের রেস্ত অনুযায়ী কেউকাটা গাড়ী হচ্ছে ক্রেটা। গাড়ীটা দেখতে বেশ সুন্দর, তবে নামটা পছন্দ হয় নি। একদিন সকালে গিন্নি ও মেয়েকে নিয়ে বেরোলাম, বাড়ীর কাছেই এনএইচ ২৪। এর পাশেই সাইডলেনে তাদের শোরুম। এখন কৃষক আন্দোলনে ট্রাফিক গেছে জটপাকিয়ে, অনেক জায়গাতে পুলিশের ব্যারিকেড। পুলিশ ধরলে এই তামাদি গাড়ীর ফাইন নেবে পাঁচ হাজার টাকা। তাই পুলিশের সঙ্গে চোরপুলিশ খেলতে খেলতে দশ মিনিটের রাস্তা পৌছতে লাগল আধাঘন্টা।
সেলসম্যান মিষ্টি হেসে জিজ্ঞাসা করল কি গাড়ী নেবেন স্যার ম্যানুয়াল না অটো। কাগজে কয়েকদিন আগে পড়েছি, অটো মোডে ড্রাইভারলেস মেট্রো শুরু হয়েছে। বল্লাম - অটো নেহি, হাম খুদ চালায়েঙ্গে। সেলসম্যান আমায় জানাল অটো মানে, গীয়ার থাকবে না। গীয়ার নেই মানে ক্লাচও নেই। একটা হাত পা ফাঁকা । বসে থাকলে আমার দুই পা সমানে নড়তে থাকে, তাই মনে হল গীয়ার ক্লাচ ইত্যাদি থাকা ভাল। গাড়ীর উপর নিজের কন্ট্রোল থাকে।তার উপর এতদিনের অভ্যাস গীয়ার ও ক্লাচসহ গাড়ী চালানোর। শোরুমে রাখা গাড়ীটার আগাপাশতলা দেখলাম। পছন্দ হল। সেলসম্যান বোঝাচ্ছিল বিভিন্ন মডেলের ফিচার্স। বেস মডেল থেকে উপরের দিকে উঠতে থাকলে দেখলাম টপ মডেল বেস ভ্যারিয়েন্টের ডাবল। যত গুড় তত মিঠে। চারচাকা, ইন্জিন, আপহোলস্টারি বাদ দিয়ে আরো অসংখ্য রকম নূতন এ্যড আনস ভর্তি । এবিসিডি শেখার মত শুরু হল এবিএস, ইবিডি দিয়ে। জানা গেল এবিএস মানে এন্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম। সেকি রে বাবা। ব্রেক মারলে লাগবে না না নাকি। টাইপরা সেলসম্যান আশ্বস্ত করল-এবিএস থাকলে গাড়ী আচমকা ব্রেক কষলেও চাকা স্কিড করবে না। ড্যাশবোর্ডে একটা স্ক্রীন দেখিয়ে সেলসম্যান জানাল এটা ইনফো প্যানেল। আজকাল ইনফরমেশনের যুগ।ফোন কানেক্ট করে গুগল ম্যাপ খুলে ফেলুন বা গান শুনুন। খালি ভিস্যুয়াল এন্টারটেন্টমেন্টটাই শুধু বাদ। ওটা থাকলে ড্রাইভার পাক্কা ধাক্কা লাগাবে। আরো শুনলাম ক্লাইমেট কন্ট্রোল হবে এসির মাধ্যমে। বাইরের তাপমান যাই হোক,কেবিনে যে টেম্পারেচার সেট করে দেওয়া হবে, সেটাই মেনটেন হবে। আরটিফিসিয়াল ইনটালিজেন্স বলে মনে হচ্ছে। এআই নাকি আজকের জমানার বাজ ওয়ার্ড। ক্যালকুলেটার আসার পর যেমন গুন, ভাগ, নামতা ভুলে গিয়েছি, এআই এর কল্যাণে শেষমেষ মানুষের স্বাভাবিক বুদ্ধিবিচার না লোপ পায়। এরপর আসল শক পাওয়া গেল। এ গাড়ী বুক করলে ছমাসের আগে পাওয়া যাবে না।
গাড়ী বৃত্তান্ত পার্ট ২
যাক তাহলে আরো গাড়ী এক্সপ্লোর করা যাক। পরের দিন আবার যাওয়া হল। এবারের গন্তব্য রেনোল্ট শোরুম। ডাস্টার গাড়ীটা ওদের ফ্ল্যগশিপ প্রোডাক্ট। প্রথম যখন লঞ্চ হয়েছিল তখন খুব বিজ্ঞাপন দেখতাম এই এসইউভি গাড়ী পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা অবলীলায় পার হচ্ছে। সেই সময়ের ভার্জিন এসইউভি মার্কেটে খুব বিক্রি হয়েছিল। শুনলাম এ গাড়ীর ইঞ্জিন খুব পাওয়ারফুল।পাওয়ার এত কিলোওয়াট ও টর্ক এত নিউটন মিটার। এই তো নিজের লাইন পাওয়া গিয়েছে। যদিও আমার সাবজেক্ট ইলেকট্রিক্যাল, কয়েকটা মেক্যানিকালের সাবজেক্টও পড়তে হয়্ছিল। বল্লাম ইঞ্জিনের পাওয়ার বোঝাতে টর্ক আর কিলোওয়াট দুটোই কেন লাগছে। খালি কিলোয়াট বল্লে হত না। একটু আমতা আমতা করে বল্ল দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার থেকে বেশী সে জানে না। গাড়ী দেখা ছেড়ে দিয়ে তাকে মহা উৎসাহের সাথে বোঝাতে শুরু করলাম- দ্যাখ, তোমায় একটা প্রাকটিক্যাল এক্সামপেল দি। আজকাল করোনার সময় সবাই ঘর মুছছে। এবারে মোছার সময় তুমি যত জোরে ডান্ডাটা ঘষবে সেটা গিয় হল টর্ক আর যত স্পীডে পোঁছাটা এদিক ওদিক করবে সেটা হল গিয়ে পাওয়ার। গাড়ীর হার্ট অফ দা সিস্টেম, কিনা ইঞ্জিনকে এরকম সমান্য এক পোঁছার উদাহরণ দেওয়াতে বেচারা বেশ মনক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে হল।
হন্ডা নামটার মধ্যে একটু গুন্ডা গুন্ডা, মানে ম্যাচো ভাব। জাপানি সুমো রেসলার গোছের।হন্ডা গাড়ীর ইঞ্জিন নাকি খুব ভাল। কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলাম। তারা অনেক ধন্যবাদ দিয়ে জানাল যে তারা খুব খুশী আমি হন্ডা কোন্পানির গাড়ীতে ইন্টারেস্টেড শুনে। পরের দিনই ফোন এসে গেল। টেস্ট ড্রাইভের টাইম ঠিক হল পরের দিন দুপুর বারটায়। জাপানি কোম্পানি যে দেশী অফিস খুলেছে, তা বোঝা গেল পরেরদিন। এগারটাতে ফোন পেলাম। তার বক্তব্য কোনসা গাড়ী পসন্দ হুআ? ফাইনাল ডিল কব করনা হ্যায়? মানে গাছে না উঠতেই এককাদি।বোঝালাম অভি তো টেস্ট ড্রাইভই নেহি হুআ। একটু পরে আরেকটা ফোন। স্যার কখন টেস্টড্রাইভ নেবেন? বল্লাম আরে অমুক জায়গা থেকে তো ফোন এসেছিল, আজ বারটায় টেস্টড্রাইভ হবে। ফোনে সে জানাল - আজ আর হবে না, কালকে হবে। সবিনয় নিবেদন করলাম-ভাইসাব, আপলোগ আপস মে কোঅরডিনেট কর লো। একটু পরে আরেকটি মেয়ের ফোন- স্যার, আমরা আপনার সোসাইটির গেটে আছি। চলে আসুন টেস্ট ড্রাইভ দিতে। গেটের বাইরে আসতেই শার্ট, প্যান্ট পরিহিতা সুদর্শনা এক্সিকিউটিভ হন্ডা ডাবল্উ আর ভি গাড়ী সহ হাজির। বোঝা গেল জাপানীদের মার্কেটিং বুদ্ধি। সেলসে মহিলা রাখলে পাষানহৃদয়ও গলবে। মনে পড়ল দিল্লির অটো শোতে বিশাল ভীড়ের কথা। জনতা গাড়ীর থেকে গাড়ীর পাশে থাকা সুন্দরী মডেল দেখতেই বেশী ব্যস্ত। মেয়েটি গড়গড় করে বলে গেল গাড়ীর গুনাবলী, এতে দেখলাম সানরুফ, ড্রাইভার সীটহাইট এডজ্যাস্টমেন্ট এড্যেড ফীচার।
আরে, ভারতের লার্জেস্ট সেলিং কার মারুতি তো দেখাই হল না। মারুতির প্রতি একটা সফ্ট কর্নার তো আছেই, আমার প্রথম গাড়ী মারুতি ছিল। ফোন করলাম ব্রীজা গাড়ীর জন্য। জানা গেল মারুতির সেলস এখন ভার্টিকালি স্পিল্ট। নেক্সা ব্যান্ড প্রিমিয়াম সেগমেন্টের জন্য, কমদামি গাড়ীর জন্য এরেনা র শোরুম। এই সেলসম্যান নেক্সা থেকে, সে আমাকে এস ক্রস মডেলের টেস্ট ড্রাইভ দিতে পারে। নামটা বেশ আনইউজুয়াল। সেলসম্যান বোঝাল, ক্রশ মানে ক্রস ওভার। নর্মাল গাড়ী ও এসইউভির মিশ্রণ । মানে দোআশলা গোছের ব্যাপার। সিটি ড্রাইভিং এবং হাইওয়ে, দু জায়গাতেই সমান পারদর্শী । কি লেস এনট্রি, অটো স্ট্যার্ট, সীট সিক্সটি, ফরটি ফোল্ডেবল, সামনে, পিছনে দুদিকের চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক ইত্যাদি। এখন বিএস সিক্স ইঞ্জিন বানাতে গিয়ে মারুতি ডিজেল ইঞ্জিন বর্জন করেছে। উপরের দিকের মডেলগুলো, যেমন ব্যালানো, সিয়াজ, এসক্রস, ব্রীজা ইত্যাদি সবেতেই ১৫০০ সিসি পেট্রল ইঞ্জিন। মানে, বাঁদর , হনুমান, শিম্পাঞ্জি , সবারই এক হার্ট।সেটা নাকি আবার হাইব্রীড টেকনোলজিতে চলে। সেলসম্যান জানাল, ‘স্যার দিল্লির জন্য সুবিধা, যখন এখানে অলটারনেট ডে তে অড, ইভন নম্বরের গাড়ী চলত, তখন এই গাড়ীর উপর কোন রেস্ট্রিকশন ছিল না। এটা একটা প্লাস পয়েন্ট পাওয়া গেল। আমার পুরানো গাড়ী বিক্রি করতে হবে শুনে বল্ল মারুতি এক্সচ্ঞ্জ অফারও দিচ্ছে, গাড়ীটা ডিলার কিনে নেবে, সঙ্গে বোনাস বিশ হাজার টাকা।
তাড়াতাড়ি ডিশিসন নিতে হবে। এইমাসে সব গাড়ীর দাম বাড়ার কথা। আজ ছাব্বিশ তারিখ হয়ে গেল। কিন্তু এখনো কত গাড়ী তো দেখা বাকী। ফোর্ড ইকোস্পোর্ট, টাটা নেক্সন, মহীন্দ্রা এক্সইউভি৩০০, নিশান কিক এসব তো বাকী রয়ে গেল। এদিকে রোজই ফোন আসছে, যে সব গাড়ীর টেস্টড্রাইভ নিয়েছি, তাদের থেকে। আজকাল টিভিতে ইউটিউব আসে। শুরু হয়ে গেল লেপের তলায় ঢুকে নিশ্চিন্তে বসে বিভিন্ন গাড়ীর রিভিউ, তুলনামূলক বিচারের। মার্সিডিজ এস ক্লাস-পুলম্যান গাড়ী, যেটা কিনা আমাদের প্রেসিডেন্ট চড়েন, সেটার রিভিউ দেখে ফেল্লাম। কিনতে না পারি, রিভিউ দেখতে দোষ কি। নজর উঁচু রাখতে হবে। লেপের তলায় বসে স্বপ্ন, থুড়ি দিবাস্বপ্ন দেখতেও মজা।গাড়ী কিনলে তো এক্সেসরিজ কিনতে হবে। তারও ভিডিও দেখছি। দেখলাম, করোলবাগ মার্কেটে সবাই যায় সীটকভার লাগাতে।
মনে হচ্ছে এটাই ভাল।একটা সময় ছিল, যখন বাজাজ স্কুটার কিনতে তিন বছরের ওয়েটিং পিরিয়ড ছিল, তারপর মারুতি গাড়ীর শুরুর দিকে এরকম ওয়েট করে থাকতে হত, আজকের দিনে গাড়ী বাজার অসংখ্য মডেলে ভর্তি। কোনটা ছেড়ে কোনটা কিনব। বোঝা যাচ্ছে, মধ্যবিত্তের গাড়ীকেনা চিরকালই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই ‘ধীরে চল নীতি’ তে বিশ্বাসী হয়ে,ধীরে সুস্থে সব দেখি, কিছুদিন পরে যদি তখনও নূতন গাড়ীর ইচ্ছে জোরদার থাকে, তখন একটা ডিশিসন নেওয়া যাবে না হয়।
দেবদত্ত
২৭/০১/২০২০
আমার নূতন গাড়ী মারুতি এসক্রস





Comments
Post a Comment